গণিতদবিদ শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী (Ramanujan Biography Bangla )

আজকে আমরা জানব ভারতবর্ষের এক তরুণ গণিতজ্ঞ শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী (Ramanujan Biography) নিয়ে ।

যদিও তিনি খুব অল্প বয়সে নিজের জীবন হারিয়েছেন,তবুও এই অল্প সময়ের মধ্যে যে প্রতিভার ছাপ ছেড়ে গেছেন তা কোনো অংশে কম না।

শ্রীনিবাস রামানুজন কে অঙ্কের জাদুগর বললে কিছু ভুল বলা হবেনা। যদিও তার প্রতিভার মূল্যায়ন তৎকালীন ভারতীয় শিক্ষাব্যাবস্থা এবং ব্রিটিস ইন্ডিয়া দ্বারা সেরকম কদর করা হয় নি ।

কিন্তু গুণীজন তার গুনের কদর করেছিল ঠিকই। আসুন তাহলে আপনাদের সামনে তুলে ধরা যাক মা নামগিরি দেবীর বরপুত্র শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী’র মাধ্যমে রামানুজন কে।

আরো পড়ুন : ২০২১ এর সেরা ঈদের শুভেচ্ছা কবিতা স্ট্যাটাস এস এম এস বাংলা। 

Table of Contents

শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী


শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী আলোচনার মাধ্যমে যে বিষয় গুলো আপনাদের অবগত করানো হবে –

  • শ্রীনিবাস রামানুজন এর জন্ম পরিচয়।
  • রামানুজন এর বাল্য শিক্ষা এবং শৈশব।
  • রামানুজন এর উচ্চ শিক্ষা (Ramanujan Collage Education)
  • রামানুজন এর বিবাহ এবং জীবিকা অন্বেষণ
  • রামানুজ এর প্রতিভার স্বীকৃতি
  • রামানুজন এর গাণিতিক তত্বের বিদেশে অধ্যয়ন
  • জি.এইচ.হার্ডি সাহেব কে লেখা রামানুজের চিঠি
  • জি.এইচ.হার্ডি সাহেব দ্বারা রামানুজ কে ক্রেম্ব্রীজ এ আমন্ত্রণ
  • রামানুজন এর ক্রেম্ব্রিজ এ যাত্রা
  • রামানুজ কে ক্রেম্ব্রিজে হার্ডি সাহেব দ্বারা স্বাগত
  • রামানুজ কে কেমব্রিজ দ্বারা পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি প্রদান
  • রামানুজন এর গণিতে অবদান (Ramanujan numbers)
  • শ্রীনিবাস রামানুজ এর  স্বাস্থ্যের অবনতি এবং ভারতে ফিরে আসা
  • শ্রীনিবাস রামানুজ এর জীবন অবসান

শ্রীনিবাস রামানুজন এর জন্ম পরিচয়


প্রথমেই বলে রাখা ভাল Ramanujan এর পুরোনাম শ্রীনিবাস রামানুজন আয়েঙ্গার। সাউথ ইন্ডিয়াতে নিজের নামের আগে বাবার নাম এবং নামের শেষে পদবি আর মাঝখানে নিজের নাম লেখা হয়।

শ্রীনিবাস হলো রামানুজের বাবার নাম এবং আয়েঙ্গার হল পদবি। রামানুজের জন্ম হয় তৎকালীন অবিভক্ত ভারতবর্ষের মাদ্রাজে। আজকে বর্তমানে মাদ্রাজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে চেন্নাই।

রামানুজন এর জন্ম ১৮৮৭ সালের ২২ সে ডিসেম্বর ,তৎকালীন মাদ্রাজের তাঞ্জোর জেলার ইরোড বলে একটি ছোট্ট শহরে। গরিব তামীল ব্রাহ্মণ পরিবারে রামানুজন জন্ম গ্রহণ করেন।

রামানুজনের বাবা কে.শ্রীনিবাস আয়েঙ্গার ছিলেন ইরোড শহরের বড় একটা কাপড়ের দোকানের কেরানি। মাতা কোমালাটাম্মাল ছিলেন পেশায় সাধারণ গৃহকর্ত্রী এবং অতি ধর্মপরায়ণ মহিলা।

কিন্তু হলে কি হবে দারিদ্র্যের সংসারে অভাবের তাড়নায় মাতা কোমালাটাম্মাল দেবী,পাশের একটা মন্দিরে ভজন কীর্তন পরিবেশন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কীর্তনে উপার্জিত দক্ষিনা যা পেতেন তাই দিয়ে যতটা পারতেন সংসারে সাহায্য করতেন।

কে.শ্রীনিবাস আয়েঙ্গার এবং কোমালাটাম্মাল দেবীর দারিদ্রের সংসার এভাবেই দিব্যি চলে যাচ্ছিল। আয়েঙ্গের দম্পত্তির বিবাহ ৬/৭ বছর অতিক্রম করে গেছিল,কিন্তু হলে কি হবে হলোই বা অভাবের সংসার,

তাদের দাম্পত্য জীবনে সন্তানাদি না থাকায় দুজেনের মনের মধ্যে চাপা কষ্ট সবসময় তাদের মনে নিয়মিত ব্যাথার সঞ্চার করতো। এই দুঃখে দুঃখী হয়ে মাতা কোমালাটাম্মাল দেবী,শহর থেকে অনতি দূরে নামগিরি দেবীর মন্দিরে কন্যা সন্তানের আশায় মাথা ঠুকলেন।

কোমালাটাম্মাল দেবী নামগিরি দেবীকে কন্যা সন্তান হিসাবে পাওয়ার আবেদন করলেন। এরপর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই একদিন রাত্রি বেলা কে.শ্রীনিবাস আয়েঙ্গার ঘরে সন্তানের জন্ম হল।

তবে তার কোনো কন্যা সন্তান জন্ম হল না, কোমালাটাম্মাল দেবী জন্ম দিল এক ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্মদিলেন। বাবা কে. শ্রীনিবাস আয়েঙ্গার দেরি না করে শহরের মাতব্বর পণ্ডিত এর কাছে পুত্রের কুন্ডলি দেখানোর জন্য দৌড় লাগলেন।

কিন্তু পন্ডিত মশায় আয়েঙ্গারের পুত্র সন্তানের কুন্ডলি দেখে ভ্রূ কোঁচকালেন। পন্ডিত মশায় বললেন শ্রীনিবাস তোমার পুত্র সন্তানের আয়ু খুব সীমিত। ভগ্নস্বাস্থ্যে ভুগবে,তবে স্বল্প আয়ুতেও এই ছেলে তোমার নাম উজ্জ্বল করবে।

আরো পড়ুন: মোনালিসা ছবির গুপ্ত রহস্য। 

রামানুজন এর বাল্য শিক্ষা এবং শৈশব


রামানুজন এর বাল্য শিক্ষা শুরু হয় তার পাড়ার পাঠশালাতে। ছোট্ট রামানুজ পড়াশোনায় শুরুতে খুব একটা প্রখর বুদ্ধি সম্পন্ন ছাত্র ছিলেন না,০১ অক্টোবর ১৮৯২ সালে রামানুজকে পাঠশালায় ভর্তি করা হয়।

রামানুজ মাতা,কোমালাটাম্মাল দেবীর কাছে থেকে ছোট্ট বেলা থেকে রামায়ণ ,পুরান এবং বেদের বিভিন্ন কথা শুনতেন। যা রামানুজ কে বাল্য অবস্থা থেকে ভক্তিরসে ভর করেছিলেন।

ছোট্ট রামানুজ ছিলেন খুব শান্ত প্রকৃতির ছেলে, রামানুজনছোট্ট বেলায় পাঠশালায় গিয়ে চুপ চাপ বসে থাকত। কিন্ত বেশির ভাগ দিনই রামানুজ পাঠশালা থেকে চম্পট দিত।

এই নিয়ে রামানুজের বাবা শ্রীনিবাস বেশ চিন্তায় থাকতেন। রামানুজনের বাবা কে.আয়েঙ্গার ধরেই নিলেন মনে হয় এই ছেলের আর লেখাপড়া আর হবেনা। তাই রামানুজের বাবা চিন্তিত হয়ে রামানুজ স্কুল থেকে পালাতে না পারে,

তার জন্য একজন পুলিশ কনস্টেবল কে রামানুজনের স্কুল না পালানোর দায়িত্ব দেন। কে.আয়েঙ্গার কনস্টেবলকে বলে গেলেন রামানুজ যদি পাঠশালা থেকে পালিয়ে যায় তাহলে রামানুজকে যেন ভয় দেখিয়ে পাঠশালাতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর থেকে রামানুজ অবশ্য আর স্কুল থেকে পালিয়ে আসতো না। সাত বছর বয়সে রামানুজ কে কুম্ভাকুনাম টাউন হাই স্কুলে ভর্তি করা হয়। রামানুজ এই টাউন স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর গণিতের প্রতি তার আসল খিদে বুঝতে পারে।

রামানুজের রক্তে শিরায়,উপশিরায় অঙ্কের ভুত দৌড়োতে শুরু করে। ১২/১৩ বছরের শিশুদের যখন গণিতের নাম শুনে গায়ে জ্বর আসতো,তখন সেই বয়সে রামানুজ বড়,বড় কঠিন অঙ্কের সমাধানের সূত্র /ফর্মুলা নিজের মত করে আবিষ্কার করে ফেলেন।

পঞ্চম শ্রেণীতে রামানুজ বৃত্তি পরীক্ষা দেন এবং ১০ বছর বয়সে রামানুজ জেলা স্তরে Ramanujn  numbers সর্বোচ্চ নম্বর পায় এবং পুরো জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে। এরপর রামানুজকে কলেজের পড়াশোনা শেষ করার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

রামানুজন এর জীবন কাহিনী 1

দারিদ্রতা কাটানোর জন্য রামানুজের বাবা তার বাড়িতে ভাড়াটে রেখেছিলেন। ভাড়াটে ছিল ঐ শহরের কলেজে পড়া দুই জন কলেজ পড়ুয়া। রামানুজ তাদের কাছে এসে তাদের পাঠ্য পুস্তুকের গণিতের সমাধান করতেন। Ramanujan numbers ভিত্তিক বিভিন্ন ভাবে অঙ্কের সমস্যার সমাধান করতেন।

কিন্তু শুধু মাত্র তাদের পাঠ্যক্রমের নম্বরের সমাধান করে রামনানুজন শান্ত থাকেন নি। Ramanujan numbers  এবং অংকের সমস্যার সমাধান ও গণিতের সূত্র বিশ্লেষনে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন।

অংকের প্রতি রামানুজের ঝোঁক দেখে সেই ছাত্র দুটি তাদের পাঠ্যক্রমের অত্যন্ত উচ্চমানের এস.এল. লোনির লেখা ত্রিকোণমিতির একটি প্যাকটিস বই রামানুজ কে উপহার স্বরূপ দিয়ে দেন।

লোনির লেখা প্রাকটিস বইটিতে, ৫০০০ ত্রিকোণমিতির ফর্মুলা দেওয়া ছিল। এই বইয়ের মধ্যে থাকা প্রতিটি ফর্মুলাকে রামানুজ বিশ্লেষণ করে ঠুতস্ট করে ফেলে।

রামানুজ এরপর বেশ কিছু উপপাদ্য আবিষ্কার করে ফেলেন। এছাড়া অয়েলারের গণিতের এককত্ব পুনঃ আবিষ্কার করেন। ১৭ বছর বয়সে রামানুজ বার্নেলির সংখ্যা ও অয়েলার -মাসেরনির ধ্রবকের উপর নিজের গবেষণা সম্পন্ন করেন।

আরো পড়ুন: বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এর সামুদ্রিক পিশাচ। 

রামানুজন এর উচ্চ শিক্ষা (Ramanujan Collage Education)


এরপর রামানুজ মেট্রিক পাস্ করে Ramanujan Collage এ বি.এ পড়ার জন্য বৃত্তি পান। অঙ্কের স্যার রামানুজের অঙ্কের খাতা দেখে বলেই ফেলেন রামানুজকে যদি খাতায় ১০০ নং এর পরিবর্তে ১১০ দেওয়া যেত,তাহলে তিনি রামানুজ কে তাই দিত।

১৭ বছর বয়সে বৃত্তি পেয়ে Ramanujan Collage শিক্ষার জন্য সরকারি আর্ট কলেজে বি.এ. পড়ার জন্য ভর্তি হলেন। কিন্তু রামানুজ সব বিষয় বাদ দিয়ে অঙ্কের উপরেই ঝোঁক দিলেন।

তাই পরীক্ষায় রামানুজ অন্যান্য বিষয় গুলিতে ফেল করেন এবং গণিতে ১০০ তে ১০০ নম্বর পান। তাই রামানুজের আর বি.এ. পাস্ করা হয়ে উঠলনা।

অপরদিকে Ramanujan Collage এ , বি.এ. পরীক্ষায় পাস্ করতে না পারায় বৃত্তি বাতিল হয়ে যায়। রামানুজ তখন আর লজ্জায় বাড়ি ফিরে গেলেন না।

কারণ রামানুজ ভালো করেই জানতেন বৃত্তি ব্যাতিত রামানুজের পরিবারের পক্ষে তার পড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়। এরপর রামানুজ মাদ্রাজে চলে আসেন।

সেখানে রামানুজের এক বন্ধু রামানুজকে সাহায্য করেন। রামানুজ সেই বন্ধু তার সাথে মেসে থেকে এবং অবসর সময়ে ছাত্র পরিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বলেন।

শ্রীনিবাস রামানুজ তখন সেখানে একটি কলেজে ভর্তি হন। রামানুজনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রামানুজকে গণিত ব্যাতিত অন্য বিষয় গুলি যত্ন সহ করে পড়ার জন্য বলেন। কিন্তু রামানুজের গণিত ছাড়া কিছুই ভালো লাগতো না,তাই পরের বছর আবার রামানুজ ফেল করলেন।

রামানুজন এর বিবাহ এবং জীবিকা অন্বেষণ 


এরপর রামানুজ বাড়ি ফিরে আসেন,বাড়িতে রামানুজ তার ধ্যান জ্ঞান অঙ্কেই ডুবিয়ে রাখলেন। সকালে উঠেই রামানুজ তার অঙ্কের খাতাতে কি যেন লিখতে বসে যেতেন।

রামানুজ কে প্রশ্ন করলে বলতেন,দেবী নামগিরি তাকে স্বপ্নে এসে অঙ্কের সব সূত্র বলে দিয়ে যান। আর সেই সমস্ত সূত্রের সমাধান শ্রীনিবাস রামানুজ পরের দিন খুঁজে বের করতেন।

রামানুজ তার গণিত প্যাকটিস স্লেট এবং পেন্সিলে করার পর গণিতের মূল নিষ্কর্ষ খাতায় লিখে রাখতেন। কিন্তু এইভাবে তো আর সংসার চলেনা, তাই রামানুজের মা কোমালাটাম্মাল দেবী,

সংসারে রামানুজনের মতি গতি ফেরানোর জন্য রামানুজনের বিয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করতে লাগলেন। বিয়ে হলে ছেলে যদি কাজ কর্মের খোঁজ জোটাতে পারে সেই আশায় বুক বাঁধলেন।

রামানুজের মা, কোমালাটাম্মাল দেবী তার বান্ধবীর কন্যা জানকী আম্মলের সঙ্গে শ্রীনিবাস রামানুজের বিয়ে দিয়ে দিলেন। ভাবলেন রামানুজ বিয়ে থা হলে ঠিক রোজগারের পন্থা খুঁজবে।

রামানুজন এর জীবন কাহিনী 4 1

রামানুজন তখন পত্নী জানকী দেবীর অনুপ্রেরণায় জীবিকার সন্ধানে মরিয়া হলেন। পরিচিত একজন ভদ্রলোক, গণিতবীদ রামানুজনকে মাদ্রাজের ডেপুটি কালেক্টরের নাম একটি সুফারিশ পত্র লিখে দিলেন।

ডেপুটি কলেক্টর ভি.রামাস্বামী পত্র পরে সব বুঝলেন এবং গণিতবীদ রামানুজের গণিতের প্রতি অসীম দক্ষতা দেখতে চাইলেন। শ্রীনিবাস রামানুজন তখন তার গণিতের খাতাটি কলেক্টর এর সামনে তুলে ধরলেন।

ডেপুটি কলেক্টর ভি.রামাস্বামী গণিতবীদ রামানুজের গণিতের খাতাটি দেখে চক্ষু চড়ক গাছে উঠল। কলেক্টর সাহেব গুণীজন ছিলেন, তিনিঁ গুণীজনের কদর করলেন।

রামানুজকে, আয়কর বিভাগের সামান্য কেরানীর চাকুরী দিয়ে গণিতবীদ রামানুজের কদর ছোটো করতে চাইলেন না। তিনি রামানুজ কে, একটি পত্র লিখে পাঠিয়ে দিলেন ,তার বন্ধু বিশিষ্ট গণিতবীদ রামচন্দ্র রাও এর কাছে।

রামচন্দ্র রাও ছিলেন ভারতীয় গণিতবীদ সমিতির সম্পাদক এবং মাদ্রাজ পোর্ট ট্রাস্টের একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী। গণিতবীদ রামচন্দ্র রাও এর কাছে ব্যাপারটা  কীরকম যেন অবিস্বাশ্য লাগছিল।

একজন সামান্য ম্যাট্রিক পাস্ করা ছেলে কিভাবে এতো বড়ো গাণিতিক প্রতিভার অধিকারী হতে পারে। অপরদিকে সুফারিশ পত্র খানা কলেক্টর বন্ধু ভি.রামাস্বামী পাঠিয়েছে,তাই চিঠি বা রামানুজের প্রতিভাকে নিত্যান্ত মিথ্যা বলে দিতেও পারছেন না।

কিন্তু তখন একই ভাবে তিনিও শ্রীনিবাস রামানুজন এর গণিতের খাতা খানা দেখেন। Ramanujan numbers এর যে রকম অবিস্বাশ্যকর ফর্মুলা আবিষ্কার করে রেখেছিল,তা দেখে আর রামচন্দ্র রাও এর সন্দেহ থাকলনা।

রামচন্দ্র রাও গণিতবীদ রামানুজ কে জানতে চাইলেন,যে কতটাকা মাইনে পেলে রামানুজ চাকুরী করতে রাজি হবেন । নিরীহ রামানুজ রামচন্দ্র রাও কে বললেন তার বেশি কিছু চায়না, শুধুমাত্র সংসার চলে যাওয়ার মত মাইনে দিলেই চলবে।

ramanujan collage

রামচন্দ্র রাও মাদ্রাজ পোর্ট ট্রাস্ট এর হিসাব রক্ষক হিসাবে রামানুজনকে কেরানি পদে মাসিক ৩০ টাকার মাইনের বিনিময়ে নিয়োগ করলেন।

আরো পড়ুন: সন্দীপ মহেশ্বেরীর জীবনী।

রামানুজ এর প্রতিভার স্বীকৃতি (Ramanujan Acknowledgement )


রামানুজ এর কেরানি চাকুরী জীবিকা দিব্বি কাটছিল। একদিন রামচন্দ্র রাও লাঞ্চ ব্রেকে অফিস পর্যবেক্ষণে এসে দেখলেন অফিসের কর্মচারীরা সবাইযে যার মত যখন মধ্যার্ণ ভোজনে ব্যাস্ত তখন ফাঁকা অফিসের এক কোনে

টেবিলে শ্রীনিবাস Ramanujan numbers / সংখ্যার রহস্য উন্মোচনে ব্যস্ত। Ramanujan Collage এ পড়াশোনার সময় বিভিন্ন উপপাদ্য এবং তার নিজ পধ্যাতিতে বেশ কিছু ফর্মুলা আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন।

রামচন্দ্র রাও ভালো ভাবেই বুঝতে পারলেন এখানে সামান্য কেরানী চাকুরীর জাঁতাকলে একটি বিরল প্রতিভা পরে পরে নষ্ট হচ্ছে।এরপর রামচন্দ্র রাও প্রকৌশল মাদ্রাজ মহাবিদ্যালয়ের মি.গ্রিফিথ কে রামানুজের গণিতের ব্যাপারে অভাবনীয় প্রতিভার কথা বললেন।

১৯১১ সালে রামানুজ এর প্রথম গবেষণা প্রবন্ধ জার্নাল অফ দ্য ম্যাথামেটিক্যাল সোসাইটি পত্রিকায় প্রকাশ পায় । Ramanujan collage জীবনে করা গবেষনার ফসল একই সালে প্রকাশিত হয়।

সংখ্যাতত্ত্বের উপর সাম প্রোপার্টিজ অফ বার্নৌলিস নাম্বারস যাকে আমরা Ramanujan numbers বলেও চিনি। জার্নাল অফ দ্য ম্যাথামেটিক্যাল সোসাইটি পত্রিকায় Ramanujan numbers প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপার টা মাদ্রাজ পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান স্যার ফ্রান্সিস স্প্রিং এর নজরে আসে।

স্যার ফ্রান্সিস রামানুজ কে ডেকে পাঠায় এবং রামানুজ কে কেরানির কাজকর্ম বাদ দিয়ে গণিত চর্চার জন্য বলেন। একই সাথে তার বিশিষ্ট বন্ধু গণিতজ্ঞ শেশা আইয়ার এর সঙ্গে রামানুজনের আলাপ করিয়ে দেয়।

আরো পড়ুন: মিশরের রহস্যময় পিরামিড । 

রামানুজন এর গাণিতিক তত্বের বিদেশে অধ্যয়ন


এরপর রামানুজন কে মাদ্রাজ পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান স্যার ফ্রান্সিস স্প্রিং এবং আইয়ার সাহেব রামানুজনকে তার অঙ্কের গবেষণা, বিদেশের বিশিষ্ট গণিতবীদ এর কাছে লিখে পাঠানোর জন্য বলেন।

রামানুজ ফ্রান্সিস স্প্রিং এর পরামর্শে তার এক বন্ধুর সহায়তায় বিদেশে গণিতের গবেষণা নিয়ে চিঠি লেখেন। কিন্তু চিঠি পাঠালেও রামানুজ  বিদেশ থেকে কোনো জবাব পায়না।

রামানুজ হতাশ হয়ে পড়ে কিন্তু ফ্রান্সিস সাহেব রামানুজ কে উৎসাহ দেয়। তিনি রামানুজ কে ইংল্যান্ডের ক্রেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট গণিতবীদ জি.এইচ. হার্ডি সাহেবের কাছে পত্র লেখার জন্য বলেন।

জি.এইচ.হার্ডি সাহেব কে লেখা রামানুজের চিঠি


মাননীয়,

হার্ডি সাহেব। আমি মাদ্রাজ ইন্ডিয়া পোর্ট ট্রাস্টের একজন সামান্য হিসাব রক্ষক। আমি ৩০ টাকা মাসোহারা নিয়ে মাদ্রাজ ইন্ডিয়া পোর্ট ট্রাস্ট এ জীবিকা করি। আমার আয়ু এখন ২৩ বছর। আমার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শংসাপত্র নাই। আমার কাছে শুধুমাত্র স্কুলের ডিগ্রি আছে। আমার জীবিকার অবসরে যেটুকু সময় পায়, সেই সময়ে গণিত চর্চা করি। আমি সংখ্যাতত্ত্ব এবং আবৃত্ত ভগ্নাংশ নিয়ে গবেষণা করেছি যা আমাদের দেশের গণিতবীদ এর কাছে আমার আবিষ্কৃত সূত্র প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আমি, আমার এই পত্রের সাথে আমার গবেষণা করা কিছু সূত্রের প্রতিলিপি আপনার সম্মুখে এই পত্রের সাথে প্রেরণ করছি। আমার এই  গবেষণায় আপনি যদি আকর্ষণীয় কিছু দেখতে পান তাহলে আপনার কাছে আমার প্রার্থনা এই যে, আমার এই গবেষণা সর্ব সমুক্ষে নিয়ে আসা হোক।

                                     ইতি —-                                                                                 শ্রীনিবাস রামানুজন

জি.এইচ.হার্ডি সাহেব দ্বারা রামানুজ কে ক্রেম্ব্রীজ এ আমন্ত্রণ


এরকম চিঠি জি.এইচ হার্ডি সাহেব তখন কার দিনে প্রায় পেতে থাকতেন। আর এই চিঠির মাধ্যমে তারা গণিতে আবিষ্কৃত বিভিন্ন ফর্মুলা ও তত্ত্ব সমাধানের দাবি করতেন।

কিন্তু জি.এইচ.হার্ডি সাহেব রামানুজের লেখা চিঠি পরেই পরখ করে নিয়েছিলেন এই চিঠির মধ্যে গণিতের সারবস্তু লুকিয়ে আছে।Ramanuj তার পত্রের সাথে ১২০ টি উপপাদ্য পাঠিয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যে জি.এইচ. হার্ডি সাহেব ১৫ টি উপপাদ্য নির্বাচন করেছিলেন।

ramanujan number

কারণ রামানুজ যে সমস্ত উপপাদ্য এবং ফর্মুলা গুলো পাঠিয়েছিলেন তার বেশ কিছু গণিতের সমাধান আগে থেকে কোনো গণিতবীদ করে রেখেছিলেন।

রামানুজ যেহেতু গতানুগতিক ভাবে গণিতের শিক্ষা লাভ করেনি তাই এই সমন্ধে রামানুজের আগে থেকে কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিলনা।হার্ডি সাহেব রামানুজের গণিতের সমাধান করা আশ্চর্য সব ফর্মুলা দেখে তিনি ছুটে গেলেন তার একজন সহগামী বন্ধুর কাছে।

হার্ডি সাহেবের বন্ধু রামানুজের অঙ্কের আশ্চর্য সব ফর্মুলা দেখে রীতিমত অবাক হয়ে গেলেন। তিনি বললেন এহেন বিরল প্রতিভাকে ক্রেম্ব্রিজ এ আসার আমন্ত্রণ জানানো হোক।

আরো পড়ুন : টাইটানিকের কিছু না জানা ইতিহাস। 

রামানুজন এর ক্রেম্ব্রিজ এ যাত্রা


হার্ডি সাহেব রামানুজ কে ক্রেম্ব্রিজে আমন্ত্রণ জানিয়ে পত্র লেখেন। আর সাথে তার ক্রেম্ব্রিজ এ আসার জন্য সমস্ত পাথেয় খরচা দেওয়ার কথা বলেন।

কিন্তু রামানুজ হার্ডি সাহেবের বিদেশে যাওয়ার প্রস্তাব এবং টিকিট দুই প্রত্যাখ্যান করলেন। কারণ রামানুজের মাতা কোমালাটাম্মাল দেবী ছেলের বিদেশ যাত্রায় সায় দিলেন না।

তখনকার দিনে বিদেশ যাত্রা করা মানে ছিল সমাজ থেকে নিজেকে আলাদা করে নেওয়া। সমাজে একটা ধারণাছিল যে বিদেশে গেলে আর জাত থাকেনা, জাত চলে যায়।

রামানুজ ছিলেন একজন ধর্মপরায়ন তামিল ব্রাহ্মণ, তিনি সর্বদা নিরামিষ আহার করতেন। রামানুজ মনে করতেন ধর্ম যখন আছে তখন ধর্মের মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে।

তাছাড়া রামানুজ ছিলেন নামগিরি দেবীর উপাসক, এই নামগিরি দেবী তার স্বপ্নে এসে গণিতের সব ফর্মুলা স্বপ্নে এসে বলে দিতেন। রামানুজ তখন সেই সমস্ত ফর্মুলার সমাধান নিজের মত করে করতেন।

যাইহোক রামানুজের চিঠির প্রত্যাখ্যানে হার্ডি সাহেব আশা হারিয়ে ফেলেন না। তিনি মাদ্রাজ ইন্ডিয়া পোর্ট ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান স্যার ফ্রান্সিস স্প্রিং কে রামানুজ কে রাজি করিয়ে ইংল্যান্ডের ক্রেম্ব্রিজে পাঠানোর জন্য বলেন।

সাথে আরো আশ্বাস দিলেন ক্রেমবীজে এলে রামানুজের কোনো রকম ধর্ম ভ্ৰষ্ট হবেনা। যদিও হার্ডি সাহেব নিজে ছিলেন ঘোর নাস্তিক ছিলেন তবুও তিনি রামানুজকে ক্রেম্ব্রিজে এসে তার গতানুগতিক ধর্মপালন করতে পারার আশ্বাস দিলেন।

এরপর রামানুজনের মা কোমালাটাম্মাল দেবী একদিন স্বপ্নে দেখলেন নামগিরি দেবী তাকে স্বপ্নে বলছেন রামানুজকে যেন তার স্বপ্ন পূরণে বাধা না দেওয়া হয়। তিনি স্বপ্নে আরো দেখলেন রামানুজ বিদেশী সাহেবদের সাথে একটি ঘরে বসে আছে।

মায়ের আজ্ঞা পেয়ে রামানুজ হার্ডি সাহেবের আমন্ত্রণ স্বীকার করলেন। তিনি মায়ের অনুমতি নিয়ে ক্রেম্ব্রিজের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমালেন।

১৯১৩ সালে রামানুজনের শুভাকাঙ্খীদের চেষ্টায় রামানুজ কে পোর্ট ট্রাস্টের চাকুরী থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয় এবং সাথে রামানুজ কে ২৫০ টাকা মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

এই মাসিক ২৫০ টাকার মধ্যে ৫০ টাকা রামানুজের পরিবারের সংসার খরচ বাবদ পাঠানো হত,আর বাকি টাকা রামানুজের গণিতের গবেষণার জন্য দেওয়া হয়।

রামানুজ কে ক্রেম্ব্রিজে হার্ডি সাহেব দ্বারা স্বাগত


১৯১৪ সালে সুয়েজ খাল হয়ে যাত্রা করে রামানুজ তিনমাস পর ইংল্যান্ডে এসে পৌঁছলেন। সমুদ্র যাত্রাপথের ক্লান্তি রামানুজ এর শরীর কে ঘায়েল করে দেয়।

রামানুজ লন্ডনের মাটিতে পা রাখলেন, ক্রেম্ব্রিজে রামানুজের জোড়দার অভ্যর্থনা করা হল। হার্ডি সাহেব রামানুজ কে গণিতের প্রথাগত শিক্ষায় ,শিক্ষিত করে তুলতে চাইলেন।

কিন্তু রামানুজ কে শিক্ষিত করে তুলতে গিয়ে হার্ডি সাহেব সংশয়ে ও পরে গেলেন। রামানুজ কে শেখাতে গিয়ে, রামানুজ যদি তার নিজস্ব গণিতের বিশ্লেষণ হারিয়ে ফেলেন।

কিন্তু তা হল না, খুব অল্প দিনেই হার্ডি সাহেব রামানুজকে প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত করে ফেললেন। কিন্ত ক্রেম্ব্রিজে আসার পর রামানুজের স্বাস্থ্যের অবস্থার অবণতি হতে লাগল।

ইংল্যান্ডে বিশেষ করে রামানুজ যেখানে থাকতেন, তার আসে পাশে কোথাও নিরামিষ হোটেল বা রেস্টুরেন্ট ছিলনা। তাই রামানুজ কে নিজে রান্না করেই খেতে হত।

রামানুজ অনেকদিন আবার না খেয়েই কাটিয়ে দিতেন। সেখানে সেরকম ভালো নিরামিষ কিছু পাওয়া যেত না,তাই রামানুজ একদিন তার বন্ধুকে চিঠি লিখে জানালেন ডাকযোগে কিছু তেঁতুল এবং সাম্বরের মশলা যেন তার জন্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

দেশের থেকে আসা নিরামিষ মসলা দিয়ে রামানুজ এই বিদেশের মাটিতে ভালো কিছু সবজি এবং নিরামিষ রান্না করে খেতে পারে সেই জন্য সঙ্গে করে পত্নী কে চিঠি পাঠিয়ে ইংল্যান্ডে আসার জন্যে বলেন।

কারণ এখানে ইংল্যান্ডের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া এবং অনিয়মিত খাওয়া দাওয়াই রামানুজের শরীরের ভগ্ন দশা হয়ে গেছিল।

রামানুজ কে কেমব্রিজ দ্বারা পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি প্রদান


সর্বমোট ০৫ বছর নাগাদ রামানুজ ক্রেম্ব্রিজে অধ্যয়ন এবং গবেষণা করেন। ১৯১৬ সালে ক্রেম্ব্রিজের পক্ষ থেকে পি.এইচ.ডি. দেওয়া হয়।

যে Ramanujan collage ফেল করেছিলেন,সেই রামানুজ কে Ramanujan  numbers /সংখ্যাতত্ব এবং গণিতে অসামান্য কৃতকার্যের জন্য তাকে এত বড় ডিগ্রি দেওয়া হয়।

রামানুজ ইংল্যান্ডে গিয়ে বর্ণবিদ্বেষতার স্বীকার হতে হয়েছিল, তিনি একবার নিজের প্রতি এতটাই গ্লানি বোধ করছিলেন যে,তিনি একবার রেল লাইনে ঝাঁপ দিয়ে জীবন দেওয়ার চেষ্টা করেন।

1

কিন্তু সেখানে এক পুলিশ কর্মী তাকে গ্রেফতার করে নেয়। পরে হার্ডি সাহেব পুলিশের কাছে ,ইংল্যান্ডের রয়েল ফেলো সোসাইটির সদস্য বলে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

এরপরে অবশ্য ১৯১৮ সালে রামানুজ কে ইংল্যান্ডে রয়েল ফেলো সোসাইটির সদস্য পদ দেওয়া হয়। জি.এইচ.হার্ডি সাহেবের মতে রামানুজন, অয়েলের এবং গাউসের সমতুল্য গণিতবীদ ছিলেন।

রামানুজন এর গণিতে অবদান (Ramanujan numbers)


রামানুজন পর্যবেক্ষণ এবং প্রমানের দ্বারা গণিতের বীজকে শোধন করেছিলেন। রামানুজের Ramanujan  numbers তত্বের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি দিয়েছিলেন।

রামানুজ যে সমস্ত গাণিতিক তত্ব আবিষ্কার করেগেছেন সেগুলির মধ্যে –

  • Ramanujan numbers
  • গামা ফাংশন
  • মডুলার রূপ
  • রামানুজনের অবিচ্ছিন্ন ভগ্নাংশসমূহ
  • অধিজ্যামিতীয় ধারা
  • অপসারী ধারা

শ্রীনিবাস রামানুজ এর  স্বাস্থ্যের অবনতি এবং ভারতে ফিরে আসা


দীর্ঘদিন যাবৎ রামানুজের বিদেশে থাকা এবং স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় শরীর ভেঙে যায়। রামানুজ যক্ষা রোগের শিকার হয়। এরপর রামানুজ কে লন্ডনের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়।

কিন্তু দিন প্রতিদিন রামানুজের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকে। এরমধ্যে রামানুজকে দেখার জন্যে হার্ডি সাহেব নার্সিংহোমে আসেন। হার্ডি সাহেবকে রামানুজ জিগ্যেস করেন কিসে করে যাত্রা করে এলেন ?

হার্ডি সাহেব একটা ক্যাবে করে রামানুজকে দেখতে এসেছিলেন। সেই ক্যাবের নং ছিল ১৭২৯। এই সংখ্যাটি নিয়ে রামানুজ তার একগতি ধারার তত্ত্ব আবিষ্কার করে ফেলেন।

১৭২৯ হলো সেই সংখ্যা যাকে সবথেকে ছোটো সংখ্যা, যাকে দুরকম করে দুটি ঘনের সমষ্টির আকারে প্রকাশ করা যাবে।১২³+১³=১৭২৯ এবং ১০³+৯³=১৭২৯ এভাবে লেখা যায়।

১৭২৯ কে রামানুজ সংখ্যা(Ramanujan number) বা জি.এইচ.হার্ডি সংখ্যা বলা হয়ে থাকে। এরপর রামানুজন হার্ডি সাহেবের কাছে তার স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য ভারতে ফেরত যাওয়ার প্রার্থনা করেন এবং হার্ডি সাহেব রামানুজ এর ভারতে ফেরত যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

শ্রীনিবাস রামানুজ এর জীবন অবসান


রামানুজ ভারতে ফিরে আসেন কিন্তু চিকিৎসা হলেও রামানুজের স্বাস্থ্যের সেরকম উন্নতি লক্ষ করা যায় না। রামানুজের স্বাস্থ দিন প্রতিদিন খারাপ হতে থাকে।

রামানুজ ভারতে ফিরে এলে বুঝতে পারেন তার মা এবং পত্নীর মধ্যে বণিবনাদ না থাকায়, পারিবারিক কলহ বিবাদ লেগে থাকত। তিনি এও বুঝতে পারেন তার মা তার পত্নীকে বিদেশ যাওয়ার জন্য বাধা দেন।

আর যার জন্য তার পত্নী জানকী বিদেশে আসতে পারেনি। আর এই জন্য তিনি হয়তো তার চিঠির জবাব পাননি। অবশেষে ১৯২০ সালে ২৬ সে এপ্রিল। দীর্ঘ দিন কষ্ট ভোগ করার মাত্র ৩২ বছর বয়সে গণিতের জাদুগর শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন।

পরিশিষ্ট


ওপরের আর্টিকেলে আমরা আপনাকে শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী নিয়ে আলোচনা করলাম। এই আর্টিকেলে রামানুজের বাল্য জীবন এবং শিক্ষা নিয়ে কিঞ্চিত ভাবে জানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

Ramanujan collage শিক্ষা না নিয়েও প্রমান করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রি না থাকা সত্বেও প্রকৃত গণিতের উপাসক হওয়া যায়।

রামানুজন শুধু তার আবিষ্কৃত গণিত তত্বের ভান্ডার শুধু ভারতবর্ষ নয়, সমস্ত গণিতপ্রেমীর কাছে রামানুজ এক প্রেরণাদায়ক উদাহরণ।

যাইহোক শ্রীনিবাস রামানুজন জীবনী,আমাদের এই লেখাটি কেমন লাগলো,আপনাদের মতামত কমেন্ট করে জানাবেন। আমাদের এই লেখা আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনারা আপনাদের প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

3.5/5 - (4 votes)

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here