মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্য (Mahatma Gandhi Mrityu Rahasya)

আমাদের জাতীর পিতা হলেন গান্ধীজী। যদিও তিনি বাপু নামেই অধিক পরিচিত। ভারতের ইতিহাসে মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর ঘটনা সত্যিই ভারতের ইতিহাসে একটি কালো দিন।

নাথুরাম গোটসে গান্ধীজীকে গুলি করে হত্যা করেন। কিন্তু নাথুরাম গোটসে গান্ধীজীকে কেন হত্যা করেছিল ? মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল ?

মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর কারণ ? মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে আমরা সেভাবে হয়তো অবগত নয়। আজকে আমরা মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্য সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানব।

মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্য 


মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেন নাথুরাম গোটসে। নাথুরাম বিনায়ক রাও গোটসের জন্ম হয় ১৯১০ সালের ১৯ সে মে মহারাষ্ট্রের বারামতি বলে একটি জায়গায়।

১৯১০ সাল থেকেই ভারতে ইংরেজ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা হয়। নাথুরামের জীবনে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রভাব পড়েছিল।

নাথুরামের বাবার হলেন বিনায়ক রাও গোটসে এবং মাতার ছিলেন লক্ষী দেবী। নাথুরমের ছেলেবেলার আসল নাম হল রামচন্দ্র।

কিন্তু নাথুরামকে রামচন্দ্র নাম থেকে নাথুরাম গোটসে নামেই বেশি চেনে। নাথুরামের রামচন্দ্র থেকে নাথুরাম হওয়ার পিছনে এক আলাদা গল্প আছে।

নাথুরাম তার বাবা ও মায়ের চতুর্থ সন্তান ছিলেন। এর আগে নাথুরামের আরো তিন জন ভাইবোন ছিল,কিন্তু তারা সকলেই শৈশবেই মারা যায়।

তাই নাথুরামের মা লক্ষী দেবী নাথুরামের জন্ম হলে প্রতিবেশীদের ইচ্ছেতে তাদের ঘরে পুত্র সন্তান জন্মালে অকাল মৃত্যুর অভিশাপ থেকে বাঁচার জন্য নাথুরামকে কন্যা শিশুর ন্যায় পালন করতে থাকেন।

বাল্য অবস্থাতেই নাথুরামের কান এবং নাকে ফুটো করে দেওয়া হয়। নাথুরামের মা নাথুরামকে মেয়েদের মত কানে কানের এবং নাখে নথ পড়াতে শুরু করেন।

যদিও পুরুষদের কানে ফুটো করে অলংকার পড়াটা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না,কিন্তু ছেলে হয়ে মেয়েদের মত নাক ফুটো করে নথ পড়াটা একটু দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

যাইহোক ছোটবেলা থেকে নাথুরামকে,নাথুরামের মা নাকে নথ পড়াতো। নাথুরামের ছোটবেলা থেকে নথ পড়া নিয়ে রামচন্দ্র থেকে তার নাম হয়ে যায় নাথুরাম।

নাথুরাম স্থানীয় বারামতি স্কুল থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৩২ সালে নাথুরাম আরএসএস এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য হিসাবে যোগদান করেন।

১৯৩৪ এবং ১৯৪২ সালে দুইবার নাথুরাম গান্ধীজীকে হত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেযাত্রায় নাথুরামের গান্ধীজীকে হত্যার অভিপ্রায় সম্পন্ন হয় না।

ছাত্রজীবনে নাথুরাম গান্ধীজীর একজন একনিষ্ট ভক্ত ছিলেন। কিন্তু চৌরিচৌরা ঘটনার পর গান্ধীজী নিজেকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে নিলে পুরো দেশে,

দাবানলের ন্যায় দাঙ্গার আগুন ছড়িয়ে পরে। পাকিস্তান থেকে হিন্দু ভাইবোনদের রক্ত মাখা লাশ ভর্তি ট্রেন ভারতে আসতে থাকে।

আবার ভারত থেকে বিভিন্ন মুসলিম ভাইবোনদের লাশ ভর্তি ট্রেন পাকিস্তানে যেতে থাকে। সারা দেশ জুড়ে হিন্দু ও মুসলমান দাঙ্গার জন্য নাথুরাম গান্ধীজীকে দায়ী মনে করতে থাকে।

১৯৪০ সালে নাথুরাম আরএসএস এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য পদ ত্যাগ করে এবং ১৯৪২ সালে নাথুরাম তার নিজস্ব দল হিন্দু রাষ্ট্র দল গঠন করেন।

আরো পড়ুন : ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু রহস্য। 

নাথুরাম গোটসে গান্ধীজীকে কেন হত্যা করেছিল


১৯৪৭ সালে ভারত ইংরেজদের গোলামির শৃঙ্খল ছিঁড়ে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। ভারত থেকে ছিন্ন হয়ে জন্ম হয় নতুন এক দেশ পাকিস্থান।

দেশ ভাগের শর্তানুযায়ী শত শত হিন্দু মুসলমান নারী পুরুষের নতুন পুরোনো দেশে রদবদল হল। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি উদ্বিগ্ন। গান্ধীজী কলকাতায় তখন নোয়াখালী দাঙ্গা সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন।

নোয়াখালী দাঙ্গা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে গান্ধীজী কলকাতা থেকে দিল্লী চলে আসেন। দিল্লীতেও তখন পরিস্থিতি খুব একটা ভাল ছিল না।

দেশ ভাগ হওয়ার আবহে তখন লক্ষ লক্ষ স্মরণার্থী পাকিস্তান থেকে দিল্লীতে এসে ভিড় করতে শুরু করেছিল। কিন্তু দিল্লীর থেকেও পাঞ্জাবের পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্চিল,

পাঞ্জাব তখন দাঙ্গার আগুনে রীতিমত জ্বলছে। তাই গান্ধীজী ঠিক করলেন পাঞ্জাবে গিয়ে দাঙ্গা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।

কিন্তু হঠাৎ করে দিল্লীর পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় গান্ধীজীর পাঞ্জাবে যাওয়া হয়ে ওঠে না,তাই গান্ধীজী তখন বাধ্য হয়েই দিল্লীতেই থেকে যায়।

নাথুরাম গোটসে দেশ ভাগ হওয়ার পিছনে গান্ধীজীকে দায়ী মনে করতেন। নাথুরামের মতে গান্ধীজী চাইলে ভারত থেকে পাকিস্তানের বিভাজনকে আটকাতে পারতেন।

কিন্তু গান্ধীজী সমস্ত কিছু জেনে বুঝে,ইচ্ছে করেই দেশ ভাগ করা আঁটকায়নি,যার জন্য আজকে ভারত দুটুকরো হয়ে ভারত ও পাকিস্তানে বাটোয়ারা হয়ে গেল।

মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর ঘটনা


১৯৪৮ সালের ২০ জানুয়ারী দিল্লীতে বিড়লা হাউসে পরিকল্পনা মাফিক বোমা বিস্ফোরণ করা হল। কিন্তু তখন  নাথুরমের সমস্ত পরিকল্পনা মাটি হয়ে যায়।

গতিক বুঝে ২১ শে জানুয়ারী নাথুরাম ও তার ভাই গোপাল গোটসে বোম্বে পালিয়ে যায়। বোম্বাইয়ে তারা এক সপ্তাহের জন্য গা ঢাকা দিয়ে থাকে।

গান্ধীজী হত্যাকান্ডের আগের পরিকল্পনায় সফল না হওয়ায়,বোম্বেতে বসে বসেই তারা গান্ধীজীকে দ্বিতীয় বার হত্যা করার জন্য নতুন নক্সা আঁকতে শুরু করেন।

পরিকল্পনা মাফিক ২৭ শে জানুয়ারী বেলা ১২ টা নাগাদ বোম্বে এয়ারপোর্ট থেকে নাথুরাম গোটসে এবং তার এক বন্ধু নারায়ণ আপ্টে দুই জন ব্যক্তি প্লেনে চড়ে দিল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।

এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি নিয়ে সোজা চলেগেলেন পুরোনো দিল্লী রেলস্টেশনের বাইরের পার্কিঙে,সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল তাদের আরেকজন সাথী বিষ্ণু কড়কড়ে।

আসলে প্ল্যান মাফিক তাদের আসার চার দিন আগে নাথুরাম,বিষ্ণু কড়কড়ে কে দিল্লী পাঠিয়ে দেয় একটি পিস্তল জোগাড় করার জন্য।

কথা ছিল বিষ্ণু কড়কড়ে পিস্তল নিয়ে পুরোনো দিল্লী রেল স্টেশনের বাইরে অপেক্ষা করবে। কিন্তু সময়মত পিস্তলের জোগাড় না হওয়ায় এবারেও নাথুরামকে হতাশ হতে হল।

বিষ্ণু কড়কড়ে অনেক খোঁজাখোঁজির পর শেষ পর্যন্ত দিল্লীতে কোনো পিস্তল জোগাড় করে উঠতে পারেনি,নাথুরাম এই কথা শুনে রীতিমত হতাশ হয়ে পড়ে।

এরপর তিনজনে মিলে পিস্তল জোগাড় করা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে থাকে। চিন্তা করতে করতে নাথুরামের মাথায় একটা আইডিয়া খেলে যায়।

নাথুরামের মনে হয় তারা গোয়ালিয়রে যেতে পারলে সেখান থেকে পিস্তল জোগাড় করা যেতে পারে। নাথুরামের একজন পরিচিত বন্ধু ডাঃ দত্তারে পরচুরে গোয়ালিয়রে থাকত।

দত্তারে পরচুরে পেশায় ছিলেন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার ছিলেন,যিনি গোয়ালিয়রে ডাক্তারি প্রাক্টিস করতেন। ২৭ শে জানুয়ারী রাত্রি বেলা নাথুরাম ও তার দুজন বন্ধু

গোয়ালিয়রে দত্তারে পরচুরের বাড়ির উদেশ্যে রওনা দিলেন। পরের দিন সকালে তারা গোয়ালিয়রে ডাক্তার পরচুরের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছালেন।

ডাক্তার পরচুরে তাদের তিন জনকে একত্রে তার বাড়িতে দেখে নিয়মিত অবাক হয়। নাথুরাম ডাঃ পরচুরে কে  বলেন একটা অনেক বড় কাজ করতে হবে তার জন্য একটা পিস্তলের দরকার।

তাই একটি পিস্তল জোগাড় করে দেওয়ার আবদার নিয়ে তারা ডাঃ পরচুরের কাছে এসেছে এবং ডাঃ পরচুরের সাহায্য ছাড়া তাদের পক্ষে পিস্তল জোগাড় করা সম্ভব নয়।

এরপর ডাঃ পরচুরে তাদিকে বিশ্রাম করতে বলে পিস্তল জোগাড় করার জন্য বেড়িয়ে পড়ে। এভাবে পুরো দিন পার হয়ে যায় রাত্রি নেমে আসে,কিন্তু ডাঃ পরচুরে তখন পর্যন্ত ফিরে আসেনা।

এদিকে নাথুরাম ও তার দলবল ছটফট করছে তাদের হাতে সময় বড় কম ২৭ তারিখ পেড়িয়ে ২৮ তারিখ হয়ে গেছে ডাঃ পরচুরে তখনো ফিরছেনা দেখে

নাথুরামের কপালে তখন চিন্তার ভাঁজ দেখা দেয়। এভাবে সময় কেটে যাওয়ার পর রাত্রি ০৮ টা নাগাদ ডাঃ পরচুরে ফিরে এলেন।

নাথুরামের হাতে কাগজে মোড়া একটা প্যাকেট তুলে দিলেন। নাথুরাম স্বাগ্রহের সঙ্গে হাত বাড়িয়ে প্যাকেট হাতে নিয়ে মোড়া কাগজটা খুলে দেখলেন প্যাকেটের মধ্যে ২০ রাউন্ড গুলি এবং একখানা পিস্তল রয়েছে।

নাথুরাম এবং নারায়ণ আপ্টে আনন্দে ডাক্তার পরচুরেকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। ডাক্তার পরচুরেকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা দিল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।

২৯ শে জানুয়ারী তারা দিল্লী পৌঁছলেন। প্ল্যান মাফিক পুরোনো দিল্লী রেল স্টেশনের অতিথি আরাম গৃহে বিষ্ণু কড়কড়ে আগে ভাগেই তিন জনের জন্যে একটি রুম বুক করে রেখেছিলেন।

রুমে পৌঁছে তারা একে অপরকে পিস্তলটি বার করে দেখালেন। হাতের কাছে পিস্তল পেয়ে তাদের আনন্দতো আর ধরেনা, সবাই খুব উল্লসিত।

এখন তাদের একটাই লক্ষ যেকোনো উপায়ে মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করে কার্যসৃদ্ধি করা। এবারে যাতে কোনো ক্রমেই লক্ষ ভ্রম না হয়।

কিন্তু এর মধ্যে তাদের মনে নতুন একটা সমস্যা সামনে এসে দাঁড়ায়। সমস্যা হল – পিস্তলের তো জোগাড় হল,কিন্তু পিস্তল চালাবে কে ?

তাদের মধ্যে কেউ পিস্তল চালাতে জানতো না। তাই তারা ঠিক করল সবার আগে একবার পিস্তল চালানোর রিহার্সাল করবে।

কিন্তু পিস্তল রিহার্সাল করার জন্য দরকার একটি নিরিবিলি জনমানব শুন্য একটা জায়গার। তাই তারা পিস্তল চালানোর রিহার্সাল করার জন্য রিজ রোডের পিছনে জঙ্গলময় এলাকাটিকে বেছে নেয়।

সেখানে গিয়ে তারা পিস্তল চালানো এবং নিশানা দাগার রিহার্সাল করবে। প্ল্যান মাফিক বিড়লা মন্দিরের জঙ্গলে গিয়ে একটি গাছে চক দিয়ে গান্ধীজীর উচ্চতা অনুযায়ী একটি ডামি তৈরী করে।

ডামি তৈরী করা গাছটি থেকে ২০/২২ ফুট দূর থেকে গান্ধীজীর ডামির উপর লক্ষ করে তিন খানা গুলি চালানো হয়। নিশানা মাফিক গুলি ঠিক জায়গাতেই লাগে।

তিনজনে খুব খুশি হয়,নিরিবিলি জঙ্গলের ঝাড়ে গুলির আওয়াজ শুন্যে মিলিয়ে যায়। গুলির আওয়াজ বাইরে বেরিয়ে আসেনা,প্ল্যান মাফিক পিস্তল চালানো শেখা এবং নিশানা দুটোতেই তারা সফল হয়।

এরপর তারা পুরোনো দিল্লীর অতিথি শালায় ফিরে আসে। গেস্ট রুমে নাথুরাম তার সঙ্গীদের মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করার আগের প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করেন।

মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্য খুঁটিয়ে অনুসন্ধান করলে চোখে পড়ে নাথুরাম গোটসের মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করার পুরো পরিকল্পনা ছিল ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত মাডার প্ল্যান।

অতিথিশালায় এসে তারা ঠিক করেন কবে কোথায় মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করা হবে। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় গান্ধীজীকে বিড়লা হাউসে হত্যা করা হবে।

বিড়লা হাউসে জনসম্মুখে মহাত্মা গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করা হবে। গান্ধীজী প্রতিদিন বিকেল ০৫ টার সময় বিড়লা হাউসে প্রাথনা করার জন্য আসতেন।

গান্ধীজীর প্রাথনা সভায় প্রাথনা করার জন্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ সমবেত হতেন। ঠিক হয় ৩০ শে জানুয়ারী বিকেল ০৫ টায় গান্ধীজী প্রার্থনা করতে এলে সেখানেই গান্ধীজীকে হত্যা করা হবে।

নাথুরাম ও তার সাথীরা ধরেই নিয়েছিল সেদিনই হয়তো তাদের জীবনের শেষ দিন। ২৯ শে জানুয়ারী রাত্রিবেলা ঠিক করেন সেদিনের রাত্রের খাওয়াটা একটু স্পেশাল হওয়া দরকার।

তাই তারা পুরোনো দিল্লীর কাছে চাঁদনী চকের একটি দামি রেস্তোরায় খেতে যায়। রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে তারা রুমে ফিরে আসে।

রুমে ফিরে সবাই বিশ্রাম করার জন্য ভাবছিল কিন্তু তখন নারায়ণ আপ্টের মনে খেয়াল আসে সিনেমা দেখতে যাবে,কিন্তু নাথুরাম তাতে সম্মতি না দিয়ে মানা করে দেয়।

নাথুরাম মানা করে দিয়ে বলে আমি সিনেমা দেখতে যাবোনা তোমরা যাও,আজকের রাতটা আমি একটু একা থাকতে চায়,আমি একটু ভালো করে ঘুমোতে চায়।

এরপর নারায়ণ আপ্টে এবং বিষ্ণু কড়কড়ে চাঁদনী চকের কাছে একটা সিনেমা হলে গিয়ে নাইট শো দেখে গভীর রাত করে রুমে ফিরে আসে।

রুমে ফিরে দেখে নাথুরাম একটি গোয়েন্দা রহস্যের গল্পের বই পড়তে পড়তে বই হাতে ঘুমিয়ে পড়েছে। এরপর তারাও যে যার বিছানায় ঘুমোতে চলে যায়।

রাত্রি শেষে সকাল হয়,৩০ শে জানুযায়ী সকাল বেলা উঠে তারা সকলেই প্রাতঃরাশ সেরে নেন। নাথুরাম কফি পান করতে ভালোবাসতেন তাই নাথুরাম সকাল বেলা কফি পান করেন।

নাথুরাম গোটসের হাতে ৩০ সে জানুয়ারী মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করার জন্য সকাল থেকে বিকেল অবধি সময় ছিল। এর আগে গান্ধীজীকে বোমা মেরে হত্যা করার প্ল্যান ফেল হয়ে যাওয়ায়

বিড়লা হাউসের নিরাপত্তা অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই এবারে তাদের কাছে বিড়লা হাউসে প্রবেশ করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

তারা মনের মধ্যে বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করতে থাকে কিভাবে সুরক্ষা কর্মীর চোখে ধুলো দিয়ে পিস্তল সহ বিড়লা হাউসের গেট পেরোবে ?

মনের মধ্যে ধরা পড়ে যাওয়ার অবাঞ্চিত একটা ভয়ও তাদের ভিতর কাজ করছিল। সে সময় নাথুরামের মনে খেয়াল আসে চাঁদনী চক থেকে একটা পুরোনো ক্যামেরা কিনে

ফটোগ্রাফারের ছদ্মবেশে ক্যামেরার মধ্যে পিস্তল নিয়ে বিড়লা হাউসের গেট পার হবে। যেই ভাবা সেই কাজ,তারা ক্যামেরা কেনার জন্য চাঁদনী চকের একটি ক্যামেরার দোকানে গিয়ে হাজির হয়।

নাথুরাম দোকানদারকে তার দোকানের পুরোনো ক্যামেরার সংগ্রহ গুলি দেখানোর জন্য বলেন। কিন্তু দোকানদারের মনে নাথুরামকে নিয়ে খটকা লাগে ?

দোকানদার নাথুরামকে বলেই ফেলেন এযুগে নতুন নতুন ছোট আকারের ক্যামেরা থাকতে আপনি কেনই বা  পুরোনো যুগের কালো কাপড়ে ট্রাইপটে ঢাকা ক্যামেরা চাইছেন ?

তাছাড়া এযুগে আর সেই পুরোনো ট্রাইপট ওয়ালা ক্যামেরা চলেনা। নাথুরাম দোকানদারের প্রশ্নের লজিক বুঝতে পারেন,তাইতো এযুগে যদি সত্যি সত্যি এধরণের

পুরোনো ক্যামারা নিয়ে বিড়লা হাউসে যায় তাহলে মানুষের সন্দেহ হতে পারে। তাদের একটা ছোটো ভুলে হয়ত তাদের পুরো প্ল্যান ভেস্তে যেতে পারে।

তাই নাথুরাম আর নতুন করে সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছিলেন না। নাথুরাম ফটোগ্রাফারের ছদ্মবেশ ধরার প্ল্যান বাতিল করে রুমে ফিরে এলেন।

রুমে এসে আবার নতুন করে চিন্তা ভাবনা শুরু করলেন কিভাবে বিড়লা হাউসের ভিতরে পিস্তল নিয়ে প্রবেশ করা যায়। নারায়ণ আপ্টের মাথায় একটা আইডিয়া আসে,

নারায়ণ আপ্টে বোরখা পড়ে মুসলিম মহিলার ছদ্মবেশে বিড়লা হাউসে প্রবেশ করার পরামর্শ দেয়। আইডিয়াটা নাথুরামের খুব পছন্দ হয়,

নাথুরাম চিন্তা ভাবনা করে দেখে বোরখার মধ্যে পিস্তল লুকিয়ে নিয়ে যাওয়াটাও খুব সহজ এবং মুসলিম মহিলার ছদ্মবেশে গেলে বোরখা তুলে ধরা পড়ার ঝুঁকিটাও অনেকটা কম।

এরপর তারা তিনজনে মিলে চাঁদনী চকের একটি দোকানে বোরখা কেনার জন্য যায় এবং সেখান থেকে একটা বোরখা কিনে নিয়ে আসে।

নাথুরাম বোরখাটি পড়ে দেখেলে নাথুরামের গায়েই সাইজে বোরখাটা ছোটো হয়,নাথুরামের হাতে এবং বগলে বোরখাটা অনেকটাই আটো হচ্ছিল তাই শেষ পর্যন্ত বোরখার প্লানটাও ভেস্তে যায়।

এদিকে সময় ক্রমশ পেড়িয়ে যাচ্ছিল ঘড়ির কাঁটা ছন্দ মেনে এগিয়ে চলছিল ঘড়ির কাঁটায় বিকেল ০৫ টা মাত্র আর কয়েক ঘন্টার ব্যবধান।

অথচ সময় বড় কম,নাথুরাম চিন্তা করছিল কি করা যায় ? নাথুরাম ঠিক করে আর্মির ড্রেস পড়ে বিড়লা হাউসের ভিতরে যাবে।

এরপর নাথুরাম সদর বাজার থেকে একটি আর্মির ড্রেস কিনে নিয়ে আসে এবং রুমে ড্রেসটি পড়ে দেখে ড্রেসটি নাথুরামের শরীরে একদম ফিট বসছে ।

সময় ক্রমশ এগিয়ে আসে নাথুরাম ও তার আর দুইজন সাথী নারায়ণ আপ্টে এবং বিষ্ণু কড়কড়ে বিড়লা হাউসে যাওয়ার জন্য তৈরী হতে থাকে।

মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্য
মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্য

কিন্তু সে সময় নাথুরামের হঠাৎ বাদাম খাওয়ার ইচ্ছে হয়,নারায়ণ আপ্টে বাদাম নিয়ে আসার জন্য বাইরে চলে যায়। কিন্তু সেই মুহূর্তে আসে পাশে বাদাম না পাওয়ায়

নারায়ণ আপ্টে খালি হাতে ফিরে আসে। অপরদিকে নাথুরাম বাদাম খাওয়ার জন্য জেদ করে,না বাদাম তার চায় তাই বাধ্য হয়ে নারায়ণ আপ্টে আরো একবার বাদাম কেনার জন্য বার হয়ে যায়।

নারায়ণ আপ্টে তখন দূরের কোনো বাজার থেকে ১৫/২০ মিনিট বাদ বাদাম নিয়ে ফিরে আসে,এরপর নাথুরাম বাদাম খায়। তারপর তারা পুরোনো দিল্লী থেকে একটা ট্যাক্সি নিয়ে বিড়লা হাউসের দিকে চলে যায়।

বিড়লা হাউস যাওয়ার রাস্তাতে বিড়লা হাউসের আগে বিড়লা মন্দিরে পড়ে,সেখানে পৌঁছাতে বিষ্ণু কড়কড়ে বিড়লা মন্দিরের কাছে ড্রাইভারকে ট্যাক্সি থামানোর জন্য বলে।

বিষ্ণু কড়কড়ে নাথুরাম এবং নারায়ণ আপ্টে কে বলে চল কিজানি হয়তো আমাদের আজকেই জীবনের শেষ দিন আর হয়তো ফেরা হবেনা চলো একবার শেষ বারের মত দর্শন করা যাক।

নাথুরাম মানা করে বলে আমি যাবোনা,তোমরা চাইলে ঘুরে আসতে পারো। এরপর নারায়ণ আপ্টে এবং বিষ্ণু কড়কড়ে দুজনে মিলে মন্দিরের দিকে চলে যায়।

কিছুক্ষনের মধ্যে তারা মন্দির দর্শন করে চলে আসে,তারপর এখান থেকেই যে যার মত করে আলাদা আলাদা হয়ে যায়। প্রথমে নাথুরাম ধীরে ধীরে বিড়লা হাউসের দিকে পা বাড়ায়।

অন্যদিকে বিষ্ণু কড়কড়ে ও নারায়ণ আপ্টের বুক দুরু দুরু করতে থাকে। নাথুরাম বুকে সাহস নিয়ে বিড়লা হাউসের গেটে পৌঁছায়।

মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্য
মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্য

গেটে সেদিন সুরক্ষাকর্মীরা ততটা তৎপর না থাকায় বিনা দ্বিধায় নাথুরাম বিড়লা হাউসের ভিতরে পৌঁছে যায়। অন্য দিকে দূর থেকে নারায়ণ আপ্টে এবং বিষ্ণু কড়কড়ে দূর থেকে সবকিছু নজর রাখছিল।

নাথুরামকে বিড়লা হাউসের ভিতরে যেতে দেখে বিষ্ণু কড়কড়ে,নারায়ণ আপ্টে সাহস পায় এরপর তারা দুজনে বিড়লা হাউসের ভিতরে প্রবেশ করে যায়।

নাথুরাম বিড়লা হাউসের ভিতরে গান্ধীজীর প্রাথনামঞ্চের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল,পরে নারায়ন আপ্টে ও বিষ্ণু কড়কড়ে নাথুরামের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।

আরো পড়ুন : কালাপানি সেলুলার জেলের ইতিহাস। 

মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল


মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্য ঘিরে পুরো ঘটনাটা ক্রমান্বয়ে যেভাবে ঘটেছিল সেটা দেখতে গেলে দেখতে পাওয়া যায় নাথুরাম,নারায়ণ আপ্টে,বিষ্ণু কড়কড়ে সমান দোষে সমানভাবে অভিযুক্ত ছিল।

১৯৪৮ সাল ৩০ শে জানুয়ারী বিড়লা হাউসে গান্ধীজী যে মঞ্চে বসে প্রার্থনা করতেন,তখন পর্যন্ত মঞ্চটি ফাঁকা ছিল,গান্ধীজী তখন পর্যন্ত সেখানে এসে পৌঁছায়নি।

মঞ্চের দুপাশে গান্ধীজীর অনুগামীরা প্রার্থনার আশায় গান্ধীজীর জন্যে অপেক্ষা করছিল। গান্ধীজীর দুই জন মহিলা শিষ্যা আভা ও মনু গান্ধীজীর মঞ্চে আসতে বিলম্ব হচ্ছে দেখে ব্যাস্ত হচ্ছিলেন।

গান্ধীজী প্রতিদিন নিয়মকরে বিকেল ০৫ টার সময় প্রার্থনা করার জন্য আসতেন,কিন্তু সেদিন ঘড়িতে সময় অনেকটাই পেড়িয়ে গেছিল,ঘড়িতে তখন বিকেল ০৫:১৫ বাজে।

আসলে সেদিন গান্ধীজির সাথে দেখা করার জন্য একজন স্পেশাল গেস্ট মানে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল এসেছিলেন এবং তাদের মধ্যে কিছু মৌখিক কথা বার্তা হচ্ছিল।

কিন্তু হঠাৎ করে গান্ধীজীর আভা ও মনুর দিকে চোখ পড়তেই গান্ধীজী ঘড়ির কাঁটার পানে চেয়ে দেখে তিনি প্রার্থনার জন্যে লেট্ হয়ে গেছেন।

তখন গান্ধীজী প্যাটেলকে বিদায় জানিয়ে বলেন আমার প্রার্থনার জন্যে দেরি হয়ে যাচ্ছে দেখে এখন আসি বলে গান্ধিজী মঞ্চের দিকে দ্রুত পা চালায়।

গান্ধীজী প্রার্থনা করার জন্য সর্বদা মঞ্চের বাম দিক দিয়ে ঘুরে আসতেন,কিন্তু সেদিন অনেকটাই দেরি হয়ে গেছিল বলে সরাসরি মঞ্চের সামনের রাস্তা দিয়েই মঞ্চে আসছিলেন।

নাথুরাম আগে থেকেই মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন,কিন্তু সেদিন গান্ধীজী প্রার্থনায় দেরি হচ্ছে দেখে,আভা ও মনু হাত দিয়ে রাস্তা আগে ভাগেই খালি করে দিচ্ছিলেন।

গান্ধীজী মঞ্চের কাছে পৌঁছাতেই নাথুরাম গান্ধীজীকে নমস্কার করে এগিয়ে আসে,কিন্তু আভা ও মনু নাথুরামকে হাত দেখিয়ে রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার জন্য ইশারা করে।

কিন্তু নাথুরাম তখন গান্ধীজীকে প্রণাম করার জন্য মাথা নিচু করে ঝুঁকে পড়ে,নাথুরামকে প্রণাম করতে দেখে গান্ধীজী সেখানে দাঁড়িয়ে যায়।

সুযোগ হাতছাড়া না করে নাথুরাম আস্তিন থেকে পিস্তল বার করে গান্ধীজীকে জিরো পয়েন্ট থেকে তিন খানা গুলি ছুড়ে, দড়াম-দড়াম-দড়াম।

চারদিকে কিছুক্ষনের জন্যে নিস্তব্ধতা ছেয়ে যায়,মুহূর্তের মধ্যে গান্ধীজীর নিথর দেহ “হে-রাম” বলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মনু ও আভা গান্ধীজীর কাছে দৌড়ে আসে,গান্ধীজীকে মাটি থেকে তোলা হয়।

চারিদিকে উচ্ছাসিত জনতা তখন কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়েছে। কিন্তু ততক্ষনাৎ মুহূর্তের নিরাবতা ভেঙে নাথুরাম দুই হাত তুলে আত্মসমর্পন করলেন।

বিড়লা হাউসে তখন উচ্ছাসিত জনতার ভিড়ে বিষ্ণু কড়কড়ে এবং নারায়ণ আপ্টে ততক্ষনে গা ঢাকা দিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছিল।

ঘটনাস্থলে দিল্লীর তুঘলক রোড থানার পুলিশ নাথুরামকে গ্রেফতার করে। নাথুরামের বিরুদ্ধে থানায় FIR দায়ের  করা হয়। FIR রিপোর্টে ১৯৪৮ সালের ৩০ শে জানুয়ারী বিকেল ০৫:১৭ গান্ধীজীর মৃত্যুর সময় উল্লেখ করা হয়।

নাথুরামের বয়ান অনুসারে পরে নারায়ণ আপ্টে এবং বিষ্ণু কড়কড়ে কে গ্রেফতার করা হয়। মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্য মামলায় নাথুরাম গোটসে,নাথুরামের ভাই গোপাল গোটসে,

বিষ্ণু কড়কড়ে,নারায়ণ আপ্টে,ডাঃ দত্তারে পরচুরে ও তার চাকর,বীরসাভাকর ও মদন লাল সবমিলিয়ে ০৮ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলায় মোকদ্দমা দায়ের করা হয়।

স্বাধীন ভারতের সংবিধানে মহাত্মা গান্ধী হত্যা কান্ড অথাৎ মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর ঘটনাই ছিল স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথম রাজকীয় হত্যাকান্ড ।

রাষ্ট্রপিতা গান্ধীজীকে জনসম্মুখে হত্যা করার ঘটনা রীতিমত সেযুগের যুগান্তকারী নেতাদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে দিয়েছিল। একবাক্যে নেহেরু,বল্লভ ভাই প্যাটেলের মত

সমস্ত বড় নেতারা চাইছিলেন যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হোক। ১৯৪৯ সালের ১০ ই ফেব্রুয়ারী মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর ঘটনায় অপরাধীদের শাস্তির জন্য দিল্লীর লাল কেল্লায় স্পেশাল আদালত বসানো হয়।

মহাত্মা গান্ধী হত্যা কান্ড মামলার শুনানি চলতে থাকে,বীর সাভাকরকে উপযুক্ত তথ্য প্রমানের অভাবে রেহাই করে দেয় এবং মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্যে জড়িত থাকার

অপরাধে বাকি অপরাধীদের আদালত সাজা ঘোষণা করে। নাথুরাম গোটসে এবং নারায়ণ আপ্টে কে আদালত মহাত্মা গান্ধী হত্যা কান্ড মামলার মূল অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করে ফাঁসির সাজা দেয়।

আদালত বিষ্ণু কড়কড়ে এবং গোপাল গোটসে কে সরাসরিভাবে মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্যে জড়িত না থাকায়  বিষ্ণু কড়কড়ে এবং গোপাল গোটসে কে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দেয়।

পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হলে সুপ্রিম কোর্ট নাথুরাম এবং নারায়ণ আপ্টের ফাঁসির সাজা বহাল রাখে এবং নাথুরামের সঙ্গে বিষ্ণু কড়কড়ে গোয়ালিয়রে

পিস্তল আনার সঙ্গে জড়িত না থাকায় গোপাল গোটসে,ডাঃ দত্তারে পরচুরে এবং ডাক্তারের চাকরের অপরাধ কোর্ট ক্ষমা করে মুক্তি দিয়ে দেয় কিন্তু বিষ্ণু কড়কড়ে এর যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখে।

কোর্টের নির্দেশে তিন জনকে জেলের আলাদা আলাদা সেলে রাখা হয়। নাথুরাম গোটসে ফাঁসির আগে অন্তিম ইচ্ছা হিসাবে ভাই ও মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে

নাথুরামকে তার মা ও ভায়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় এবং মৃত্যুর অন্তিম ইচ্ছে বাবদ ফাঁসি কাঠে ঝোলানোর আগে নাথুরাম এক কাপ কফি পান করতে চায়।

নাথুরামকে জেলারের নির্দেশে কফি পান করতে দেওয়া হয়। নাথুরামের অন্তিম ইচ্ছে দুটি পূরণ করায় নাথুরাম আম্বালা জেলের জেলার সাহেবকে ফাঁসি কাঠে ঝোলানোর আগে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা জানায়।

এরপর নাথুরামকে ফাঁসি কাঠের দিকে নিয়ে গেলে নাথুরাম রীতিমত ঘাবড়ে যায়। ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার সময় নাথুরামের পা কাঁপছিল কিন্তু নারায়ন আপ্টে স্থির ছিল।

১৯৪৯ সালের ১৫ ই নভেম্বর সকাল ০৭:৩০ এ পাঞ্জাবের আম্বালা জেলে নাথুরাম গোটসে এবং নারায়ণ আপ্টে কে ফাঁসি দেওয়া হয়।

ফাঁসির পর দুজনের মৃত শরীর তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি কোর্টের আদেশ মত আম্বালা থেকে দূরে কোনো জনৈক নদীর তীরে তাদের মৃত শরীরের অন্তিম শ্রাদ্ধ করা হয়।

অন্তিম শ্রাদ্ধ করার পর তাদের লাশ যেখানে পোড়ানো হয়েছিল সেই জায়গায় লাঙ্গল দিয়ে হাল বয়ে দেওয়া হয়। যাতে করে পরে নাথুরামের অন্তিম ক্রিয়াকর্মের জায়গাটি সনাক্ত করতে চাইলে

কেউ সনাক্ত করতে না পারে। তাই আজ পর্যন্ত কেউ নাথুরামের অন্তিম ক্রিয়া কর্ম কোথায় ঠিক করা হয়েছিল এই নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারেনা।

মহাত্মা গান্ধী হত্যাকান্ডের নায়ক নাথুরাম গোটসের কোর্টে দেওয়া লাস্ট বক্তৃতার ভিডিও


আরো পড়ুন : জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য। 

পরিশিষ্ট


মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্যকে নিয়ে যাবতীয় জল্পনার সারমর্ম টুকু সংক্ষিপ্ত আকারে আপনাদের সামনে তুলে ধরা হল। তবে মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্য,

নাথুরাম গোটসে মহাত্মা গান্ধীকে কেন হত্যা করেছিল,মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল আপনারা অনেকেই হয়তো এই প্রশ্নের উত্তর জানতেন।

কিন্তু মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর ঘটনার মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্যর পুরো মাকড়সার জাল বুনেছিল নাথুরাম গোটসে যদিও তার সঙ্গে তার সঙ্গী নারায়ণ আপ্টে এবং বিষ্ণু কড়কড়ে একই অপরাধের অপরাধী ছিল।

তাই মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু রহস্যের আসল পান্ডা নাথুরামের গোটসের সাজা পাওয়াটা অত্যন্ত জরুরী ছিল। তবে ইতিহাস মহাত্মা গান্ধী হত্যা কান্ডের অপরাধীদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না।

ইতিহাসে যেমন মহাত্মা গান্ধী জাতির পিতা হিসাবে বেঁচে থাকবে কিন্তু অপরদিকে নাথুরাম গোটসে কে মানুষ চিরকাল একজন দাগি খুনির আসামি হিসাবেই চিনবে।

FAQ


প্রশ্নঃ- মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকান্ড কতসালে হয়েছিল ?

উঃ – ১৯৪৮ সালের ৩০ শে জানুয়ারী মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকান্ড হয়েছিল।

প্রশ্নঃ – মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকান্ডের মূল ষড়যন্ত্রী কে ছিলেন ?

উঃ – মহাত্মা গান্ধী হত্যাকান্ডের মূল ষড়যন্ত্রী ছিলেন নাথুরাম গোটসে।

প্রশ্নঃ – মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকান্ড ঘটনা কোথায় হয়েছিল ?

উঃ – মহাত্মা গান্ধী হত্যাকান্ড দিল্লীর বিড়লা হাউসে হয়েছিল।

এই আর্টিকেল গুলোও পড়ে দেখুন –