স্বাস্থ্য বীমা কাকে বলে ? স্বাস্থ্য বীমার প্ৰয়োজনীয়তা ?

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হল স্বাস্থ্য বীমা কাকে বলে (Health insurance plans), স্বাস্থ্য বীমা কি ? আমাদের দৈনিক জীবনে স্বাস্থ্য বীমার প্রয়োজনীয়তা ?

স্বাস্থ্য বীমা কার্ডের সুবিধা ও স্বাস্থ্য বীমা কার্ডের উপকারীতা গুলি কি কি ? স্বাস্থ্য বীমা কার্ড করতে গেলে কি করতে হবে ? আপনার যদি সরকারি স্বাস্থ্য বীমা না হয়ে থাকে

তাহলে কিভাবে স্বাস্থ্য বীমা কার্ড (Health insurance plans) করবেন ? স্বাস্থ্য বীমার গুরুত্ব ? সরকারি স্বাস্থ্য বীমা ছাড়া,আপনার জন্য একটি সেরা স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানীর Health Card কিভাবে নির্বাচন করবেন,

Health Card বানানোর জন্য কোন কোন বিষয়গুলি দেখে শুনে একটি সেরা স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানীর Health Card নির্বাচন করবেন,এই নিয়ে সম্পূর্ণ একটি দিশা নির্দেশ করা হবে এই পোস্টের মাধ্যমে।

স্বাস্থ্য বীমা কাকে বলে


আমরা প্রত্যেকেই আমাদের আয় অনুসারে অবশিষ্ট কিছু টাকা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখি,যাতে আগামী দিনে সেই জমায়েত করা রাশি আমাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারি।

ভবিষ্যতের সঞ্চয় আমরা ০২ ভাবে করে থাকি-০১.কোনো সম্পত্তি ক্রয় করে কিংবা ব্যাঙ্ক,পোস্ট অফিসে FD,RD ইত্যাদির মাধ্যমে,০২.কোনো বীমা কোম্পানীর কাছে আমরা টাকা জমা রাখি।

কিন্তু বীমা কোম্পানীর কাছে টাকা রাখলে আমাদের লাভ কি হয় ? যদি কোনো কারণে বীমার পলিসি ধারকের পলিসি ম্যাচুরিটি হওয়ার আগে অপঘাতে মৃত্যু হয়ে যায়,

তাহলে পলিসি ধারকের নমিনিকে বীমা করা রাশি,ম্যাচুরিটি হওয়ার আগেই দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাঙ্ক কিংবা পোস্ট অফিসে সাধারণ সঞ্চয় স্কীমে সেরকম কোনো সুবিধা থাকেনা।

এতো গেলো ভবিষ্যতের কথা,কিন্তু আপনার কাছে সবথেকে মূল্যবান সম্পদ হল আপনি নিজে। যেখানে আপনি মানে আপনার শরীর ও স্বাস্থ্য হল সবথেকে মূল্যবান সম্পদ।

স্বাস্থ্য বীমা কার্ড
স্বাস্থ্য বীমা কার্ড

যতদিন আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে ততদিন আপনি আপনার বর্তমান ও ভবিষৎ দুটিকেই ভালোভাবে চালাতে পারবেন। কথায় আছে ‘স্বাস্থ্যই হল সম্পদ’ তাই আপনার প্রথম ইনভেস্টমেন্ট

আপনার নিজের উপর করা উচিত। এবার আসা যাক আমাদের মূল প্রশ্নে স্বাস্থ্য বীমা কাকে বলে ? এবং স্বাস্থ্য বীমা কি ? দেখুন স্বাস্থ্য বীমা বলতে যা বোঝায় তা হল – ‘বীমা কোম্পানীর সঙ্গে

চিকিৎসা ব্যায়ের নিরিখে বীমা ধারকের যে চুক্তি করা হয়,তাকেই স্বাস্থ্য বীমা (Health Insurance) বলা হয়।’  যদি আপনার একটি স্বাস্থ্য বীমা করা থাকে তাহলে, বীমা ধারককের আগামী দিনে

বড়ো সরো কোনো রোগ ব্যাধি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে,সেই সমস্ত রোগ ব্যাধির খরচ শর্ত সাপেক্ষে বীমা কোম্পানী বহন করে।

তাই আমাদের প্রত্যেকের সবার প্রথম ইনভেস্ট হিসাবে স্বাস্থ্য বীমা (Health insurance plans) ক্রয় করে করা উচিত। কারণ স্বাস্থ্য বীমা (Health Card) করা থাকলে,রোগ ব্যাধি হলে

আলাদা করে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য গচ্ছিত রাখা গাঁটের কড়ি ভাঙতে হয়না। বীমা ধারকের ব্যায় বহুল চিকিৎসা বাবদ যাবতীয় খরচ বীমা কোম্পানী বহন করে।

এখন নিশ্চয় স্বাস্থ্য বীমা কি ? স্বাস্থ্য বীমা কাকে বলে ? এই প্রশ্ন নিয়ে আর কোনো সংশয় নেই। তাহলে আসুন আমরা আগের আলোচনার দিকে এগিয়ে যায়।

আরো পড়ুন : কোন ভ্যাকসিন সবথেকে ভালো। করোনা ভ্যাকসিনের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কিভাবে করবেন। 

স্বাস্থ্য বীমার প্রয়োজনীয়তা (why Health Insurance is necessary)


বর্তমান যুগে চিকিৎসাখরচ ব্যায় সাপেক্ষ ব্যাপার,আমাদের দেশে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ব্যক্তিগণের কাছে চিকিৎসা ব্যায় বহন করা যথেষ্ট ব্যায় বহুল।

বাড়ির আনাচে কানাচে নার্সিংহোম,হাসপাতাল মাথা চাড়া দিয়ে গজিয়ে উঠলেও দিন দিন ক্রমশ বেড়েছে চাহিদা কিন্তু কমেনি চিকিৎসা ব্যায়,বরঞ্চ তা বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে।

বর্তমানে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে রুগী ভর্তি হলে হাসপাতালের রুম রেন্ট,ডায়াগনস্টিক চার্জ,বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল রিপোর্টের বিল দেখে মধ্যবিত্তের মাথায় হাত,আক্কেল গুড়ুম হয়ে যায়।

স্বাস্থ্য বীমা কার্ড করে নিজের ও পরিবারের হেলথ সুরক্ষিত রাখুন। 2 1

সুতরাং সকল মানুষের কাছে চিকৎসব্যায় বহন করা নিত্যান্তই আরামদায়ক নয়। কিন্তু আমরা একটা Health insurance plans কিনে নিয়ে সহজেই চিকিৎসা খরচের ঝঞ্ঝাট তুলে দিতে পারি বীমা কোম্পানীর ঘাড়ে।

বীমা কোম্পানীর সঙ্গে শহরের বিভিন্ন নামি দামি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের চিকিৎসা সংক্রান্ত চুক্তি করা থাকে, আর সেই চুক্তির ভিত্তিতে হাসপাতাল গুলি বীমা ধারককে ক্যাশলেস চিকিৎসা প্রদান করে থাকে।

সরকারি স্বাস্থ্য বীমা ছাড়া সেরা  স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানীর  Health insurance plans কিভাবে কিনবেন ?


সচরাচর দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষদের সরকারি স্বাস্থ্য বীমার Health Card করা থাকলেও,আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারের বেশিরভাগ মানুষের সরকারি স্বাস্থ্য বীমা পাওয়ার জন্য কোনো রাস্তা থাকেনা।

তাই মধ্যবিত্ত পরিবারের যে সমস্ত লোকের সরকারি স্বাস্থ্য বীমা নেই,সেই সমস্ত পরিবারের লোকেরা তার নিজের ও তার পরিবারের জন্য

খুব সহজেই সামান্য পরিমান রাশি জমা করে,একটি সেরা Health insurance plan নির্বাচন করে নিজের ও পরিবারের চিকিৎসা ব্যায় থেকে মুক্তি পেতে পারে।

কিন্তু একটি সেরা Health insurance plan ক্রয় করার আগে আমাদের ০৩ টি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে -ক).স্বাস্থ্য বীমার উপকারিতা বা লাভ গুলি কি কি (Health insurance plan benefit),

খ).স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা (Health insurance features),গ).বীমা করা রাশির পরিমান (Health insurance cover amount)

ক).স্বাস্থ্য বীমার উপকারিতা বা লাভ গুলি কি কি (Health insurance plan benefit)


Health Card করা থাকলে আমরা Health Insurance এর দৌলতে যে সমস্ত লাভ গুলি পাবো সেই লাভগুলি হল –

০১. সবার প্রথমে কোনো মারাত্মক রকমের শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসার জন্য আলাদা করে নিজের পকেট থেকে খরচ করার দরকার পড়বেনা।

চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বীমা কোম্পানী বহন করে। এরফলে মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ের উপর আলাদা করে আঁচ পড়ে না সঞ্চিত রাশি গচ্ছিত থাকে।

০২. Health Card করা থাকলে কোনো রকমের সমস্যা ছাড়াই বীমা কোম্পানীর নেটওয়ার্ক হাসপাতালে গিয়ে ক্যাশলেস ট্রিটমেন্ট পাওয়া যায়।

০৩. সাধারণত বিভিন্ন কর্পোরেট সেক্টর তাদের এম্পলয়ের জন্য Corporate Health insurance plan দিয়ে থাকে,তবে সেই বীমা রাশি নিতান্ত সীমিত পরিমানে ১.৫ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কিন্তু Corporate Health insurance plan এ Top-up ফেসিলিটি উপলব্ধ থাকলে প্রয়োজনে বীমা রাশি Top-up করে বাড়িয়ে নিয়ে সহজেই লাভ ওঠানো যায়।

০৪. তরুণ বয়সে হেলথ ইন্সুরেন্স নিলে বীমার প্রিমিয়াম কম লাগে এবং সাথে অনেক বেশি পরিমান অসুখের কভার পাওয়া যায়। কারণ তরুণ বয়সে আমাদের মধ্যে অসুখ হওয়ার প্রবণতা কম থাকে।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বয়স যেমন বাড়তে থাকে আমাদের শরীরে রোগ ব্যাধি হওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। তাছাড়া বেশিরভাগ হেলথ ইন্সুরেন্স এর পলিসিতে

স্বাস্থ্য বীমার প্রয়োজনীয়তা

Pre-existing diseases (শরীরের মধ্যে বিদ্যমান অসুখ),গুলির জন্য ০৩-০৪ বছরের ওয়েটিং পিরিয়ড থাকে। তাই তরুণ বয়সে হেলথ ইন্সুরেন্স নিলে

সহজেই Pre-existing diseases এর ০৩-০৪ বছরের সময় পার হয়ে গেলে পরবর্তীকালে অসুখগুলির উপর বীমার কভার পাওয়া যায়।

০৫. Health Card করা থাকলে ডে কেয়ার ফেসিলিটি,মাতৃত্বকালীন সন্তান প্রসব করানোর খরচ সহজেই বীমা কোম্পানী গুলো দ্বারা ওঠানো হয়ে থাকে।

০৬. Health insurance plan নেওয়ার আর একটি বড়ো লাভ হল Sec-৮০ D অনুযায়ী ইনকাম ট্যাক্সের ওল্ড স্লাপে আয়করে ছাড় পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন : কৌটিল্য পন্ডিতের জীবনী ও কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র। 

খ). স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা (Health insurance features)


আজকালকের দিনে একটি সেরা স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানীর Health insurance plan ক্রয় করার আগে যে সমস্ত সুবিধা গুলির উপর ধ্যান দিয়ে Health insurance ক্রয় করা দরকার-

০১. সবার প্রথমে আপনি কোনো কোম্পানীর কাছ থেকে Health insurance plan ক্রয় করার আগে দেখে নেবেন বীমা কোম্পনীটি IRDA দ্বারা অনুমোদিত বীমা কোম্পানী কিনা।

০২. বীমা কোম্পানী থেকে Health insurance plan ক্রয় করার আগে মাথায় রাখতে হবে আপনার শহর ও আপনার লোকালিটির ২০ কিমির মধ্যে সেই বীমা কোম্পানীর ক্যাশলেস হাসপাতাল তালিকাভুক্ত আছে কিনা।

অনেকক্ষেত্রে চোখে পড়ে বীমা কোম্পানীর তালিকা ভুক্ত হাসপাতালের সংখ্যা ৫০০০ হলেও,আপনার লোকালিটি,আপনার শহরের আসে পাশে তার কোনো নেটওয়ার্কের হাসপাতাল নেই।

এক্ষেত্রে আপনি কোনো বীমা কোম্পানী থেকে বীমা ক্রয় করে থাকলেও ছোট ছোট চিকিৎসার জন্য কোম্পানীর নেটওয়ার্কের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য আপনাকে দূরে আসতে হবে।

আর সচরাচর রোগ নিয়ে রুগীকে দূরে নিয়ে না গিয়ে,যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা করানোটাই রুগী এবং রোগীর পরিবারের জন্য ভাল।

০৩. কোনো বীমা কোম্পানীর কাছ থেকে স্বাস্থ্য বীমা কার্ড করার আগে খেয়াল রাখবেন বীমা কোম্পানীর স্বাস্থ্য বীমা কার্ডে Pre-Hospitalization এবং Post-Hospitalization এর সুবিধা আছে কিনা।

যদিও আজকাল বেশিরভাগ বীমা কোম্পানী তাদের স্বাস্থ্য বীমা কার্ডে Pre-Hospitalization এবং Post-Hospitalization এর সুবিধা উপলব্ধ করাচ্ছে।

কারণ বীমা কোম্পানী দ্বারা  Pre-Hospitalization এর মাধ্যমে রোগী হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার পূর্বের ৩০-৬০ দিনের যাবতীয় OPD এবং বিভিন্ন ধরণের ডায়াগনেস্টিক টেস্ট এবং ওষুধের খরচ বহন করে।

আর Post-Hospitalization এর মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে রুগীকে ছুটি দেওয়ার পর,৬০-১৮০ দিনের রুগীর বিভিন্ন ড্যাগেনস্টিক পরীক্ষা নিরীক্ষা ও ওষুধের খরচ বীমা কোম্পানী দ্বারা বহন করা হয়।

০৪. বীমা কোম্পনী থেকে বীমা ক্রয় করার আগে নজর রাখুন বীমা কোম্পানীর স্বাস্থ্য বীমা কার্ডে Day Care এর মত সুবিধা উপলব্ধ আছে কিনা।

কারণ আজকাল অনেক মেডিকেল সার্জারী,হাসপাতালে গিয়ে কয়েক ঘন্টার মধ্যে হয়ে যায়,যার জন্য রোগীকে হাসপাতালে সারাদিন ভর্তি হয়ে থাকার প্রয়োজন হয়না।

আপনি যখন কোনো বীমা কোম্পানী থেকে স্বাস্থ্য বীমা কার্ড করবেন,তখন একবার বীমা কোম্পানীর শর্তাবলীতে ভালো করে চোখ বুলিয়ে নেবেন আপনার নেওয়া স্বাস্থ্য বীমা কার্ডে Day Care এর সুবিধা আছে কিনা।

০৫. আজকাল সব রকম বীমা কোম্পানী তাদের Health insurance plans এর মধ্যে রুগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এম্বুলেন্স চার্জ দিয়ে থাকে।

তাই আপনি আপনার স্বাস্থ্য বীমা কার্ড বানানোর আগে খেয়াল রাখবেন আপনার বীমা কোম্পানী রুগীকে  হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এম্বুলেন্স খরচ যোগাবে কিনা।

০৬. হেলথ ইন্সুরেন্স নেওয়ার আগে দেখে নিন আপনার পছন্দের বীমা কোম্পানীর মধ্যে Co-pay এর মত গোপন শর্ত ও নিয়মাবলী প্রযোজ্য কিনা।

কারণ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়,যেমন-মনে করুন কোনো মহিলাকে হাসপাতালে বাচ্চা প্রসব করার জন্য ভর্তি করা হল। আর সেই হাসপাতালের খরচ হল ০১ লক্ষ টাকা।

আর এখন যদি তার নেওয়া Health insurance plans এর মধ্যে Co-pay এর মত গোপন শর্ত হিসাবে ০১ লক্ষ ও তার বেশি চিকিৎসা খরচের জন্য ১০ % Co-pay এর শর্ত আছে।

তাহলে সর্বমোট ০১ লক্ষ টাকার ১০ % মানে ১০,০০০ হাজার টাকা রোগীর পরিবারকে দিতে হবে। তাই আমার মনে হয় Health insurance plans এর মধ্যে Co-pay এর মতো সুবিধা না নেওয়াই ভালো।

০৭. স্বাস্থ্য বীমা কার্ড নেওয়ার আগে দেখে নিন আপনার Health insurance plans এর মধ্যে রুগীর রুম রেন্টের উপর কোনো বিধি নিষেধ আছে কিনা।

বীমা কোম্পানী দ্বারা আপনাকে হাসপাতালে রুগী ও রুগীর attaindered এর জন্য যে প্রাইভেট রুম উপলব্ধ করানো হবে সেটা কোনো সেপারেট এসি না নন এসি রুম কিনা।

০৮. স্বাস্থ্য বীমা কার্ড নেওয়ার আগে দেখে নেবেন আপনার নেওয়া হেলথ ইন্সুরেন্স এর মধ্যে ICU এর জন্য আলাদা করে কোনো ফিস নেওয়া হবে কিনা। খেয়াল রাখবেন আপনার বীমা যেন ICU চার্জ মুক্ত হয়।

০৯. স্বাস্থ্য বীমা কার্ড নেওয়ার আগে আরো ০১ টি জিনিস মাথায় রাখবেন আপনার হেলথ ইন্সুরেন্স প্লানের মধ্যে Restoration সুবিধা আছে কিনা। আসুন ব্যাপার টাকে

আর একটু সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করা যাক। মনে করুন আপনি কোনো বীমা কোম্পানীর কাছ থেকে স্বামী ও স্ত্রী দুজনের জন্য ০৫ লক্ষ টাকার বীমা নিলেন। কিন্তু পরবর্তী ক্ষেত্রে দেখা গেল

সেই বীমাকৃত রাশি কোনো একজনের ভারী অসুস্থতার কারণে একজনের পিছনে শেষ হয়ে গেলে,পুনরায় অন্যজনের নামে সেই বীমা রাশি রিস্টোরেশন হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে কিনা।

১০. একটি সেরা স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানী নির্বাচন করার আগে অবশ্যই ধ্যান রাখুন আপনার নেওয়া স্বাস্থ্য বীমা কার্ডের মধ্যে Top-up এবং Super Top-up করার সুবিধা আছে কিনা।

Top-up কভার নেওয়া থাকলে আপনার সুবিধা কি হবে,আসুন ব্যাপারটা একটু বোঝা যাক। মনে করুন আপনার স্বাস্থ্য বীমা কার্ডের ০৩ লক্ষ টাকার বীমা ছিল।

তার মধ্যে একজনের অসুখ দেখতে ০১ লক্ষ এবং আর একজনের অসুখ দেখাতে ০২ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেল। কিন্তু আপনার নেওয়া Health insurance plan এর মধ্যে

Top-up এবং Super Top-up নেওয়ার সুবিধা থাকে তাহলে,আপনি আপনার Health insurance plans এর মধ্যে Top-up করিয়ে পুনরায় ০৩ লক্ষ টাকার বীমা রাশি active করিয়ে নিতে পারেন।

আপনার Health insurance plans এর মধ্যে যদি Super-top-up নেওয়ার সুবিধা থাকে তাহলে,আপনার Health কার্ডের মধ্যে as it is আগের শর্ত মত বীমার মধ্যে থাকা সমস্ত সুবিধা পুনরায় চালু হয়ে যাবে।

নতুন করে  Health insurance plans নিলে যেমন Pre-existing diseases এর জন্য,যবে থেকে বীমা নেওয়া হয় সেই দিন থেকে আগামী ৪৮ মাসের যে ওয়েটিং পিরিয়ড থাকে

(অসুখের ধরন অনুযায়ী বীমা কোম্পানী পলিসিতে ওয়েটিং পিরিয়ডে সময়ের পার্থক্য করে থাকে) এবং তার জন্য পলিসির ফিস ও অনেকটাই বেশি নেওয়া হয়।

কিন্তু পুরোনো বীমায় Super-top-up ফেসিলিটি উপলব্ধ থাকলে Pre-existing diseases এর জন্য নতুন করে আর ওয়েটিং পিরিয়ড দেওয়া হয়না।

১১. কোনো বীমা কোম্পানীর কাছে বীমা করার সময় কখনই আপনার Pre-existing diseases (পুরোনো অসুখ) থাকলে গোপন করবেন না।

নইলে পরবর্তী ক্ষেত্রে আপনি অসুখে পড়লে আপনার বীমা পলিসি রিজেক্ট হয়ে যেতে পারে। তাই আপনার পুরোনো অসুখের তালিকায় সুগার,

অস্তমা ইত্যাদি এবং খারাপ অভ্যাসের মধ্যে ধূম্ৰপান,মদ্যপান,তামাক জাত দ্রব্য সেবন করে থাকলে আগে থেকেই বীমা কোম্পনীকে বীমা করার সময় জানিয়ে রাখুন। এসব বদ অভ্যাসের কথা

আগে থেকে বীমা কোম্পানীকে জানিয়ে রাখলে আপনার বীমার প্রিমিয়াম হয়তো একটু বেশি লাগবে ঠিকই, কিন্তু পরবর্তী কালে আপনি অসুখে পড়লে বীমা ক্লেম করতে আপনার কোনো অসুবিধা হবেনা।

১২. আপনি যদি Health insurance plans নিয়ে থাকেন এবং আপনার বীমা রাশি কোনো অসুখের জন্য ক্লেম না করে থাকেন,আর ঐ একই বীমা কোম্পানিতে আপনি আপনার পলিসি রিনিউ করেন

সেক্ষত্রে আপনি আপনার বীমা কোম্পানী থেকে No Claim Bonus নিতে পারেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন বীমা কোম্পনী তাদের পলিসি অনুযায়ী

No Claim Bonus বাবদ পলিসির ১০ % কভার আগের বছরের বীমার সাথে,ঐ একই প্রিমিয়ামে যোগ করে দেয়। কোনো কোনো বীমা কোম্পনী আবার তার গ্রাহককে

তার পলিসির ৫০ % Preventive Health Checkup এর জন্য দিয়ে থাকেন। আবার কখনো কখনো দেখতে পাওয়া যায় কোনো বীমা কোম্পনী তার গ্রাহককে সম্পূর্ণ বীমা রাশি রিফান্ড করে দেয়।

তাই আপনি যখন আপনি নিজের জন্য কিংবা আপনার পরিবারের জন্য Health insurance plans কিনবেন তখন একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে উপরের সুবিধাগুলি দেখে বিচার ও বিবেচনা করে পলিসি কিনবেন।

আরো পড়ুন : নবীন চন্দ্র দাসের রসগোল্লা আবিষ্কারের গল্প। 

গ).কত টাকার স্বাস্থ্য বীমা করাবেন  (Health insurance cover amount)


এতক্ষন পর্যন্ত আমরা স্বাস্থ্য বীমা কাকে বলে ? স্বাস্থ্য বীমার প্রয়োজনীয়তা ? স্বাস্থ্য বীমার উপকারিতা ও স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা গুলি নিয়ে আলোচনা করলাম।

এবারে কথা বলব একটা সেরা স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানী নির্বাচন করার পর,কত টাকার স্বাস্থ্য বীমা করালে আপনার মোটামোটি সব ধরণের অসুখ বিসুখের কভারেজ নিতে পারবেন।

অনেক সময় আমরা স্বাস্থ্য বীমা নেওয়ার সময় ঠিক করে উঠতে পারিনা কত টাকার স্বাস্থ্য বীমা বা Health Card করাবেন। তাই আমার মতে মনে হয় আপনি আপনার স্বাস্থ্য বীমার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী

পলিসি এমাউন্ট নির্ধারণ করার আগে আপনার,পারিবারিক মেডিক্যাল হিস্ট্রির দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিন। দেখে নিন আপনার পরিবারের কারুর বংশগত রোগ আছে কিনা।

তার পর আপনাকে যেটা দেখতে হবে আপনার দৈনন্দিন জীবন যাপন কেমন। আপনি রোজ সময় মত খাবার খান কিনা কিংবা সময় মত ঘুমোন কিনা।

health insurance plans
health insurance plans

আপনি যে Job করেন সেটার মধ্যে নাইট ডিউটি আছে কিনা। কারণ আপনার Job এর part হিসাবে যদি নাইট ডিউটি থাকে তাহলে,অনেক ক্ষেত্রে অনিদ্রা বিপি,সুগারের মত রোগ হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়।

এরপর যেটার দিকে নজর রেখে আপনাকে বীমা কিনতে হবে সেটা হল,আপনার বাৎসরিক আয়। আপনার আয়ের দিকে নজর রেখে আপনি ঠিক করুন কত টাকার বাৎসরিক প্রিমিয়াম দিতে পারবেন।

যদি আপনি নিজের জন্য পলিসি নেন,আর আপনার বয়স যদি ২০-৩০ বছরের মধ্যে হয় তাহলে সিঙ্গেল হিসাবে একজনের জন্য ০৩ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমায় যথেষ্ট।

কারণ তরুণ বয়সে সচরাচর বড় সর অসুখের সম্ভবনা অনেকটাই কম থাকে। কিন্তু অপরদিকে যেমন যেমন আমাদের বয়স বাড়তে থাকে আমাদের মধ্যে রোগ হওয়ার প্রবণতাও বাড়তে থাকে।

আর আপনি যদি হেলথ ইন্সুরেন্স আপনার পরিবারের জন্য নেন,মানে আপনি আপনার ওয়াইফ এবং আপনার দুই ছেলে ও মেয়ের জন্য,সব মিলিয়ে ০৪ জনের জন্য।

তাহলে আপনি নূন্যতম ০৫-১০ লক্ষ টাকার হেলথ ইন্সুরেন্স পলিসি কিনুন। আবার আপনি এক্ষেত্রে আর একটি ট্রিক ব্যবহার করতে পারেন। আপনার যে বাৎসরিক আয় তার ৫০ % আপনার পরিবারের

স্বাস্থ্য বীমার জন্য ইনভেস্ট করতে পারেন। কিংবা আপনার শহরের লোকাল এরিয়ার হাসপাতালের হার্ট সার্জারীর যে খরচ সেটার উপর ধ্যান রেখে সম পরিমান রাশির স্বাস্থ্য বীমা নিতে পারেন।

তবে এটা খেয়াল রাখবেন আপনার পরিবারে যদি কোনো সিনিয়র সিটিজেন থাকে তাহলে,তাদের জন্য আলাদা করে বীমা নিন।

কারণ তাদের বয়স বেশি হওয়ার কারণে তাদের,রোগ ব্যাধি ও উপসর্গটাও অনেক বেশি। তাই তাদের সাথে করে যদি আপনি বীমা নেন তাহলে আপনাকে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হবে।

তাই সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আলাদা করে বীমার পলিসি নিন কারণ,বয়স বেশি হওয়ার জন্য তাদের বীমার পলিসির প্রিমিয়াম এমাউন্টটাও বেশি হওয়াটাও স্বাভাবিক।

সেরা স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানীর স্বাস্থ্য বীমা কোথা থেকে কিনবেন ?


বীমা কেনার আগে আপনি মনে রাখবেন আপনি যখন কোনো কোম্পনীর কাছ থেকে বীমা কিনছেন,তখন শুধু আপনি বীমা কোম্পানী থেকে বীমা কিনছেননা।

আপনি একটা বিশ্বাস কিনছেন। তাই যখনই কোনো বীমা কিনবেন তখন কোম্পানীর সুনাম,প্রতিষ্ঠা,কাস্টমার ফিডব্যাকের মত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস গুলি দেখে বীমা ক্রয় করবেন।

আগেকার দিনে কোনো বীমা এজেন্ট তাদের ফায়দা মত পলিসি,গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে দিত। কিন্তু এখনকার দিনে পলিসি বাজার.কম এর মত অনলাইন প্লাটফর্ম

Screenshot 1 1
স্বাস্থ্য বীমা

থেকে একটি পলিসির সাথে অন্য একটি পলিসির মান ও প্রিমিয়াম কম্পেয়ার করে আপনি আপনার পছন্দের পলিসি নির্বাচন করতে পারেন অতি সহজেই।

তাছাড়া পলিসি বাজার.কম থেকে পলিসি নিলে কাস্টমার এসিস্টেন্ট আপনার পলিসির কোনো শর্ত ও নিয়ম বুঝতে অসুবিধা হলে ফোন কলের মাধ্যমে পুরো সাপোর্ট দেবে।

এছাড়া প্রায় সব ধরনের ছোট বড় শহরের হাসপাতাল গুলিতে পলিসি সেটেলমেন্টের জন্য হাসপাতালের কর্পোরেট ডেস্কে একজন করে পলিসি বাজার.কম

এর কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজার রাখা হয়েছে,যারা আপনাকে পলিসি সেটেলমেন্টের জন্য যথাসম্ভব সাহায্য করবেন।

পরিশিষ্ট

পরিশেষে এটাই বলব একজন মানুষের কাছে তার স্বাস্থ্য হল একমাত্র সম্বল। তাই যত দিন তার নিজের স্বাস্থ্য সঙ্গ দেয়,ততদিন একজন ব্যক্তি শারীরিক এবং মানসিক দিয়ে মজবুত থাকে,

কিন্তু স্বাস্থ্য খারাপ হলে অন্যজন সমব্যাথী হয় ঠিকই,কিন্তু ভুক্তভোগী নিজেকেই হতে হয়। তাই আমার একান্ত অনুরোধ সবার আগে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখে আমাদের প্রত্যেকের

স্বাস্থ্য বীমা করে রাখা দরকার। কারণ মানুষ অসুখে পড়লে সে আর্থিক দিয়ে জমা পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। কিন্তু সামান্য কয়েকটা টাকা দিয়ে একটা হেলথ ইন্সুরেন্স ক্রয় করে

আমরা অসুখের খরচটা সহজেই কোনো বীমা কোম্পানীর ঘাড়ে তুলে দিয়ে নিশ্চিত হয়ে যেতে পারি। আর সবশেষে আপনাদের হেলথ ইন্সুরেন্স নির্বাচন করার জন্য ০২ টা বোনাস টিপস বলে যাব –

০১. কোনো কোম্পনী থেকে Health insurance plans নেওয়ার আগে বীমা কোম্পানীর Claim settlement ratio দেখে বীমা কিনবেন।

যদি কোনো বীমা কোম্পানীর ০১ বছরে Claim settlement ratio ৮৫ % হয়,তাহলে সেই কোম্পানীকে বিশ্বাস করে ওখান থেকে হেলথ ইন্সুরেন্স কিনতে পারেন।

০২. Encradle Claim settlement ratio,যদি কোনো বীমা কোম্পানীর Encradle Claim settlement ratio, ৯০ % + হয় তাহলে সেই বীমা কোম্পানীর থেকে বীমা না কেনাই ভালো।

কারণ এতবেশি করে কোম্পানীর কাছে medic claim বীমা কোম্পানীর কাছে এলে,সেই বীমা কোম্পানীর কাছে কাস্টমারকে চিকিৎসা খরচ বাবদ বীমা রাশি দেওয়ার মত পয়সা অবশিষ্ট থাকবেনা।

তাই যে বীমা কোম্পানী থেকে স্বাস্থ্য বীমা কার্ড করবেন, সেই কোম্পানীর Encradle Claim settlement ratio এর গ্রাফ ৭০-৯০ % এর মধ্যে থাকলে তাকে ভালো বলে মনে করা হয়।

যাইহোক আমাদের লেখাটি যদি পুরো মন দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে আশা করি হেলথ ইন্সুরেন্স নিয়ে আপনি একটা স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যাবেন।

এর বাইরে আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জানান এবং একজন ভালো মানের পাঠক হিসাবে আপনার কাছ থেকে আশা করব

আপনি আমাদের লেখাটিকে নিজের মধ্যে আবদ্ধ না রেখে,আমাদের লেখাটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করে তাদিকে পড়ার সুযোগ করে দেবেন।