মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল কিভাবে কাজ করে (AK 47 Riffle for brutal attack)

আজকে আলোচনা করব মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল কিভাবে কাজ করে (How to work AK 47 Riffle) সেই ব্যাপারে।

আপনি ঠিকই পড়েছেন,আমরা আলোচনা করব একে ৪৭ রাইফেল নিয়ে। আজকালকার দিনে সেনা,আধাসেনা, আতঙ্কবাদী,মাওবাদী,পাবাজী লাভার,

সবার পছন্দের তালিকার শীর্ষে যে অস্ত্রটি রয়েছে,সেটি হল একে ৪৭ রাইফেল। একে ৪৭ রাইফেল’টি এতবেশি  জনপ্রিয় কেন ?

মিখাইল কালাশনিকভের একে ৪৭ রাইফেল এতবেশি জনপ্রিয় হওয়ার কারণ জানার জিজ্ঞাসা সবার মনে কমবেশি আছে। বিশেষ করে যারা সেনা ও দেশকে ভালোবাসে তাদের মনে,

মিখাইল কালাশনিভ এর বানানো অত্যাধুনিক অটোমেটেড একে ৪৭ রাইফেল সমন্ধে বিস্তারিত জানার কৌতূহল মনে সর্বদা উঁকি-বুকি মারে।

তাই আজকে সেই সমস্ত মানুষ যারা দেশেকে ভালোবাসে,সেনাকে ভালোবাসে তাদের প্রিয় অস্ত্র একে ৪৭ রাইফেল কে নিয়ে সমস্ত কৌতূহলের অবসান ঘটানো হবে আজকের আলোচলনায়।

আমার বিশ্বাস মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল কিভাবে কাজ করে,পোস্টটি পড়ার পর আপনাদের মনে মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল,

আধুনিক বিশ্বে AK 47 এর দাম কত ? মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল নির্মাণের ইতিহাস। AK 47 রাইফেলের বিভিন্ন অংশের নাম,

মিখাইল কালাশনিকভ এর তৈরি রাইফেলের নাম একে ৪৭ রাইফেল রাখা হল কেন ? সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

একে ৪৭ রাইফেল নির্মাতা মিখাইল কালাশনিকভ এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়


১৯১৯ সালের ১০ নভেম্বর সাইবেরিয়ার আলতাই অঞ্চলের কুরিয়া গ্রামে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে মিখাইল কালাশনিকভ জন্ম গ্রহণ করেন।

মিখাইল কালাশনিকভ এর বাবা হলেন আলেকসান্দ্রা কালাশনিকভ এবং মাতা হলেন তিমোফেল। মিখাইল কালাশনিকভ এর পুরো নাম হল,

মিখাইল তিমোফিয়েভিচ কালাশনিকভ। মিখাইল কালাশনিকভ রা ১৯ ভাই বোন ছিলেন। মিখাইল কালাশনিকভ ছিলেন তার বাবা মায়ের ১৭ তম সন্তান।

পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতার অভাবে মিখাইল কালাশনিকভ উচ্চ শিক্ষা নিতে পারেননি। তিনি সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

অর্থাভাবে মিখাইল কুরিয়া গ্রামের একটা ট্রাক্টর গ্যারেজে মেকানিকের কাজ করতেন। ঐ গ্যারেজে কাজ করার সময় থেকে মিখাইলের মনে যন্ত্র প্রেমের সূত্রপাত হয়।

১৯৩৮ সালে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী মিখাইল কালাশনিকভ সোভিয়েত ইউনিয়নের রেড আর্মিতে যোগ দেয়।

অগাধ যন্ত্র প্রেম দেখে মিখাইল কালাশনিকভকে রেড আর্মির ট্যাঙ্ক রেজিমেন্টের একজন মেকানিক হিসাবে নিয়োগ করা হয়।

পরে মিখাইল কালাশনিকভ নিজ মেধা বলে, সোভিয়েত রেড আর্মির ২৪ তম ট্যাঙ্ক রেজিমেন্টের ট্যাঙ্ক কমান্ডার হিসাবে নিযুক্ত হন।

একে ৪৭ রাইফেল নির্মাণের প্রেক্ষাপট


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে হিটলারের জার্মান বাহিনী এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়

হিটলারের জার্মান বাহিনীর সেনার এক রেজিমেন্ট হঠাৎ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের রেড আর্মির উপর আঘাত হানে এবং প্রায় ৮০ লক্ষ সৈনিক মারা যায়।

ঐ যুদ্ধে মিখাইল কালাশনিকভ ট্যাঙ্ক নিয়ে যুদ্ধ ক্ষেত্রে পৌঁছলে ব্রায়ানস্কে জার্মান বাহিনীর গোলার আঘাতে মিখাইল কালাশনিকভ এর ট্যাঙ্ক ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

যুদ্ধ ক্ষেত্রে মিখাইল কালাশনিকভ গম্ভীর ভাবে আহত হন। তাকে সোভিয়েত আর্মি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ০৬ মাস যাবৎ তিনি হাসপাতালে কাটান।

হাসপাতালে  মিখাইল কালাশনিকভ ও অন্যান্য সাথীদের মধ্যে বাত্রালাপে,সোভিয়েত আর্মির পরাজয়ের জন্য তাদের হাতিয়ার কে দায়ী করেন।

কালাশনিকভ ও তার অন্যান্য সাথীদের মতে তাদের হাতিয়ার যদি যুদ্ধ ক্ষেত্রে সফল হত তাহলে হয়ত,সোভিয়েত আর্মির এতো সৈনিক মারা যেত না।

মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল কিভাবে কাজ করে

 

তাছাড়া সোভিয়েত ইউনয়নের চরম ঠান্ডার মধ্যে সৈনিকদের শীত বস্ত্র এবং হাতে দস্তানা পড়তে হত। কিন্তু অনেক সময় মোটা দস্তানার জন্য ঠিক ভাবে,

হাতিয়ারের ট্রিগার অপারেট করা যেত না। প্রচন্ড ঠান্ডায় সৈনিকদের বন্দুকের নালী জ্যাম হয়ে যেত। তাই অনেকসময় প্রয়োজনের সময় হাতিয়ার কাজ না করায় সৈনিকরা শত্রুদের গুলিতে মারা যেত।

অপরদিকে মিখাইল কালাশনিকভ যুদ্ধে আহত হয়ে শারীরিক দক্ষতা হারিয়ে ফেলেন। তিনি সেই সময় ঠিকভাবে চলতে ফিরতে পর্যন্ত পারতেন না।

তাই তাকে আর রেড আর্মির ট্যাঙ্ক ডিভিশনে সিলেক্ট করা হয়না। তখন কালাশনিকভ তার অন্যন্য সহকর্মীদের উৎসাহে সোভিয়েত রেড আর্মির জন্য,আমেরিকান M-১৬ রাইফেল এবং জার্মানের SIG-৪৪ রাইফেলের,

অনুকরণে এক অত্যাধুনিক অটোমেটিক কার্বাইন রাইফেল বানানোর পরিকল্পনা করেন। মিখাইল কালাশনিকভকের এই সিদ্ধান্তকে রেড আর্মি কর্তৃপক্ষ সমর্থন দেয়।

এরপর কালাশনিকভ সোভিয়েত ইউনিয়নের মাতাই অস্ত্র কারখানায় নতুন হাতিয়ার উদ্ভাবনের জন্য জোর কদমে রিসার্চ শুরু করে দেয়।

মিখাইল কালাশনিকভ দ্বারা একে ৪৭ রাইফেল নির্মাণ


মিখাইল কালাশনিকভ ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় যুদ্ধ চলাকালিন জার্মান বাহিনীর আঘাতে আহত হওয়ার পর থেকেই নতুন হাতিয়ার তৈরীর জন্য রিসার্চ শুরু করে দেয়।

১৯৪৪ সালে কালাশনিকভ একটি কার্বাইন রাইফেলের ডিজাইন তৈরি করে ফেলেন। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের কালাশনিকভ এর করা নতুন অস্ত্রের ডিজাইন পছন্দ হয় না।

এই ভাবে মিখাইল কালাশনিকভ তার প্রথম চেস্টায় ব্যর্থ হয়। কিন্তু তিনি এখানেই হার মেনে নেননি,বরঞ্চ আরো দ্বিগুন উৎসাহে নতুন অস্ত্র নির্মাণে নিজেকে বিভোর করে নেন।

কিন্তু এবারে আর মাতাই অস্ত্র কারখানায় নয়,তিনি তার গবেষণার সুবিদার্থে ইজভেস্ক অস্ত্র কারখানায় এসে নতুন ভাবে অস্ত্র নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।

১৯৪৬ সালে ইজভেস্ক অস্ত্র কারখানায় সফল ভাবে কালাশনিকভ একটি নতুন গ্যাস দ্বারা পরিচালিত হাতিয়ার একে-৪৬ তৈরি করে ফেলেন।

যেটাকে আপনার একে ৪৭ রাইফেলের আগের সংস্করণ বলতে পারেন। একে-৪৬ রাইফেল টিকে সোভিয়েত ইউনয়ন রেড আর্মির ফায়ারিং রেঞ্জে কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরীক্ষা করা হয়।

একে-৪৬ রাইফেলটি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বারা রাইফেল টিকে কালাশনিকভকে আরো আধুনিক এবং নিখুঁত ভাবে প্রস্তুত করার জন্য নির্দেশ দেয়।

১৯৪৭ সালে মিখাইল কালাশনিকভ এর তৈরি অটোমেটিক রাইফেলটি ট্রায়াল রানে সফল হয়। এরপর সোভিয়েত রেড আর্মির নির্দিষ্ট কয়েকটি সেনা রেজিমেন্টে একে ৪৭ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

১৯৪৯ সালে সরকারি ভাবে সমস্ত সোভিয়েত রেড আর্মির মধ্যে অফিসিয়ালি একে ৪৭ রাইফেল ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা হয়।

১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ সাল মোট ০৬ বছরের কঠিন পরিশ্রমে মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেলটি তৈরি করেন এবং রাইফেলটির নাম,

মিখাইল কালাশনিকভের নামে রাখা হয়। AK-৪৭ এর A-বলতে এখানে রাশিয়ান কোড ওয়ার্ড Automated এবং K-বলতে এখানে আবিষ্কারকের নাম কালাশনিকভ‘কে বোঝানো হয়েছে।

রাইফেল এর আধুনিক মডেল ১৯৪৭ সালে প্রস্তুত হয়,তাই ৪৭ দ্বারা হাতিয়ারটি কত সালে তৈরি হয়েছে সেই বছর /সাল কে ইঙ্গিত করছে।

কথিত আছে একে ৪৭ নির্মাণ কালে,একে ৪৭ রাইফেলের টেস্টিংয়ের সময় মিখাইল এত বেশি রাউন্ড একে ৪৭ থেকে ফায়ার করেন,যে রাইফেলের ফায়ারিংএর আওয়াজে তিনি কানে কালা হয়ে গেছিলেন।

কিন্তু দুঃখের বিষয় এতো বড় আবিষ্কার করা সত্ত্বেও মিখাইল কালাশনিকভ,তার বানানো একে ৪৭ এর প্যাটেন্ট ধরে রাখতে পারেন নি।

একে ৪৭ এর জনপ্রিয়তা দেখে চায়না,বুলগেরিয়া,রোমানিয়া ইত্যাদি বড় দেশ গুলি একে ৪৭ এর নকল করা শুরু করে দেয়।

মিখাইল ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্যাটেন্ট এর জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যায়। কিন্তু তিনি তাতে সফল হয়নি। ২০১৩ সালে একে ৪৭ রাইফেলের ডিজাইনার মিখাইল কালাশনিকভ ৯৪ বছরে মারা যায়।

আরো পড়ুন: মহাকাশ বিজ্ঞানী কল্পনা চাওলা। 

একে ৪৭ রাইফেলের জনপ্রিয়তার কারণ


সোভিয়েত ইউনিয়নে রেড আর্মিতে একে ৪৭ জনপ্রিয়তা পেলে, সোভিয়েত ইউনয়ন তার বন্ধু দেশ ভিয়েতনাম সহ অন্যন্য দেশ গুলিকে একে ৪৭ হাতিয়ার দেন।

কিন্তু একে-৪৭ তার ভয়ঙ্কর রূপ দেখায় ১৯৫৫ সালে ভিয়েতনাম আমেরিকা যুদ্ধে। আমেরিকার সর্বাধুনিক হাতিয়ার M-১৬ কে ধুলো চাটিয়ে দেয় একে ৪৭ রাইফেল।

একে-৪৭ এর তীব্র গতি ও মারণ ক্ষমতা যুদ্ধ ক্ষেত্রে রণচন্ডি হয়ে,বিভীষিকা ছড়িয়ে দেয়। প্রতি সেকেন্ড ১০ রাউন্ড ব্রাস্ট ফায়ার আমেরিকার সেনাদের যুদ্ধ ক্ষেত্রে দিশেহারা করে দেয়।

যুদ্ধ ক্ষেত্রে ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের ন্যায় শত্রুদের একের পর এক মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। শেষ-মেস আমেরিকার মত শক্তিধর দেশ বাধ্য হয় M-১৬ রাইফেল ফেলে একে-৪৭ হাতে তুলে নিতে।

একে ৪৭ রাইফেলের বিভিন্ন অংশের নাম

আজকে একে ৪৭ তার ৭৩ বছর পার করে চলে এসেছে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সেনা বাহিনীতে আরো অন্যান্য আধুনিক হাতিয়ার সামিল করা হয়েছে।

কিন্তু একে-৪৭ তার প্রতিযোগীদের মাত দিয়ে আজও সমান জনপ্রিয়। কিন্তু প্রশ্ন হল একে ৪৭ রাইফেল সেনা,আধাসেনা,বিভিন্ন আতঙ্কবাদী সংগঠন,উগ্রবাদী সংগঠনের কাছে এত জনপ্রিয় কেন ?

দেখুন একে ৪৭ অস্ত্রটি জনপ্রিয় হওয়ার শুধু একটা কারণ নয়,অনেক কারণ আছে,যার জন্য জনপ্রিয়তার শিখরে আজও তার ঐতিহ্য কে ধরে রেখেছে।

০১. একে-৪৭ রাইফেল টি হল এমন একটা অস্ত্র, যা পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় সমান ভাবে ফায়ার করতে সক্ষম।

০২. কালাশনিকভ এর তৈরি একে-৪৭ রাইফেলটি জলে,স্থলে,আকাশে সমান ভাবে নিখুঁত ভাবে টার্গেটকে হিট করার ক্ষমতা রাখে।

০৩. পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে রাইফেলটি জলের তলাতেও সমান ভাবে টার্গেট কে হিট করতে সক্ষম। তাই মরুভূমিতে বালি হোক,আর কাশ্মীর ঘাঁটিতে তীব্র ঠান্ডা হোক সব জাগায় সমান কার্যকর হাতিয়ার।

০৪. একে-৪৭ রাইফেল এর উপর রোড রোলার বা ভারী ট্রাক চালিয়ে দিলেও হাতিয়ার সমান ভাবে কার্যকারী।

০৫. রাইফেল টি গ্যাস দ্বারা পরিচালিত এবং সম্পূর্ণভাবে অটোমেটিক যা প্রতিমিনিটে ৬০০ রাউন্ড ফায়ার করার ক্ষমতা রাখে।

০৬. একে-৪৭ এর নালী থেকে ৭১৫ মিটার প্রতি সেকেন্ড গতিতে নির্গত গুলি ৩১৫ মিটারের মধ্যে যেকোনো টার্গেটকে ভেদ করার ক্ষমতা রাখে।

০৭. একে-৪৭ রাইফেল টিতে আন্ডার ব্যারেল গ্যাস লঞ্চার লাগিয়ে গ্রেনেড ফায়ার করা যায়।

০৮. একে-৪৭ রাইফেলের গুলির ৭১৫ মিটার প্রতি সেকেন্ড গতিবেগ,০৫ ইঞ্চি কংক্রিটের দেওয়াল এবং ০৮ ইঞ্চি কাঠের গদির ভেতর দিয়ে নির্দ্বিধায় এপার ওপার হয়ে যায়।

একে ৪৭ এর দাম কত (AK 47Price)


দেখুন আপনাদের অনেকেই একে ৪৭ এর দাম কত ? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন। কিন্তু আপনাদের জেনে রাখা ভালো ভারতের মত দেশে, একে ৪৭ এর দাম কত ? জিজ্ঞাসা করার কোনো যোক্তিকতা নাই।

কারণ আমাদের দেশে একে-৪৭ রাইফেল এর মত ভয়ঙ্কর আগ্নেয় অস্ত্র সর্বসাধনের ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয় না।

তবুও একে ৪৭ এর দাম কত ? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। ২০০৪ সালে মিখাইল কালাশনিকভ ভারতে আসেন।

তিনি ডি.আর.ডিও সহ বেশ কয়েকটি সেনা অস্ত্র পরীক্ষণ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। সেখানে তিনি একে-৪৭ রাইফেল দেখেন এবং অসন্তুষ্ট হন।

একে ৪৭ এর দাম কত

কারণ সেই একে ৪৭ রাইফেল কিন্তু মিখাইল কালাশনিকভ এর তৈরি রাইফেল ছিল না। ভারতের কাছে যে রাইফেল ছিল সেই রাইফেল ছিল বুলগেরিয়া এবং রোমানিয়া নির্মিত একে ৪৭ রাইফেল।

মিখাইলের অসন্তোষের কারণ টা আপনাদিকে পরের অনুচ্ছেদে জানাচ্ছি। যাই হোক, ভারত সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে একে ৪৭ রাইফেল কেনেননি তার কারণ হল,

সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের অস্ত্র নিয়ে সেরকম কোনো ডিল হয়নি। তাছাড়া তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন যে দরে একে ৪৭ রাইফেল বিক্রি করছিল,যা বুলগেরিয়া অথবা রোমানিয়া থেকে কিনলে,

প্রতি একে ৪৭ রাইফেলে ৫,০০০ টাকা মত সস্তা পড়ছিল। অপরদিকে ঐ একই রাইফেল একে ৪৭ এর জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের টাকা অনুযায়ী ৩৫,০০০০ টাকা মত পড়ছিল তখনকার দিনে।

আসা করছি একে ৪৭ এর দাম কত ? এই নিয়ে একটা ধারণা আপনারা পেয়েছেন। যাইহোক পাকিস্তান কিংবা অন্যান্য আরো দেশে একে ৪৭ রাখা বৈধ হলেও, ভারতে কিন্তু তা অপরাধ।

একে ৪৭ রাইফেলের বিভিন্ন অংশের নাম


এবারে আপনাদের পরিচয় করা হবে একে ৪৭ রাইফেলের বিভিন্ন অংশের নাম নিয়ে। দেখুন একে ৪৭ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত- ০১) বডি গ্ৰুপ, ০২) পিস্টন এক্সটেনশন এসেম্বলি।

বাকি একে ৪৭ রাইফেলের বিভিন্ন অংশের নাম জানার জন্য আপনাকে ভালো ভাবে একে ৪৭ রাইফেলের বিভিন্ন অংশের নাম এর ছবি দেখতে হবে।

একে ৪৭ রাইফেল

আপনাদের বোঝার সুবিদার্থে,আমরা একে ৪৭ রাইফেলের বিভিন্ন অংশের নাম এর একটা ছবি দিলাম,ছবিতে ক্লিক করে,আসা করি আপনি একে ৪৭ রাইফেলের বিভিন্ন অংশের নাম সমদ্ধে একটা স্বচ্ছ ধারণা পেয়ে যাবেন।

আরো পড়ুন: আলফ্রেড নোবেল ও নোবেল পুরুস্কার। 

মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল কিভাবে কাজ করে (How to work AK 47 Riffle)


এই পঙতিতে মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল কিভাবে কাজ করে (How to work AK 47 Riffle) এই ব্যাপারে একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।

মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল কিভাবে কাজ করে,পুরো পক্রিয়া বোঝার জন্য বুঝতে হবে রাইফেলের চলন পক্রিয়া কে।

একে ৪৭ রাইফেলের চলন পক্রিয়া দুটি বড়ো ভাগ এবং ০৮ টি ছোট ছোট ভাগের মধ্যে দিয়ে পুরো পক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

০১. পিছনের চলন ক্রিয়া:- একে ৪৭ এর কোকিং হ্যান্ডেল ধরে পিছনের দিকে টানলে সর্বপ্রথমে ০১)রাইফেল আনলক হয় ০২) তারপর কক হয়, ০৩) এক্সট্রাক্ট এবং ০৪) ইজেক্ট পক্রিয়া।

০২. আগের চলন পক্রিয়া:- একে ৪৭ রাইফেল প্রথমে ০১) ফিড, ০২) লোড ,০৩) লক এবং ০৪) ফায়ার।

মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল কিভাবে কাজ করে (How to work AK 47 Riffle) আসা করি সামান্য ধারণা পেয়েগেছেন।

একে ৪৭ এর দাম কত

আর এর থেকে বেশি মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল কিভাবে কাজ করে (How to work AK 47 Riffle) জানতে হলে কোনো আর্মির লোকের কাছে গিয়ে জানতে পারেন।

পাবলিক ডোমেনে এর থেকে বেশি মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল কিভাবে কাজ করে (How to work AK 47 Riffle) বিস্তারিত তথ্য পাওয়া হয়তো সম্ভব নয়।

AK-47 Riffel Technical Data


  • AK 47 Riffle এর পুরো নাম Automated Kalashnikov-47 Riffle
  • একে ৪৭ এর নির্মাতা দেশ:-সোভিয়েত ইউনিয়ন তৈরি করেন।
  • আবিস্কারক : মিখাইল কালাশনিকভ।
  • কার্টিজ : ৭.৬২ X ৩৯ mm
  • রেট অফ ফায়ার : ৬০০ রাউন্ড প্রতি সেকেন্ড।
  • ম্যাগজিন ক্ষমতা : ৩০ রাউন্ড।
  • কার্যকর দূরত্ব : ৩০০ মিটার।
  • রাউন্ডের গতিবেগ : ৭১৫ মিটার প্রতি সেকেন্ড।
  • দের্ঘ্য: ৮৭০ mm
  • ওজন : ৪ কেজি ৩০০ গ্রাম।
  • প্রথম যুদ্ধে ব্যবহার : ১৯৫৫ সাল ভিয়েতনাম আমেরিকা যুদ্ধ।
  • ডিজাইন প্রস্তুত বছর : ১৯৪৭ সাল।
  • আজ পর্যন্ত কত একে ৪৭ নির্মাণ করা হয়েছে : প্রায় ৮০ মিলয়ন ছুঁই ছুঁই।
  • একে ৪৭ এর গুলিতে প্রতি বছর কত লোক মারা যায় : প্রায় ০২ লক্ষ।

পরিশিষ্ট :


মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল কিভাবে কাজ করে রচনাটিতে,একে ৪৭ রাইফেলের দাম কত,রাইফেল কিভাবে কাজ করে ইত্যাদি বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করা হল।

কিন্তু মনে রাখবেন হাতিয়ার সমন্ধে জ্ঞান রাখা ভালো, কিন্তু কাছে হাতিয়ার রাখা ভালো না। কারণ হাতিয়ার মানেই রক্তের ফোটা।

আজকে বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন আতঙ্কবাদী সংগঠনের হাতে একে-৪৭ এর মত মরণ অস্ত্র পোঁছে গেছে। সন্ত্রাস মূলক কাজে তারাই আজ বেশি একে ৪৭ ব্যবহার করছে।

ইউনাইটেড মিশন আমেরিকার এক সার্ভে দেখা গেছে,এখন পর্যন্ত সবথেকে বেশি তালিবান জঙ্গি গোষ্ঠী সর্বাধিক একে ৪৭ রাইফেল টি ব্যবহার করছে।

তাই আমরা বলতেই পারি হাতিয়ার যেমন একদিকে সৈনিকের হাতে থাকলে দেশের,দশের আত্মরক্ষার কবজ। আবার অপরদিকে ঐ হাতিয়ার সন্ত্রাসবাদীদের হাতে থাকলে রক্ত পিপাসু।

যাই হোক মিখাইল কালাশনিকভ একে ৪৭ রাইফেল কিভাবে কাজ করে রচনাটি কেমন লাগল,আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। আর যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।