জানুন স্টিফেন হকিং জীবনী বাংলাতে।

প্রিয় পাঠকগণ,আজকে আমরা আলোচনা করব স্টিফেন হকিং জীবনী।একজন পঙ্গু ব্যক্তি।স্টিফেন হকিং, কিভাবে শুধু মাত্র নিজের ইচ্ছে শক্তি দ্বারা।

সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে,একজন সফল বিজ্ঞানী হয়েছিলেন।আজকের যুব সমাজ। যখন সামান্য কারণে, একাকিত্ব এবং বিষন্নতায় আত্মহত্যার পথ অবলম্বন করে।

তারা স্টিফেন হকিং জীবনী অধ্যয়ন করলে বুঝতে পারবে।প্রতিকূলতা কাকে বলে। চিকিৎসকরা, স্টিফেন হকিং এর বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছিলেন।

তখন চিকিৎসকদের করা সমস্ত ভবিষৎবাণীকে মাত দিয়ে। কীভাবে নিজের লক্ষ কে স্থির করছিল স্টিফেন হকিং। 

বাবার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে, কিভাবে স্টিফেন তার নির্বাচিত পথে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। নিজের শরীরে থাকা মারণ ব্যাধিকে মাত দিয়েছিলেন।

সেইসমস্ত কিছু জানতে হলে পড়তে হবে স্টিফেন হকিং জীবনী কে। আসুন তাহলে জানা যাক সবিস্তারে স্টিফেন হকিং জীবনী কে। 

স্টিফেন হকিং জীবনী (Stephen Hawking Biography)


স্টিফেন হকিং জীবনী অধ্যয়ন করতে গিয়ে। যে সমস্ত বিষয় গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরা হবে।সেগুলি হল। 

  1. স্টিফেনের ছেলেবেলা এবং শৈশব / স্টিফেন হকিং কখন জন্ম গ্রহণ করেন। 
  2. হকিং এর শিক্ষা দীক্ষা / স্টিফেন হকিং কোথায় পড়াশোনা করেছিলেন। 
  3. স্টিফেন হকিং কোন রোগের স্বীকার হয়েছিলেন। 
  4. স্টিফেন হকিং এর আবিষ্কার।
  5.  হকিং এর লেখা বই। 
  6. কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (A BRIEF HISTORY OF TIME)
  7. থিওরি অফ এভরিথিং।
  8. স্টিফেন হকিং এর উক্তি। 

আরো পড়ুন: সন্দীপ মহেশ্বেরী জীবনী। 

স্টিফেন হকিং কখন জন্ম গ্রহণ করেন (Stephen Hawking Childhood)


স্টিফেন এর বাবা শ্রীমান ফ্র্যাংক হকিং পেশায় ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং মেডিসিন রিসার্চার। মাতা ইসাবেলা হকিং গৃহকর্মীর সাথে সাথে রাজনীতি করতেন। 

যদিও তারা ব্রিটেনের বাড়িতে বসবাস করতেন। কিন্তু তখন দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের প্রাকাল্লে। জার্মান দ্বারা ব্রিটেন আক্রমণের একটা ভয় লেগেই থাকত। 

যদিও জার্মান পরবর্তীকালে ব্রিটেন আক্রমণ করেন। এবং সেখানে অভিযান চালায়। এই ভয়েই নিরাপত্তার খামতি থাকার কারণে তারা ব্রিটেন ত্যাগ করে। 

যখন মাতা ইসাবেলার গর্ভে স্টিফেন হকিং আসে। তখন তারা তাদের সন্তানের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠ সন্তান প্রসব করার জন্য। ফ্র্যাংক হকিং এবং তার পরিবার অক্সফোর্ডে চলে আসে। 

অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন স্টিফেন হকিং কখন জন্ম গ্রহণ করেন। স্টিফেন হকিং জীবনী অধ্যয়নে।স্টিফনের এর জন্ম এবং মৃত্যুতে একটা কাকতালীয় ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। 

স্টিফেন হকিং ১৯৪২ সালের ০৮ জানুয়ারী,অক্সফোর্ডে জন্ম গ্রহণ করেন। কাকতালীয় ভাবে ঐ দিন মহান বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর ৩০০তম মৃত্যু বার্ষিকী ছিল। 

হকিং এর পরিবারে, স্টিফেন হকিং ছাড়াও। তারা আরো তিন জন ভাই বোন ছিল। হকিং এর দুইজন বোন হল ফিলিপ্পা এবং মেরী। এডওয়ার্ড নামের একজন পালিত ভাই ছিল।  

এডওয়ার্ড কে হকিং এর বাবা ফ্র্যাংক হকিং দত্তক নেন। এবং তাকে তার সন্তানের মত করে মানুষ করেন। 

পরে অবশ্য স্টিফেন এর বাবা, ফ্র্যাংক হকিং ব্রিটেনে ফিরে আসে। সেখানে তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল রিসার্চের,প্যারাসাইটোলজির প্রধান নিযুক্ত হন। 

হকিং এর শিক্ষা দীক্ষা (Stephen Hawking Education)


হকিং এবং তার বাবা ও মা উভয়েই ছিল শিক্ষার প্রতি অনুরাগী। স্টিফেনের জন্ম এমন একটি পরিবারে হয়েছিল যেখানে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। 

বাবা পেশাতে ডাক্তার হওয়ার সুবাদে পড়াশোনা নিয়ে থাকতেন। কিন্তু মা ইসাবেলা দেবী। রাজনীতি এবং গৃহ কর্মের পাশাপাশি,বই পড়তে ভালোবাসতেন। 

হকিং এর স্কুল শিক্ষা শুরু হয় লন্ডনের বাইরং হাউজ স্কুলে। পরে হকিং এর বাবা চাকুরীতে বদলি নিয়ে ১৯৫০ সালে, সেন্ট আলবেন্সে চলে আসেন।

সেন্ট আলবেন্স এসে, হকিং কে তার বাবা। সেন্ট আলবান্স হাই স্কুল ফর গার্লস। মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করে দেন।

এই নিয়ে আপনাদের মনে হয় তো প্রশ্ন জাগতেই পারে। তাহলে স্টিফেন হকিং কোথায় পড়াশোনা করেছিলেন। স্টিফেন কীভাবে মেয়েদের স্কুলে পড়ার সুযোগ পেল। 

তখনকার দিনে মেয়েদের স্কুলে ছেলেরা, দশ বছর অবধি পড়ার সুযোগ পেত। ১৯৫০-১৯৫৩ সাল পর্যন্ত স্টিফেন হকিং মেয়েদের স্কুলে পড়াশোনা করেন।

৩ বছর পড়াশোনার পর স্টিফেন কে তার বাবা। ছেলেদের স্কুলে ভর্তি করে দেয়। স্টিফেন হকিং জীবনী অধ্যয়ন করলে দেখা যায়। 

স্টিফেন তার স্কুল জীবনে খুব একটা মেধাবী ছাত্র ছিলেন না। তার রেজাল্ট স্কুলে,মোটামোটি ভালো হত। একেবারে অসাধারণ কিছু ছিলনা। 

তাছাড়া স্টিফেনের পরিবারে সেরকম আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিলোনা। স্টিফেন কে তার পড়াশোনার জন্য বৃত্তির উপর নির্ভর করে পড়াশোনা করতে হত। 

তার বাবার ইচ্ছে ছিল,তার ছেলে শহরের বিখ্যাত স্কুল। ওয়েস্টমিনিস্টার স্কুলে পড়াশুনা করুক।কিন্তু ঐ স্কুলের ফিস দেওয়ার ক্ষমতা তার বাবার ছিলনা। 

ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য যেদিন হকিং এর বৃত্তি পরীক্ষা ছিল। সেদিন হকিং অসুস্থ হয়ে পড়েন। এবং বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হন। 

এরফলে স্টিফনের আর ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে ভর্তি হয়ে ওঠা সম্ভব হয়না। তাই তিনি সেন্ট আলবান্স স্কুলে থেকে যান। 

এই স্কুলে পড়াশোনার জন্য তার বন্ধুদের সানিধ্য লাভ করেন। স্টিফেনের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। তিনি সর্বদা তার বন্ধুদের সঙ্গে বোর্ড গেম খেলতেন। 

 ডাস্টবিন থেকে কম্পিউটার এবং টেলিফোনের বিভিন্ন পরিত্যগ করা পার্টস উঠিয়ে।হকিং নিজে একটি সেল্ফ অপরেটেড কম্পিউটার তৈরী করে ফেলেন। 

হকিং,গণিত এবং জ্যোতিবিজ্ঞানের বিভিন্ন ফর্মুলা খুব সহজেই বুঝে যেতেন। যার জন্য তাকে স্কুলে সবাই  আইনস্টাইন বলে ডাকত। 

হকিং এর কলেজ শিক্ষা (Stephen Hawkng collage life)


স্টিফেন এর বাবার ইচ্ছে ছিল। ছেলে তার মত ডাক্তারি পেশা অনুসরণ করুক। তাই তিনি চাইছিলেন তিনি যে কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন। 

স্টিফেন সেই অক্সফোর্ড কলেজ থেকে,মেডিকেল নিয়ে পড়াশোনা করুক।কিন্তু স্টিফেনের স্কুল জীবন থেকে,গণিত ও স্পেস সাইন্স নিয়ে আগ্রহ ছিল। 

  হকিং তার পিতার অনিচ্ছা সত্ত্বেও।গণিত নিয়ে,অক্সফোর্ডে ভর্তি হবেন বলে ঠিক করলেন।কিন্তু সে সময় অক্সফোর্ডে আলাদা করে গণিতের কোনো শাখা ছিলনা। 

 হকিং তখন পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন নিয়ে,অক্সফোর্ডে পড়ার জন্য মনস্থির করেন। তার শিক্ষক তাকে এক বছর অপেক্ষা করার জন্য বলেন। 

কিন্তু স্টিফেন এক বছর অপেক্ষা করেন না। তিনি সেই বছর ১৯৫৯ সালে কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য বৃত্তি পরীক্ষা দেন।

স্টিফেন,পরীক্ষায় পাস্ করেন। এবং বৃত্তি নিয়ে হকিং অক্সফোর্ড এ স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু শুরুর দুই বছর,হকিং এর কাছে কলেজ লাইফ হয়ে উঠেছিল বোরিং একটি বিষয়।  

তার কাছে কলেজের পড়াশোনা এবং পাঠ্যক্রম ছিল,নিত্যান্ত ছেলে খেলার মত একটা সাধারণ বিষয়। তিনি কঠিন কঠিন ফিজিক্সের সমাধান,নিমেষে করে দিতেন।

তার কাছে সমস্যা,কোনো সমস্যা ছিল না। এইভাবে হকিং তার পড়াশোনা থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে থাকে। গ্যাজুয়েশনের তৃতীয় বর্ষে।

স্টিফেন হকিং এর ফলাফল নিয়ে, সংশয় দেখা দেয়। স্টিফেনকে, অধ্যাপকরা ফাস্ট ক্লাস না সেকেন্ড ক্লাস দেবে।

শুধু প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ঠিক করে উঠতে পারছিলেন না।তাই অধ্যাপকরা স্টিফেনের মেধা নির্ধারণ করার জন্য। একটি মৌখিক পরিক্ষার আয়োজন করে।

আর এই পরীক্ষার স্টিফেন সৎব্যবহার করেন। অধ্যাপকরা গ্যাজুয়েশনের পর। হকিং এর ভবিষৎ পরিকল্পনা জানতে চাই।

হকিং খুব চালাকির সাথে জবাব দেয়।“যদি আপনারা আমাকে ফাস্ট ক্লাস দেন। তাহলে কেমব্রিজে গিয়ে বিশ্ব তত্ব নিয়ে পড়াশোনা করব।

আর সেকেন্ড ক্লাস দেন তাহলে এই অক্সফোর্ডে থেকে যাব। তবে ফাস্ট ক্লাস দিলেই মনে হয় বিদায়টা ভাল হবে।”এই চটজলদি জবাব শুনে অধ্যাপকরা বুঝে যায় ছেলেটি বুদ্ধিমান। 

 স্টিফেন অধ্যাপকদের  শ্রদ্ধা জিতে নেন। স্টিফেন হকিং কে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে।পদার্থ বিজ্ঞানে ফাস্ট ক্লাস ডিগ্রি দেওয়া হয়। 

আরো পড়ুন: শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী। 

স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) PHD


খুব অল্প বয়সে স্টিফেন হকিং গ্রাজুয়েশন পাস করেন। তারপর তিনি ইরান বেড়াতে যান। সেখান থেকে ঘুরে এসে স্টিফেন কেমব্রিজে PHD পড়া শুরু করেন। 

কেমব্রিজে পড়াশোনা করার সময় স্টিফেন চেয়েছিলেন,জ্যোতিবিদ ফ্রেড হোয়েল তার মেন্টর হোক।কিন্তু ফ্রেড হোয়েল,ব্যস্ত থাকার জন্য হকিং এর মেন্টর হতে পাননি। 

তখন হকিং,মহাবিশ্ব তত্বের জনক ডেনিস সিয়ামা কে, তার মেন্টর হিসাবে পান। ডেনিস সিয়ামার্ সাথে কাজ করার সময় হকিং বুঝতে পারেন। তার গণিতের জ্ঞান তার কাছে সীমিত। 

কারণ অক্সফোর্ডে আলাদা করে গণিতের কোনো শাখা ছিলনা। তাই গণিত চর্চাও,সেখানে তেমন উচ্চ পর্যায়ের ছিলনা।

তবুও হকিং নিজের ইচ্ছে শক্তি দ্বারা।ডেনিসের কাছ থেকে মহাবিশ্বতত্বের বিষয় গুলি সাগ্রহে শিখতে লাগলেন।মনোযোগী ছাত্র হকিংকে,ডেনিস হাতেকলমে কাজ শেখাতে লাগলেন। 

আরো পড়ুন: অজিত দোভাল জীবনী। 

স্টিফেন হকিং কোন রোগের স্বীকার হয়েছিলেন


স্টিফেন এর PHD-র, পড়াশোনা ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু এর মধ্যে মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ত স্টিফেন।স্টিফেন প্রায় মাথা ঘুরে পড়ে যেত। কিন্তু ব্যাপারটাকে স্টিফেন অতটা গুরুত্ব দিতনা। 

এইসময় হকিংএর জীবনে প্রেম আসে। হকিং এর বোনের, একজন বান্ধবীর। তার পরিবারে যাতায়াত ছিল। সেই বান্ধবীর নাম হল জেইন ওয়াইল্ড।

জেইন ছিলেন,একজন ফরাসি ভাষাতত্বের ছাত্রী। কিন্তু নিয়মিত যাতায়াত এবং দেখা সাক্ষ্যাতের ফলে, সেটা হকিং এর সঙ্গে প্রেমে রূপান্তরিত হয়। 

এই জেইন ওয়াইল্ড, হকিংকে জীবনের সাথে লড়াই করার প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। হকিং এক দুরারোগ্য ব্যাধির স্বীকার হয়েছিলেন।

স্টিফেন হকিং যখন তার রোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। তখন তিনি সম্পূর্ণ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি নিজেকে একটি ঘরের মধ্যে বন্দি করে নেন।

এইসময় তিনি,কারো সাথে কথা বলা পর্যন্ত পছন্দ করতেন না।তিনি যে ব্যাধির স্বীকার হয়েছিলেন,তার নাম মোটর নিউরোন রোগ (Amyotrophic lateral sclerosis) 

এই রোগে রুগী,তার শরীরের পেশী পর্যন্ত,নাড়াতে পারেনা।শারীরিক ভাবে অথর্ব হয়ে যায়।খাবার গেলা এবং নিঃস্বাস নেওয়া, তার কাছে জটিল হয়ে উঠে। 

স্টিফেন হকিং এবং তার স্ত্রী(Stephen Hawking wife)

 

এই রোগের স্বীকার রুগী,বেশি দিন বাঁচেনা। ৪/৫ বছরের মধ্যে রুগী মারা যায়। স্টিফেন হকিং ২১ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে, এই দুরারোগ্য ব্যাধির স্বীকার হয়। 

স্টিফেন মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে। তখন তাকে ডাক্তার, তার মেন্টর ডেনিশ,তাকে উৎসাহিত করে।সবথেকে বেশি প্রেরণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তার প্রেমিকা জেইন। 

একবার হকিং চিকৎসাকালে দেখতে পায়।পাশের বেডে থাকা শিশুটি ক্যান্সারে আক্রান্ত। আর তার থেকে অনেক বেশি ব্যাথা ঐ শিশুটি সহ্য করছে। 

এরপর হকিং তার মনোবল ফিরে পায়। প্রেমিকা জেইন,তখন হকিং এর পাশে সবসময় থাকার জন্য। হকিং এর সঙ্গে বাগদান করে। 

স্টিফেন হকিং স্বীকার করেছেন। প্রেমিকা জেইন এর সঙ্গে তার বাগদান এবং ১৯৬৫ সালে বিবাহ, তার জীবনে বেঁচে থাকার রসদ জুগিয়েছিল। 

স্টিফেন হকিং এর আবিষ্কার


 হকিং,পদার্থ বিজ্ঞানে তার অসাম্যতার ছাপ রেখে গেছেন।এতো প্রতিকূলতার মাঝে যে সমস্ত তত্বগুলি স্টিফেন হকিং আবিষ্কার করে গেছেন সেগুলি নিতান্ত কম নয়। 

১৯৮৩ সালে,তিনি জিম হার্টেল এর সঙ্গে,যৌথ ভাবে মহাবিশ্বের আকৃতি নিয়ে,নতুন তত্ব সামনে নিয়ে আসেন। এছাড়াও তিনি এবং পেনরোজ সমবেত ভাবে। 

১৯৭০ সালে প্রমান করে দেখালেন,আমাদের এই বিশাল ব্রহ্মান্ড,যার কোনো অন্ত নেই। এই বিশাল ব্রহ্মান্ড কোনো এক অনন্ততা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। 

ঐ বছর তিনি কৃষ্ণ গহ্বর (Black Hole) নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। তিনি ব্যাখ্যা করে দেখালেন। কৃষ্ণ গহ্বরে প্রবেশ করলে,আর বেরিয়ে আসা যায় না। 

আর ওই গহ্বরে প্রবেশ করলে। সেখানে সময়ের গতি কমে যায়। ১৯৭৪ সালে, তিনি কৃষ্ণ গহ্বর নিয়ে আরো, নতুন তথ্য,প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন কৃষ্ণ গহ্বরে প্রতিনিয়ত বিকিরণ হয়। আর এই বিকীরণ ততদিন চলবে,যতদিন পর্যন্ত,ঐ বিকিরণের এনার্জীর সোর্স শেষ হয়ে না যায়। 

হকিংসের কৃষ্ণ গহ্বর(Black Hole) নিয়ে এই ব্যাখ্যা কে হকিং বিকিরণ (Hawking Radiation) বলা হয়ে থাকে। 

এছাড়া হকিং এর আবিষ্কার গুলি হল- পেনরোজ হকিং তত্ব,বেকেনস্টাইন হকিং সূত্র,থর্ন-হকিং-প্রেস্কিল বাজি ইত্যাদি। 

নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে স্টিফেন হকিং এর বাকশক্তি চলে যাওয়া


১৯৮৫ সালে,সুইজারল্যান্ড এর জেনেভাতে, হকিং CREN সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা যায়। 

হকিং সেখানে গিয়ে নিউমোনিয়ার স্বীকার হয়। হকিং কে তখন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। 

তিনি স্বাস নিতে পযন্ত পারছিলেন না। তখন ডাক্তার তার লাইফ সাপোর্ট হটিয়ে নেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু তার স্ত্রী এতে সম্মতি দেয় না। 

এরপর স্টিফেন কে,তার স্ত্রী জেইন। কেমব্রিজে নিয়ে আসে। সেখানে ডাক্তার স্টিফেনের স্বাস নালীটাকে কেটে বাদ দিয়ে দিয়ে, টিউব বসিয়ে দেওয়া হয়।  

এরপর থেকে স্টিফেন,পুরোপুরি ভাবে তার বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে। আর আগে থেকে স্টিফেন মোটর নিউরোন রোগে আক্রান্ত হয়ে চলা ফেরা হারিয়েছিলেন।

তাকে সমস্ত কাজ কর্মের জন্য। পর নির্ভরশীল হয়েই বেঁচে থাকতে হত।তিনি নিজে থেকে চলা ফেরা,খাওয়া দাওয়া কিছুই করতে পারতেন না। 

এরপর কিছুদিন হকিং,তার বাক আদানপ্রদানের মাধ্যম হিসাবে,বানান কার্ডকে ব্যবহার করতেন। তার ভঙ্গি বোঝার জন্য এক একটা অক্ষরের ফলককে,তার সামনে তুলে ধরা হত। 

তিনি যেটা বোঝাতে চাইছেন সেই ফলকটা সামনে এলে।তিনি ভ্রূ কোঁচকাতেন। আর এই ভাবেই হকিং তার ভাব বিনিময় করতেন। 

এরপর হকিং এর অনুগামীরা।ক্যালিফোর্নিয়ার এক ওয়ার্ড প্লাস, নামের এক কোম্পানির সাথে,যোগাযোগ করেন। এই কোম্পানি ALS রুগীদের জন্য এক বিশেষ ধরণের কম্পিউটার সফটওয়ার পোগ্রাম লঞ্চ করেন।

এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে, রুগী তার হাতের কাছে থাকা ক্লিকার টিপে। কম্পিউটার মনিটরে, শব্দ তৈরী করতে পারতো।  

এই সফটওয়ার পোগ্রামকে, ভয়েস সিন্থেসাইজার এর সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়। স্পিচ প্লাস নামের একটি কোম্পানি দ্বারা। যার দৌলতে স্টিফেন তখন মিনিটে ১৫ টা মত শব্দ বলতে পারতেন। 

কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (A BRIEF HISTORY OF TIME)


১৯৮২ সাল হকিং এর পরিবারে আর্থিক স্বছন্দ ফিরে আসছিল। হকিং তার বাক শক্তি হারানোর এক বছর আগে থেকে, সর্বসাধারণের বোধগম্য একটি বই লিখবেন বলে ঠিক করেছিলেন। 

সেই বইটি মূলত তিনি,কসমোলজি এবং মহাকাসতত্বের  উপর লিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বইটির ভাষা জটিল হওয়ায় প্রকাশকের সমর্থন লাভ করছিল না। 

কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (A Brief History of Time)

 

প্রকাশক চাইছিলেন,স্টিফেনের বিজ্ঞানের ভাষা,আর একটু সহজতর,সবার বোধগম্য হোক। যা পড়ে ছোট বড় সকলেই বুঝতে পারবে। 

এইভাবে বারবার স্টিফেন কে প্রকাশক ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। স্টিফেন এতে বিরক্ত হয়ে পড়ছিলেন। কারণ তখন তিনি তার বাকশক্তি হারিয়ে ফেলছিলেন। 

শুধুমাত্র সিন্থেসাইজার এর সাহায্য নিয়ে।মিনিটে ১৫/২০ টা শব্দ দিয়ে,বইয়ের ভাষা সংশোধন করে সহজতর করে তোলা, তার কাছে দুঃসাধ্য হয়ে উঠছিল। 

শেষমেস বইটির ভাষা সংশোধন করে ১৯৮৮ সালে কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (A BRIEF HISTORY OF TIME) ১ম সংস্করণ প্রকাশ হয়। 

বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে হট কেকের মত বিক্রি হয়ে যায়। এরপর হকিং কে আর বিষম আর্থিক পরিস্থিতির জন্য চিন্তা করতে হয়নি। প্রায় ১কোটির কাছাকাছি কপি বইটি বিক্রি হয়। 

হকিং এর বিবাহ বিচ্ছেদ ও বিয়ে


A BRIEF HISTORY OF TIME প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। স্টিফেন হকিং কিসের জন্য বিখ্যাত ছিল বা বিখ্যাত হয়েছিল সেই, প্রশ্নের আর অবশিষ্ট থাকে না। 

হকিং তার কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বইটিতে।হকিং বিকিরণ,কৃষ্ণ গহ্বর,স্টিফেন হকিং বিগ বাং থিওরি,নিয়ে ব্যাখ্যা করেছিলেন। এর আগে,সহজভাবে ফিজিক্সের ব্যাখ্যা কেও করেনি। 

সত্যকথা বলতে গেলে স্টিফেন তখন রাতারাতি নায়ক হয়ে গেছিল। তাদের জীবনের টাকা পয়সার চাহিদা মিটলেও। সংসার জীবনে ফাটল দেখা দেয়। 

১৯৯০ সালে হকিং তার পরিচারিকার সাথে থাকতে শুরু করেন। এবং তাকে বিয়ে করেন। ১৯৯৫ সালে শেষ পর্যন্ত জেইন এর সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। 

কিন্তু পরিচারিকার সাথে স্টিফেনের সম্পর্ক বেশিদিন টেকে না। তারা আবার ২০০৬ সালে আলাদা হয়ে যায়। 

এরপর আবার স্টিফেন,পুনরায় তার পূর্ব পত্নী জেইন, এর কাছে ফিরে আসে। তাদের দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। 

২০০৭ সালে হকিং এর স্ত্রী। জেইন হকিং এবং তার সম্পর্ক নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেন। বই টি হল Travelling to Infinity:My life with Stephen.

থিওরি অফ এভরিথিং (Theory of Everything)


২০০৭ সালে,হকিং এর স্ত্রী জেইন,এর লেখা বইটির ভিত্তিতে। Stephen Hawking এবং তার স্ত্রীর সাথে,কাটানো সময়ের ভিত্তিতে,হলিউডে একটি সিনেমা নির্মিত হয়। 

এই সিনেমায় হকিং এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেডমেইন। এবং স্ত্রী জেইন এর চরিত্রে অভিনয় করেন ফেলিসিটি জোন্স । 

থিওরি অফ এভিরিথিং

 

আর এই সিনেমাটি হল,থিওরি অফ এভরিথিং (Theory of Everything),হকিং চরিত্রে অভিনয় করার জন্য রেডমেইন কে অস্কার পুরুস্কার দেওয়া হয়। 

Stephen Hawking এর স্বাস্থ্যের অবন্নতি


২০০৮ সাল থেকে,স্টিফেনের স্বাস্থ্য ক্রমশ ভাঙতে শুরু করে।হাতের তালুতে থাকা,ক্লিকার টা প্রেস করে শব্দ চয়ন করার ক্ষমতা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেন। 

তখন তার গালে,গ্রাজুয়েট এসিসটেন্ট চশমার উপর ইনফ্রারেড লাগিয়ে,গালের পেশী সংকোচনের দ্বারা। বাক বিনিময়ের ব্যবস্থা করা হয়। 

কিন্তু ধীরে ধীরে বয়সের সাথে সাথে ,স্টিফেনের গালের পেশী দুর্বল হতে থাকল। তখন আর মিনিটে ১৫ টা শব্দ চয়ন করতে পারতেন না। তিনি শুধু মিনিটে ২টি শব্দ চয়ন করতে পারতেন। 

এরপর তিনি ইন্টেল কে চিঠি করেন। ইন্টেলের কম্পিউটার হিউম্যান ইন্টার অ্যাকশন ডিজাইনার ছিলেন, পিট্ ডেনম্যান।  

ডেনম্যান নিজেও হুইল চেয়ার ব্যবহার করতেন। কারণ তার নিজের ঘাড় ভেঙে গেছিল।তাই তিনি সোজা হয়ে চলার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন। 

তিনি নিজেও হুইল চেয়ারের সাহায্য নিতেন। আর ডেনম্যান ছিলেন স্টিফেন এর একজন অন্ধভক্ত। ডেনম্যানের মা,তাকে স্টিফেনের লেখা বইটি উপহার দিয়েছিলেন। 

কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বইটি,হাতে দিয়ে বলেছিলেন।হুইল চেয়ারে বসে থাকা ব্যক্তি, চাইলে নিজের ইচ্ছে শক্তি দ্বারা দুনিয়া বদলে দিতে পারেন। 

ডেনম্যান তখন তার আইডল হকিং এর জন্য এমন একটি ব্যবস্থা করে দিলেন। যাতে কোনো শব্দ টাইপ না করেই।শুধু মাত্র কম্পিটার স্ক্রিনে দেখে শব্দ চয়ন করতে পারে। 

শুধু মাত্র তার গালের পেশীর কম্পন দিয়ে। শব্দ চয়ন করতে পারেন, সেরকম ব্যবস্থা ডেনম্যান, স্টিফেন হকিং কে করে দেয়। 

স্টিফেন হকিং এর বই


২০০৭ সালে স্টিফেন তার মেয়ে লুসি হকিং কে সঙ্গে করে বাচ্ছাদের জন্য বহু পুস্তক রচনা করেন। স্টিফেন হকিং এর লেখা বই গুলি হল। 

  • George secret key of the Universe বইটিতে।হকিং জর্জ নামের এক বালকের মধ্যে দিয়ে স্পেস যাত্রার কাহিনী কে তুলে ধরেছেন। 
  • বইটির মধ্যে দিয়ে হকিং বিগ বাং থিওরি, হকিং বিকিরণ,কৃষ্ণ গহ্বর নিয়ে ছোটদের পাঠ্য উপযোগী করে লিখেছিলেন। 

স্টিফেন হকিং এর উক্তি গুলি


স্টিফেন হকিং এর করা কিছু বিখ্যাত উক্তি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। যেগুলো যেকোনো মানুষের কাছে মন্ত্র উচ্চারণের মত মনে,হতে পারে। 

হকিং শুধু পদার্থ বিজ্ঞানের জন্যে বিখ্যাত নয়। তার করা উক্তি গুলি নিত্যান্ত ফেলে দেওয়ার মত নয়। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক স্টিফেন হকিং এর উক্তি গুলোকে।

  1. রাগ হল, মানুষের সবথেকে বড় শত্রূ। যা কোনো সভ্যতাকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট। 
  2. যারা তাদের বুদ্ধি নিয়ে খুব বেশি বড়াই করেন। তারা হল আসলে প্রকৃত হেরো। 
  3. মাটির দিকে তাকিওনা,আকাশের দিকে তাকাও,কাজ করতে থাকো।কাজ ছাড়া জীবন অর্থহীন।
  4. জীবনে যদি কোনোদিন ভালোবাসা পাও,তাকে কোনো দিন ছুড়ে ফেলে দিও না। 
  5. কেও যদি তোমাকে বলে। তুমি ভুল করছো। তাকে তুমি বলবে ভুল করা দরকারি।কারণ ভুল না করলে আপনি বা আমি কেউই বেঁচে থাকবো না। 
  6. আপনার শারীরিক বাধা,কখনো আপনার ভালো কাজে,বাধা হতে পারেনা।শারীরিক সীমাবদ্ধতার জন্য কোনো সময় আক্ষেপ করবেন না।কাজ করার উদ্যমে বৈকল্য থাকা খারাপ। 
  7. যে সমস্ত মানুষরা ভবিতব্য বিশ্বাস করে। তারাই রাস্তা পার হওয়ার সময় বার বার দুদিকে তাকায়। 
  8. আমি এখনো বড়ো হয়নি। তাই আজও আমি প্রশ্ন করতে থাকি। 

মৃত্যু / স্টিফেন হকিং কখন মারা গেল


হকিং তার কেমব্রিজের নিজ বাসভবনে ২০১৮ সালের ১৪ ই মার্চ শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্য কালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। 

স্টিফেনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ২০১৮ সালের ৩১ সে মার্চ। তার শেষকৃত্যে অনুষ্ঠিত হয় ক্রেম্ব্রিজের ম্যারিস গির্জায়। 

তার শেষকৃত্যে হাজির হয়েছিলেন থিওরি অফ এভরিথিং (Theory of Everything)এর নায়ক এডি রেডমেইন এবং নায়িকা ফিলিসিটি জোন্স।

আপনারা জানলে অবাক হবেন হকিং খ্রিস্টান ধর্মের অনুগামী হলেও তার মৃত দেহ কে দাহ্য করা হয়। তারপর মৃত দেহের ছাইভস্ম।

আইজাক নিউটনের সমাধির পাশে। ডারউইনের সমাধি সংলগ্ন এলাকায় তার ভস্ম সমাধিস্থ করা হয়। 

পরিশিষ্ট


পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে। স্টিফেন হকিং এর মূল্য কত খানি,তা আমাদের এই সামান্যতম মেধা দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করলে তাকে ছোট করা হবে। 

স্টিফেন হকিং জীবনী পরে আমরা তার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারি। পরিস্থিতি যেমনি হোক। হার মেনে নিয়ে নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করা বোকামি করা ছাড়া আর কিছুই না। 

আপনাদের জানিয়ে রাখা ভাল। স্টিফেন হকিং জীবনী ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করলে,দেখতে পাওয়া যায়।হকিং এর জন্ম এবং মৃত্যু দিবসে।

,দুই মহান বিজ্ঞানী।গ্যালিলিও এবং আইনস্টাইনের জন্ম এবং মৃত্য দিবস সামনে আসে। হকিং জন্মগ্রহণ করেন গ্যালিলিওর মৃত্যু বার্ষিকীতে। আর মারা যান আইনস্টাইনের জন্ম দিবসে। 

স্টিফেন হকিং কোন দেশের বিজ্ঞানী  ছিলেন।সেটা বড় কথা নয়। স্টিফেন হকিংকে।শুধু তার নিজ দেশ ইংল্যান্ড এবং কর্মভূমি যুক্তরাষ্ট্র হারায়নি। 

হারিয়েছে বিশ্বের আপামর বিজ্ঞানের সাধক। সাধনভূমি থেকে। একনিষ্ঠ কর্মবান সাধক কে। হে সাধক স্টিফেন হকিং তোমারে জানায় শতকোটি প্রণাম।