ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে জানুন।

আজকে আমরা ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে জানব। আপনারা রাস্তায় চলার সময় বিভিন্ন রঙের নাম্বার প্লেট দেখে থাকবেন।

কিন্তু আপনাদের মধ্যে বিভিন্ন রঙের নাম্বার প্লেট সম্পর্কে জানার আগ্রহ জেগেছে কি কখনো ? আপনাদের কি কখনো মনে হয়নি একই রকম গাড়ি অথচ বিভিন্ন গাড়ির মধ্যে নাম্বার প্লেট গুলোর রং আলাদা আলাদা কেন ?

কোনো গাড়ির নাম্বার প্লেট সাদা ব্যাক গ্রাউন্ডে কালো কালিতে লেখা,আবার কোনো গাড়ির নাম্বার প্লেট হলুদ ব্যাক গ্রাউন্ডের তার উপর কালো কালিতে গাড়ির নাম্বার লেখা,কিন্তু কেন ?

ভারতে বিভিন্ন ধরণের রঙের ব্যাক গ্রাউন্ডের গাড়ির নাম্বার প্লেট আপনারা দেখতে পাবেন,আমরা এখন ভারতের গাড়ি ঘোড়ার বিভিন্ন রঙের নাম্বার প্লেট সম্পর্কে আপনাদের জানাব।

Table of Contents

ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে জানুন


২০২০ সালের আগে গাড়ি কেনার পর RTO অফিস থেকে একমাসের মধ্যে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দিয়ে দেওয়া হত।

তারপর গাড়ির মালিক নিজের পছন্দ সই সুন্দর ডিজাইনের একটি গাড়ির নাম্বার প্লেট ফেন্সি দোকানদারের কাছ থেকে বানিয়ে নিয়ে গাড়ির আগে এবং পিছনে লাগিয়ে নিতেন।

২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের পর ভারত সরকারের সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রালয় দ্বারা ফেন্সি গাড়ির নাম্বার প্লেটকে পুরোপুরি ভাবে নিষিদ্ধ করে দিয়ে,তার জায়গায় নতুন H.S.R.P নাম্বার প্লেট লাগানো বাধ্যতা মূলক করে দিয়েছে।

আরো পড়ুন : নতুন ট্রাফিক নিয়ম এবং জরিমানার তালিকা। 

এইচ.এস.আর.পি (High Security Registration Plate)


২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের আগে গাড়িতে নাম্বার প্লেটের ব্যবহার নিয়ে কোনো প্রটোকল না থাকায়,গাড়ির মালিক তাদের গাড়িতে নিজেদের পছন্দমত ফেন্সি ডিজাইনের নাম্বার প্লেট ব্যবহার করতে পারত।

কিন্তু ভারত সরকারের সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয় দ্বারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এখন গাড়িতে আর ফেন্সি নাম্বার প্লেট ব্যবহার করা যাবে না। অনেকদিন থেকেই RTO এর কাছে

অভিযোগ আসছিল রান এবং হিট মামলায় বিভিন্ন অসৎ লোক তাদের ফেন্সি গাড়ির নাম্বার প্লেট বদলি করে গাড়িতে নতুন নাম্বার প্লেট ইনস্টল করিয়ে অপরাধের সুচিকে বাড়িয়ে তুলছে ।

যার দৌরাত্মে অপরাধ এবং অপরাধীদের ঠিকমত লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। এই সমস্ত বিভিন্ন ধরণের মোটর ভেকেল সংক্রান্ত অপরাধে লাগাম টানার জন্য ভারতের সর্বোচ্চ আদালত

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনুযায়ী RTO থেকে দুই চাকা,তিন চাকা,চার চাকা সমস্ত রকমের বাহনের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার হিসাবে এক বিশেষ সুরক্ষিত নাম্বার প্লেট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

RTO এর দ্বারা জারি করা বিশেষভাবে সুরক্ষিত এই নাম্বার প্লেট High Security Registration Plate (HSRP) নাম্বার প্লেট নাম দেওয়া হয়েছে।

যখন কোনো ক্রেতা শোরুম থেকে কোনো গাড়ি ক্রয় করে তখন গাড়ির মূল্যের সঙ্গে RTO দ্বারা HSRP নাম্বার প্লেটের মূল্য নিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে।

HSRP নাম্বার প্লেটের মূল্য গাড়ির ধরণ হিসাবে আলাদা আলাদা ভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই চাকা গাড়ির জন্য ৬০ টাকা এবং দুই চাকার উর্দ্ধে যে সমস্ত বাহন আছে তার জন্য ২৩০ টাকা মত মূল্য নেওয়া হয়ে থাকে।

ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে
ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে

গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার হিসাবে HSRP নং প্লেটের একটা বিশেষ বিশেষত্ব আছে। HSRP নাম্বার প্লেটের বা দিকে উপরের অংশে থাকে ক্রোমিয়াম বেস হলোগ্রাম তার নিচেই Country Code হিসাবে IND লেখা থাকে।

IND দ্বারা এখানে India কে,মানে আমাদের দেশের নাম দেখানো হয়েছে। তার নিচে থাকে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন পিন (PIN), মানে গাড়ির Permanent Identification No,

গাড়ির রেজিস্ট্রেশন পিন দিয়ে গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ভাবে জানা যায়। যেমন- এই PIN এর মধ্যে গাড়ির ডিলার কোড,গাড়ির চেসিস নাম্বার আর সাথে থাকে RTO number.

এই PIN দিয়েই মোটামোটি গাড়ির ডিলার,চেসিস নং দিয়ে গাড়ির মালিক এবং RTO number কোড দেখে গাড়িটি কোন RTO এর অধীনে রেজিস্টার আছে গাড়ির একটি সংক্ষিপ্ত ডেটা সহজেই পাওয়া যায়।

এরপর HSRP নাম্বার প্লেটে বড় বড় করে মোটা হরফে যেটা লেখা থাকে তা হল গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার যেটা আমরা গাড়ির নাম্বার নং বলে চিনি।

HSRP নং প্লেটের আরো কতগুলি বিশেষত্ব আছে, HSRP গাড়ির নাম্বার প্লেট তৈরী করা হয় মূলত হালকা এবং পাতলা আলমুনিয়ামের পাত দিয়ে।

আলমুনিয়ামের তৈরী এই পাত আসলে খুব নরম হয়,নাম্বার প্লেটকে গাড়ির পিছনে এবং আগে গাড়ির নাম্বার প্লেট হিসাবে আঁটা হয় বিশেষ পিন দিয়ে।

আলমুনিয়ামের পাতলা পাত দিয়ে নাম্বার প্লেটটি তৈরী হওয়ায়,নাম্বার প্লেটটিকে খোলার চেষ্টা করলে গাড়ির নাম্বার প্লেটটি খুব সহজেই বেঁকে যায়।

তাই গাড়ির নাম্বার প্লেট পাল্টাতে চাইলে তা পাল্টানো সম্ভব নয়,নাম্বার প্লেটে বেশি চাপ দিলে তা মুড়ে যাবে। RTO এই বিশেষভাবে প্রস্তুত গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে

নতুন অভিমত দিয়ে বলেছেন HSRP নাম্বার প্লেট ১৫০-২০০ মিটার দূর থেকে সহজেই পড়তে পারা যায়। RTO থেকে HSRP নাম্বার প্লেটের উপর ১৫ বছরের গ্যারেন্টি পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে।

নোট :-সংশোধিত ১৯৮৯ সালের কেন্দ্রীয় বাহন অধিনিয়ম সেকশন-৫০ ডি অনুসারে, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের পর থেকে গাড়িতে ফেন্সি নাম্বার প্লেট লাগানো যাবে না।

গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ইংরেজি হরফে লিখতে হবে,গাড়ির নাম্বার প্লেটে আঞ্চলিক কোনো ভাষার হরফ ব্যবহার করা যাবেনা।

গাড়ির নাম্বার প্লেট হিসাবে RTO দ্বারা দেওয়া HSRP নাম্বার প্লেট ব্যাধতামূলক ভাবে ব্যবহার করতে হবে। তাই আপনাদের যাদের পুরোনো গাড়িতে ফেন্সি নাম্বার প্লেট লাগানো আছে

তারা RTO এর কাছে নতুন HSRP নাম্বার প্লেটের জন্য আবেদন করুন। তা নইলে RTO অধিকারী অথবা ট্রাফিক পুলিশ আপনার উপর আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।

আরো পড়ুন : ভারতের নতুন শিক্ষা নীতি। 

বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা


সচরাচর ভারতের রাস্তায় গাড়ি ঘোড়ার মধ্যে ০৮ ধরণের  ব্যাক গ্রাউন্ডের বিভিন্ন কালিতে লেখা নাম্বার প্লেট আপনারা দেখতে পাবেন।

আসুন তাহলে ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা নেওয়া যাক। ভারতের গাড়ি ঘোড়ার মধ্যে যে ০৮ ধরণের নাম্বার প্লেট প্রচলিত আছে,সেই নাম্বার প্লেট গুলো হল-

০১. ভি.ভি.আই.পি.গাড়ির নাম্বার পেল্ট (VVIP Car number plate)

এই ধরণের নাম্বার প্লেট সাধারণত আমাদের দেশের ০২ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের গাড়িতে দেখতে পাওয়া যায়। একজন হলেন আমাদের দেশের প্রথম নাগরিক আমাদের মাননীয় রাস্ট্রপতি।

আর দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন মাননীয় রাজ্যপাল। এই দুইজন ব্যক্তির গাড়িতে কোনো ধরণের নাম্বার প্লেট থাকেনা। ইনাদের গাড়িতে নাম্বার প্লেট হিসাবে,

ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে
ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে

গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের জায়গায় থাকে শুধু লাল রঙের ফাঁকা নাম্বার প্লেটের উপর আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতীক সোনালী রঙের অশোক স্তম্ভ খোদাই করা থাকে।

০২. ভি.আই.পি. কার নাম্বার প্লেট (VIP Car number plate)

আপনারা রাস্তায় চলা বিভিন্ন ধরণের নামি দামি গাড়ি গুলোতে বিশেষ করে বিভিন্ন বড় বড় বিজনেস মানদের গাড়ির নাম্বার প্লেটে Unique সংখ্যার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেখতে পাবেন।

যেমন- WB-12 P-0400, এই ধরণের Unique সংখ্যার নাম্বার আপনি চাইলে আপনার গাড়িতে লাগাতে পারেন। কিন্তু তার জন্য আপনাকে আলাদা করে মোটা টাকা খরচ করতে হবে।

আপনাকে এই ধরণের Unique রেজিস্ট্রেশন নাম্বার নেওয়ার জন্য আপনাকে RTO কে আলাদা করে টাকা দিতে হবে। আর এই টাকার পরিমান ২৫-৩০,০০০ টাকার মত হতে পারে।

আরো পড়ুন : ভারত সকারের সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রজেক্ট সম্পর্কে জানুন। 

০৩. সাদা ব্যাক গ্রাউন্ডের ঘরোয়া নাম্বার প্লেট (Personal use vehicle number plate)

ঘরোয়া অথাৎ নিজের ব্যবহারের জন্য যে সমস্ত গাড়ি গুলো কেনা হয়ে থাকে সেই সমস্ত গাড়ি গুলোকে RTO থেকে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের নাম্বার প্লেট (HSRP) দিয়ে থাকেন।

এই ধরণের বাহন নিজের দৈন্দন্দিন ব্যবহার করার জন্য ব্যবহার করা হয়। আপনি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের কালো কালিতে লেখা নাম্বার প্লেটের গাড়ি কিনে ভাড়ার কাজে ব্যবহার করতে পারবেননা।

০৪. হলুদ ব্যাক গ্রাউন্ডের ব্যবসায়ীক গাড়ির নাম্বার প্লেট ( Commercial use vehicle number plate)

হলুদ ব্যাক গ্রাউন্ডের উপর কালো কালিতে লেখা গাড়ির নাম্বার প্লেট গুলো RTO দ্বারা ব্যবসায়িক বাহন হিসাবে ব্যবহার করা বাহন গুলোকে দিয়ে থাকেন।

এই ধরণের ব্যবসায়িক গাড়ির পারমিট নেওয়ার জন্য RTO এর কাছে আলাদা করে কমার্সিয়াল বাহন পার্মিট নিতে হতে হবে।

এইধরণের হলুদ ব্যাক গ্রাউন্ডের গাড়ির নাম্বার প্লেট আপনারা ভারী ট্রাক,বাস ছাড়াও ছোট,ছোট মালপত্র পরিবহণকারী গাড়ি গুলোর মধ্যে দেখতে পাবেন।

০৫. কালো কালির ব্যাক গ্রাউন্ডের গাড়ির নাম্বার প্লেট 

কালো কালির ব্যাক গ্রাউন্ডের উপর লেখা গাড়ির নাম্বার প্লেট গুলো RTO দিয়ে থাকে ভাড়ায় দেওয়ার জন্য যে সমস্ত গাড়ি গুলো ক্রয় করা হয় সেই সমস্ত গাড়ি গুলোর জন্য।

এই ধরণের গাড়ি সচরাচর বিভিন্ন বড় বড় ০৫ তারা,০৭ তারা হোটেলে তাদের গেস্ট দের ভাড়া দেওয়ার জন্য ক্রয় করে থাকেন। 

ব্যাপারটা আর একটু সহজভাবে বোঝা যাক। মনে করুন আপনি কলকাতা থেকে বোম্বাইয়ে গেছেন আপনার কোনো বিজনেসের জন্য,সেখানে গিয়ে আপনাকে হয়ত কয়েকদিন বোম্বেতে কাটাতে হবে। 

ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে
ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে

তার জন্য আপনি তাজ হোটেলে গিয়ে স্টে করলেন। কিন্তু সেখানে তো আপনি আপনার গাড়ি সঙ্গে করে নিয়ে যাননি তাই,আপনি আপনার কাজ কর্মের জন্য তাজ হোটেল কর্তৃপক্ষ থেকে 

একটি গাড়ি কয়েকদিনের জন্য ভাড়া নিলেন এবং ঐ গাড়ি দিয়ে হোটেল থেকে আপনার গন্তব্য স্থলে যাতায়াত করবেন এবং কাজ শেষ হলে আপনি ঐ গাড়ির রেন্ট দিয়ে দেবেন।

এই ধরণের ভাড়ার গাড়ির জন্য RTO থেকে কালো ব্যাক গ্রাউন্ডের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার প্লেট দিয়ে থাকেন। যা দেখে আপনারা সহজেই বুঝতে পারবেন এটা হল একটা ভাড়ার গাড়ি।

আরো পড়ুন : পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF একাউন্টের সুবিধা গুলি কি কি )

০৬. লাল রঙের ব্যাক গ্রাউন্ডে লেখা গাড়ির নাম্বার প্লেট 

লাল রঙের ব্যাক গ্রাউন্ডের গাড়ির নাম্বার প্লেট গাড়িতে সাময়িক ভাবে দেওয়া হয়। লাল রঙের নাম্বার প্লেট তখন দেওয়া হয়,যখন কোনো গাড়ি কারখানা থেকে সরাসরি

গাড়ির ডিলারের কাছে রপ্তানি করা হয় তখন লাল ব্যাক গ্রাউন্ডে লেখা গাড়ির নাম্বার প্লেট দেওয়া হয়ে থাকে। এই লাল রঙের ব্যাক গ্রাউন্ডের বৈধতা ডিলার থেকে গাড়ি বিক্রি হওয়ার পর ০১ মাস পর্যন্ত বৈধ থাকে।

একমাস পর গাড়িটি RTO এর কাছে রেজিষ্টার হলে RTO থেকে গাড়ির নতুন রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের সঙ্গে বাহন অনুযায়ী আলাদা আলাদা ব্যাক গ্রাউন্ডের HSRP নাম্বার প্লেট দেওয়া হয়।

০৭. নীল ব্যাক গ্রাউন্ডের গাড়ির নাম্বার প্লেট 

নীল রঙের ব্যাক গ্রাউন্ডে লেখা গাড়ির নাম্বার প্লেট ব্যবহার করা হয় বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের গাড়িতে। নীল রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট দেখলেই বুঝতে হবে এই গাড়ি সাধারণ কোন লোকের গাড়ি নয়।

ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে
ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে

নীল ব্যাক গ্রাউন্ডের গাড়ির নাম্বার প্লেট ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র দূতাবাসের গাড়িতে। তাই যখন কোনো নীল রঙের নাম্বার প্লেট গাড়িতে দেখতে পাবেন তখন

ধরে নেবেন গাড়িটা আমাদের দেশের নয়। ঐ গাড়িটা হল কোনো দেশের রাষ্ট্র দূতের কিংবা UN মিশনের গাড়ি। তাই এই সব গাড়িকে সাধারণ লোকের গাড়ি বলে ধন্দে থাকবেন না।

০৮. সবুজ রঙের ব্যাক গ্রাউন্ডের গাড়ির নাম্বার প্লেট 

সবুজ রঙের ব্যাক গ্রাউন্ডের নাম্বার প্লেট ব্যবহার করা হয় সব ধরণের পরিবেশ বান্ধব (ইকো ফ্রেন্ডলি) বাহন গুলোতে। ভারতে সমস্ত রকমের ইলেকট্রিক ভেকেল গুলোতে,

সবুজ রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট ব্যবহার করা হয়। যদিও আমাদের দেশে এখনো যথাযথ ভাবে ইলেকট্রিক ভেকেলের পরিকাঠামো নির্মাণ সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে
ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে

কিন্তু সরকার ইলেকট্রিক বাহনের জন্য ২০৩০ সালের লখ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। সরকারের লখ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে সমস্ত রকমের পার্সোনেল ভেকেল গুলি

ইলেকট্রিক বাহনে রূপান্তর করে পরিবেশকে রক্ষা করা। সরকারের ডাকে সারা দিয়ে আমাদের দেশের বিভিন্ন নামি দামি অটোমোবাইল সংস্থা- টাটা,মাহিন্দ্রা সারা দিয়েছেন।

আরো পড়ুন : ভারত সরকারের সরকারি সেভিং স্কিম সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা। 

০৯. মিলিটারি গাড়ির নাম্বার প্লেট 

এবারে আমরা মিলিটারি গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে জানব। মিলিটারি গাড়ির নাম্বার প্লেটে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লেখার আলাদা কায়দা থাকে। 

যেমন- ↑03D153874W হল একটি মিলিটারি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার। এখানে প্রথমে উর্ধমুখী যে এরও ↑03 লেখাটি দেখতে পাচ্ছেন,

ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে
ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে

এখানে ↑03 দ্বারা গাড়িটি কতসালে মানে ২০০৩ সালে নির্মান করা হয়েছে বোঝানো হচ্ছে। তারপর D অক্ষর দিয়ে গাড়িটি ডিজেল ভেকেল বোঝানো হচ্ছে।

আর পরের লেখা সংখ্যা দ্বারা গাড়িটির সিরিয়াল নাম্বার এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বারকে বোঝানো হচ্ছে। এইভাবে মিলিটারি গাড়িতে বিশেষ কোড ওয়ার্ড দ্বারা গাড়ির নাম্বার প্লেট লেখা হয়।

রাজধানী দিল্লীর গাড়ির বিশেষ নাম্বার প্লেট সম্পর্কে জানুন


এতক্ষন আমরা আমাদের দেশ ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে জানলাম। এবারে আমরা আমাদের দেশের রাজধানী দিল্লীর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের বিশেষত্ব নিয়ে আলোচনা করব।

দেশের আর পাঁচটা রাজ্য থেকে রাজধানী দিল্লীর গাড়ির নাম্বার প্লেটের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার কিন্তু একটু আলাদা,আসুন তাহলে আমরা দিল্লীর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার সম্পর্কে জানি।

ধরে নেওয়া যাক DL- 4 C AF -4943 এটা হল দিল্লীর কোনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার। এখানে গাড়ির নাম্বার প্লেটে থাকা গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার DL বলতে দিল্লী রাজ্যকে বোঝানো হচ্ছে।

এরকম প্রতিটি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের প্রথমে গাড়িটি যে রাজ্যে রেজিস্ট্রেশন করা হয় সেই রাজ্যের কোড থাকে এখানে DL বলতে দিল্লী রাজ্যেকে বোঝানো হয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে
ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে

এরপর 4 সংখ্যা দ্বারা গাড়িটির RTO number কোড হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কোড দেখে বোঝা যায় গাড়িটির রেজিস্টেশন কোন RTO এর আন্ডারে করা হয়েছে। 

এরপর দিল্লীর গাড়ির নাম্বার প্লেটে একটি ইউনিক কোড ব্যবহার করা হয় যেটা আর অন্য কোনো রাজ্যের গাড়ির নাম্বার প্লেটে রেজিস্ট্রেশন নাম্বারে ব্যবহার করা হয় না।

এখানে দেখুন RTO কোড 4 এর পর ক্যাপিটাল লেটারে C লেখা আছে, C সিম্বল দ্বারা এখানে গাড়িটি কোন প্রজাতির তা বোঝানো হচ্ছে।

এখানে C মানে Car বোঝানো হয়েছে,যদি এখানে B লেখা থাকত তাহলে সেটা দিয়ে কোনো বাস গাড়িকে বোঝাত।

C সিম্বল এর পরে আপনি দেখুন AF লেখা আছে,AF সিম্বল দিয়ে এখানে গাড়িটির সিরিজের ব্যাপারটা বোঝানো হচ্ছে। প্রত্যেক গাড়ির একটি করে লট বার হয়,

তারপর একটি লট শেষ হলে পরের লটের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়। সচরাচর গাড়ির সিরিজ ০১ থেকে শুরু করে ৯৯৯৯ এ গিয়ে শেষ তাই AF দ্বারা গাড়ির সিরিজ (AF সিরিজে ৯৯৯৯ খানা গাড়ি রেজিস্টার আছে)

এবং 4943 হল গাড়িটির সিরিয়াল নাম্বার। আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি প্রত্যেক রাজ্যের রাজধানীর RTO কোড ০১ দিয়ে শুরু হয়। 

আরো পড়ুন : আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প স্বাস্থ্য বীমা যোজনা। 

দিল্লী রাজ্যের গাড়ির নাম্বার প্লেটে ব্যবহৃত কিছু ইউনিক নাম্বার

বিশেষ কোড কোডের অর্থ
S BIKES
C CAR
D PUBLIC CAR
R THREE WHEELER
T TRANSPORT
V TRAVELERS
Y HIGHER FOR TRANSPORT
P PASENGERS VAN
E ELECTRIC VHICLE

 

পরিশিষ্ট


ভারতের বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেট সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু তথ্য আপনাদের সামনে শেয়ার করা হল। আসা করি বিভিন্ন রঙের গাড়ির নাম্বার প্লেটের

রহস্য সম্পর্কে আপনাদের অবগত করতে পেরেছি।,গাড়ির নাম্বার প্লেট নিয়ে আরো যদি অন্য কোন জিজ্ঞাসা আপনাদের মনে থেকে থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট সেকশনে গিয়ে কমেন্ট করুন।