স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প নিঃশুল্ক সরকারি স্বাস্থ্য বীমা যোজনা।

আজকে আমাদের প্রতিবেদনটি হল স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প নিঃশুল্ক সরকারি স্বাস্থ্য বীমা যোজনা নিয়ে। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা আলোচনা করব,স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কারা পাবে,

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কবে চালু হয়,স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের নিয়ম,স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প (swasthya sathi prokolpo) কারা পাবেনা,স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কার্ড কাদের জন্য,স্বাস্থ্য সাথী হাসপাতালের তালিকা এবং

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কার্ড,রাজ্য সরকারের নিঃশুল্ক সরকারি স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের সুবিধা ও অসুবিধা গুলির ব্যাপারে।

Table of Contents

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প প্রতিবেদন (Swasthya sathi prokolpo)


পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ্য বাম শাষনের অবসানের পর দ্বিতীয় বারের জন্য ২০১৬ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়,

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পটির (swasthya sathi prokolpo) কথা ঘোষণা করেন এবং ২০১৮ সাল থেকে রাজ্য সরকারের দ্বারা নিঃশুল্ক স্বাস্থ্য বীমা যোজনা রূপে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পটিকে বাস্তবায়িত রূপ দেওয়া হয়।

কিন্তু স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পটিকে নিঃশুল্ক সরকারি স্বাস্থ্য বীমা রূপে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ইংরেজী ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে দুয়ারে সরকার কর্মসূচির মাধ্যমে।

tweet

অপরদিকে কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সরকার ক্ষমতায় আসলে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৮ সালে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে,

দিল্লীর লালকেল্লা থেকে কেন্দ্র সরকারের আয়ুষমান ভারত (PM JAY) নামে একটি সর্বভারতীয় স্বাস্থ্য বীমা যোজনার কথা ঘোষণা করেন এবং রাজ্য স্তরে মানুষকে

বীমার লাভ দেওয়ার জন্য দেশের প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের আয়ুষমান ভারত সর্বভারতীয় স্বাস্থ্য বীমার সরিক হওয়ার জন্য এগিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানান।

আরো পড়ুন : স্বাস্থ্য বীমা কাকে বলে ? আপনার জন্য একটি সেরা স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানী কীভাবে নির্বাচন করবেন। 

পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়ুষমান ভারত কেন স্থগিত করেন (Why did W.B opt out Ayushman Bharat )


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দোপাধ্যায় ২০১৮ সালে কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে আয়ুষমান ভারত প্রকল্পে সরিক হন।

কিন্তু ২০১৯ সালের পর থেকে পচিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্র সরকারের আয়ুষমান ভারত প্রকল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গকে সরিয়ে নেন।

কারণ হিসাবে দেখা যায় আয়ুষমান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে যে সমস্ত মানুষকে আয়ুষমান ভারত স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছিল,

সেই সমস্ত পরিবারকে কেন্দ্র স্বাস্থ্য মন্ত্রালয় ভারতসরকারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত শংসাপত্র সহ আয়ুষমান ভারত কার্ডটিতে প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি

এবং বিজেপি পার্টির নির্বাচনী চিহ্ন পদ্মফুলের ছাপকে বিজ্ঞাপন হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল,যেটা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পছন্দ হয়নি।

এই ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিষ্কার মন্তব্য ছিল রাজ্য ও কেন্দ্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আয়ুষমান ভারত প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী আয়ুষমান ভারত

স্বাস্থ্য বীমা কার্ডের যে বীমা রাশি ০৫ লক্ষ টাকা,তার ৪০ % রাজ্য সরকার বহন করবে এবং ৬০ % কেন্দ্র সরকার বহন করবে,

অথচ কেন্দ্র সরকার আয়ুষমান ভারত কার্ডের মধ্যে বিজেপি পার্টির নির্বাচনী চিহ্ন পদ্মফুল ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে বিজেপি পার্টির প্রচার করাটা আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ঠিক মেনে নিতে পারেনি।

আরো পড়ুন : কোন ভ্যাকসিন সবথেকে ভালো। করোনা ভ্যাকসিনের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কিভাবে করবেন। 

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের সুবিধা গুলি কি কি ?


স্বাস্থ্য সাথী প্ৰকল্প প্ৰতিবেদনের (swasthya sathi prokolpo) মাধ্যমে এবারে আমরা আলোচনা করব পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিঃশুল্ক স্বাস্থ্য বীমা যোজনায় সরকার স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের সুবিধা গুলি নিয়ে।

একটি পরিবারের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের (swasthya sathi prokolpo) মাধ্যমে একজন রোগী ও তার পরিবার যে সমস্ত সুবিধাগুলি পাবে –

০১.স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের প্রিমিয়াম রাজ্য সরকার বহন করবে,স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ধারক ও তার পরিবারকে কার্ডের জন্য কোনো রকমের বাৎসরিক ফ্রী দিতে হবেনা।

০২. প্রত্যেক পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে ০৫ লক্ষ টাকার বীমা রাশি সরকার দেবে। যেমন-যদি আপনার স্ত্রীর নামে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকে তাহলে ঐ কার্ডের সঙ্গে পরিবারের আরও যে সদস্যের

নাম নথিভুক্ত থাকবে তাদের সবাইকে ধরে একটি কার্ড পিছু ০৫ লক্ষ টাকার বীমা রাশি দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের নোমিনীদের এক এক জনের নামে আলাদা করে ০৫ লক্ষ টাকার বীমা রাশি দেওয়া হবেনা।

০৩. স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে,স্বাস্থ্য বীমার স্বাস্থ্য সাথী কার্ডটি দেওয়া হবে তার দৌলতে চিকিৎসা খরচ হবে সম্পূর্ণ ভাবে পেপার লেস,ক্যাশ লেস ও স্মার্ট কার্ড বেসড।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের (swasthya sathi prokolpo) জন্য সরকারের আর্থিক তহবিল থেকে বাৎসরিক ২০০০ কোটি টাকার খরচ জোগানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : ২০২১ সালের সরকারি রিস্ক ফ্রী সবথেকে ভালো সেভিং প্ল্যান। 

স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলে হাসপাতালে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে ?


স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলে একজন রোগী ও তার পরিবারকে সরকারি এবং স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের প্যানেলে থাকা প্রাইভেট হাসপাতাল গুলি থেকে যে সমস্ত নিঃশুল্ক পরিসেবা গুলি দেওয়া হবে-

০১. স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলে হাসপাতলের রেজিস্ট্রেশন বিনা মূল্যে করা হবে,আলাদা করে রোগীর পরিবারকে কোনো রেজিস্ট্রেশন ফিস দিতে হবেনা।

০২. স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলে সরকারি এবং স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের প্যানেলে থাকা প্রাইভেট হাসপাতাল গুলিতে রোগীর জন্য নিঃশুল্ক জেনারেল ওয়ার্ডের বেড দেওয়া হবে।

রুগী ও তার attender এর জন্য আলাদা করে কোনো প্রাইভেট এবং এয়ার কন্ডিশনার রুমের ব্যাবস্থা থাকবেনা। তার জন্য আলাদা করে টাকা দিতে হতে পারে।

০৩. স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলে রুগীর সমস্ত রকমের ডায়গনেস্টিক টেস্ট,যেমন-রক্ত,মল,মূত্র,কফ ইত্যাদি এবং এক্স-রে,ইসিজি,কার্ডিও গ্রাফি ইত্যাদির মত টেস্ট গুলো বিনামূল্যে করা হবে।

০৪. হাসপাতালে রুগীর যাবতীয় ওষুধ পত্র এবং প্রয়োজনে অক্সিজেন ও রক্তের যোগান নিঃশুল্ক ভাবে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থেকে দেওয়া হবে।

০৫. স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে ডাক্তারের কনসাল্ট ফিস এবং সার্জারীর মতো বড়ো রকমের খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে।

০৬. এছাড়াও রোগীর খাবার,নার্সিং ফিস এবং রুগীকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার পর ঘরে ফেরার জন্য এম্বুলেসের ভাড়া স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের থেকে পাওয়া যাবে।

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কারা পাবে (Swasthya sathi prokolpo kara pabe)


আসুন এই অনুচ্ছেদে আমরা স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কারা পাবে সেই বিষয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে জানার চেষ্টা করি।

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার জন্য সবার আগে সেই ব্যক্তি ও তার পরিবারকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে। পচিমবঙ্গের সমস্ত বাসিন্দা ধনী ও দরিদ্র নির্বিশেষে

স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্য বীমার জন্য আবেদন করতে পারে এবং স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পাওয়ার জন্য আলাদা করে ফ্যামেলি ইনকাম নিয়ে কোনো শর্ত সাপেক্ষ বাধ্য-বাধ্যকতা থাকছেনা।

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কারা পাবে না (Swasthya sathi prokolp kara pabenaa)


উপরের অনুচ্ছেদে আমরা জানলাম স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কারা পাবে এবার আমরা এই অনুচ্ছেদে জানব স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কারা পাবে না সেই বিষয়ে।

০১. পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত লোকের ও তার পরিবারের আগে থেকে কোনো প্রাইভেট স্বাস্থ্য বীমা করা আছে তারা স্বাস্থ্য সাথী কার্ড করতে পারবেনা।

০২. যে সমস্ত কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারী যারা আগে থেকে কোনো সরকারি স্বাস্থ্য বীমা স্কিমের সুবিধা ভোগ করছেন,

যেমন- CGHS,WBHS,ESI ইত্যাদির মত হেলথ কার্ডের সুবিধা যাদের আছে তারা স্বাস্থ্য সাথী কার্ড করানোর জন্য যোগ্য নয়।

০৩. তবে যে সমস্ত সরকারি কর্মচারীর যারা আগে থেকে কোনো সরকারি স্বাস্থ্য বীমা স্কিমের সুবিধা পাননা তারা সবাই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারে।

০৪. এছাড়া যে সমস্ত সরকারি কর্মচারি মেডিকেলের জন্য আলাদা করে মাইনের (salary) সঙ্গে মেডিকেল ভাতা (Medical allowance) পেয়ে থাকেন তারা স্বাস্থ্য সাথী কার্ড করার জন্য যোগ্য নয়।

আরো পড়ুন : বিনা কারণে পুলিশ গ্রেফতার করলে আপনি কি করবেন। 

আয়ুষমান ভারত এবং স্বাস্থ্য সাথী হেলথ কার্ডের মধ্যে পার্থক্য কি


০১. আয়ুষমান ভারত হেলথ কার্ডের উপর শর্তসাপেক্ষে কার্ড ধারককে বাৎসরিক ২০০০ টাকা পর্যন্ত প্রিমিয়াম জমা করতে হতে পারে।

কিন্তু স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য কোনো রকম শর্ত ছাড়াই আলাদা করে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ধারককে কোনো রকমের বাৎসরিক মূল্য দিতে হয়না।

০২. ২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী (BPL) তালিকাভুক্ত পরিবারগুলি আয়ুষমান ভারত কার্ডের জন্য যোগ্য হবে।

কিন্তু স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পাওয়ার জন্য এরকম কোনো নিয়ম নাই,পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো বাসিন্দা যদি তার কোনো সরকারি/ প্রাইভেট কোম্পানীর স্বাস্থ্য বীমা না থাকে তাহলে সেই ব্যক্তি স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পাওয়ার জন্য যোগ্য।

০৩. আয়ুষমান ভারত কার্ড বানানোর জন্য প্রতি কার্ড পিছু ৩০ টাকা করে প্রসেসিং ফিস দিতে হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বানানোর জন্য কোনো রকমের টাকা দিতে হয়না।

০৪. আয়ুষমান ভারত কার্ড দিয়ে কার্ড পিছু ০৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমা কভার পাওয়া যায়। অপরদিকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দিয়েও ০৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমা পাওয়া যায়।

২০২১ সালে অনলাইন স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এপ্লাই কি ভাবে করবেন


যে সমস্ত ব্যক্তিরা স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সুযোগ ও সুবিধা নিতে চান তারা খুব সহজে কয়েকটা ধাপ ফলো করে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

ইচ্ছুক ব্যক্তিরা স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আবেদন করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট swasthyasathi.gov.in.

ভিজিট করে নিচের দেওয়া ছবিতে apply online অপশনে গিয়ে খুব সহজেই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

swasthya sathi online applay

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ –যদি কোনো কারণ বসত apply online অপশনে গিয়ে আপনি আপনার স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের কোনো তথ্য না পেয়ে থাকেন তাহলে আপনি আপনার নিকটবর্তী 

 District Kiosk Operator at Swasthya Sathi cell with supporting documents.(আধার কার্ড,রেশন কার্ড) সহ যোগাযোগ করুন। 

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প হাসপাতালের তালিকা 


পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও ১৫০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোম কে স্বাস্থ্য সাথীর প্যানেলে যোগ করেছেন।

বর্তমানে জেলা স্তরে আরও ছোট বড়ো নার্সিংহোম এবং হাসপাতাল গুলিকে যাতে স্বাস্থ্য সাথীর প্যানেলে নিয়ে আসা যায় তার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ের তরফ থেকে

ডিষ্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল সংগঠনের সঙ্গে মিটিং করে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলিকে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে সরিক হওয়ার জন্য আহ্বান করার কথা বলেছেন।

কারণ অনেক ক্ষেত্রে দেখতে পাওয়া যায় স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় রুগী ও তার পরিবারকে কলকাতার মত বড় শহরে দৌড় লাগাতে হয়।

কিন্তু স্থানীয় এলাকায় কোনো বেসরকারি হাসপাতাল যেখানে আধুনিক চিকিৎসা উপকরণ রয়েছে সেই সমস্ত বেসরকারী হাসপাতাল গুলিকে যদি

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলে যেমন বেসরকারী হাসপাতাল গুলির ফান্ড জেনারেট হবে অপরদিকে স্থানীয় লোককে রুগীকে নিয়ে হয়রানি ও কম হতে হবে।

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প হাসপাতালের তালিকা
স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প হাসপাতালের তালিকা

আপনি যদি একজন স্বাস্থ্য সাথী কার্ড হোল্ডার হয়ে থাকেন তাহলে অতি সহজেই অনলাইনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট helpline.swasthyasathi.gov.in/ssHospitalDdetails.aspx

ভিজিট করে Swasthya Sathi Active Hospital details page এ গিয়ে District,Hospital type, hospital grade.এ সঠিক তথ্য দিয়ে

আপনার জেলায় আপনার লোকালিটির মধ্যে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সুবিধা পাওয়া যায় এমন স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প হাসপাতালের তালিকা দেখতে পারেন।

আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি বর্তমানে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যেম পশ্চিমবঙ্গের বাইরের রাজ্যে দিল্লীর AIMS এবং ব্যাঙ্গালোরের CMC Vellore হাসপাতালে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দিয়ে চিকিৎসা করানো যায়।

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প প্যাকেজ লিস্ট (Swasthya Sathi Package List Details)


স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য সরকার চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক গুচ্ছ রোগের চিকিৎসার কথা ঘোষণা করেছেন,আপনি যদি স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের

চিকিৎসা প্যাকেজ বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জানতে চান তাহলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট এর নিচে দেওয়া লিংকে গিয়ে যাবতীয় তথ্য দেখতে পারেন।

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের প্যাকেজ লিস্ট অফিসিয়াল লিঙ্কটি হল tms.swasthyasathi.gov.in?protal/SSPPackage.asp 

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প
স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প

উপরের লিংকে প্রবেশ করলে একটি নতুন উইন্ডো পপআপ হবে সেখানে গিয়ে Grade এবং hospital and Procedure. নির্বাচন করে প্যাকেজ গুলি দেখুন।

২০২১ সালে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আবেদন করার জন্য আবেদন ফ্রম ডাউনলোড কি ভাবে করবেন


২০২১ সালে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য আবেদন শুরু হয়ে গেছে,আপনারা যারা এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য সাথী কার্ড করিয়ে উঠতে পারেননি তাদের কথা ভেবে

নিচের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর আবেদন ফর্মের pdf ডাউনলোড লিঙ্ক দেওয়া হল আপনারা চাইলে নিচের লিংকে ক্লিক করে সহজেই স্বাস্থ্য সাথী ফ্রম-B ডাউনলোড করতে পারেন।

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প
স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প

এখানে ক্লিক করে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আবেদন ফর্ম-B pdf.এখনি ডাউনলোড করুন।

রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের প্রচার কেন করছে


২০২১ এর লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তার দুয়ারে সরকার কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কে সামনে নিয়ে এসে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

২০২১ সালের ০৯ জানুয়ারী থেকে রাজ্য সরকার পঞ্চায়েত গ্রাম পৌরসভা স্তরে মানুষের সামনে এগিয়ে এসে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি শুরু করেন।

এ যাবৎ সরকারের দুয়ারে সরকার কর্মসূচী দ্বারা প্রায় ০৭.৫ কোটি মানুষ স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য ফ্রম ফিলাপ করেছেন,প্রতিদিন ০১ লক্ষ করে মানুষকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের বিশ্বাস আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের ০৯ কোটি মানুষের হাতে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পৌঁছে দেওয়া। তার জন্য সরকার দৈনিক ০১.২৫ লক্ষ দৈনিক স্বাস্থা সাথী কার্ড ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের অসুবিধা গুলি কি কি


সমস্ত রকমের সরকারি স্বাস্থ্য বীমা স্কিমের মধ্যে কিছু সুবিধা থাকে তো আবার কিছু অসুবিধাও থাকে,এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড সরকারি বীমা প্রকল্প তার ব্যতিক্রম নয়।

অসুবিধা হিসাবে যে সমস্ত কারণগুলি সামনে আসে তাতে দেখতে পাওয়া যায় সরকারি স্বাস্থ্য বীমা স্কীমে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য

যে রেট ধার্য্য করা হয় তা বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা খরচের তুলনায় অনেকেটাই কম। যেমন- কোনো বড়ো সার্জারীর খরচ যদি বেসরকারি হাসপাতালে ২৫,০০০ হাজার টাকা হয়,

কিন্তু সরকার প্রাইভেট হাসপাতালকে সেই সার্জারীর খরচ বাবদ ১০,০০০ হাজার টাকা দিয়ে থাকে যা,বেসরকারী হাসপাতালের খরচের তুলনায় অনেকটাই কম।

সেই জন্য অনেক সময় দেখতে পাওয়া যায় বেসরকারি হাসপাতাল স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এক্সসেপ্ট করতে রাজী হয়না এবং সেই জন্য রুগী ফেরৎ দেওয়ার মত ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।

FAQ.


প্রশ্নঃ স্বাস্থ্য সাথী কার্ড হেল্প লাইন নং ?                                                                                  উঃ- ১৮০০-৩৪৫-৫৩৮৪ (নিঃশুল্ক হেল্প লাইন নং)

প্রশ্নঃ স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে কোন কোন রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাবে ?                                                উঃ- স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থেকে ১৯০০ এর বেশি স্বাস্থ্য সাথী প্যাকেজ ভুক্ত রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাবে।

প্রশ্নঃ স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ধারক কে হবে ?                                                                                  উঃ- স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ধারক হবেন পরিবারের প্রধান মহিলা সদস্য।

প্রশ্নঃ স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে নাম না থাকলেও কি নবজাতক কি চিকিৎসার সুবিধা পাবে ?                             উঃ- কার্ডে নাম না থাকলেও ০১ বছর বয়সের নবজাতক পর্যন্ত স্বাস্থা সাথী কার্ড থেকে চিকিৎসা পাবে।

প্রশ্নঃ স্বাস্থ্য সাথী কার্ডটি হারিয়ে গেলে নতুন কার্ড কি করে পাওয়া যাবে ?                                          উঃ- স্বাস্থ্য সাথী কার্ড হারিয়ে গেলে উপযুক্ত প্রমান সহ থানায় লিখিত অভিযোগের একটি কপি এবং প্রসেসিং ফিস জেলা কিসকো স্বাস্থ্য সাথী সেলে জমা করলে নতুন স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পাওয়া যায়।

প্রশ্নঃ কোনো রোগের খরচ যদি ০৫ লক্ষের বেশি হয় তাহলে তার খরচ কে দেবে ?                               উঃ- রোগীর পরিবারকে দিতে হবে।

প্রশ্নঃ স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থেকে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোথায় যোগাযোগ করবেন ?                               উঃ-রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও প্যানেল ভুক্ত বেসরকারি হাসপাতাল গুলোর হেল্প ডেস্ক অথবা কর্পোরেট ডেস্কে গিয়ে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্নঃ স্বাস্থ্য সাথী কার্ড রিনিউ করাতে হয় ?                                                                             – উঃ-স্বাস্থ্য সাথী কার্ড রিনিউ করার জন্য কোথাও যাওয়ার দরকার হয়না।

প্রশ্নঃ স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের যাবতীয় তথ্যাদি কোথা থেকে পাবেন ?                                                     উঃ- স্বাস্থ্য সাথী মোবাইল এপ্লিকেশন গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউন লোড করে রেজিস্টার করে নিন। সেখান থেকেই কার্ডের ব্যালেন্স এবং নিকটবর্তী স্বাস্থ্য সাথির প্যানেলভুক্ত হাসপাতালের তালিকা দেখতে পাবেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here