শবে বরাত কেন পালন করা হয়, শবে বরাত শব্দের অর্থ কি (Shobe Barat ortho Ki, Shobe Barat Keno Palon Kora Hoy)

আজকের আর্টিকেলে আমরা ইসলাম ধর্মে “শবে বরাত” কেন পালন করা হয়, শবে বরাত শব্দের অর্থ কি, শবে বরাত সম্পর্কে কুরানের আয়াতে কি বলা হয়েছে, শবে বরাতের হাদিস,

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম ও দোয়া ইত্যাদি বিষয় গুলো নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব। যদিও ইসলাম ধর্মে শবে বরাত শব্দের অর্থ ও শবে বরাত পালন করা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।

একদল ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষের মতে, ইসলাম ধর্মে শবে বরাত সম্পর্কে কুরানের হাদিসে কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। আবার ইসলাম ধর্মের আর একদল মানুষের মতে শবে বরাত সম্পর্কে কুরানের হাদিসে

সরাসরি শবে বরাত কথাটির উল্লেখ না থাকলেও আরবি শব্দে ‘লাইলাতুল বরাত ‘ শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়। তাই আরবের দেশ গুলোতে শবে বরাতকে “লাইলাতুল বরাত” নামে পালন করে।

আর ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার মত দেশ গুলোতে ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষজনেরা এই উৎসবকে “শবে বরাত” (Shobe Barat ) নামে পালন করে থাকে। যাইহোক ইসলাম ধর্মালবম্বী ভাইবোনেদের কাছে বিনীত নিবেদন,

শবে বরাত উৎসবকে নিয়ে, আমরা কোনো রকম ধর্মীয় বিতর্কে না গিয়ে বা কারো ধর্মীয় ভাব আবেগে ব্যাথা না দিয়ে, শুধু মাত্র জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষজনদের মধ্যে শবে বরাত কেন পালন করা হয় ?

সেই ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত সারমর্ম কিছু শব্দের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করব। আপনাদের মধ্যে কেউ শবে বরাতের ব্যাপারে আরো ভালোভাবে জানতে আগ্রহী হলে,

আপনারা একজন দিগ্গজ মাওলানা/আলেম কিংবা মুফতি সাহেবদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। আশা করি তিনার কাছ থেকে শবে বরাত কেন পালন করা হয় (Shobe Barat Keno Palon Kora Hoy )?

সেই বিষয়ে উচিত মার্গ দর্শন আপনারা পেয়ে যাবেন। বিঃদ্রঃ- আমরা এখানে শবে বরাত সমন্ধিত যে সমস্ত বিবরণ গুলো দেব সে সমস্ত তথ্য গুলো অনেক আগে থেকেই পাবলিক ডোমেনে উপলব্ধ আছে।

আরো পড়ুন:- তিন তালাক বিল কি ? মুসলিম সমাজে তিন তালাকের নিয়ম

শবে বরাত শব্দের বাংলা অর্থ কি (Shobe Barat Shobder Bangla ortho ki)

শবে বরাত শব্দের বাংলা অর্থ হল “সৌভাগ্যের রাত”, তবে ‘শব’ শব্দটি ফার্সি শব্দ থেকে এসেছে। ফার্সি ভাষায় শব কথাটির অর্থ হল রাত বা রজনী। আবার ‘বারায়াত’ শব্দটি আরবি শব্দ ভান্ডার থেকে নেওয়া হয়েছে।

আরবি ভাষায় ‘বারায়াত’ শব্দের অর্থ হল সম্পর্কচ্ছেদ করা বা মুক্তি লাভ করা। কুরআন মাজীদে সূরাতে বারায়াত এর উল্লেখ পাওয়া যায় যাকে সূরা তাওবা নামেও জিকির করা হয়।

بَرَاءَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ (التوبة: ১) অর্থ হল : আল্লা ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা। সূরা তাওবা ০১) এখানে বারায়াত শব্দের অর্থ হল সম্পর্ক ছিন্ন করা।

“বারায়াত” শব্দটি আল কুরআনে রয়েছে যেমন- أَكُفَّارُكُمْ خَيْرٌ مِنْ أُولَئِكُمْ أَمْ لَكُمْ بَرَاءَةٌ فِي الزُّبُرِ . (سورة القمر ৪৩) অর্থ হল : তোমাদের মধ্যেকার কাফিরবা কি তাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ? না কি তোমাদের মুক্তির সনদ রয়েছে কিতাব সমূহে ?

সূরা কামার, ৩৪) আবার “বারায়াত” শব্দটিকে যদি ফার্সি শব্দ ধরা হয় তাহলে ফার্সি শব্দ ভাণ্ডারে বারায়াত শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় সৌভাগ্য। সুতরাং আমরা যদি একসাথে “শবে বরাত” শব্দটির অর্থ খুঁজি

এবং “বরাত” শব্দটিকে যদি ফার্সি শব্দ ধরে বাংলাতে মানে খোঁজা হয় তাহলে শবে বরাত শব্দ দুটির অনেক গুলো অর্থ দাঁড়াবে যেমন- “মুক্তির রজনী” বা “সম্পর্ক ছিন্ন করার রজনী”, অথবা “সৌভাগ্যের রাত। “

আবার আপনি যদি “শবে বরাত” শব্দটির আরবি অর্থে মানে খুঁজতে যান তাহলে শবে বরাত এর অর্থ দাঁড়ায় “লাইলাতুল বারায়াত।” কিন্তু যারা আরবি এবং ফার্সি ভাষার চর্চা করেন তারা ভালোভাবেই জানেন

আরবি এবং ফার্সি বর্ণমালায় অনেক এমন ধরণের শব্দ আছে যে সমস্ত শব্দগুলোর আরবি এবং ফার্সি ভাষায় উচ্চারণ একই রকম হলেও তাদের মানে কিন্তু আলাদা আলাদা।

উদাহরণ স্বরূপ- আরবি এবং ফার্সি ভাষায় “গোলাম” শব্দটির উচ্চারণ একই রকম হলেও দুটি ভাষাতে গোলাম শব্দটির আলাদা আলাদা মানে হয়। আরবি ভাষায় গোলাম শব্দটির অর্থ হল কিশোর এবং ফার্সি ভাষায় গোলাম শব্দটির অর্থ হল দাস (চাকর)।

অতএব আমরা “বারায়াত”/ “বরাত” শব্দটিকে আরবি শব্দ ধরে যদি মানে খোঁজার চেষ্টা করবি তাহলে তার মানে দাঁড়াবে সম্পর্কচ্ছেদ বা মুক্তি। আবার একইভাবে ফার্সি ভাষায় “বারায়াত”/”বরাত” শব্দটির মানে দাঁড়াবে সৌভাগ্য

শবে বরাত কি (Shobe Barat Ki)

ইসলাম ধর্মানুসারে “হিজরী” ক্যালেন্ডার অনুযায়ী “শাবান” মাস হল অষ্টমতম মাস। হিজরী ক্যালেন্ডারের অষ্টম মাসে অথাৎ শাবান মাসের ১৪ তম দিবাগত রাত্রিটি হল ইসলাম ধর্মের একটি তাৎপর্য মন্ডিত রাত।

শাবান মাসের এই ১৪ তম দিবাগত “শবে বরাত” এর রাত্রিটি হল ধর্ম পরায়ণ ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষদের কাছে আল্লা প্রদত্ত বরকতময় একটি বিশেষ রাত। পবিত্র শবে বরাত এর রাত্রে আল্লার বিশেষ কৃপা দৃষ্টি তার মুমিনদের উপর বর্ষিত হয়।

ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরানের মত দেশ গুলোতে হিজরী ক্যালেন্ডারের “শাবান” মাসের ১৪ তম দিবাগত রাতটিকে ” শবে বরাত” নামেই পালন করা হয়।

তবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ গুলোতে “শবে বরাত” এর ভিন্ন ভিন্ন নাম আছে। আরব দেশের মানুষের কাছে শবে বরাতের দিনটি “লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান” নামে পরিচিত।

আরো পড়ুন : ঈদের শুভেচ্ছা sms

শবে বরাত কেন পালন করা হয় (Shobe Barat Keno Palon Kora Hoy )

মুসলিম ধর্মালম্বী মানুষ জনের বিশ্বাসনুযায়ী ইসলামিক ক্যালেন্ডারের অষ্টম মাসকে “শাবন” মাস বলা হয়। শাবন মাসের ১৫তম দিনটি “শবে বরাত” নামে পরিচিত।

শবে বরাত এর দিন রাত্রি বেলা মুসলিম সমাজের মানুষ মসজিদে গিয়ে পরলোকগামী পূর্ব পুরুষদের স্মরণ করে তাদের পাপ মার্জনা করার জন্যে আল্লাহ তালার কাছে প্রার্থনা করেন।

শবে বরাত এর এই বিশেষ দিনে আল্লাহ তালা তার বান্দাদের প্রার্থনা শুনে তাদের পূর্ব পুরুষদের করা পাপ, মাফ করে দেয়। সেই দিন সারা রাত জেগে ফাতিহা পাঠ করা হয়।

‘শব’ একটি পারসী শব্দ যার অর্থ হল ‘রাত’ এবং আরবি ভাষায় ‘বরাত’ শব্দের অর্থ হল ‘ক্ষমা।’ ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষদের মতে শবে বরাত এর এই বিশেষ রাতে আল্লাহ তার বান্দাদের পূর্ববর্তী কর্ম ফলের উপর

আগামী বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। সুতরাং শবে বরাতের রাত্রিটি মুসলিম ধর্মালম্বী ভাই বোনেদের জন্যে আল্লার কাছে দোষ ত্রুটি মার্জনা চেয়ে অতিবাহিত করার জন্যে আল্লা দ্বারা বরকত প্রদত্ত বিশেষ একটি রাত।

শবে বরাত কেন পালন করা হয়
শবে বরাত কেন পালন করা হয়

পবিত্র রমজানের দুই সপ্তাহ আগে যথাযথ উৎসাহ এবং ধর্মীয় নিষ্ঠার সঙ্গে মুসলিম ভাই ও বোনেরা শবে বরাত উৎসব পালন করে থাকে। এই দিন দান ধ্যান করার নিয়ম আছে। শবে বরাতের দিন দুঃস্থ মানুষদের

অর্থ ও খাদ্য দ্রব্য (বিভিন্ন ধরণের হালুয়া) বিতরণ করা হয় এবং সারাদিন উপোস করে রোজা রাখা হয়। শবে বরাতের এই দিনটিকে আরবের দেশে ধর্মীয় মর্যাদায় অতি নিষ্ঠার সাথে “লাইলাতুন- বরাত” হিসাবে পালন করা হয়।

শবে বরাতে কি হয়েছিল (Shobe Barate Ki Hoyechilo)

শবে বরাত উপলক্ষে রাসুলে আকরাম (সা:) হাদিস অনুযায়ী দুটি জিনিস করার জন্যে বলা হয়েছে – ০১) রাত জেগে আল্লার কাছে ইবাদত করা। যেমন- নফল নামাজ পড়া,

কুরান তিলাওয়াত করা, তাসবিহ জপ করা, দোয়া-দুরুদ, তৌবা-ইস্তেগর ইত্যাদি। ০২) রোজা রাখা, হজরত মহম্মদ (সা:) গোটা শাবান মাস রোজা রাখতেন, তাই বান্দারা যদি পুরো শাবান মাস রোজা রাখতে পারলে অতি উত্তম।

শবে বরাতের কি হয়েছিল ? এই ধরণের প্রশ্ন অনেকের মনে ঘোর পাক খায়। শবে বরাতের রাত্রে ইবাদত করার পিছনে ফজিলত হাদিস অনুযায়ী শবে বরাতের রাতটির তাৎপর্য হল-

আলা ইবনুল হারিস (রহঃ) তে বর্ণনায় দেখতে পাওয়া যায়- হজরত আয়েশা (রাঃ) সেখানে বলেছেন, একদিন গভীর রাত্রে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ পড়ার সময় রাসূলাল্লাহ (সাঃ) দীর্ঘ্যক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে সেজদা করেন।

অনেক্ষন এভাবে দাঁড়িয়ে থেকে সেজদা করতে দেখে, হজরত আয়েশা (রাঃ) এর ধারণা হয়, রাসূলাল্লাহ (সাঃ) হয়তো নামাজ পড়তে গিয়ে ইন্তেকাল করেছেন।

হজরত আয়েশা (রাঃ) তখন তার সন্দেহ দূর করার জন্যে রাসূল্লাহ (সাঃ) বৃদ্ধাঙ্গুলীটিকে ধরে নাড়া দেয়। তাতে রাসূলাল্লাহ (সাঃ) আঙুল নাড়িয়ে সারা দেয়। এরপর রাসূলাল্লাহ (সাঃ) সেজদা থেকে উঠে নামাজ শেষ করে,

হজরত আয়েশা (রাঃ) কে বললেন “হে আয়েশা ! তোমার কি ধারণা, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন ? হজরত আয়েশা (রাঃ) তখন উত্তরে বলেন- না, ইয়া রাসূল্লাহ। “আপনার দীর্ঘ্যক্ষন সেজদা করা দেখে

আমি আশঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম, আমার মনে হয়েছিল আপনি হয়তো ইন্তেকাল করেছেন ? তাই আমি আমার সন্দেহ মেটানোর জন্যে আপনার আঙুল নেড়ে, আপনাকে পরীক্ষা করে দেখছিলাম আপনি জীবিত আছেন কিনা ?”

নবীজি তখন আয়েশাকে জিজ্ঞেস করেন তুমি কি জান আজকের রাত টি কি রাত ? আয়েশা তখন নবীজিকে বলেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই আমার অপেক্ষা ভাল জানবেন আজেকের রাত টির তাৎপর্য কি ?

তখন রাসূলাল্লাহ (সাঃ) বললেন আজকের রাত টি হল অর্ধ শাবানের রাত। মহান আল্লাহ তালাহ অর্ধ-শাবানের রাত্রে তার বান্দার সকল প্রার্থনা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং যারা ক্ষমা প্রার্থী তাদের পাপ ক্ষমা করে দেন।

আর যারা অনুগ্রহ প্রার্থী তাদের অনুগ্রহ করেন, তাদের বরকত প্রদান করেন । আর যারা বিদ্বেষ প্রদানকারী তাদের ক্ষমা না করে তাদের নিজের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (বাইহাকী)

ইসলাম ধর্মে শবে বরাত কোনো আনন্দ উৎসব নয়। শবে বরাতের রাত হল ইবাদত করার রাত। তাই শবে বরাতের দিন রাত্রি বেলা আতস বাজি ফাটানো, কবর স্থান সহ বাড়িতে,মসজিদে আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা,

মাংস,হালুয়া-রুটি সহ বিভিন্ন খাবার দিয়ে বন্ধু বান্ধবদের সাথে ফুর্তি করার জন্যে পার্টির আয়োজন করা ইসলাম ধর্মে কখনই জায়েজ নয়। শাবান মাস সহ শবে বরাতের রাত হল আল্লার কাছে ইবাদত করার একটি উপযুক্ত সময় এই মাত্র।

তাই শবে বরাত উৎসবের আনন্দ প্রবণতায় শবে বরাতের প্রকৃত আবেদন এবং পবিত্রতা যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে আমাদের ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষদের শুভ চেতনা থাকা উচিত।

শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস (Shobe Barat Somporke Hadish)

শাবান মাসের ১৪ তম দিবাগত রাতকে হাদিসে শবে বরাত বলা হয়। “শবে বরাত” কুরানে বর্ণিত যে শব্দটিকে অনুকরণ করে ব্যবহার করা হয় সেই শব্দটি হল “লাইলাতুল মুবারক।”

إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ فِى” لَيْلَةٍ مُّبَٰرَكَةٍۚ” إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ এর অর্থ হল আল্লাহ প্রদত্ত একটি বরকতময় রাত। হাদিসে শবে বরাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ মাসের মধ্যে দিনের রাত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাবান মাসের মধ্য দিনটি হল শাবান মাসের ১৫ তারিখ। সিহা সিত্তার হাদিসে ইবনে মাজাহ ও বায়হাকী শরীফের উদ্ধৃতিতে- পবিত্র শবে বরাত নিয়ে বলা হয়েছে নিসফি মিন শাবান মানে শাবান মাসের ১৫ তারিখ।

শবে বরাতের উল্লেখ করে বেলায়েতের সম্রাট মাওলানা হজরত আলী ইবনে আবু তালেব (আ:) বর্ণনা করে বলেছেন- রাসূল্লাহ (সাঃ) তাতে বলেছেন

“যখন শাবান মাসের মধ্যেকার (শাবান মাসের ১৫ তারিখ) রাতে তোমরা রাত জেগে ইবাদত করবে,তসবি জপ করবে আর দিনের বেলা সিয়াম পালন করবে।

কেননা মহান আল্লা তালাহ সূর্য অস্ত হওয়ার পর দুনিয়ায় আসমানে নেমে এসে আসেন এবং আল্লার কোনো বান্দা যদি কেউ আল্লার কাছে হিদায়ত করে ক্ষমা চায় তাহলে আল্লা তাকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

আর যদি কেউ সেদিন আল্লার কাছে রিযক চায় তাহলে আল্লা সেদিন তার বান্দাকে রিযক দান করেন।অসুস্থ ব্যক্তি যদি তার সুস্থতার জন্য দোয়া করেন তাহলে আল্লা তাকে সুস্থতা প্রদান করেন। (ইবনে মাজাহ,বায়হাকী শরীফ)

শবে বরাত সম্পর্কে কুরানের আয়াত (Shobe Barat Somporke Quran)

পবিত্র শবে বরাতকে কুরানে লাইলাতুন মুবারাকাতিন বলে উদ্ধৃত করা হয়েছে। কুরানের ৪৪ নং সুরায় “দোখানের” ০৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে ” শবে বরাতের রাত হল, একটি বরকতময় রাত। “

সূরাটি শুরু হওয়ার আগে – হা-মিম দিয়ে সুরাটি শুরু করা হয়েছে, “হা” এর অর্থ হল “হামদ”, মিম অর্থে এখানে মহম্মদ (সাঃ) অথাৎ “হামদে মহম্মদ (সাঃ) বা চির প্রশংশিত মহম্মদ (সাঃ) এর জন্যে।

দ্বিতীয় আয়াতে “ওয়ালকিতাবিল মুবীন” অথাৎ সুস্পষ্ট কিতাবের উল্লেখ করে আসমানী কিতাবের উপর জোর প্রদান করা হয়েছে। সুরা দোখানোর ০১ নং ০২ নং আয়াতের অর্থ হল অনন্ত প্রসংশিত মহম্মদের আত্মদর্শন করা।

তারপর মহান আল্লাহ শবে বরাতের কথা উল্লেখ করে বলেছেন “ইনা আনযালনাহূ ফী লাইলাতম্ মুবারাকাতিন্।” নিশ্চিতভাবে আমি বরকতময়ী রাজনীতে অবতীর্ণ করেছি। (সুরা- দোখান, আয়াত: ০৩)

এখানে আল্লা বলেছেন, এই নির্দেশ হল আমার – আমি নিশ্চয় দূত পাঠিয়ে থাকি। আল্লা তার বান্দাদের সমস্ত দুঃখ কষ্ট বোঝেন এবং বান্দাদের প্রার্থনা শোনেন।

একমাত্র মহান আল্লা হল ধরিত্রী, আসমান, বাতাস সমস্ত কিছুর রব। আল্লাহ ছাড়া অপর কোনো নাবুদ নেই, জীবন ও মৃত্যুর একমাত্র মালিক হল একমাত্র মহান আল্লাহ।

তবুও আল্লাকে নিয়ে যারা সংশয় করে, তারা অপেক্ষা কর সেই দিনটির জন্যে যেদিন তোমাদের মনের মধ্যে থাকা সেই ধোঁয়াশা কেটে গিয়ে সুস্পষ্টভাবে মহান আল্লার দিন তোমাদের কাছে পরিস্ফুটিত হবে।

(সুরা-৪৪ [৬৪] দোখান, রুকু: ০১, আয়াত: ০১-১০, পারা: ২৫, পৃষ্ঠা ৪৯৬-৪৯৭/১৪-১৫) মুসাফিরগণ বলেছেন “লাইলাতুল মুবারাকা” বলতে শাবান মাসের মধ্যকার রজনীকেই বলা হয়েছে।

(তাফসীরে মাজহারি, রুহুল মায়ানী ও রুহুল বয়ান) হজরত ইকরিমা (রাঃ) প্রমুখ কয়েকজন তাফসিরবিদ বর্ণনা করেছেন সুরা দুখানের দ্বিতীয় আয়াতে বরকতের রাত্রি বলতে শবে বরাতের রাত্রিকে বোঝানো হয়েছে।

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম ও দোয়া (Shobe Barate Namajer Niyom)

শবে বরাত কেন পালন করা হয় (Shobe Barat Keno Palon Kora Hoy) এই আর্টিকেলে আমরা শবে বরাত কেন পালন করা হয় সহ শবে বরাত কি এবং শবে বরাত শব্দটির অর্থ কি জানার চেষ্টা করলাম।

এবার আসুন শবে বরাত পালনের নিয়ম হিসাবে শবে বরাতের নামাজের নিয়ম ও দোয়া গুলো নিয়ে একটু মৌখিক ধারণা নেওয়া যাক- শবে বরাতের দিন রাতে এশার নামাজের পর জায়নামাজে বসে ইস্তেগফার যতটা পারবেন করবেন।

তুবুও মোটামোটি ০৭ বার ইস্তেগফার করবেন। এছাড়া সুরা ফাতিহা ০৫ বার পড়বেন, সূরা ইখলাছ কমকরে হলেও ০৭ বার এবং দুরুদ শরীফ ১১ বার পড়বেন।

জায়নামাজে বসে বেশ খানিকটা জিকির আজকার, মোরাকাবা, মোশাহাদা ও বেশি সময় ইবাদত করতে চান তারা রাত্রি ১২ টার পর কমপক্ষে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করতে পারেন।

এই নামাজের প্রতিটি রাকাতে সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর ০৩ বার সুরা ইখলাছ পাঠ করার পর ০২ রাকাত করে পড়তে হবে। ০৬ বার বৈঠক এবং ১২ রাকাত তাহজাদ্দুদ নামাজ আদায় করতে পারেন।

FAQ

প্রশ্ন- শবে বরাত কেন পালন করা হয় ?

উঃ- শবে বারাতের রাত হল আল্লাহ দ্বারা প্রদত্ত বিশেষ বরকতের রাত। এই দিন রাত্রি বেলা আল্লাহ তালার কাছে ইবাদত করলে আল্লাহ তার বান্দাদের পূর্বকর্মের পাপ ক্ষমা করে দেয়।

প্রশ্ন- শবে বরাত কবে ২০২৩ ?

উঃ- শবে বরাত হল ২০২৩ সালের ০৮ মার্চ।

প্রশ্ন- শবে বরাত কথাটির অর্থ কি ?

উঃ- শবে বরাত কথাটির অর্থ হল “সৌভাগ্যের রাত বা মুক্তির রাত। “

প্রশ্ন- শবে বরাত কি ?

উঃ- ইসলামিক হিজরী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শাবান মাসের ১৪ তম দিবাগত দিনটি হল শবে বরাত।

5/5 - (4 votes)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here