মেনস্ট্রুয়াল কাপ কি ? মাসিকের সময় মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের নিয়ম।

মহিলাদের ঋতুস্রাব হওয়া বিশেষ দিন গুলোতে শুধুমাত্র স্যানিটারি প্যাডের ব্যবহারই মাসিকের রক্তস্রাবের সময়  রোগ জীবাণু ও পরিধেয় কাপড় নোংরা হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

মাসিকের দিন গুলোতে স্যানিটারি প্যাড,টেম্পুন ইত্যাদি ছাড়াও মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করলে মাসিকের রক্তস্রাব, জামা কাপড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লাগানোর হাত থেকে খুব ভালোভাবে বাঁচানো যায়।

এবারে প্রশ্ন হল এখানে মেনস্ট্র্যুয়াল কাপ কি ? মেন্সট্রুয়াল কাপ কিভাবে ব্যবহার করতে হয় ? মেন্সট্রুয়াল কাপ এর দাম কত ? মেন্সট্রুয়াল কাপ কোথায় পাওয়া যায় ?

মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের সুবিধা কি ? এই সমস্ত জিজ্ঞাসার উত্তর রইল নিচের আলোচনায়,আপনারা আগাগোড়া  ভালোভাবে আর্টিকেল পড়লেই মেন্সট্রুয়াল কাপ কি ? বুঝতে পারবেন।

Table of Contents

মেন্সট্রুয়াল কাপ কি (Menstrual cup ki)


ইংরেজী শব্দ Menstrual যার বাংলা অর্থ হল মাসিক,মানে স্ত্রী রজ:স্রাব এবং ইংরেজী শব্দ Cup,যার অর্থ হল পেয়ালা। শব্দ দুটোকে একত্রিত করলে

Menstrual Cup শব্দটির অর্থ দাঁড়ায়,মেয়েদের রজ:স্রাব ধরে রাখার পাত্র। মেন্সট্রুয়াল কাপ (Menstrual Cup) হল ঘন্টার মত দেখতে

রাবার,সিলিকন এবং লেটেক্সের সংমিশ্রনে তৈরী মাসিক স্রাব ধরে রাখার একটি আধুনিক উপকরণ। মাসিকের সময় স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করলে

প্যাডের মধ্যে থাকা সিলিকন জেলি রক্ত শোষণ করে নেয়। রক্ত শুষে নেওয়ার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাবধানে প্যাড টা ভারী হয়ে গেলে,

পুরোনো প্যাড পাল্টে নিয়ে নতুন প্যাড লাগাতে হয়। কিন্তু মেন্সট্রুয়াল কাপ রক্ত শোষণ করেনা,মেন্সট্রুয়াল কাপের মধ্যে ঋতুস্রাব জমা হয়।

তাই মাসিকধর্মের সময় মেয়েরা মাসিকস্রাব ধরে রাখার জন্য মেন্সট্রুয়াল কাপ টিকে তাদের যৌনি পথের মধ্যে দিয়ে জরায়ুর ভিতরে আটকে রেখে দেয়।

ফলে মাসিকের সময় জরায়ু থেকে যৌনি দিয়ে বেরিয়ে আসা মাসিকের রক্তস্রাব বাইরে গড়িয়ে না এসে যৌনিতে আটকানো মেন্সট্রুয়াল কাপে সঞ্চিত হতে থাকে।

মেয়েদের জরায়ুর সাইজ অনুযায়ী মেন্সট্রুয়াল কাপের সাইজও বিভিন্ন ধরনের হয়। বর্তমানে মাসিকের রক্ত স্রাব থামানোর আরো যে সমস্ত পদ্ধতি আছে

যেমন- স্যানিটারি প্যাড,টেম্পুন ইত্যাদি তার মধ্যে মেন্সট্রুয়াল কাপ হল এমন একটি আধুনিক উপকরণ যা অনেক বেশি পরিমানে রক্ত ধারণ করতে পারে এবং অনেক বেশি সময় ধরে ব্যবহার করা যায়।

তাই একবার মেন্সট্রুয়াল কাপ লাগিয়ে নিলে বার বার স্যানিটারি প্যাড পাল্টানোর মত কাপ পরিবর্তন করার দরকার হয়না,মেন্সট্রুয়াল কাপ একনাগাড়ে ১০-১২ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।

মেন্সট্রুয়াল কাপ কিভাবে ব্যবহার করতে হয় (How to use Menstrual cup in Bengali)


এবারে আমরা জানব মেন্সট্রুয়াল কাপ কিভাবে ব্যবহার করতে হয় (menstrual cup use in Bengali) সেই ব্যাপারে। মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করা খুব সহজ –

মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করার আগে আপনি আপনার হাত দুখানা খুব ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। তারপর মেন্সট্রুয়াল কাপটিকে প্যাকেট থেকে বার করে,

ইংরেজী “C” অক্ষরের মত করে আঙ্গুল চেপে মুচড়ে নিন। এরপর আপনার যৌনি দ্বারকে বামহাতের আঙ্গুল দিয়ে যথা সম্ভব চওড়া করে নিন।

মেন্সট্রুয়াল কাপ কি
মেন্সট্রুয়াল কাপ কোথায় পাওয়া যায়

তারপর ডানহাতের দিয়ে ধীরে ধীরে মোচড়ানো মেন্সট্রুয়াল কাপটিকে যৌনি পথ দিয়ে জরায়ুর মধ্যে প্রবেশ করাতে হবে।

এরপর যখন দেখবেন মেন্সট্রুয়াল কাপটির অগ্রভাগ গর্ভাশয়ের দেওয়ালে গিয়ে লেগে যাচ্ছে তখন বুঝবেন আপনার মেন্সট্রুয়াল কাপটি জরায়ুতে ঠিক জায়গায় ফিট বসে গেছে।

মেন্সট্রুয়াল কাপ রাবার ও সিলিকন মেটিরিয়াল দিয়ে তৈরী হওয়ায় যৌনির মধ্যে মুচড়ে প্রবেশ করালেও যৌনির ভিতরে গিয়ে প্রসারিত হয়ে যায়। তবুও মেন্সট্রুয়াল কাপটি ভালোভাবে বসেছে কিনা,

কনফার্ম হওয়ার জন্য কাপটিকে আরো একবার হালকাভাবে ভালোকরে ঘুরিয়ে নিন। এইভাবে মেন্সট্রুয়াল কাপ দ্বারা আপনার যৌনিপথটি পুরোপুরি শীল হয়ে গেলে

মাসিকস্রাব লিকেজ হয়ে বাইরে বার হওয়ার সম্ভবনা থাকেনা। প্রথমবার মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করার সময় আপনার ইতস্তত বোধ হতে পারে, কিন্তু নিয়মিত ব্যবহারে সেই ইতস্তত বোধ কেটে যায়।

তখন মেন্সট্রুয়াল কাপ স্বাভাবিক নিয়মে ব্যবহার করতে আর কোনো অসুবিধা হয়না। মেন্সট্রুয়াল কাপ রাবার সিলিকন ও লেটেক্সের মত নরম পদার্থের দ্বারা তৈরী হওয়ায়

মেয়েদের যৌনি পথে খুব সুন্দরভাবে সেটে যায়,যার ফলে মেয়েদের চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে কোনো রকমের অসুবিধা হয় না। নারী যৌনাঙ্গের সংবেদনশীল পর্দার মধ্যে

মেন্সট্রুয়াল কাপ এমনভাবে ফিট বসে যায় যে দৌড় ঝাঁপ সাঁতারের মত কঠিন শারীরিক এক্সরেসাইজ করার সময় মেন্সট্রুয়াল কাপ পিছলে বার হয়ে আসার কোনো সম্ভবনা থাকেনা।

আরো পড়ুন : কপার টি কি ? কপার টি কিভাবে গর্ভনিরোধক হিসাবে কাজ করে। 

মেন্সট্রুয়াল কাপের সাইজ কিভাবে নির্ণয় করবেন  


মাসিকধর্মের সময় মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করার আগে মেন্সট্রুয়াল কাপের সাইজ নির্ণয় করাটা খুব জরুরী। ঠিকঠাক মত মেন্সট্রুয়াল কাপের সাইজ নির্ণয় করা না গেলে,

যৌনিপথে ঠিকঠাক ভাবে মেন্সট্রুয়াল কাপ ফিট না বসলে মাসিকের রক্তস্রাব লিকেজ হওয়ার সম্ভবনা থেকে যায়। তাই মেন্সট্রুয়াল কাপ কেনার আগে কতগুলো জিনিস মাথায় রাখলে

আপনি খুব সহজেই মেন্সট্রুয়াল কাপের সাইজ নির্ণয় করতে পারবেন- মেন্সট্রুয়াল কাপ নির্বাচন করার আগে আপনার যৌনির সাইজের মোটামোটি একটা আইডিয়া আপনাকে করে নিতে হবে।

০১. আপনার বয়স যদি ১২- থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হয় তাহলে আপনাকে Small size Menstrual Cup ব্যবহার করতে হবে।

০২. যদি আপনার বয়স ১৮- ২১ বছরের মধ্যে হয় আর আপনি যদি অবিবাহিত হন তাহলে আপনাকে  Medium size এর Menstrual Cup ব্যবহার করতে হবে।

০৩. আপনার বয়স যদি ২১-২৬ বছর হয় এবং ০১ টি সন্তানের মা হন তাহলে আপনার জরায়ুর সাইজ অনুযায়ী Large size Menstrual cup ব্যবহার করতে হবে।

০৪. আপনার বয়স যদি ২৬-৫৫ বছরের মধ্যে হয় এবং আপনার যদি ০১ অধিক সন্তান থেকে থাকে তাহলে আপনাকে Extra large size Menstrual Cup ব্যবহার করতে হবে।

মেনস্ট্র্যুয়াল কাপ জরায়ু থেকে কিভাবে বার করতে হয়


মাসিকধর্মের সময় জরায়ুতে মেন্সট্রুয়াল কাপ লাগানোর থেকে জরায়ু থেকে মেন্সট্রুয়াল কাপ বার করা খুব সহজ। সবার প্রথমে আপনার হাত দুটো ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।

তারপর আপনার হাতের তর্জনী এবং বৃদ্ধা আঙ্গুল দুটো আস্তে আস্তে জরায়ুর মধ্যে নিয়ে গিয়ে মেন্সট্রুয়াল কাপের পিছনে থাকা লেজ টিকে ধরে আস্তে আস্তে বাইরের দিকে টানুন।

এইভাবে আস্তে আস্তে লেজ ধরে টান দিলেই মেন্সট্রুয়াল কাপটি বাইরে বার হয়ে চলে আসবে। এবারে মেন্সট্রুয়াল কাপটি বার হয়ে গেলে কাপের মধ্যে জমা হয়ে

থাকা মাসিকের রক্ত স্রাব টিকে উচিত জায়গায় (বাথরুম,টয়লেট প্যান) গিয়ে ড্রেন করে দিন। তারপর মেন্সট্রুয়াল কাপটিকে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে পুনঃরায় জরায়ুতে লাগিয়ে নিন।

আরো পড়ুন : স্বপ্ন দোষ কি ? স্বপ্ন দোষ কেন হয়। 

মাসিকধর্মের সময় কতক্ষন পর্যন্ত মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করা যায় 


স্যানিটারি প্যাডের মত মেন্সট্রুয়াল কাপ রক্ত শুষে নেয় না, মেন্সট্রুয়াল কাপের মধ্যে রক্ত এসে জমা হয়। যার ফলে মাসিকের সময় মেন্সট্রুয়াল কাপের ব্যবহার করলে যৌনাঙ্গে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে না।

যে সমস্ত মহিলাদের মাসিকের সময় অধিক রক্ত স্রাব হয় সেই সমস্ত মহিলারা তাদের জরায়ুতে মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের নিয়মনুযায়ী অনায়াসে ০৮-১০ ঘন্টা মেন্সট্রুয়াল কাপ লাগিয়ে রাখতে পারে।

আবার যে সমস্ত মহিলাদের ঋতু স্রাব কম হয় সেই সমস্ত মহিলারা একটানা ১২ ঘন্টা কাপ পড়ে থাকলেও কোনো অসুবিধা হয় না।

একজন মহিলা মাসিকের সময় নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তার কাপ পরিবর্তন করবে কি না করবে,সেটা মহিলার ব্যক্তিগত comfortable এর উপর নির্ভর করে,কত সময়ের ব্যবধানে তার কাপ পরিবর্তন করবে।

যদি আপনার মেন্সট্রুয়াল কাপের সাইজ ছোটো হয়,আর আপনার ঋতু স্রাবের পরিমান যদি বেশি হয় তাহলে ০৪-০৬ ঘন্টার ব্যবধানে কাপ পরিবর্তন করে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে জরায়ুর মধ্যে লাগিয়ে নিন।

তাই কাপ নির্বাচন করার আগে আপনার জরায়ুর সাইজ অনুযায়ী মেন্সট্রুয়াল কাপের সাইজ নির্বাচনের দিকে খেয়াল রাখবেন।

তবে মাসিকধর্মের সময় ঋতু স্রাব আটকানোর আর যে সমস্ত পদ্ধতি আছে যেমন – টেম্পুন,স্যানিটারি প্যাড ইত্যাদি তার তুলনায় মেন্সট্রুয়াল কাপ হল অধিকতর হাইজিনিক ও সাশ্রয়ী একটি উপকরণ।

মেনস্ট্র্যুয়াল কাপ কিভাবে পরিষ্কার করতে হয়  ?


মাসিক চলাকালীন সময়ে মেন্সট্রুয়াল কাপ বার বার ব্যবহার করার জন্য মেন্সট্রুয়াল কাপ কিভাবে পরিষ্কার করতে হয় জানাটা অত্যন্ত জরুরী।

মাসিক চলাকালীন মেন্সট্রুয়াল কাপটি বার বার ব্যবহারের জন্য কাপটিকে ঈষদ গরম জলে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে কাপটিকে পুনরায় জরায়ুর মধ্যে স্থাপন করতে হবে।

তবে আপনি যদি মেন্সট্রুয়াল কাপ পরিবর্তন করার জন্য পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করেন তখন সেখানে পরিছন্নতার উপর নজর রেখে কাপটিকে টিসু দিয়ে পরিষ্কার করে পুনরায় জরায়ুতে লাগাতে পারেন।

মেন্সট্রুয়াল  কাপের যত্ন কিভাবে নিতে হবে


মেন্সট্রুয়াল কাপের যত্ন নেওয়ার জন্য আলাদা করে কোনো প্রশিক্ষণ নেওয়ার দরকার নেই। আপনি যেমন ঘরোয়া উপায়ে আর পাঁচটা জিনিসের পরিছন্নতার দিকে নজর রাখেন

ঠিক সেভাবেই মেন্সট্রুয়াল কাপটির যত্ন নিলেই হবে। আপনার পিরিয়ড শেষ হয়ে গেলে পড়ে মেন্সট্রুয়াল কাপটি তুলে রাখার আগে কাপটিকে ভালকরে পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।

যদিও প্রতিটি মেন্সট্রুয়াল কাপ নির্মাতা কোম্পানি তাদের প্যাকেটের গায়ে মেন্সট্রুয়াল কাপের যত্ন নিয়ে বিভিন্ন ধরণের ইউসার গাইড দিয়ে থাকেন,আপনি সেগুলোও ফলো করতে পারেন।

সাধারণ ভাবে মাঝারি গরম জলের মধ্যে মেন্সট্রুয়াল কাপটিকে মিনিট পাঁচেক রেখে দিলেই কাপটি জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়।

মেন্সট্রুয়াল কাপ লাগানো এবং বার করার সময় অবশ্যই নিজের হাত দুটোকে ভালোভাবে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে নেবেন। তারপর ধুলো বালি মুক্ত একটা জায়গায়

যেখানে কাপটির উপর ধুলোবালি পড়বেনা এমন একটি জায়গায় প্যাকেটের মধ্যে কাপটিকে ব্যবহারের জন্য রেখে দিন।

আরো পড়ুন : করোনা ভাইরাসের নতুন লক্ষণ গুলি কি কি ? ঘরোয়া উপায়ে করোনা প্রতিরোধে কি করণীয়। 

মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের সুবিধা গুলি


মেয়েদের মাসিকধর্মে মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে অনেক। পিরিয়ডের সময় অন্যান্য উপকরণের তুলনায় মেন্সট্রুয়াল কাপের ব্যবহার হল যথেষ্ট আরাম দায়ক।

তাই ইউরোপের দেশ গুলোতে মহিলাদের মধ্যে স্যানিটারি প্যাড ও অন্যন্য উপকরণের তুলনায় মেন্সট্রুয়াল কাপ হল অধিক জনপ্রিয়। বর্তমানে আধুনিক যুগে আমাদের দেশের মহিলাদের মধ্যেও

মেন্সট্রুয়াল কাপের ব্যবহার ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আসুন মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের সুবিধা গুলি একটু দেখে নেওয়া যাক –

০১. মেন্সট্রুয়াল কাপের সবথেকে বড় লাভ হল মেন্সট্রুয়াল কাপের দাম অনেকটাই কম হয় এবং তার সাথে মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করা অতি সহজ।

০২. অন্যদিক থেকে দেখতে গেলে স্যানিটারি প্যাড ও টেম্পুনের তুলনায় মেন্সট্রুয়াল কাপ অনেক বেশি রক্ত সঞ্চয় করে রাখতে পারে তাই প্যাড বা টেম্পুনের মত মেন্সট্রুয়াল কাপ বার বার পরিবর্তন করার ঝঞ্ঝাট নেই।

০৩. খেলাধুলা,সাঁতার,দৌড় ঝাঁপ করতে গিয়ে স্যানিটারি প্যাড এদিক ও দিক পিছলে যাওয়ার চান্স থাকে, তাই পিরিয়ড যাতে লিখ না করে তার জন্য বার বার

স্যানিটারি প্যাড ফিট করতে হয়। কিন্ত মেন্সট্রুয়াল কাপ একবার লাগিয়ে নিলে জরায়ুর মধ্যে সেটে যায় তাই কাপ নড়াচড়া হওয়ার কোনো চান্স থাকে না।

০৪. মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করলে মাসিক স্রাব কাপের মধ্যে সঞ্চিত হয়ে থেকে যায় তাই বাইরে দুঃগন্ধ বার হওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকেনা।

০৫. স্যানিটারি প্যাড এবং টেম্পুন ব্যবহার করলে মাসিকের রক্ত অনেক্ষন ধরে নারী যৌনাঙ্গের উপরের চামড়ায় লেগে থাকে,ফলে সেখানে সংক্রমিত হয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রামিত

মেন্সট্রুয়াল কাপ কি
মেন্সট্রুয়াল কাপ কিভাবে ব্যবহার করতে হয়

TSS (Toxic Shock Syndrome) এর মত যৌনরোগ হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। আর TSS নামের যৌনরোগটি অধিক্ষণ ভেজা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের ফলে হয়ে থাকে।

কিন্তু মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করলে সেরকম যৌনরোগের কোনো ঝুঁকি থাকেনা,জরায়ুর ভিতরে মাসিক স্রাব কাপের মধ্যে সঞ্চিত হতে থাকে তাই রক্ত বাইরে বার হতে পারেনা।

০৬. স্যানিটারি প্যাড এবং টেম্পুনে রক্ত শোষণ করার জন্য ডায়োক্সিন এবং ব্লিচ এর মত রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার হয় কিন্তু মেন্সট্রুয়াল কাপে সেরকম কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না।

০৭. মেন্সট্রুয়াল কাপ পুরোপুরিভাবে রাসায়নিক যৌগ মুক্ত একটি উপকরণ হওয়ায় যৌনি সংক্রমণ হয়ে যৌনরোগ হওয়ার ভয় থাকেনা।

০৮. মহিলাদের ইউরিন পাস (প্রসাব করার সময় ) করার জন্য আলাদা ভাবে মেন্সট্রুয়াল কাপ খোলার কোনো দরকার হয়না। মহিলারা মেন্সট্রুয়াল কাপ লাগিয়ে অনায়াসে প্রসাব করতে পারে।

০৯. একটি ভালোমানের মেন্সট্রুয়াল কাপ কিনে নিলে একটানা ১০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। তাই মেন্সট্রুয়াল কাপকে একটি অনটাইম সাশ্রয়ী বিনিয়োগ বলতে পারেন।

মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের অসুবিধা গুলি


আগের প্যারাগ্রাফে আমরা জেনেছি মেন্সট্রুয়াল কাপ কি এবং মেন্সট্রুয়াল কাপ কিভাবে ব্যবহার করতে হয় ইত্যাদি ব্যাপারে।

কিন্তু আমাদের মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের সুবিধার পাশাপাশি মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের অসুবিধা গুলোও ভালোভাবে জানা দরকার। মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের অসুবিধা গুলি হল –

০১. শুরুর দিকে যে সমস্ত মহিলারা প্রথমবার মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করবে সেই সমস্ত মহিলাদের মেন্সট্রুয়াল কাপ খুলতে ও পড়তে একটু অসুবিধা হয়।

০২. যে সমস্ত মহিলাদের যৌনিপথ অতিরিক্ত সংবেদশীল (sensitive) সেই সমস্ত মহিলাদের জরায়ু সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচনোর জন্য মেন্সট্রুয়াল কাপ না ব্যবহার করাটাই উত্তম।

০৩. মেন্সট্রুয়াল কাপের মধ্যে মাসিকের রক্ত এসে জমা হয় তাই নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে সেই রক্ত ফেলে পরে আবার কাপ লাগাতে হয়।

তাই যাদের অতিরিক্ত ঘৃণাবোধ আছে সেই সমস্ত  ঘৃণা ব্যাতিব্যাস্ত মহিলাদের মেন্সট্রুয়াল কাপ না ব্যবহার করাটাই উত্তম।

০৪. যেহেতু মেন্সট্রুয়াল কাপটি যৌনিপথের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে জরায়ুর মধ্যে রেখে দিতে হয় তাই কুমারী মেয়েদের মধ্যে মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার নিয়ে ইতস্তত বোধ থাকতে পারে।

কোন মহিলাদের মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়


এমনও দেখা যায় কিছু কিছু মহিলাদের বিশেষ কিছু কারণের জন্য একেবারেই মেন্সট্রুয়াল কাপ সুট করেনা। আসুন একনজরে সেই সমস্ত কারণ গুলোতে ঢু-মেরে নেওয়া যাক।

০১. যে সমস্ত মহিলাদের মাসিকধর্মের সময় মেন্সট্রুয়াল কাপ লাগালে পড়ে জরায়ুতে জ্বালা পোড়ার অনুভূতি হয়। সেইসমস্ত মহিলাদের মেনস্ট্র্যুয়াল কাপ ব্যবহার করা উচিত নয়।

০২. যদি কোনো মহিলা তার যৌনির মাপ অনুযায়ী উপযুক্ত সাইজের মেন্সট্রুয়াল কাপ না পায়, তাহলে সেই মহিলার অবাঞ্ছিত ভাবে ছোটো সাইজের মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার না করাই ভালো।

০৩. কিছু কিছু মহিলাদের সিলিকন ও রাবারে এলার্জি থাকে তাই যেহেতু মেন্সট্রুয়াল কাপ সিলিকন দ্বারা তৈরী তাই, ঐ সমস্ত মহিলাদের মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করা উচিত নয়।

 পিরিয়ডে মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করার আগে যে ১০ টি বিষয়ে নজর রাখবেন 


বিশেষ কয়েকটি কারণের জন্য সমস্ত মেয়েদের মাসিকধর্মের সময় মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করা উচিত –

০১. মেন্সট্রুয়াল কাপ মেয়েদের জরায়ুতে সেঁটে বসে যায়,তাই একবার মেন্সট্রুয়াল কাপ লাগিয়ে নিলে ০৮ থেকে ১০ ঘন্টা কাপ পরিবর্তন করার দরকার পড়েনা।

০২. স্যানিটারি প্যাড এবং অন্যান্য মাসিক রক্ত স্রাব থামানোর উপকরণের তুলনায় মেন্সট্রুয়াল কাপ দিয়ে অনেক বেশি পরিমানে রক্ত সঞ্চয় করা যায়।

০৩. একটি আদর্শ সাইজের মেন্সট্রুয়াল কাপ একবারে ৩০ এমএল পর্যন্ত রক্ত ধারণ করে রাখতে পারে। মাসিকের সময় সে তুলনায় একজন মেয়েদের সারাদিনে ৩০ থেকে ৪০ এমএল রক্ত স্রাব হয়।

০৪. মেন্সট্রুয়াল কাপ এ-গ্রেডের মেডিকেল উপকরণ সিলিকন,লেটেক্স দিয়ে তৈরী করা হয়। যার ফলে কাপ লিক করার মত কোনো সম্ভবনা থাকেনা।

০৫. ফ্রী-সাইজের মেন্সট্রুয়াল কাপ বাজারে উপলব্ধ নয়। কেননা এক একজন মহিলাদের শারীরিক গঠন,বয়স একে অপর থেকে আলাদা আলাদা,কোনো কোনো মহিলার হয়ত বাচ্চা হয়েছে

আবার কোনো মহিলা হয়ত এখনো বিয়ে করেনি,হয়তো বা তার কোনো বাচ্চা নেই। তাই মহিলাদের বয়স,শারীরিক গঠন অনুযায়ী একটি ভালো মাপের কাপ ব্যবহার করা উচিত।

০৬. যে সমস্ত মহিলারা প্রথমবার মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করবে তাদের জন্য মেন্সট্রুয়াল কাপের ব্যবহার কিছুটা অস্বস্তিকর বলে মনে হতে পারে। কিন্তু কয়েকদিন ব্যবহার করলে সেই অস্বস্তিবোধ কেটে যায়।

তবে খেয়াল রাখা উচিত যে সমস্ত মহিলারা  প্রথমবার মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করছে তাদের কখোনই তাড়াহুড়ো করে কাপ লাগানো উচিত নয়,মেন্সট্রুয়াল কাপ লাগানোর সময় সংযম রাখা উচিত।

০৭. মাসিকধর্মের সময় ব্যবহার হওয়া অন্যান্য জিনিস,যেমন- স্যানিটারি প্যাড টেম্পুন ইত্যাদি আমাদের আসে পাশে কচড়ার স্তূপের ন্যায় জমা হয়ে পরিবেশ দূষণ করে। কিন্তু অপরদিকে

একটি মেন্সট্রুয়াল কাপ পিরিয়ডে একাধিক বার ব্যবহার করা যায়। একটি মেন্সট্রুয়াল কাপ কিনে নিয়ে ঠিকঠাক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে ব্যবহার করলে কমপক্ষে ০৩ থেকে ১০ বছর অবধি ব্যবহার করা যেতে পারে।

০৮. একটি মেন্সট্রুয়াল কাপ পিরিয়ডে একটানা ১০ থেকে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত বিনা লিকেজে মাসিকের রক্ত স্রাব ধারণ করে রাখতে পারে,যা স্যানিটারি প্যাডের তুলনায় অনেক আরামদায়ক।

০৯. প্রথমবার মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করার পর কাপ জরায়ু থেকে বার করার সময় কাপের মধ্যে রক্ত জমা হয়ে থাকে,সেই রক্ত দেখতে অনেকের ভালো না লাগতেও পারে,

কিন্তু এখানে না ঘাবড়ে,মেন্সট্রুয়াল কাপের মধ্যে জমা হওয়া রক্ত বাথরুমে ড্রেন করে দিয়ে, কাপ পরিষ্কার করে দ্বিতীয় বার লাগিয়ে নিন। সময়ের সাথে সব কিছু মানিয়ে নিতে হয় এটাই নিয়ম।

১০. প্রতিবার মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করার আগে ও পরে কাপ ও হাত দুটোই পরিষ্কার করে নেওয়াটা  অত্যন্ত জরুরী,তা নইলে দুটো জিনিস থেকেই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়।

মেন্সট্রুয়াল কাপ এর দাম কত ( menstrual cup price )


এবারে আপনাদের মনে হতে পারে মেন্সট্রুয়াল কাপ কি ? মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের নিয়ম ও মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের সুবিধা তো জানালাম

কিন্তু আসল জিনিস তো জানতে পারলাম না, মেন্সট্রুয়াল কাপ এর দাম কত ? সেটাই তো জানা হলনা ? কিন্তু চিন্তার কোনো কারণ নেই মেন্সট্রুয়াল কাপ এর দাম আপনার বাজেটের মধ্যেই।

একটি ভালোমানের মেন্সট্রুয়াল কাপ এর দাম ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকার মধ্যেই হয়। যা আশাকরি আপনার কাছে বাজেট সাশ্রয়ী,নিশ্চয় খুব একটা বেশি দামি বস্তু নয়।

আরো পড়ুন : সমকামিতা কাকে বলে  ? সমকামিতার প্রকার ভেদ ( সমকামিতা কত প্রকারের হয় )

মেন্সট্রুয়াল কাপ কোথায় পাওয়া যায়


মেন্সট্রুয়াল কাপ সমস্ত রকমের মেডিক্যাল স্টোরে পাওয়া যায়। তবে আমার মনে হয় মেডিকেল স্টোরে গিয়ে দোকানদারের কাছে সাইজ মত মেন্সট্রুয়াল কাপ চাওয়া নিয়ে অনেক মহিলাই

নিজেকে comfortable বোধ না করতেও পারে। তাই আমার মনে হয় এই সমস্ত জিনিস অনলাইন বিপণিগুলো থেকে কেনাটাই সবথেকে ভালো।

মেন্সট্রুয়াল
মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের নিয়ম
মেন্সট্রুয়াল কাপ কি
মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহায়েরের নিয়ম

মেন্সট্রুয়াল কাপ লাগানোর ভিডিও


পরিশিষ্ট


এই আর্টিকেলে আমরা মেয়েদের মাসিক ধর্মের সময় মাসিক রক্তস্রাব ক্ষরণ ঠেকানোর জন্য যুগউপযোগী আধুনিক উপকরণ মেন্সট্রুয়াল কাপ কি ?

এবং তার সাথে মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের নিয়ম,মেন্সট্রুয়াল কাপ এর দাম,মেন্সট্রুয়াল কাপ কোথায় পাওয়া যায়,মেন্সট্রুয়াল কাপের যত্ন কিভাবে নিতে হয় ইত্যাদি ব্যাপারে জানলাম।

আমার বিশ্বাস আপনারা যদি পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই মেন্সট্রুয়াল কাপের ব্যবহারের বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা পেয়ে গেছেন।

এর পরেও মেন্সট্রুয়াল কাপ কি ? অথবা মেন্সট্রুয়াল কাপ উপকরণটিকে নিয়ে আপনাদের মনে কোনো জিজ্ঞাসা থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন।

FAQ


প্রশ্ন :- মেন্সট্রুয়াল কাপ এর দাম কত ?

উঃ- মেন্সট্রুয়াল কাপ এর দাম ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকার মধ্যে হয়।

প্ৰশ্ন:- মেন্সট্রুয়াল কাপ কোথায় পাওয়া যায় ?

উঃ – মেন্সট্রুয়াল কাপ সবধরণের মেডিকেল স্টোর এবং amazon এর মত অনলাইন বিপনীতে পাওয়া যায়।

এই আর্টিকেল গুলোও পড়ে দেখুন :-