জানুন ইন্ডিয়া গেটের ইতিহাস ও ইন্ডিয়া গেট নির্মাণের গল্প (India Gate inside History)

প্রিয় পাঠকগণ আজকে আমরা ইন্ডিয়া গেটের ইতিহাস (India Gate) নিয়ে,কিছু রুচিপূর্ণ তথ্যাবলী আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

ব্রিটিশ ইন্ডিয়া দ্বারা নির্মিত ভারতের নতুন দিল্লীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইমারত ইন্ডিয়া গেটের ইতিহাস (India Gate),ইন্ডিয়া গেট নির্মাণের ইতিহাস ও তার পিছনের কাহিনী।

ইন্ডিয়া গেট কে বানিয়েছিল ? কার উদ্যোগে ইন্ডিয়া গেট বানানো হয়েছিল,ইন্ডিয়া গেট বানানোর পিছনে, ব্রিটিশদের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল ?

আমার বিশ্বাস আপনারা যারা অনেকে দিল্লী গেছেন,তারা এই ঐতিহাসিক স্মারক স্তম্ভ টি দর্শন করেছেন। কিন্তু আজকে আপনাদের সামনে ইন্ডিয়া গেটের ইতিহাস নিয়ে এমন কিছু তথ্য তুলে ধরব,

যে তথ্য গুলো আপনারা সবাই না জেনে থাকতেও পারেন। আসুন তাহলে একনজরে ইন্ডিয়া গেটের ইতিহাস,ইন্ডিয়া গেট নির্মাণের ইতিহাস,এর নথি গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরা যাক।

ইন্ডিয়া গেটের ইতিহাস (History of India Gate)


আজকে আমরা যে স্মৃতি স্তম্ভটিকে ইন্ডিয়া গেট (India Gate),নামে চিনি। তার পূর্বের নাম ছিল-অখিল ভারতীয় যুদ্ধ স্মারক

ইন্ডিয়া গেটের নির্মাণ করা হয়েছিল ভারতের স্বাধীনতা পাওয়ার ১৬ বছর আগে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষে। ইন্ডিয়া গেট নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল

১ম বিশ্বযুদ্ধ এবং তৃতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধে, নিহত ৯০,০০০ ব্রিটিশ সৈনিকদের স্মৃতিতে,শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা।

আরো পড়ুন: মিশর পিরামিডের রহস্য। 

ইন্ডিয়া গেট (India Gate) এর শিলান্যাস 


১৯১৪ সালে ১ম বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯১৯ সালে,ইঙ্গ আফগান যুদ্ধে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষে,ইংরেজদের হয়ে ভারতীয় সৈনিক ও ইংরেজ সৈনিকরা

যৌথ ভাবে যুদ্ধ লড়ে এবং এই যুদ্ধে প্রায় ৯০,০০০ হাজার সৈনিক শহীদ হয়ে যায়। তখন ইংল্যান্ডের রানী ভিক্টোরিয়ার তৃতীয় পুত্র কনট ডিউক,

রাজ পথে (King way), শহীদ সৈনিকদের সম্মানে একটি স্মৃতি স্মারক নির্মাণের পরিকল্পনা নেন। ১০ ফেব্রূয়ারী ১৯২১ সালে,কনট ডিউক সাহেব,

ব্রিটিশ ভারতীয় সেনার সদস্য এবং ইম্পিরিয়েল সার্ভিস টক সদস্যদের নিয়ে, সম্মিলিত ভাবে ইন্ডিয়া গেটের ভিত্তি প্রস্তরের শিলান্যাস করেন।

ইন্ডিয়া গেট। 2

কিন্তু শিলান্যাস করা হলেও কাজ আগে বাড়ে না। ইন্ডিয়া গেট নির্মাণের প্রধান বাধা হয়ে ওঠে ভারতীয় রেল। কারণ,তখন আগ্রা থেকে দিল্লী গামী রেলপথ,

আজকে যেখানে বর্তমানে ইন্ডিয়া গেট রয়েছে সেখান দিয়েই ব্রিটিশ আমলে ঝিক,ঝিক করে রেল গাড়ী চলত। ঐ দিক দিয়েই ছিল,আগ্রা,দিল্লী রেল লাইন।

১৯২০ সাল পর্যন্ত তখন দিল্লী শহরে, রেলস্টেশন বলতে,শুধু পুরোনো দিল্লী রেলস্টেশন ছিল। পরে আগ্রা,দিল্লী রেল পথকে হটিয়ে,যমুনা নদীর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আর এর পরেই নতুন দিল্লী রেল স্টেশন এর নির্মাণ হয়। ১৯২৪ সালে রেল লাইন স্থানতর সম্পন্ন হলে ইন্ডিয়া গেটের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

ইন্ডিয়া গেটের নক্সা (India Gate Design)


ইন্ডিয়া গেটের (India Gate Design) নক্সা প্রস্তুতের ভার দেওয়া হয় ঊনিশের দশকের বিখ্যাত ব্রিটিশ,স্থাপত্য শিল্পী, এডউইন লুটিয়েনস কে।

এডউইন লুটিয়েনস সাহেবকে, এশিয়ান এবং ভারতীয় সংস্কৃতীর মিশ্রণে একটি স্মৃতি স্মারকের নক্সা প্রস্তুত করার জন্য বলা হয়। কিন্তু এশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে,ব্রিটিশ সংস্কৃতির মেল্ বন্ধন না থাকায়,

এডউইন লুটিয়েনস,তৎক্ষণাৎ সেরকম কোনো নক্সা,প্রস্তুত করতে পারেনি। তাছাড়া তখন, ইন্ডিয়া গেটের শিলান্যাসের তিন বছর,অতিক্রম হয়ে গেছিল।

তাই রাজপুত্র কনট ডিউক যত দ্রুত সম্ভব ইন্ডিয়া গেটের নির্মাণ কাজ শুরু করতে চাইছিলেন। এরপর ইন্ডিয়া গেটের,নক্সা স্বরূপ (India Gate Design),

প্যারিসের আর্ক্ দে ত্রিম্ফের স্মারকের আদলে ব্রিটিশ স্থাপত্য শিল্পী এডউইন লুটিয়েনস,সাহেব ইন্ডিয়া গেটের নক্সা (India Gate Design), তৈরী করেন।

ইন্ডিয়া গেট স্মারক স্তম্ভটি নির্মাণের জন্য রাজস্থানের ভরতপুর থেকে, বিশেষ ধরণের লাল ও হলদে এবং বেলে পাথর নিয়ে আসা হয়।

Essential India (full Travel Guide )বইটি Amazon এ উপলব্ধ রয়েছে। দাম চেক করার জন্য ক্লিক করুন ⇒

ইন্ডিয়া গেট এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ( India Gate Hight & Lenth)


আমাদের দেশের ইন্ডিয়া গেট জাতীয় স্মৃতি সৌধটি, নির্মিত হয়েছে ০৩ লাখ ৬০ হাজার বর্গ মিটার জায়গা জুড়ে। স্মৃতি সৌধটির ব্যাস ৬২৫ মিটার,চওড়ায় ৯.১ মিটার এবং উচ্চতা হল ৪২ মিটার।

এই স্মৃতি সৌধটির মাঝ খানে দরজার ওপরের দুপাশে, দুটি সূর্য আকারের গোল বৃত্ত আছে। বৃত্তের ঠিক উপরে , চৌকো ফলকে,INDIA লেখা আছে।

INDIA লেখা চৌকো ফলকের নিচে MCMXI মানে,১৯১৪- র প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং MCMXIX মানে ১৯১৯ সালের, ইঙ্গ আফগান যুদ্ধকে বোঝানো হয়েছে।

ইন্ডিয়া গেটে শহীদের নাম


ইন্ডিয়া গেটে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ইঙ্গ আফগান যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের নাম লেখা আছে।

প্রায় ১৩,০০০ হাজারের কাছাকাছি ব্রিটিশ ভারতীয় সৈনিক এবং ৬৫,০০০ কাছাকাছি অন্যান্য সৈনিকদের নাম খোদিত আছে ইন্ডিয়া গেটের স্মারক স্তম্ভটিতে ।

যেদিকে MCMXI লেখা আছে ,সেদিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শহীদ সৈনিকদের নাম খোদাই করে লেখা আছে। আর যে দিকে MCMXIX লেখা আছে সেদিকে ইঙ্গ আফগান যুদ্ধে শহীদ সৈনিকদের নাম লেখা আছে।

তখনকার দিনে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা ছিল। ১৯১১ সালে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ এর নের্তৃত্বে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লীতে স্থানতর করা হয়।

তাই ইন্ডিয়া গেটের সামনে  কংক্রিটের সামিয়ানার নিচে,রাজা পঞ্চম জর্জ এর মূর্তি স্থাপন করা হয়। কিন্তু আজকে আর সেই মূর্তি সেখানে নেই।

ব্রিটিশ রাজত্বকালের অন্যান্য মূর্তিগুলির সাথে রাজা পঞ্চম জর্জের মূর্তি টিকে,দিল্লীর করোনেশন পার্কে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ইন্ডিয়া গেট (India Gate), নির্মাণ করতে মোট দশ বছর সময় লেগেছিল। ১৯২১ সালে ইন্ডিয়া গেটের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং ১৯৩১ সালে ইন্ডিয়া গেটের নির্মাণ সম্পন্ন হয়।

অখিল ভারতীয় যুদ্ধ স্মারক নামে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড ইডউইন ১২ ফেব্রুয়ারী ১৯৩১ সালে,রাষ্ট্রকে সম্বোধিত করে ইন্ডিয়া গেট স্মারকস্তম্ভটি,শহীদদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।

অমর জওয়ান জ্যোতি (Amar Jawan Jyoti)


১৯৭২ সালে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রা গান্ধী অমর জওয়ান জ্যোতি (Amar Jawan Jyoti) শিখাটির উদ্বোধন করেন।

অমর জওয়ান জ্যোতি (Amar Jawan Jyoti), শিখাটি ১৯৭১ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সেনাদের স্মৃতিতে উৎসর্গ করে নির্মাণ করা হয়েছিল।

অমর জওয়ান জ্যোতি (Amar Jawan Jyoti),শিখাটি মূলত কালো গ্রেনেইট পাথর দিয়ে তৈরী একটি বেদী স্বরূপ নির্মাণ করা হয়েছে। এই বেদীর চারিদিকে,চারটি মশালের শিখা সর্বদা জ্বলতে থাকে।

ইন্ডিয়া গেট। 1 1

গ্রেনেইট পাথরের বেদীর উপর একটি ইনসাস রাইফেল,উল্টো করে খাড়া করা আছে। এই রাইফেলের উপর সৈনিকের হেলমেট পড়ানো রয়েছে।

বেদীতে,হিন্দি হরফে অমর জওয়ান লেখা আছে। শহীদ দিবস এবং প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা,অমর জওয়ান জ্যোতিতে,ফুল ও মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে থাকেন।

অমর জওয়ান জ্যোতির (Amar Jawan Jyoti),স্বতন্ত্র প্রহরী রূপে ২৪ ঘন্টা,তিন বাহিনীর (আর্মি,নেভি,এয়ার ফোর্স) সদস্য স্বতন্ত্র প্রহরী রূপে মজুত থাকে।

২৬ শে জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবসে,অমর জ্যোতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর, ইন্ডিয়া গেটের সামনে রাজপথে রাইফেলের কুচকা আওয়াজ এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন : কোহিনুর হীরার ইতিহাস। 

জাতীয় যুদ্ধ স্মারক (National War Memorial)


১৯৬০ সাল থেকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে, জাতীয় যুদ্ধ স্মারক নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল।

২০০৬ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে ইন্ডিয়া গেট চত্বরে জাতীয় যুদ্ধ স্মারকটি তৈরী করা হবে বলে নির্ধারণ করা হয়।

কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় যুদ্ধ স্মারকটি তৈরী করার জন্য অনুমতি প্রস্তাব পারিত করা হয়। জাতীয় যুদ্ধ স্মারকের নক্সা প্রস্তুতের জন্য একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় ।

জাতীয় যুদ্ধ স্মারকের নক্সা হিসাবে চেন্নাইয়ের আরকেটেকচার ফার্মের ওয়েব ডিজাইন ল্যাবের আঁকা একটি  নক্সা নির্বাচন করা হয় ।

মোট ৪০ একর জমির উপর ইন্ডিয়া গেটের সামনে জাতীয় যুদ্ধ স্মারকটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালের ২৫ সে ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্মৃতি স্মারকটিকে উদ্বোধন করেন।

এই স্মারকটি নির্মাণ করা হয় ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং ইন্দো চায়না,কার্গিল,সিয়াচিনে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে।

ইন্ডিয়া গেটে,কচিকাচাদের বিনোদন ও পর্যটকদের ভিড় 


দিল্লী হল আমাদের দেশ ভারতবর্ষের রাজধানী শহর। এই শহরে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে,সাথে, কংক্রিটের বাড়ী ঘরের নির্মাণ কাজ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

তাই কচি কাচাদের কাছে,আজ প্রকৃতির কোলে উন্মুক্ত হাওয়া এবং খোলা আকাশের দর্শন পাওয়া হয়ে উঠেছে দুস্কর। খোলা আকাশ প্রকৃতির দর্শন মানে অনেকটা তীব্র রৌদ্রে এক পশলা বৃষ্টির মত।

তাইতো আজও বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা পর্যটকদের সাথে,সাথে ইন্ডিয়া গেট চত্বরে স্থানীয় কচি কাচাদের ভিড় নিত্যান্ত কম হয় না।

এখনো বড় দিনে,কচি কাচাদের পাশাপাশি,বড়োরাও সমানে এসে জড়ো হয় চড়ুই ভাতি করতে,মেতে ওঠে খোলা আকাশের সাথে প্রকৃতির শিহরণে, চলে ফুটপাতে ফুচকা খাওয়া,আকাশে ঘুড়ির মেলা।

ইন্ডিয়া গেট কোথায় অবস্থিত


আসা করি ইন্ডিয়া গেট কোথায় অবস্থিত ? এই প্রশ্ন করে আমাকে লজ্জা দেবেনা। তবু চলুন ইন্ডিয়া গেটের অবস্থান নিয়ে এক ঝলক চোখ বুলিয়ে নিয়ে যাওয়া যাক।

রায় সিনহা হিলস/রাষ্ট্রপতি ভবন এর সামনে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে রাজ পথের সামনে সোজাসোজি ইন্ডিয়া গেট (ইন্ডিয়া গেট, নতুন দিল্লী-১১০০০১) অবস্থিত।

আরো পড়ুন: কালাপানি সেলুলার জেল। 

ইন্ডিয়া গেট কী করে যাবেন


দিল্লী শহরে দিল্লী মেট্রোর সফর হলো সবথেকে আরামদায়ক। ইন্ডিয়া গেটের নিকটতম মেট্রো স্টেশন হল, Central Secretariat,(India Gate nearest Metro station)

তাই আপনি যদি ট্রেন সহযোগে দিল্লী আসেন, তাহলে নতুন দিল্লী এবং পুরোনো দিল্লী রেল স্টেশনের বাইরে রয়েছে মেট্রো স্টেশন।

নতুন দিল্লী,রেলস্টেশনের বাইরে রয়েছে, নতুন দিল্লী মেট্রো স্টেশন এবং পুরোনো দিল্লী, রেলস্টেশনের বাইরে রয়েছে চাঁদনী চক মেট্রো স্টেশন।

মেট্রোর সুড়ঙ্গ ধরে, টিকিট/ টোকেন সংগ্রহ করে প্লাটফর্মে পৌঁছান। নতুন দিল্লী এবং চাঁদনী চক মেট্রো স্টেশনে (উভয় স্টেশন) ২ নং প্লাটফর্ম থেকে সময়পুর বাদলি থেকে হুড্ডা সিটি সেন্টার,

গামী Yellow line এর মেট্রো ধরুন। ৫/৭ মিনিটের মধ্যে আপনি Central Secretariat মেট্রো স্টেশনে পৌঁছে যাবেন।

Central Secretariat মেট্রো স্টেশন থেকে,ইন্ডিয়া গেট (India Gate),মাত্র ৯০০ মিটার দূরত্বে রয়েছে। আপনি চাইলে পায়ে হেঁটে যেতে পারেন,নইলে স্টেশনের বাইরে অটো স্ট্যান্ড আছে।

আর যদি,প্লেনে আসেন তালহলেও আপনি,দিল্লী মেট্রোর সেবা পেয়ে যাবেন। IGI Airport থেকে,Airport Express লাইন ধরে নতুন দিল্লী,মেট্রো স্টেশনে চলে আসুন।

নতুন দিল্লী মেট্রো স্টেশনে এসে আপনি ২ নং প্লাটফর্ম থেকে,হুড্ডা সিটি সেন্টার গামী মেট্রো ধরুন, ব্যাস ০৫ মিনিটে,Central Secretariat মেট্রো ষ্টেশনে পৌঁছে যাবেন।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর প্রথম আলো বইটি Amazon এ উপলব্ধ। দাম জানার জন্য ক্লিক করুন ⇒

ইন্ডিয়া গেট পরিদর্শনের সময় কাল


ইন্ডিয়া গেট,পর্যটকদের জন্য ০৭ দিন ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। ইন্ডিয়া গেট দর্শনে,কোনো রকম টিকিট লাগেনা। দিল্লীর আবহাওয়া এমনিতে চরম ভাবাপন্ন। শীতে অতিরিক্ত শীত এবং গরম কালে অতিরিক্ত গরম।

তাই আমার মনে হয় মে মাস থেকে,সেপটেম্বর মাসের মধ্যে,যাওয়াটাই বেটার। ইন্ডিয়া গেটের কাছাকাছি, দর্শনীয় স্থান গুলি হল-রাষ্ট্রপতি ভবন,পার্লামেন্ট,চিলড্রেন পার্ক ইত্যাদি।

পরিশিষ্ট


ইন্ডিয়া গেট এবং ইন্ডিয়া গেটের ইতিহাস (India Gate) ইমারতের, প্রতিটি ফলক শহীদের রক্তে রাঙা আছে। তাই কিছু ইতিহাস আজও কথা বলে।

এই ইতিহাস উপলব্ধ করার জন্য চায় দেশ ভক্তি,দেশের প্রতি ভালোবাসা। আজ কালকার ছেলেমেয়েরা সেল্ফি ক্যামেরা হাতে করে,ইন্ডিয়া গেটের সামনে নিজের ফটো তুলে ইন্সট্রাগ্রাম,ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে ব্যস্ত।

তাদের কাছে হয়ত ইন্ডিয়া গেট নিত্যান্ত একটি দর্শনীয় স্থান ছাড়া কিছু না। তাই আপনাদের কাছে একান্ত অনুরোধ আপনাদের ছেলে মেয়েদের একবার বোঝান, স্বাধীনতার সুখ আসলে কী ?

স্বাধীনতার আর এক নাম বলিদান তারা যাতে বুঝতে পারে। তা নইলে তারা হয়তো বুঝতেই পারবেনা বলিদানের আসল অর্থ কী ? বিপ্লবীদের বলিদান কী ছিল ! জয় হিন্দ। জয় ভারত।

এই আর্টিকেল গুলোও পড়ে দেখুন-