মিউচুয়াল ফান্ড কত প্রকার (Mutual fund kato prokar)

আমরা এর আগের আর্টিকেল গুলোতে মিউচুয়াল ফান্ড কি, মিউচুয়াল ফান্ড কিভাবে কাজ করে আলোচনা করেছিলাম। আজকের আর্টিকেলে আমরা এখন মিউচুয়াল ফান্ড কত প্রকার (Mutual fund kato prokar) সেই বিষয়ে আলোচনা করব।

বাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের বহু ক্যাটেগরি আছে, তাই নতুন নিবেশকের কাছে মিউচুয়াল ফান্ড কত প্রকার (Mutual fund kato prokar) বিষয়টা স্পষ্ট না হলে, মিউচুয়াল ফান্ডে নিবেশ করা একটু কঠিন কাজ হয়ে উঠতে পারে।

তাই সর্বপরি একজন নতুন নিবেশককে অবশ্যই মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে মিউচুয়াল কত প্রকার অথাৎ মিউচুয়াল ফান্ডের ক্যাটেগরি গুলোকে ভালোভাবে বুঝে তারপর মিউচুয়াল ফান্ডে নিবেশ করা উচিত।

মিউচুয়াল ফান্ড কত প্রকার (Mutual fund koto prokar Bangla)

মিউচুয়াল ফান্ড কত প্রকার (Mutual fund kato prokar)? যদি জিজ্ঞাসা করা হয় তাহলে এর একবাক্যে উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ বাজারে অনেক ধরণের মিউচুয়াল ফান্ড আছে, কিন্ত মিউচুয়াল ফান্ডকে মূলত দুইভাগে ভাগ করা যায়-

ক) অ্যাসেট ক্লাস মিউচুয়াল ফান্ড (Asset Class Mutual Fund), খ) গঠনভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ড ( Structure Based Mutual Fund)

ক) অ্যাসেট ক্লাস মিউচুয়াল ফান্ড (Asset Class Mutual Fund)

Asset Class এর মিউচুয়াল ফান্ডে একসাথে এক ও একাধিক Asset ফান্ডে নিবেশ করা যায়। এখন আপনার মনে প্রশ্ন থাকতে পারে Asset Class মিউচুয়াল ফান্ড কত প্রকার –

০১. ডেবিট ফান্ড (Debt Fund)

ডেবিট ফান্ডে নিবেশ করলে একটি নির্দিষ্ট পরিমান রাশি ফেরত পাওয়া যায়। ডেবিট ফান্ডের মাধ্যমে সরকার ধার হিসাবে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমান রাশি সুদ সহ বিনিয়োগকারীকে ফেরত দেওয়া হয়।

ডেবিট ফান্ড (Debt fund) কে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে- a) গিল্ট ফান্ড (Gilt Fund), এই ফান্ডের মাধ্যমে সরকার Goverment Securities এর উপর টাকা বিনিয়োগ করে, তাই এই ধরণের ফান্ডে কোনো ধরণের রিস্ক থাকেনা।

b) জাঙ্ক বন্ড ফান্ড (Junk Bond Fund), এই ধরণের ফান্ডের টাকা Corporate Bond এর উপর নিবেশ করা হয়। আর এই ধরণের ফান্ডে রিস্ক থাকে কিন্তু গিল্ট ফান্ডের তুলনায় অনেক বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়।

c) ফিক্সড সিকিউরিটি ফান্ড (Fixed Security Fund), এই ধরণের ফান্ডে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগের উপর ০৩ থেকে ০৫ বছরের সময়সীমার লকিং পিরিয়ড থাকে, আর লকিং পিরিয়ডের পরে ফান্ড ম্যাচুরিটি হলে ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়।

০২. লিকুইড ফান্ড (Liquid Fund)

লিকুইড ফান্ড (Liquid fund) হল এমন এক ধরণের ফান্ড, যে ফান্ড থেকে কাস্টমার তার প্রয়োজনে যখন খুশি টাকা withdraw করতে পারে এবং কাস্টমারের টাকা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যাংক একাউন্টে এসে যায়।

লিকুইড ফান্ডে (Liquid fund) মিনিমাম ০৩ দিনের জন্যে নিবেশ করা যায় আর এই ফান্ডের টাকা ৯১ দিনের মধ্যে ম্যাচুরিটি হয়ে যায়।

০৩. ইকুইটি ফান্ড (Equity Fund)

মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ইকুইটি ফান্ড (Equity Fund) হল সবথেকে পপুলার ফান্ড। ইকুইটি ফান্ডে নিবেশ করে হাই রিস্কের সাথে হাই রিটার্ন কামানো যায়।

ইকুইটি ফান্ডের (Equity Fund) পুরো টাকা মিউচুয়াল ফান্ডের ফান্ড ম্যানেজার দ্বারা স্টক মার্কেটে নিবেশ করা হয়। ইকুইটি ফান্ডকে (Equity Fund) আবার আলাদা আলাদা কয়েকটি স্কীমে ভাগ করা হয়েছে-

  • লার্জ ক্যাপ ফান্ড (Large Cap Fund)- এই ফান্ডের টাকা বড় বড় কোম্পনিতে লাগানো হয়। এই ধরণের ফান্ডে রিটার্ন কম পাওয়া যায়, কিন্তু এই ফান্ডে টাকা নিবেশ করলে কোনো ধরণের রিস্ক থাকেনা।
  • মিড ক্যাপ ফান্ড (Mid Cap Fund)- যে সমস্ত কোম্পানির মার্কেটে নাম ডাক আছে এবং মার্কেটে তাদের ব্যবসার প্রসার আরো বেশি বাড়াতে চায়, সেই সমস্ত কোম্পনীতে মিড ক্যাপ ফান্ডের (Mid Cap Fund) টাকা বিনিয়োগ করা হয়। আর এই সমস্ত মিড ক্যাপ ফান্ডে, লার্জ ক্যাপ ফান্ডের তুলনায় অধিক রিটার্ন পাওয়া যায়।
  • স্মল ক্যাপ ফান্ড (Small Cap Fund)- এই ধরণের ফান্ডে যে সমস্ত কোম্পানি বাজারে নতুন এসেছে এবং তারা মার্কেটে তাদের নতুন ব্যবসা প্রসার করতে চাইছে। স্মল ক্যাপ ফান্ডের টাকা এই সমস্ত নতুন নতুন কোম্পনি গুলোতে বিনিয়োগ করা হয়। এই ধরণের ফান্ডে বিনিয়োগ করলে প্রচুর পরিমানে রিটার্ন পাওয়া যায়, কিন্ত এই ফান্ডে নিবেশ করলে প্রচুর ঝুঁকি থাকে।
  • মাল্টি ক্যাপ ফান্ড (Multi Cap Fund)- ইকুইটি ফান্ডের মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় ফান্ড হল মাল্টি ক্যাপ ফান্ড। Multi শব্দের অর্থ হল অনেক রকম, এইধরণের ফান্ডে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করে আলাদা আলাদা কোম্পনীতে টাকা নিবেশ করা হয়। তাই মাল্টি ক্যাপ ফান্ডে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি সেরকম থাকেনা, একসাথে অনেক গুলো কোম্পানিতে নিবেশ করাই, কোনো কোম্পানি লস করলে বাকি কোম্পনিগুলো প্রফিট করে। তাই এই ফান্ড থেকে আপনি মাঝারি রিটার্ন আশা করতে পারেন।
  • ফ্লেক্সি ক্যাপ ফান্ড (Flexi Cap Fund)- এই ধরণের ফান্ড কোম্পানি গুলো নিজেরাই নিজেদের ফান্ড চয়েস করে। ফ্লেক্সি ক্যাপ ফান্ডের (Flexi Cap Fund) টাকা ৬৫ % ইকুইটি ও ইকুইটি ওরিয়েন্টেড ফান্ডে নিবেশ করা হয়। সুতরাং এই ধরণের ফান্ডে large cap,mid cap, এবং small cap এর মধ্যে ফান্ড ম্যানেজার দ্বারা সরাসরি নিবেশ করা হয়।
মিউচুয়াল ফান্ড কত প্রকার
মিউচুয়াল ফান্ড কত প্রকার

০৪. ELSS Mutual Fund

ELSS Mutual ফান্ড এক প্রকারের Oriented Scheme এর মধ্যে পড়ে। এই ধরণের ফান্ডে ০৩ বছর যাবৎ টাকা রাখলে ইনকাম ট্যাক্স রিবেট পাওয়া যায়।

০৫. Thematic Fund

এইধরণের ফান্ড গুলোতে কোম্পানি বিশেষে নির্দিষ্ট ভাবে কয়েকটি কোম্পানিতে টাকা রাখা হয়। যেমন- Paint Company,Housing Company etc.

০৬. Hybrid Fund

যখন মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পনির টাকা Debt fund এবং Equity Fund দুই জায়গাতেই একসাথে লাগানো হয়, তখন তাকে Hybrid Fund বলা হয়।

Hybrid Fund এর মুখ্য উদ্দেশ্য হল নিবেশককে regular ইনকাম produce করা। এই ফান্ড গুলো Debt Fund এর তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়, আর ইকুইটি ফান্ডের তুলনায় কম রিস্কি হয়। এই ফান্ড গুলোকে আবার কতগুলো ভাগে ভাগ করা যায় –

  • ইকুইটি ওরিয়েন্টেড হাইব্রিড ফান্ড (Equity Oriented Hybrid Fund)- এই ধরেনর ফান্ডের টাকা ৬৫% ইকুইটি ফান্ডে এবং ৩৫% ডেবিট ফান্ডে লাগানো হয়, তাই এই ধরণের ফান্ড গুলোতে যেমন হাই রিস্ক থাকে, তেমন আবার হাই রিটার্ন পাওয়া যায়।
  • ডেবিট ওরিয়েন্টেড হাইব্রিড ফান্ড (Debt Oriented Hybrid Fund)- এই ফান্ডের দ্বারা ৬০% ডেবিট ফান্ডে এবং বাকি ইকুইটি ফান্ডে নিবেশ করা হয়। এই ধরণের ফান্ডে রিস্ক অনেক কম থাকে তাই এই ফান্ড গুলোতে রিটার্ন অনেক কম পাওয়া যায়।
  • ব্যালেন্স হাইব্রিড ফান্ড (Balanced Hybrid Fund)- এই ধরণের ফান্ড গুলো দ্বারা Asset class ফান্ডে নিবেশ করা হয়। অথাৎ এই ধরণের ফান্ডে Equity এবং Debt দুই ধরণের ফান্ডে টাকা লাগানো হয়। তবে এই ধরণের ফান্ডে ঝুঁকি অনেক কম থাকে, তার সাথে মাঝামাঝি রিটার্ন পাওয়া যায়।
  • মান্থলি ইনকাম ফান্ড (Monthly Income Fund)- এই ধরণের ফান্ডে ৯০% Debt fund এ নিবেশ করা হয়। এইধরণের Fund এ নিবেশ করলে অনেক বেশি return পাওয়া যায়। আরবিট্রেজ ফান্ড (Arbitrage Fund)- এর মাধ্যমে stock কিনে পরে অন্য স্টক মার্কেটে বেশি দরে বিক্রি করা হয়।

খ) গঠনভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ড (Structure Based Mutual Fund)

মিউচুয়াল ফান্ড কত প্রকার এর সূচিতে এখন আমরা গঠনভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ড (Stracture Based Mutual Fund),এর দিকথেকে মিউচুয়াল ফান্ড কত প্রকার জানার চেষ্টা করব –

০১. ওপেন এন্ডেড স্কিম (Open Ended Scheme)

এইধরণের ফান্ড গুলোতে যখন খুশি ফান্ড কেনা বেচা করা যায়। ওপেন এন্ডেড ফান্ড গুলোতে কোম্পানি থেকে সরাসরি নিবেশকদের শেয়ার জারি করা হয়।

০২. ক্লোজ এন্ডেড স্কিম (Close Ended Scheme)

এইধরণের ফান্ড গুলোতে অনেক কম ফান্ড থাকে। এই ধরণের ফান্ডগুলো সব সময় কেনা বেচা করা যায়না, ফান্ডের মেয়াদ শেষ হলে তবেই এই ধরণের ফান্ড বিক্রি করা যায়।

০৩. ইনডেক্স ফান্ড (Index Fund)

এই ধরণের ফান্ড গুলো সরাসরি স্টক মার্কেটের ইনডেক্সে নিবেশ করা হয়। যেমন- NIFTY,NIFTY Bank ইত্যাদি। এই ধরণের ফান্ডের সমস্ত স্টক sensex এ নিবেশ থাকায় ,এই ফান্ডে লাভের পরিমান এবং লোকসানের পরিমান দুটোই খুব কম হয়।

০৪. সেক্টর ফান্ড (Sector Fund)

সেক্টর ফান্ডের দ্বারা FMG অথবা IT এর মত কোম্পানি গুলোতে নিবেশ করা হয়। এই ধরণের ফান্ড গুলো অনেকটা Index ফান্ডের মত কাজ করে, কিন্তু কিছু বিশেষ স্ট্রাকচারের কোম্পনি গুলোর বিশেষ কিছু স্টকে টাকা নিবেশ করে।

FAQ

প্রশ্ন- ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড কি ?

উঃ – Asset Class Mutual ফান্ডের মধ্যে সবথেকে পপুলার ফান্ড হল ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড। ইকুইটি ফান্ডের মধ্যে- Large Cap Fund,Mid Cap Fund,Small Cap Fund,Multi Cap Fund,Flexi Cap Fund ফান্ড গুলো রয়েছে।

প্রশ্ন- মিউচুয়াল ফান্ডে কত রিটার্ন পাওয়া যায় ?

উঃ- মিউচুয়াল ফান্ডে ১০ থেকে ১৫ % রিটার্ন আশা করা যায়।

প্রশ্ন- মিউচুয়াল ফান্ড কি হালাল ?

উঃ- মিউচুয়াল ফান্ড হল হারাম।

পরিশিষ্ট

আশাকরি আপনারা এতক্ষনে মিউচুয়াল ফান্ড কত প্রকারের (Mutual fund kato prokar) হয়,মিউচুয়াল ফান্ড কিভাবে কাজ করে তার একটি প্রাথমিক ধারণা পেয়েগেছেন।

আপনি বর্তমানে কোনোদিন মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে চাইলে মিউচুয়াল ফান্ড কত প্রকারের (Mutual fund kato prokar) হয় এই নিয়ে আপনার কোনো সন্দেহ থাকবেনা।

তবুও মিউচুয়াল ফান্ড সম্বন্ধিত কোনো জিজ্ঞাসা আপনাদের মনে থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করে জানাতে পারেন, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

আমাদের আর্টিকেলটি ভালো লাগলে ০৫ ষ্টার রেটিং দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here