লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প কি ? লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা কারা পাবেন।

পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর এখন পর্যন্ত রাজ্যবাসীর সুবিদার্থে ছোট বড় বহু প্রকল্পের সূচনা করেছেন।

তার মধ্যে অন্যতম একটি প্রকল্প হল লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসার পর ২০২১ সালের ২৪ শে,মে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পটির কথা ঘোষণা করেন।

এখন আপনাদের মনে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পটি নিয়ে ছোটো বড় নানা ধরণের প্রশ্ন উঁকি ঝুঁকি মারতে পারে। তাই আপনাদের কথা মাথায় রেখে আমরা, লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প কি ?

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা কারা পাবে,লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন করার জন্য কি কি লাগবে,লক্ষীর ভান্ডার ফর্ম পিডিএফ ডাউনলোড কিভাবে করবেন,

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন পত্র কিভাবে করবেন,লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প কবে থেকে চালু হবে,লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন ২০২১ সালে করলে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা কবে পাবেন,

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারবে,লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের সমস্ত তথ্য আপনাদের সামনে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হল আসা করি আপনারা উপকৃত হবেন।

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প কি ? (Lakkhir Bhandar Prakalpa)


১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়,বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন প্রতিরোধ করার জন্য স্বদেশী দ্রব্যকে বাংলার ঘরে ঘরে প্রাধান্য দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে

বাংলার মেয়েরাও যাতে কিঞ্চিৎ অর্থ সাহায্য করে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে পুরুষের পাশে সমানভাবে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষে মহিয়সী “সরলাদেবী চৌধুরানী” বলে একজন মহিলা

বাঙালি মহিলাদের ভাঁড়ারের থেকে কিছু অর্থ বাঁচিয়ে রেখে লক্ষীর ভান্ডার অথাৎ (মাটির তৈরী টাকা জমিয়ে রাখার পাত্র বিশেষ ) মাটির ভাঁড়ে টাকা জমানোর একটি ঐতিহাসিক প্রথার সূচনা করেন।



লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প কি একনজরে

প্রকল্পের নাম লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প
প্রকল্পের সূচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
সুবিধাভোগী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ
কবে থেকে আবেদন করা যাবে ১৬ ই আগস্ট ২০২১
কতদিন পর্যন্ত আবেদন করা যাবে ১৫ ই সেপ্টেম্বর ২০২১
কবে থেকে টাকা পাবেন ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১
কাদের জন্য এই প্রকল্প বাড়ির গৃহকর্তী/বাড়ির মহিলা প্রধান
লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে সরকারের বাৎসরিক বরাদ্দ রাশির পরিমান বাৎসরিক ১২,৯০০ কোটি টাকা।
কোথায় আবেদন করবেন দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে আবেদন পত্র জমা নেওয়া হবে।
লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের অফিসিয়াল Website wb.gov.in
লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্ম লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্ম pdf download 
লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে কত টাকা করে পাওয়া যাবে
  • জেনারেল এবং ওবিসি কাস্টের মহিলাদের মাথা পিছু ৫০০ টাকা করে প্রতি মাসে দেওয়া হবে।
  • সিডিউল কাস্ট এবং সিডিউল ট্রাইব মহিলাদের মাথা পিছু ১০০০ টাকা করে প্রতি মাসে দেওয়া হবে।

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প কারা পাবে


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৪ শে,মে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পটির কথা ঘোষণা করেন। লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পটির মাধ্যমে

মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলার গরিব ও দুস্থ মহিলাদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে সরাসরি ক্ষুদ্র একটা এমাউন্ট হিসাবে ( জেনারেল ও ওবিসি কাস্টের মহিলাদের প্রতিমাসে ৫০০ টাকা এবং

সিডিউল কাস্ট এবং সিডিউল ট্রাইব কাস্টের মহিলাদের প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে ) প্রতিমাসে মাসোহারা/হাতখরচ বাবদ দেওয়া হবে।

এবারে প্রশ্ন হল লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প কারা পাবে বা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য কারা আবেদন করতে পারবে আসুন একনজরে একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক –

০১. লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অধিবাসী,শুধুমাত্র মহিলারা আবেদন করতে পারবেন।

০২. লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারী মহিলার নূন্যতম বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।

০৩. ১০ বছর যাবৎ পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন এবং যাদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার কার্ড আছে এমন মহিলারা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবে।

০৪. একটি পরিবারে শুধুমাত্র ঐ পরিবারের মহিলা প্রধান লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

( তবে যে সমস্ত পরিবারে একাধিক মহিলা সদস্য আছে তারা সকলেই আবেদন করতে পারবে কি পারবেনা সেই ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে নির্দিষ্টভাবে কোনো দিশা নির্দেশ এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি )

০৫. তবে যে সমস্ত মহিলাদের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আছে,অথাৎ স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে যে মহিলা প্রধান হিসাবে উল্লেখ করা আছে করা আছে তারা সকলেই লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আরো পড়ুন : কৃষক বন্ধু প্রকল্প আবেদন করার নিয়ম। 

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প কারা পাবেনা ( Lakshmi Bhandar Prakalpa)


যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছন লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসী সমস্ত মহিলাদের দেওয়া হবে। 

তবুও লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে সরকার নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ রেখেছেন,আসুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক সেই বিধি নিষেধ গুলি কি কি ?

০১. যে সমস্ত মহিলার বয়স ২৫ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের বেশি সেই সমস্ত মহিলারা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবে না।

০২. যে সমস্ত মহিলারা নিজে সরকারি চাকরি করে সেই সমস্ত মহিলারা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

০৩. যে সমস্ত মহিলার অথবা তার পরিবারের ০২ হেক্টরের বেশি চাষ জমি আছে সেই সমস্ত কৃষক পরিবারের মহিলারা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

০৪. যে সমস্ত মহিলা কিংবা তার পরিবার সরকারকে ইনকাম ট্যাক্স দিয়ে থাকে, সেই সমস্ত মহিলারা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

০৫. পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসী নয় অথচ তারা যদি কর্মসূত্রে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন এমন কোনো মহিলা বা তার পরিবার লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

০৬. যে সমস্ত মহিলারা সার্ভিস থেকে রিটায়ার করেছেন এবং তাদের ভরণ পোষণ চালানোর জন্য পেনসন এর মত বিকল্প কিংবা অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন তারা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন করতে কি কি ডকুমেন্ট লাগবে


লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন করার জন্য কি কি ডকুমেন্ট লাগবে তা খুব স্পষ্ট ভাবে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের ফর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসুন দেখে নেওয়া যাক এক নজরে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন ফর্মের সাথে সাথে কি কি ডকুমেন্ট আপনাদের দিতে হবে –

০১. আবেদনকারীর এক কপি পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি আবেদনপত্রের সঙ্গে দিতে হবে।

০২. আবেদনকারীকে তার স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের এক কপি জেরক্স ( সেল্ফ এটেস্টেড করে নিজের নাম এবং  তারিখ সহ লিখে ) দিতে হবে।

০৩. আবেদনকারীর আধার কার্ডের এক কপি জেরক্স ( সেল্ফ এটেস্টেড করে নিজের নাম এবং তারিখ সহ লিখে) দিতে হবে।

০৪. আবেদনকারীর যদি OBC/SC/ ST Certificate থাকে তাহলে তার জেরক্স ( সেল্ফ এটেস্টেড করে নিজের নাম এবং  তারিখ লিখে ) কপি দিতে হবে।

০৫. আবেদনকারীকে তার ব্যাঙ্কের পাস বুকের প্রথম পাতার জেরক্স যেখানে আবেদনকারীর একাউন্ট নম্বর পুরো নাম ঠিকানা এবং ছবি আছে ( সেল্ফ এটেস্টেড করে নিজের নাম এবং  তারিখ সহ ) / ব্যাঙ্কের ক্যানসেল চেক দিতে হবে।

০৬. যাদের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড হয়নি তারা দরখাস্তের সঙ্গে – আধার কার্ড,রেশন কার্ড,ভোটার কার্ড,কাস্ট সার্টিফিকেট,স্থায়ী বাসিন্দা সার্টিফিকেট,

বয়সের প্রমাণপত্র,পাসপোর্ট সাইজ ফটো এবং মোবাইল নম্বর আবেদন পত্রের সঙ্গে দিতে হবে।

০৭. এখানে আবেদনকারীকে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন পত্রের সঙ্গে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট হিসাবে আবেদনকারী অথবা তার পরিবারের,পৌরসভা/পঞ্চায়েত থেকে দেওয়া Annula ইনকাম সার্টিফিকেট দিতে হবে।

বিঃ দ্রঃ – আবেদনকারীর কাস্ট সার্টিফিকেট না থাকলে প্রার্থীকে জেনারেল কাস্ট হিসাবে গণ্য করা হবে। আর টাকাও জেনারেল কাস্টের মত ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে।

আরো পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনা আবেদন অনলাইনে কিভাবে করবেন। 

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্ম পিডিএফ ডাউনলোড করুন


লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্ম পিডিএফ ডাউনলোড করার জন্য আপনাদের এখানে ওখানে ঘোরার দরকার নেই। কারণ মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়

১২/০৮/২০২১ তারিখে সংবাদ মাধ্যমে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে কোনো ধরণের ডাউনলোড করা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের ফর্মের মধ্যে,লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না।

আপনারা যারা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন করবেন ভাবছেন তাদের ক্যাফে থেকে বা অনলাইন কোনো লিঙ্ক থেকে ডাউনলোড করা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্ম গ্রহণ করা হবেনা।

এই ধরণের ফর্ম সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হবে। তাই আপনারা সরাসরি দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে কম্পিউটার জেনারেটেড ইউনিক সংখ্যার প্রিন্ট করা

একটি ফর্ম দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে পেয়ে যাবেন। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আপনাকে নিঃশুল্ক ভাবে লক্ষীর ভান্ডার ফর্ম দেওয়া হবে। দুয়ারে সরকার থেকে দেওয়া ফর্মে

আপনাকে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন পত্র পূরণ করে জমা করতে হবে। তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কেউ অনলাইন থেকে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্ম ডাউনলোড করবেন না।

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরণের অভিযোগ অথবা জিজ্ঞাসা থাকলে এই নম্বরে যোগাযোগ করুন হেল্পলাইন নং – ১০৭০-২২১৪-৩৫২৬

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন পত্র কিভাবে করবেন


লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন করা খুব সহজ,এখানে একে একে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন পত্রের প্রতিটি কলম কিভাবে পূরণ করতে হবে বুঝিয়ে বলা হল।

সবার প্রথমে আমাদের দেওয়া ওপরের লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্ম পিডিএফ ডাউনলোড লিঙ্ক থেকে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্ম পিডিএফ ডাউনলোড করে নিন।

এখন আপনারা একটু মনোযোগ সহকারে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্ম ফিলাপের দিশা নির্দেশগুলোর দিকে নজর দিলেই আপনারা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন পত্রটি পূরণ করতে পারবেন।



PERSONAL DETAILS 

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প সমস্ত আবেদনপত্রটি আপনাদের সুন্দর এবং স্পষ্ট হাতের লেখায় ইংরেজী বড়ো হরফে লিখে পূরণ করতে হবে।

  •  Duare Sarkar Registration no ( দুয়ারে সরকার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ), এই কলমে দুয়ারে সরকার কর্মসূচির রেজিস্ট্রেশন নম্বরটা লিখতে হবে। এবারে আপনি যদি আপনার পঞ্চায়েতের দুয়ারে সরকার রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি জানেন,তাহলে সেখানে রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি লিখুন নইলে এই কলমটা অফিসের ব্যবহারের জন্য ফাঁকা রাখুন।
  • Swasthyasathi Card no (স্বাথ্য সাথী কার্ড নম্বর) এই কলমে পরিষ্কারভাবে এক একটি বাক্সে আপনার স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর নম্বর গুলি ক্রমান্বয়ে লিখুন।
  • Adhar No (আধার নম্বর),এই কলমে পরিষ্কার ভাবে এক একটি বাক্সে আবেদনকারীর আধার নম্বর/ আধার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে লিখতে হবে।
  • Beneficiary Name (আবেদনকারীর নাম),এই কলমে যিনি আবেদন করছেন তার নাম লিখতে হবে। প্রথমে First Name /Middle Name/ Last Name লিখতে হবে। যেমন – TANU RANI SAHU, তাহলে এখানে First Name এর জায়গায় শুধু TANU, Middle Name এর জায়গায় RANI এবং Last Name এর জায়গায় SAHU লিখতে হবে। যদি কোনো মহিলার Middle Name না থাকে,তাহলে ঐ কলমটি ফাঁকা রেখে দিন।
  • Mobile Number (মোবাইল নম্বর),এই কলমে স্বচল/চালু আছে এমন একটি নির্ভুল মোবাইল নম্বর স্পষ্ট ভাবে লিখুন।
  • Email-id (মেইল-আইডি) যদি আবেদনকারীর নিজস্ব কোনো মেইল আইডি থাকে তাহলে দিতে পারেন। তবে মেইল আইডি দিতে হবে তেমন কোনো বাধ্যকতা নেই।
  • Gender (লিঙ্গ) এই জায়গায় নতুন করে কিছু লেখার দরকার নেই,এখানে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্মে প্রথম থেকেই Female (মহিলা) কলম ফিড করা আছে।
  •  Date of Birth (জন্ম তারিখ,দিন/মাস/সাল),এই কলমে জন্ম তারিখটি সবার প্রথমে  দিন/মাস/সাল এইভাবে লিখতে হবে। Date of Birth এর ঠিক নিচে Age as on 01/01/2021 অনুযায়ী আবেদনকারীর বর্তমান বয়স লিখতে হবে।
  • Fathers Name (বাবার নাম) এই কলমে আবেদনকারীর বাবার নাম লিখতে হবে। একইভাবে First Name /Middle Name/ Last Name যেভাবে দেওয়া যায় সেইভাবে লিখুন।
  • Mother’s Name (মায়ের নাম) এই কলমে আবেদনকারীর মায়ের নাম লিখতে হবে। একইভাবে First Name /Middle Name/ Last Name যেভাবে দেওয়া যায় সেইভাবে লিখুন।
  • Spouse Name ( আবেদনকারীর স্বামীর নাম/ অভিভাবকের নাম) এই কলমে আবেদনকারী মহিলা যদি বিবাহিত হন তাহলে তার স্বামীর নাম লিখতে হবে,নচেৎ তার অভিভাবকের নাম লিখতে হবে।
  • Cast (জাতি),এই কলমে আবেদনকারী যদি SC কিংবা ST হয়ে থাকেন তাহলে SC কিংবা ST এর আগে খালি বাক্সে টিক চিহ্ন দিন। নইলে Others কলমের আগে টিক চিহ্ন বসিয়ে দিন।
  • SC/ST Certificate no, এখানে আবদেনকারী যদি SC কিংবা ST সম্প্রদায়ের হন তাহলে অবশ্যই তাকে তার কাস্ট সার্টিফিকেটে এর নম্বর লিখতে হবে।
  • Marital Status (বৈবাহিক স্থিতি) এখানে আবেদনকারীকে তার বৈবাহিক স্থিতি অনুযায়ী উচিত বাক্সে টিক চিহ্ন দিতে হবে। যেমন- Unmarried (অবিবাহিত),Married (বিবাহিত),Widow (বিধবা),Separated (পৃথক/ডিভোর্সি)

CONTACT DETAILS 

  • State (রাজ্য),এই কলমে কিছু লেখার দরকার নেই। লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফ্রমের সঙ্গে WEST BENGAL রাজ্যের নামটি লেখা আছে।
  • District (জেলা),এই কলমে আবেদনকারীকে তার জেলার নাম লিখতে হবে।
  • Police Station (থানা),এই কলমে আবেদনকারীকে তার থানার নাম লিখতে হবে।
  • Block/Municipality/Corp.*এখানে আপনার বাসস্থান অনুযায়ী জায়গায় নাম লিখুন। আপনি যদি গ্রামের বাসিন্দা হন তাহলে আপনি আপনার ব্লকের নাম লিখুন নচেৎ পৌরসভা হলে আপনার পৌরসভার নাম লিখুন।
  • GP/Ward No (গ্রাম পঞ্চায়েত/ওয়ার্ড নম্বর ),এই কলমে আপনি আবেদনকারীকে পঞ্চায়েতের নাম এবং ওয়ার্ড নম্বর লিখতে হবে।
  • Village/Town/City (গ্রাম/শহর/নগর),এই কলমে আপনি যদি গ্রামের বাসিন্দা হন তাহলে আপনার গ্রামের নাম লিখুন,আপনি যদি শহরের বাসিন্দা হন তাহলে আপনার শহরের নাম লিখুন।
  • House No/Permise No (গৃহ নম্বর),এই কলমে আপনি আপনার পঞ্চায়েতের,পৌরসভার সার্ভে অনুযায়ী হাউস নম্বর দিন। (না দিলেও কোনো অসুবিধা নেই)
  • Post Office (ডাক ঘরের নাম),এই কলমে আপনি আপনার ডাক ঘরের নাম লিখুন।
  • Pin Code (পিন নম্বর),এই কলমে আপনি আপনার ঠিকানার পিন নম্বর লিখুন।
  • Numbers of Years Dwelling in West Bengal (আপনি কতদিন যাবৎ পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন), এই কলমে আপনি কতদিন ধরে পশ্চিবঙ্গের বাসিন্দা সেটা উল্লেখ করুন। যেমন- আপনার বয়স ০১/০১/২০২১ অনুযায়ী ৪০ বছর হয় তাহলে সেখানে ৪০ বছর লিখুন।

BANK ACCOUNT DETAILS

  • Bank Name ( ব্যাঙ্কের নাম),আপনি লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প এর টাকা সরাসরি যে ব্যাঙ্ক একাউন্টে নিতে  চান সেই ব্যাঙ্কের নাম লিখুন। যেমন – আপনার যদি State Bank এ খাতা থাকে তাহলে লিখুন State Bank
  • Bank Branch Name (ব্যাঙ্কের শাখার নাম) এখানে আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্টটি যেখানে আছে সেই ব্যাঙ্কের শাখার নাম লিখতে হবে। যেমন – আপনার যদি Domjur এ একাউন্ট থাকে তাহলে লিখুন SBI BRANCH DOMJUR
  • IFSC Code,এখানে আপনি আপনার ব্যাঙ্কের পাস্ বুক দেখে ব্যাঙ্কের IFSC Code টা লিখুন।

ENCLOSURE LIST (SELF ATTESTED COPY) 

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প apply করার জন্য আবেদনকারী, লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন পত্র এর সাথে যে সমস্ত ডকুমেন্ট গুলো সেল্ফ এটেস্টেড করে দিচ্ছেন,সেগুলির সামনের বাক্সে টিক চিহ্ন বসাতে হবে।

যেমন- আধার কার্ড,স্বাস্থ্য সাথী কার্ড,ব্যাঙ্কের প্রথম পাতার পাস বুকের জেরক্স,কাস্ট সার্টিফিকেট এর জেরক্স ইত্যাদি।

SELF DECLARATION 

Self Declaration (স্ব-ঘোষণাপত্র),এখানে তিনটি কলমে ইংরেজীতে আপনার দ্বারা একটি ঘোষণাপত্র লেখা বয়ান নেওয়া হয়-

(1) That I am a resident of West Bengal. (আমি পশ্চিবঙ্গের বাসিন্দা হইতেছি) (2) That I do not earn any monthly

remuneration/pension from any regular Government job (আমি কোনো সরকারি চাকরি/ মাধ্যম হইতে কোনো প্রকারের মাসিক কোনো পেনশন/মাসোহারা পায়না)

(3) That all the information and documents submitted by me are correct to the best of my knowledge.(আমার স্বজ্ঞানে বর্ণিত ঘোষণাপত্র অনুযায়ী যাবতীয় তথ্যাবলী এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট গুলো সঠিক এবং নির্ভুল)

In case any of the information/ document is found to be false, penal action shall be taken against me and the benefit will be terminated.

(যদি আমার ঘোষণাপত্রে দেওয়া তথ্যাবলী এবং এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের মধ্যে কোনো ধরণের জালিয়াতি অথবা সত্যগোপন করা থাকে

তাহলে আমি আইনত ভাবে দণ্ডের অধকারী হব এবং আমাকে প্রদান করা যাবতীয় সরকারি সুবিধা হইতে তৎক্ষণাৎ বঞ্চিত করা হবে)

এই ঘোষণা পত্রের নিচে আবেদনকারীকে স্বাক্ষর করে জমা দিতে হবে। যদি আবেদনকারী স্বাক্ষর নিজে করতে না জানে তাহলে টিপ সই দিতে হবে।

টিপ সই দেওয়ার আগে স্বাক্ষর করার জায়গাটিতে আবেদনকারীর পুরো নাম লেখার পর নীল কালিতে নিচে হাতের বুড়ো আঙুলের ছাপ দিতে হবে।

ব্যাস হয়ে গেল আপনার লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প apply. এবারে আপনি আপনার লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের আবেদনপত্রটি দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে গিয়ে জমা করে দিন।

আপনার থেকে যখন লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্মটি জমা নেওয়া হবে তখন আপনাকে Recived বাবদ একটি  ACKNOWLEDGEMENT স্লিপ দেওয়া হবে।

আরো পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত কার্ড কিভাবে আবেদন করবেন। 

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প কবে থেকে চালু হবে


মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে অফিসিয়ালি ঘোষণা করেছেন ১৬/০৮/২০২১ থেকে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে সরাসরি লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন পত্র জমা নেওয়া হবে।

তাই আপনারা যে সমস্ত মহিলারা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করার কথা ভাবছেন তারা আগে থেকেই আমাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া লিঙ্কে গিয়ে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্ম পিডিএফ ডাউনলোড করে নিন।

তারপর লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন পত্র কিভাবে করতে হবে ভালোভাবে পড়ে নিয়ে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্ম টি পূরণ করে রাখুন।

পরিশিষ্ট


লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার মহিলাদের হাতে মাসোহারা / হারখরচ বাবদ সামান্য কিছু অর্থ তুলে দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক যুগান্তকারী নির্ণয়।

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক দুঃস্থ মহিলারা কিছুটা হলেও সরকারের থেকে একটি ফাইনান্সিয়াল সাপোর্ট পাবে।

আর সেই সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে তারা তাদের ছোট ছোট আশা গুলিকে পূরণ করতে পারবে। তাই সমস্ত মা বোনদের কাছে অনুরোধ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী যখন আপনাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে

তখন আপনি আর চুপটি করে বসে না থেকে,লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প apply অবশ্যই করুন। লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প ফর্ম pdf download লিংক আমাদের ওয়েব সাইটে দেওয়া হয়েছে।

যদি আপনাদের লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প এপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করতে কোনো রকমের অসুবিধা হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের আর্টিকেলে উপরে বর্ণিত

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন পত্র কিভাবে করতে হবে প্যারাগ্রাফ টি ভালো করে পড়ে দেখুন। আসা করি তাহলে আপনাদের লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবেদন করতে আর কোনো অসুবিধা হবে না।

FAQ


প্রশ্নঃ- লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প কবে থেকে শুরু হবে / লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প aplly কবে করতে পারবেন ?

উঃ- ১৬/০৮/২০২১ থেকে দুয়ারে সরকার কর্মসূচী দ্বারা আবেদন পত্র নেওয়া হবে।

প্রশ্নঃ- লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা কবে হাতে পাওয়া যাবে ?

উঃ- লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক একাউন্টে ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে পাওয়া যাবে।

প্রশ্নঃ- লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে কত টাকা করে পাওয়া যাবে ?

উঃ- লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে জেনারেল/ওবিসি মহিলারা প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে পাবে এবং সিডিউল কাস্ট/ সিডিউল ট্রাইব মহিলারা ১০০০ টাকা করে পাবে।

এই আর্টিকেল গুলোও পড়ে দেখুন-