হোলি উৎসব কি,হোলি উৎসব কেন পালন করা হয়,হোলিকা দহন ইতিহাস,রাধার সঙ্গে কৃষ্ণ হোলি কেন খেলেছিল,রঙ খেলাকে হোলি কেন বলা হয় (Holi Utsav Keno Palon Kora Hoy)

পবিত্রতা ও ভালোবাসার মিলন উৎসব হল হোলি উৎসব। কিন্ত হোলি উৎসব কেন পালন করা হয় ? যদিও হোলি ও দোল উৎসবের মধ্যে খুব একটা বেশি পার্থক্য নেই তবে হোলি ও দোল পালনের রীতিনীতি কিন্ত আলাদা।

আমরা আজকের আর্টিকেলে হোলি উৎসব কেন পালন করা হয়, হোলি উৎসব কি, রঙ খেলাকে হোলি কেন বলা হয়, রাধার সঙ্গে কৃষ্ণ হোলি কেন খেলেছিল, হোলিকা দহন ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করব।

আমাদের পশ্চিমবাংলায় হোলিকে দোল বলেই সম্বোধন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হোলি উৎসবকে রাধাকৃষ্ণের প্রেমের উৎসব হিসাবেই উদযাপন করে। শান্তিনিকেতনে আবার হোলি তার নাম বদলে বসন্ত উৎসবের নাম নেয়।

হোলি উৎসব কি (What is Holi festval)

পবিত্রতা ও ভালোবাসার মেল্ বন্ধন ও খুশির রঙ মিলান্তির এক মহান উৎসব হল হোলি। হোলি (Holi festival) উৎসব প্রত্যেক বছর বসন্ত ঋতুতে বাংলা ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উদযাপন করা হয়।

বসন্ত ঋতুতে শীতকে বিদায় জানিয়ে গ্রীষ্মকালকে অভ্যর্থনা জানানোর গৌধুলীবেলা আবিরের রঙে হোলি উৎসব উদযাপন করা হয়। তবে শান্তিনিকেতনে হোলি উৎসবের এক আলাদা নাম ও এক আলাদা মাধুর্য্য আছে।

বোলপুর শান্তিনিকেতনে রবি ঠাকুরের ঐতিহ্যে ও সংস্কৃতির মেল বন্ধনে রঙ খেলার হোলি উৎসব রূপ নেয় বসন্ত উৎসবের। বসন্ত উৎসবে ছেলে-মেয়ে,ছোট-বড়, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে স্বেচ্ছায়, শ্রদ্বা ও ভালোবাসায়

একে অপরকে ভালোবাসার রঙে রাঙিয়ে দিয়ে চলে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনে শুভেচ্ছা বিনিময়, মিষ্টিমুখ, রবীন্দ্রনৃত্য, বাউল গানের আখড়া, আরো নানা রকমের সংস্কৃতির আদান প্রদান।

আমাদের রাজ্যের মায়াপুর ইস্কন এবং ভিন রাজ্যে হোলি উৎসব কিন্ত আলাদা ভাবেই উদযাপন করা হয়। মথুরা,বৃন্দাবন সহ উত্তর ও পশ্চিম ভারত সহ ভারতবর্ষের আরো অন্যান্য রাজ্যে

হোলি উৎসব উদযাপন করা হয় মূলত রাধা কৃষ্ণের দোল যাত্রাকে কেন্দ্র করেই। আবার দক্ষিণ ভারতের কৃষকরা খেত থেকে ভালো ফসল পাওয়ার আনন্দে হোলি উৎসব পালন করে থাকে।

তবে পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী রাক্ষসরাজ হিরণ্যকশিপুর বোন রাক্ষসী হোলিকার অগ্নি দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হওয়ার খুশিতেই হোলিকা দহনের পরের দিন রঙের উৎসব হোলি উৎসবের সূচনা হয় বলে মনে করা হয়।

হোলিকা দহন ইতিহাস (History of Holika Dahan)

হিন্দু ধর্মে হোলিকা দহনের একটি আলাদা ইতিহাস আছে, আমরা বাঙালীরা হোলিকা দহন কে ন্যাড়া পোড়ানো বলি, আর অবাঙালীরা ন্যাড়া পোড়ানোকে হোলিকা দহন বলে।

তাই বাঙালী এবং অবাঙালী সবার মনে হোলিকা দহন কি, হোলিকা দহনের ইতিহাস, হোলিকা দহন কেন করা হয় অথবা ন্যাড়া পোড়ানো কি, হোলির আগের দিন ন্যাড়া কেন পোড়াতে হয় ইত্যাদি প্রশ্ন থেকেই যায়।

পুরাণের কাহিনীতে হোলিকা দহন এবং ন্যাড়া পোড়ানোর ইতিহাস হল কিছুটা এরকম। একসময় হিরণ্যকশিপু নামের একজন রাক্ষস রাজা ছিল, তার ভাইকে ভগবান বিষ্ণু বধ করছিলেন।

হিরণ্যকশিপু তার ভাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ নেবার জন্যে অমরত্ব বর পাওয়ার আশায় প্রজাপতি ব্রহ্মার কঠিন তপস্যা করে ব্রহ্মাকে সন্তুষ্ট করেন। হিরণ্যকশিপুর তপস্যায় ব্রহ্মা খুশি হলে,

ব্রহ্মার কাছে হিরণ্যকশিপু অমরত্ব বরের প্রার্থনা করলে ব্রহ্মা হিরণ্যকশিপুকে সরাসরি অমরত্ব বরদানের জন্যে মানা করে দেয়। তখন হিরণ্যকশিপু ব্রহ্মার কাছে অমরত্বের সমান ০৫টি বর চেয়ে বসে।

ব্রহ্মার কাছ থেকে চাওয়া হিরণ্যকশিপুর ০৫টি বর হল- ০১. কোনও মানুষ বা কোনও প্রাণী হিরণ্যকশিপুকে মারতে পারবে না।,০২. ঘরের ভেতরে বা ঘরের বাইরে হিরণ্যকশিপুর মৃত্যু হবে না।

হোলি উৎসব কেন পালন করা হয়
হোলি উৎসব কেন পালন করা হয়

০৩. হিরণ্যকশিপুর মৃত্যু দিনেও হবে না, রাতেও হবে না।, ০৪. হিরণ্যকশিপুর মৃত্যু অস্ত্র দ্বারাও হবে না, শস্ত্র্র দ্বারাও হবে না। এবং ০৫. হিরণ্যকশিপুর মৃত্যু মাটিতেও হবে না, জলেও হবে না, শূন্যেও হবে না।

হিরণ্যকশিপু ব্রহ্মা দ্বারা এই ০৫টি অমরত্বের বর লাভ করার পর তার রাজ্যের প্রজাদের উপর অকথ্য অত্যাচার শুরু করে দেয়। অপরদিকে হিরণ্যকশিপুর প্রহ্লাদ নামের একটি পুত্র সন্তান ছিল।

প্রহ্লাদ কিন্ত তার বাবা হিরণ্যকশিপুর একদম উল্টো ছিল। শিশু অবস্থাথেকেই প্রহ্লাদ ভগবান বিষ্ণুর ভক্ত ছিল, বাবার নিষেধ অবজ্ঞা করেই সে বিষ্ণুর পূজা করতো।

এদিকে হিরণ্যকশিপু তার পুত্র প্রহ্লাদকে বাগে আনতে না পেরে, প্রহ্লাদকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেই। হিরণ্যকশিপুর বোনের নাম হোলিকা, তার কাছে ব্রহ্মার দ্বারা আশীর্বাদ প্রাপ্ত একটি চাদর ছিল।

যেই চাদরটি মুড়ি দিয়ে আগুনে প্রবেশ করলে তার শরীরে আগুনের আঁচ লাগতনা। হিরণ্যকশিপু হোলিকাকে বললেন প্রহ্লাদকে কোলে করে আগুনের মধ্যে প্রবেশ করতে। হিরণ্যকশিপুর নির্দেশে হোলিকা তখন প্রহ্লাদকে কোলে করে

আগুনের মধ্যে প্রবেশ করে, কিন্ত প্রহ্লাদ অগ্নিকুন্ডে গিয়ে ভগবান শ্রী বিষ্ণুকে স্মরণ করলে ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদে হোলিকার গায়ের চাদর উড়ে গিয়ে প্রহ্লাদের গায়ে জড়িয়ে যায়। অপরদিকে অগ্নিকুন্ডের আগুনে হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা

আগুনে পুড়ে ছায় হয়ে যায়। বাকি আগে গিয়ে ভগবান বিষ্ণুর নরসিংহ অবতারে হিরণ্যকশিপুর বধ করার কাহিনীর গল্প আপনারা মোটামোটি সবাই জানেন। হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকার আগুনে পুড়ে মরার ঘটনাকে ঘিরেই

হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষেরা অশুভ শক্তির পরাজয় ও শুভ শক্তির আগমনের নিরিখে হোলি উৎসবের আগের দিন সন্ধে বেলা হোলিকা দহন করে অশুভ শক্তির প্রভাবকে এড়িয়ে হোলি উৎসবকে স্বাগত করে থাকে।

রঙ খেলাকে হোলি কেন বলা হয় (Why is the game color called Holi)

পুরাণের কাহিনী অনুসারে হোলি উৎসবটির সূচনা হয়েছে রাক্ষস রাজা হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকার অগ্নি দগ্ধ হয়ে ভস্মীভূত হয়ে মৃত্যু হওয়ার কাহিনী থেকে।

হিরণ্যকশিপু ও তার বোন হোলিকার অত্যাচারে নগরবাসী ক্ষিপ্ত ছিল। রাক্ষস রাজ হিরণ্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ ভগবান বিষ্ণুর ভক্ত হওয়ায় রাক্ষসী হোলিকা এবং হিরণ্যকশিপু দুজনে মিলে ষড়যন্ত্র করে

প্রহ্লাদকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্ত ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় প্রহ্লাদের পরিবর্তে রাক্ষসী হোলিকা সেই আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। রাক্ষসী হোলিকার মৃত্যুতে ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমার দিন নগরবাসী আনন্দ উৎসব উদযাপন করে রঙ খেলেছিল।

সেই সময় থেকেই প্রচলিত পরম্পরা অনুযায়ী ফাল্গুন মাসের দোল পূর্ণিমার আগের দিন অথাৎ রঙ খেলার আগের দিন হোলিকা দহন করে পরের দিন রঙ খেলে, এই রঙের উৎসবকেই হোলি বলা হয়।

আরো পড়ুন :

হোলি উৎসব কেন পালন করা হয় (Why Holi festival is celebrated)

হোলিকা থেকে হোলি শব্দটি এসেছে। হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করেই বসন্তকালের রঙ মাখানোর আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে ভারত সহ দেশ বিদেশের মানুষ। কিন্তু প্রশ্ন হল হোলি উৎসব কেন পালন করা হয় ? হোলি উৎসব আসলে কি ?

হোলি উৎসবের সূচনা হয় হিরণ্যকসিপুর বোন হোলিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। আসলে রাক্ষস রাজা হিরণ্যকসিপুর ঘরে তার পুত্র প্রহ্লাদ ছিল ভগবান বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত, যেটা হিরণ্যকসিপু ঠিক মেনে নিতে পারছিলনা।

বার বার পুত্র প্রহ্লাদকে বিষ্ণুর পূজা থেকে বিরত থাকতে বলা হলেও সে তার বাবার আদেশ তোয়াক্কা না করেই ভগবান বিষ্ণুর পূজা করত। তখন হিরণ্যকসিপু নানান ধরণের পন্থা অবলম্বন করে প্রহ্লাদকে হত্যা করার চেষ্টা করে।

কখনো প্রহ্লাদকে উন্মাদ হাতির সামনে ফেলে দিয়ে হাতির পায়ে পিষে দেওয়ার চেষ্টা করে। আবার কখনো বিষধর সাপের ঘরে, সাপের ছোবল খাওয়ার জন্যে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদে প্রহ্লাদ বার বার প্রাণে বেঁচে যায়।

তখন হিরণ্যকসিপু হোলিকাকে প্রহ্লাদকে কোলে বসিয়ে অগ্নিকুন্ডে প্রবেশ করার নির্দেষ দেয়। বলা বাহুল্য ব্রহ্মা দ্বারা হোলিকা বর পেয়েছিল, হোলিকাকে আগুন স্পর্শ করতে পারবেনা।

কিন্ত হোলিকা তার শক্তিকে অসৎকাজে ব্যবহার করাই সেই অগ্নিকুন্ডে নিজেই পুড়ে ভস্মীভূত হয়। প্রহ্লাদ ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদে বেঁচে যায়। রাক্ষসী হোলিকার মৃত্যুতে নগরবাসী হোলিকার মৃত্যুর পরের দিন

ফাল্গুনী পূর্ণিমায় রঙ খেলে আনন্দ উৎসব পালন করেছিল। আর তখন থেকেই পারম্পরিকভাবে হিন্দু সনাতন সমাজে হোলিকা দহন করার পর রঙ খেলে হোলি উৎসব পালন করার প্রথা চলে আসছে।

তবে হোলি উৎসব (Holi festival) শুধু রঙ খেলে আনন্দ করার উৎসব নয়। হোলি উৎসবের হোলিকা দহনের মধ্যে দিয়ে যেমন দুস্টু আত্মার বিনাস হয়েছিল, ঠিক তেমনি হোলি উৎসবের মধ্যে দিয়ে

আমাদের মনের কালিমা, অহংকার, হিংসা, দম্ভ সবকিছুকে দহন করে ভালোবাসার অকৃত্রিম আনন্দে মেতে উঠতে হবে তবেই হোলি উৎসবের আসল তত্ব পরিস্ফুটিত হবে।

হোলি উৎসব কেন পালন করা হয়
হোলি উৎসব কেন পালন করা হয়

উত্তর ভারতে মথুরা এবং বৃন্দাবনের মত জায়গা গুলোতে হোলি উৎসবের আবার আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। সেখানে হোলি উৎসব মানে প্রেমের খেলা। হোলি উৎসবের মাধ্যমে চলে নারী পুরুষের প্ৰেম নিবেদনের পালা।

পুরাণের কাহিনী অনুসারে যেমন রাধা কৃষ্ণের সঙ্গে যেমন রঙ মাখিয়ে প্রেমের হোলি খেলেছিলেন। মথুরা ও বৃন্দাবনে আজও রাধা কৃষ্ণের অনুকরণে ১৬ দিন ধরে রংপঞ্চমীর হোলি খেলা চলে।

হরিয়ানা, রাজস্থানের মত রাজ্য গুলোতে হোলিতে ভাঙ খাওয়ার রীতি নীতি দেখতে পাওয়া যায়। সেই সমস্ত রাজ্য গুলোতে হোলির দিনে ভাঙ খেয়ে হোলি খেলা হয়।

পুরুষরা রঙ নিয়ে মহিলাদের মাখাতে গেলে মহিলারা লাঠি দিয়ে পুরুষদের পেটায়। লাঠি দিয়ে পুরুষদের পেটানো হরিয়ানা ও রাজস্থান রাজ্যের হোলি উদযাপনের এক ঐতিহাসিক পরম্পরা।

হোলির দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে গোকুলে গোপীদের সঙ্গে নিয়ে মিলেমিশে রঙ খেলতেন। রঙের এই আনন্দ উৎসব বৃন্দাবন ও মথুরা বাসীর কাছে হয়ে উঠেছিল এক প্রাণের উৎসব, তাই সেই থেকে আজ পর্যন্ত মথুরা ও বৃন্দাবনের রঙ খেলার তুলনা হয়না।

রাধার সঙ্গে কৃষ্ণ হোলি কেন খেলেছিল ( Why did Krishna celebrated Holi with Radha)

বসন্তপঞ্চমীর দিন শ্রীমতি রাধা ও কৃষ্ণ একসঙ্গে কুঞ্জ বিহার করছিলেন, এমন সময় আকাশ থেকে কিছু ফুলের পাপড়ি রাধা কৃষ্ণের অঙ্গের উপর ঝড়ে পড়ল।

হোলি উৎসব কেন পালন করা হয়
হোলি উৎসব কেন পালন করা হয়

ব্যাপারটা কি দাঁড়াল, বোঝার জন্যে কৃষ্ণ যোগবলে দেখলেন স্বর্গের দেবী ও দেবতারা রঙের উৎসব পালন করছেন আর সেই জন্যেই স্বর্গ থেকে কিছুটা পুষ্প তাদের উপর ঝড়ে পড়েছে।

শ্রীমতি রাধা তখন কৃষ্ণের কাছে রঙ খেলার জন্যে বায়না ধরলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন রাধাকে বুঝিয়ে বললেন আজকের দিনটা না হয় দেবযাতদের জন্যেই থাক! আমরা না হয় অন্যদিনে রঙের উৎসব পালন করব।

এরপরে ভগবান কৃষ্ণ শ্রীমতি রাধার রঙ খেলার আবদার পূরণ করলেন ফাল্গুনী পূর্ণিমায়। ফাল্গুনী পূর্ণিমায় কৃষ্ণ রাধা ও তার গোপীগনদের সঙ্গে নিয়ে বৃন্দাবনে একে অপরকে প্রেমের রঙে, রঙ মাখিয়ে রঙের উৎসব পালন করেন।

আবার এই সোনাও যায় কৃষ্ণ যখন ছোট ছিলেন তখন পুতনা রাক্ষসী ভগবান কৃষ্ণকে দুধ খাইয়ে হত্যা করতে এলে পুতনার দুধ পান করার পর কৃষ্ণের রঙ কালো হয়ে যায়।

অপরদিকে রাধা ও তার অষ্টসখীগণ সকলেই সুন্দরী ও গৌরবর্ণের ছিল, তাই কৃষ্ণ মা যশোদার কাছে অভিযোগ করলেন “হে যশোমতী মাইয়া,রাধা কিউ গোরা ? মে কিউ কালা” ?

মা যশোদা তখন কৃষ্ণকে বললেন তুমি যদি গোপীদের গিয়ে রঙ মাখিয়ে দাও তাহলে সবাই রঙের আঙিনায় একইরকম হয়ে যাবে, যেখানে কালো ও গৌর রঙের আর কোনো বিভেদ থাকবেনা।

এরপর কৃষ্ণ ও তার দলবল গিয়ে রাধা ও তার সখীদের রঙ মাখিয়ে দেয়। প্রত্যুত্তরে গোপীরা কৃষ্ণ ও তার দলবলকে লাঠি নিয়ে তেড়ে এসেছিলেন। আর সেই থেকেই লাঠি দিয়ে মেরে লাঠমার হোলি খেলার শুরু হয়।

হোলি ও দোল উৎসবের মধ্যে তফাৎ (The difference between Holi and Dol festivals)

হোলি ভারত তথা সমগ্র বিশ্বের মধ্যে সবথেকে বড় একটি উৎসব। তবে বিভিন্ন জায়গায় হোলি উৎসবের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে, পশ্চিমবাংলায় হোলিকে দোল বলা হয়।

নাম আলাদা হলেও এলাকাভেদে প্রতিটি রাজ্যের মানুষ কিন্তু হোলি উৎসবকে তারা তাদের নিজের নিজের আস্থা ও পরম্পরার সাথে স্বমহিমায় পালন করে।

সুতরাং উৎসবের নাম যায় হোক না কেন, হোলি বা দোল যে রঙের উৎসব তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাহলে এই আনন্দ উৎসবের মাঝে হোলি ও দোল উৎসবের মধ্যে তফাৎটা কোথায় ?

হোলি উৎসব দেশ,বিদেশে বেশিরভাগ জায়গাতেই হোলি নামে পরিচিত হলেও বাংলায় কিন্ত হোলি উৎসব দোল নামেই পরিচিত। কারণ হোলি উৎসব ও দোল পালনের রীতি নীতি কিন্ত কিছুটা হলেও আলাদা।

হোলি উৎসব কেন পালন করা হয়
হোলি উৎসব কেন পালন করা হয়

হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা দহনের পর নগরবাসী আনন্দ উদযাপনের উৎসব হিসাবে হোলি পালন করেছিল। অপরদিকে দোল উৎসব পালন করা হয় রাধা কৃষ্ণের প্রেম কাহিনীর উপর ভিত্তি করে।

যদিও ঘটনাক্রমে প্রহ্লাদ এবং শ্রীকৃষ্ণ দুজনেই ভগবান বিষ্ণুরই অঙ্গ তবুও উৎসবের নাম এবং রীতি কিন্ত আলাদা আলাদা। বাংলা পঞ্জিকানুসারে ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমার পরের দিন দোল উৎসব পালন করা হয়।

দোল উৎসবের দিন রাধা ও তার সখীদের সঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনের কুঞ্জবনে রঙ খেলায় মেতে উঠেছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতি রাধার মুখে সুগন্ধি ফুলের কুড়ির পাপড়ীর রঙে রাঙিয়ে দিয়ে ভালোবাসা নিবেদন করেছিলেন।

শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার এই প্রেম নিবেদনের মুহূর্তটি উদযাপন করার জন্যে রাধাকৃষ্ণ দুজনকেই রঙ মাখিয়ে বর্ণময় পালকিতে নিয়ে বৈষ্ণৱ ধর্মের লোকেরা নিয়ে নগর কীর্ত্তন করে দোল উৎসব উদযাপন করে।

তাই আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে হোলি ও দোল উৎসব মূলত রঙ খেলার উৎসব হলেও হোলি ও দোল উৎসবের তাৎপর্য কিন্ত আলাদা আলাদা।

FAQ

প্রশ্ন- হোলির আগের দিন ন্যাড়া পোড়া কেন হয় ?

উঃ- হোলি শব্দটি এসেছে হোলিকা শব্দ থেকে। হিন্দু ধর্মে হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা দহন হওয়ার খুশিতে হোলি উৎসব পালন করা হয়। তাই হোলির আগের দিন হোলিকা দহনের অনুরুপ কাঠ ও ঘুঁটো জড় করে আগুন লাগিয়ে অগ্নিকুন্ড তৈরী করে হোলিকা দহন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে হোলিকা দহনকেই ন্যাড়া পোড়ানো বলা হয়।

প্রশ্ন- হোলি কবে ২০২৩ ?

উঃ- ২০২৩ সালে হোলি হল ০৮ ই মার্চ বুধ বার।

প্রশ্ন- হোলি উৎসব ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে কেন পালন করা হয় ?

উঃ- হিন্দু ধর্মমতে ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিকে বৃন্দাবনের কুঞ্জবনে শ্রীকৃষ্ণ রাধার মুখমণ্ডলে ফুলের কুঁড়ির পাপড়ির রঙ লাগিয়ে প্রেম নিবেদন করেছিল। রাধাকৃষ্ণের এই প্রেম নিবেদনকে কেন্দ্র করেই ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে হল উৎসব পালন করা হয়।

প্রশ্ন- দোল পূর্ণিমার দিন রঙ কেন খেলা হয় ?

উঃ- দোল পূর্ণিমার দিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতি রাধার মুখমন্ডলে রঙ লাগিয়ে প্রেম নিবেদন করেছিল তাই দোল পূর্ণিমার দিন রঙ খেলা হয়।

প্রশ্ন- দোল পূর্ণিমা কবে ?

উঃ- দোল পূর্ণিমা ০৮ ই মার্চ বুধ বার ২০২৩।

পরিশিষ্ট

খুশি ও রঙের ভালোবাসার উৎসব হল হোলি উৎসব। আমরা আজকের আর্টিকেলে হোলি উৎসব কেন পালন করা হয় আলোচনা করে দেখালাম। হোলি উৎসব কেন পালন করা হয় আর্টিকেলের মাধ্যমে

আমরা হোলি ও দোল উৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরলাম। আপনাদের হোলি উৎসব কেন পালন করা হয় আর্টিকেলটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার ভাই বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে দেবেন।

হোলি উৎসব কেন পালন করা হয় কিংবা হোলি ও দোল নিয়ে কোন রকমের প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

5/5 - (3 votes)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here