টাটা গোষ্ঠী গড়বে নতুন সংসদ ভবন (Central Vista Project)

নমস্কার বন্ধুরা,আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরব,নতুন সংসদ ভবন বিল্ডিং নির্মাণ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা। আপনারা খবর মারফতে শুনে থাকবেন সরকার,

নতুন সংসদ ভবন,নির্মাণ করতে চলেছে। স্বাধীনতার পর প্রথমবার,আমাদের দেশের প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভর ভারত নির্মাণের আওতায়,নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ করা হবে।

নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ নিয়ে,বিরোধী দল সহ আরো অন্যান্য সংগঠন,নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের বিরোধিতায় গলা মিলিয়েছেন।

দায়ের করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে বিভিন্ন যাচিকা। সরকার ২০২২ এ স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে,নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের লক্ষ্য মাত্রা স্থির করেছেন।

এছাড়াও সরকার,নতুন সংসদ ভবন সহ স্যার লুটিয়েন্স নির্মীত সেন্ট্রাল দিল্লীর অন্যান্য প্রশাসনিক ভবন,যেগুলির বয়স হয়ে গেছে ,সেই সমস্ত ভবন গুলিকে,

সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভলোপমেন্ট প্রজেক্ট এর আওতায় পুনঃনবীকরণ করতে চাইছেন। এই সমস্ত ভবন গুলিকে পুনঃনবীকরণের জন্য ধার্য্য করা হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা।

সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রজেক্ট (Central Vista Project)


আপনারা জানেন যে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষে,১৯১১ সালের আগে পর্যন্ত ভারতবর্ষের আগের রাজধানী ছিল কলকাতা। পরে ব্রিটিশ সরকার তাদের রাজধানী,

কলকাতা থেকে দিল্লীতে স্থানান্তর করেন। তাই নতুন করে দিল্লীতে ব্রিটিশ ভাইসরয় এর বাস গৃহ থেকে শুরু করে,বিভিন্ন প্রসাশনিক ভবন নির্মাণ করা হয়।

এককথায় পুরো সেন্ট্রাল দিল্লীকে,পরিকল্পনা মাফিক নক্সা তৈরী করে,দিল্লী শহর নির্মাণ করা হয়। আর এই দিল্লী শহরের পুরো নক্সা এবং নির্মাণ কার্যের ভার দেওয়া হয়,

বিখ্যাত ব্রিটিশ আর্কিটেকচার স্যার এডউইন লুটিয়েন্স এবং তাঁর এক অনুগামী স্যার হার্বাট বেকার কে। এরা দুজনে মিলে পুরো দিল্লীর নক্সা প্রস্তুত করেন।

New parliament Building

 

আজকে যে রাষ্ট্রপতি ভবন কে আমরা,রায় সিনহা হিলস নামে চিনি। একসময় রায় সিনহা হিলস ছিল,রায় সিনহা গ্রাম। এই রাষ্ট্রপতি ভবনটি মূলত ছিল ইংরেজ ভাইসরয়ের বাসভবন।

এই ভব্য ভাইসরয়ের বাসভনের সামনে,শোভা বাড়ানোর নিমিত্তে নির্মাণ করা হয়,আরো দুটি ভব্য ভবন। যাকে আমরা আজ সাউথ ব্লক এবং নর্থ ব্লক নামে চিনি।

নর্থ ব্লকের পিছনে বাঁ দিকে নির্মিত হয় হাউস অফ পার্লামেন্ট। আজকে যাকে আমরা সংসদ ভবন হিসাবে চিনি। এই হাউস অফ পার্লামেন্টেই,

স্বাধীন ভারতের প্রথম সংসদ অধিবেশন বসে। অনেকের মতে সংসদ ভবনের নির্মাণ হয়েছে অশোক চক্রের আদলে। আবার অনেকের মতে,

সংসদ ভবন নির্মীত হয়েছে মধ্যপ্রদেশের মেরেনা জেলার,মিটলি গ্রামের চৌষট যোগিনী মন্দিরের আদলে। বৃত্তকার এই সংসদ ভবনে,সর্বমোট ১৪৪ টি পিলার এবং তিনখানা চেম্বার রয়েছে।

এছাড়া রাজপথ ইন্ডিয়া গেট প্রভৃতি প্রশাসনিক ভবনের নক্সা প্রস্তুত করেন লুটিয়েন্স সাহেব। ইংরেজরা চলে যাবার পর,এই সমস্ত ভবন গুলি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারী প্রশাসনিক ভবনের তকমা পায়।

লুটিয়েন্স সাহেবের নক্সা প্রদত্ত,রাষ্ট্রপতি ভবন,সংসদ ভবন,প্রধানমন্ত্রী আবাস,রাজপথ সহ বিভিন্ন সরকারী বিল্ডিংকে,একত্রে সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রজেক্ট বলা হয়ে থাকে।

সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভলোপমেন্ট প্রজেক্ট (Central Vista Redevelopment Project)


২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে MOS Housing & Urban Affairs মিনিস্টার হরদীপ সিং পুরী,এক সংবাদিক সম্মলনে ঘোষণা করেন। সংসদ ভবন,বিভিন্ন সরকারী,

পুরোনো ইমারত সহ সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রজেক্ট (Central Vista Project) এর অন্তর্গত অফিস বিল্ডিং গুলির পুনঃনবীকরণ করা প্রয়োজন।

এই পুরো সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভলোপমেন্ট (Central Vista redevelopment Project) প্রজেক্ট কমপ্লিট করার জন্য,সরকার ২০২৪ সালের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেন।

আরো পড়ুন : ইন্ডিয়া গেটের ইতিহাস।

সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভলোপমেন্ট প্রজেক্ট এর উপর কোর্টের স্থগিতাদেশ


সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভলোপমেন্ট প্রজেক্ট এর উপর সুপ্রিম কোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারী করেছেন। সুপ্রিম কোর্টে দিল্লীর বিভিন্ন সংগঠন যাচিকা দায়ের করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের মতে,সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভলোপমেন্ট প্রজেক্ট এর কোনো রকম পূর্বসূচনা বা কোনো রকমের আলোচনা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে,সরকার করেনি।

০৪ ডিসেম্বর নির্মাণ কার্যের উদ্দেশ্যে,কাজ শুরু করার প্রয়াস চালালে সুপ্রিম কোর্ট কাজের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয়,

যতক্ষণ না পর্যন্ত সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রজেক্ট (Central vista project) রিডেভলোপমেন্ট এর কাগজ কলমের প্রসেস সম্পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে,

এবং সেন্টাল ভিস্তা প্রজেক্ট এর বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে যে সমস্ত যাচিকা দায়ের করা হয়েছে। সেই সমস্ত যাচিকার ভিত্তিতে,

সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতি বেঞ্চের মুখ্য ন্যায়াধীশ AM KHANWILKAR রায় দেন। সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভলোপমেন্ট প্রজেক্টের বিরুদ্ধে,

যে সমস্ত যাচিকা দায়ের করা হয়েছে সেই সমস্ত যাচিকার রায় নিয়ে যতদিন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত কোর্ট না দিচ্ছে,ততদিন পর্যন্ত সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রজেক্ট এর,

নতুন সংসদ ভবনের কাজ স্থগিত থাকবে। তবে কোর্ট নতুন সংসদ ভবনের ভূমি পূজনের অনুমতি দিয়েছে কোনো রকমের নির্মাণকাজ শুরু না করার শর্তে।

সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রজেক্ট এর বিরুদ্ধে আরো অন্যান্য যাচিকা জ্ঞাপন


১মত: পরিবেশবিদরা,দিল্লীর পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাচিকা দায়ের করেছেন। তাদের মতে পুরোনো হেরিটেজ বিল্ডিং গুলি,

যে সমস্ত জায়গায় রয়েছে,সেই সমস্ত জায়গায় নতুন করে নির্মাণকার্য শুরু হলে সেখানে প্রচুর পরিমানে গাছ গাছালি কাটা যাবে। এরফলে পরিবেশ সহ দিল্লীর সৌন্দর্যায়নে কুপ্রভাব পড়বে।

২য়ত: ঐতিহাসিক স্থাপত্যবিদদের দাবি,দিল্লীর রাজপথ সহ ইন্ডিয়াগেট সংলগ্নবর্তী এলাকায়,নতুন করে সেক্রিটারিয়েন্ট বিল্ডিং নির্মিত হলে কয়েক বছরের মধ্যে,

সেই সমস্ত জায়গা কঠিন নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। ফলে আজ যেখানে ইন্ডিয়া গেট সংলগ্ন এলাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত বিনোদনের জায়গা।

সেই জায়গায় প্রবেশের জন্য মানুষ স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলবে। এছাড়াও একাংশের দাবি দিল্লীর রাজপথ,বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী।

এই রাজপথে প্রতিবছর রিপাবলিক ডে প্যারেড সহ,রিওয়ালী এবং রিট্রিড এর মত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আর তা দেখার জন্য একত্রিত হয় জনতা।

সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রজেক্ট (Central vista project) রিডেভলোপমেন্ট হলে পর্যটক এবং দিল্লী বাসী ও আমজনতার স্বাধীনতায় রাজপথ সহ ইন্ডিয়া গেট দর্শনে লাগাম লেগে যাবে।

আরো পড়ুন : নোবেল পুরুস্কার কেন দেওয়া হয়। 

নতুন সংসদ ভবন (New Parliament Building) নির্মাণ করা কতটা দরকারী ?


নতুন সংসদ ভবন এর নির্মাণ কতটা জরুরী, তা আমরা দুটি কারণের মাধ্যমে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।-১.প্রতক্ষ কারণ এবং ২.পরোক্ষ কারণ

 সংসদ ভবন নির্মানের প্রতক্ষ কারণ:-


ভারতের সংসদ ভবনের নির্মাণ কার্য সম্পন্ন হয় ১৯২৭ সালে। আজ বর্তমানে ২০২০ সালে এই সংসদ ভবনের আয়ু প্রায় ৯৩ বছরের কাছাকছি।

সুতারাং বলা যেতে পারে পুরোনো সংসদ ভবনের বয়স হয়ে গেছে। তাই সুরক্ষা দৃষ্টিকোণ থেকে সংসদ ভবনের রদবদল মানে নতুন নির্মাণের প্রয়োজন আছে।

এছাড়া যুগের সঙ্গে,সঙ্গে অনেকবার সংসদ ভবনের বিভিন্ন জায়গা মেরামত এবং নবীনিকরন হয়েছে। কিন্তু বার,বার পুরোনো দেওয়ালে ওয়ারিং এবং ড্রিলিং এর ফলে দেওয়ালের ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।

বর্তমানে সংসদে লোকসভায় ৫৪৫ জন MP সিট্ এবং রাজ্যসভায় ২৪৫ জন MP সিট্ আছে। তাই একত্রিত ভাবে সভা হলে সমস্ত সাংসদের বসার জায়গা সংসদে হয়ে ওঠে না।

পুরোনো সংসদ ভবনে সমস্ত সাংসদ এবং তাদের সেক্রেটারীদের জন্য,প্রয়োজনীয় অফিস সবার জন্য উপলব্ধ নয়। কেবল যারা বহু পুরোনো সংসদ তাদেরই কয়েকজনের অফিস আছে।

তাই সমস্ত সাংসদের কথা খেয়াল রেখে,সমস্ত সাংসদদের জন্য অফিস এবং সাংসদীয় অধিবেশনে সবার বসার জায়গা যাতে হয়। সেই কথা মাথায় রেখে নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের প্রয়োজন আছে।

সাংবিধানিক ভাবে ২০২৬ সাল পর্যন্ত,লোকসভা এবং রাজ্যসভায় সিটের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে স্থগিতাদেশ থাকলেও। ২০২১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের পর থেকে,

লোকসভা এবং রাজ্যসভা উভয় সদনে সাংসদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। তাই আজ না হলেও কয়েক দিন পরেই নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ করা দরকার ছিল।

The Acts of Parliament Relating to the Building বইটি কিনুন Amazon এ উপলব্ধ রয়েছে দাম দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন। 

সংসদ ভবন নির্মাণের পরোক্ষ কারণ :-


২০০৫ সালে সংসদ ভবনে হামলার পর থেকে সংসদ ভবনের নিরাপত্তা কয়েকগুন বাড়িয়ে দেওয়া হলেও, পুরোনো সংসদ ভবন পরমাণু হামলা থেকে সুরক্ষিত নয়।

পুরোনো সংসদ ভবনে পার্কিং এর উচিত ব্যবস্থা না থাকায়। অধিকতর সময় সংসদ ভবনের আসে পাশে অযথা গাড়ী পার্ক নিয়ে অগোছালো ভাবে গাড়ীর জঞ্জাল চোখে পড়ে।

পুরোনো সংসদ ভবন,সহ লুটিয়েন্স সাহেব ব্রিটিশ শাসনভার চালানোর জন্য,নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক সহ,আরো যে সমস্ত বিল্ডিং গুলো নির্মাণ করেছিলেন।

সেগুলি বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রালয়। যেগুলি লুটিয়েন্স দিল্লীর (সেন্ট্রাল দিল্লীর),প্রায় ০৩ কিমি এরিয়া জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

এখানে ওখানে সরকারি মন্ত্রালয় গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায়, সরকারি কাজে বিলম্ব হয়। তাই সরকার চাইছেন, কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের সমস্ত অফিস বিল্ডিং গুলোকে একই ছাদের তলায় নিয়ে আসতে।

বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৪৭ খানা অফিস বিল্ডিং আছে। এর মধ্যে রেল ভবন, কৃষি ভবন, শাস্ত্রী ভবন ইত্যাদি।যার বেশির ভাগ ভাড়ায় নেওয়া।

আর এর জন্য সরকারকে প্রতিমাসে লক্ষ,লক্ষ টাকার অফিস ভাড়া দিতে হয়। তাই সরকার চাইছেন,কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত অফিস গুলোকে,

একই ছাদের তলায় নিয়ে এসে,বিপুল অঙ্কের ভাড়ার হাত থেকে রেহাই পেতে। এবং পুরো অফিস গুলোকে ২ টা থেকে ৩ টা বিল্ডিঙের মধ্যে নিয়ে এসে,একত্রিত ভাবে কাজ করতে।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী আবাস থেকে প্রধানমন্ত্রীর অফিস সাউথ ব্লক যথেষ্ট দূরে। তাই চেষ্টা করা হচ্ছে নতুন সেন্ট্রাল রিডেভলোপমেন্ট প্রজেক্টে প্রধানমন্ত্রী অফিস ও আবাস কাছাকাছি করা হবে।

নতুন সংসদ ভবন (New Parliament Building) এর নক্সা এবং টেন্ডার


২০১৯ সালে সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভলোপমেন্ট প্রজেক্টে এর আন্ডারে,নতুন সংসদ ভবন (New Parliament Building) এর ২০০ কোটি টাকার বিনিময়ে,

নক্সা প্রস্তুতের ভার পায় গুজরাট তথা ভারতের,বিখ্যাত HCP কোম্পানির বিশিষ্ট আর্কিটেকচার বিমল প্যাটেল। বিমল প্যাটেল হলেন একজন সনামধন্য আর্কিটেকচার।

তিনার কাছে ৩৫ বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা আছে। নতুন সংসদ ভবন (New Parliament Building) এর নক্সা প্রস্তুত করা হয় ভারতীয় সংস্কৃতির আদলে ত্রিভুজাকৃতি।

এরপর নতুন সংসদ ভবন সহ সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভলোপমেন্ট প্রজেক্ট এর জন্য টেন্ডার ঘোষণা করা হয়। নতুন সংসদ ভবন কন্সট্রাকশনের জন্য বিভিন্ন কোম্পানি টেন্ডার ভরেন।

কিন্তু সবথেকে কম দামে মাত্র ৮৬২ কোটি টাকার বিনিময়ে,আমাদের দেশের কোম্পানি টাটা গোষ্ঠী নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের ট্রেন্ডার পায়।

আরো পড়ুন : বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল রহস্য। 

কেমন হবে নতুন সংসদ ভবন (New Parliament Building) 


নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ হবে বর্তমানে যেখানে নর্থ ব্লক আছে,তার পিছনে পুরোনো সংসদ ভবন এর পাশে। নতুন সংসদ ভবনের জন্য প্লট নং-১১৮ নির্ধারন করা হয়েছে।

৬৪,৫০০ বর্গ মিটার জায়গা জুড়ে তৈরী হবে নতুন সংসদ ভবন। যা পুরোনো সংসদ ভবনের থেকে ১৭,০০০ বর্গমিটার বড়।

নতুন সংসদ ভবন হবে জেট প্লাস সুরক্ষায় মোড়া। পরমাণু হামলা এবং মিসাইল হানা থেকে সুরক্ষিত। যা আমাদের দেশের লোকতন্ত্রকে মজবুত করবে।

বর্তমানে পুরোনো সংসদ ভবনে লোকসভায় ৫৪৫ এবং রাজ্যসভায় ২৪৫ MP বসার সিট্ রয়েছে। নতুন সংসদ ভবনে রাজ্যসভায় ৮৮৮ এবং লোকসভায় ৩৮৪ জন সাংসদের বসার জায়গা থাকবে।

নতুন সংসদ ভবনে, সংসদের যৌথ অধিবেশনে একসঙ্গে ১২২৪ জন সাংসদ বসতে পারবে। বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য নতুন সংসদ ভবনে প্রতিটি সাংসদের জন্য,

এবং তাদের সেক্রেটারীদের জন্য আলাদা আলাদা অফিস কক্ষের ব্যবস্থা থাকবে। নতুন সংসদ ভবন হবে সম্পূর্ণ রূপে ডিজিট্যাল এবং সম্পূর্ণ পেপার লেশ।

নতুন সংসদ ভবনে বসা হবে অত্যাধুনিক সোলার প্যানেল। যা ভবনের বিদ্যুৎ খরচের ৩০ % বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে। এছাড়া নতুন সংসদ ভবনে বসানো হবে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজিট্যাল স্ক্রিন।

পুরোনো সংসদ ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে সময় লেগেছিল ৬ বছর এবং খরচ হয়েছিল ৮৩ লক্ষ টাকা। নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের জন্য সরকার ২১ মাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

পুরো প্রজেক্টের জন্য খরচা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৭১ কোটি টাকা। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কোর্টের নির্দেশে ১০ ডিসেম্বর ভূমি পূজন করেন।

সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রজেক্ট (central vista project )

 

সরকার চাইছেন ২০২২ সালে,স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারত দেশকে নতুন সংসদ ভবন উপহার দিতে। নতুন সংসদ ভবনে থাকবে অত্যাধুনিক গ্রন্থাগার,

পার্কিং এর সু ব্যবস্থা। এছাড়াও থাকবে ভিজিটর গ্যালারী,কনস্টিটিউশন হল, ইন্ডিয়ান্স ডেমোক্র্যাটিক হ্যারিটেজ ইত্যাদি এছাড়াও ডিজিটাল ডিসপ্লে ব্যবস্থা।

অনেকদিন আগে একবার নতুন সংসদ ভবন বানানোর কথা ওঠে। ঠিক হয় নতুন সংসদ ভবন গ্রেটার নয়ডা সংলগ্ন এলাকায় তৈরী করা হবে। কিন্তু তাতে বেশির ভাগ সাংসদের,অনুমতি না থাকায় তা হয়ে ওঠে না।

নতুন প্রজেক্টে প্রধানমন্ত্রী আবাস এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট আবাস ভেঙে ফেলা হবে। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ইন্ডিয়া গেট পর্যন্ত যে ৩ কিমি রাস্তা চলে গেছে তার দুই পাশে,

দুটি করে মোট চারটি নতুন বিল্ডিং তৈরী করা হবে। যে বিল্ডিং গুলোতে কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের সমস্ত অফিস বিল্ডিং গুলো একসঙ্গে স্থানান্তর করা হবে।

আজকে যেখানে রাজপথের বাঁ দিকে ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল গ্যালারী অফ আর্টস আছে,সেটা কে স্থানান্তর ,সেখানে দুটি নতুন অফিস বিল্ডিং তৈরী হবে।

আর যেখানে বর্তমানে ভাইস প্রেসিডেন্ট এর বিল্ডিং আছে,সেখানে আরও দুটি নতুন ব্লক তৈরী করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আবাস এর পাশে নতুন করে,

নতুন প্রধানমন্ত্রী অফিস তৈরী হবে। আর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে ভাইস প্রেসিডেন্টের আবাসস্থান তৈরী হবে। সাউথ ব্লক এবং নর্থ ব্লক সহ পুরোনো সংসদ ভবন কে সংগ্রহ শালায় বদলে দেওয়া হবে।

পরিশিষ্ট


সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট,নতুন সংসদ ভবন (New Parliament Building), নিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তি, প্রজেক্টের পক্ষে বিপক্ষে নানা মতামত দিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হল যেখানে করোনা ভাইরাসের কবলে দেশের আর্থিক স্থিতী তলানিতে। সেই সময় ৯৭৫ কোটি টাকার বাজেটে সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভলোপমেন্ট প্রজেক্টে,

নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ করা কতটা যুক্তি যুক্ত,সেটা আপনাদের হাতে ছেড়ে দিলাম। আপনারা আপনাদের মূল্যবান মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন।

আমাদের লেখাটি পড়ে যদি আপনাদের ভালো লাগে,তাহলে আপনাদের কাছে আমাদের অনুরোধ,আমাদের লেখাটি বেশি বেশি করে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here