মহালয়া কেন পালন করা হয় (Mahalaya keno palon kora hoy)

আমাদের প্রায় সই বাঙালিদের মধ্যে চিরাচরিত ধারণা এই যে,মহালয়া মানেই দুর্গাপূজার সূচনা। মহালয়ার ০৬ দিন পরেই চিরাচরিত রীতি মেনেই প্রতিবছর দুর্গাপূজার সূচনা হয়।

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন মহালয়া কেন পালন করা হয় ? অথচ আমরা প্রতিবছর মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়া মহিষাসুরমর্দিনী শুনে আসছি। এখনতো সোস্যাল মিডিয়ার যুগ,

মহালয়ার সকালে ফেসবুকে,হোয়াটসয়্যাপ,ইনস্টাগ্রামে ‘শুভ মহালয়ার’ বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা বিনিময়ে আমরা সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু আসলে মহালয়া কি আদৌ শুভ ? মহালয়া আসলে কি ?

মহালয়া যদি শুভ হবে তাহলে মহালয়ার দিন পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তিতে মহালয়ার তর্পন মন্ত্র দিয়ে তর্পণের মানে কি ? তর্পনের সঙ্গে মহালয়া তাৎপর্য কি ? আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মহালয়া আসলে কি ?

মহালয়া আসলে কি (Mahalaya asole ki)

মহালয়া কথাটি হল স্ত্রী লিঙ্গ,মহালয়া কথাটির বুৎপত্তি হয়েছে মহালয় শব্দটি থেকে। মহালয়ের অর্থ হল পরমাত্মায় বিলীন হওয়া। ‘মহ’ শব্দের আর একটি অর্থ হল ‘প্রেত’ এবং ‘আলয়’ শব্দের অর্থ হল ‘গৃহ’

মহালয়ার আক্ষরিক অর্থে মানে হয় প্রেতাত্মাদের প্রাসাদ বা বাসস্থান। সনাতন হিন্দু ধর্মানুগামীদের মতে মহালয়ার বিশেষ দিনে যমলোক থেকে যমরাজ, যমপুরীর প্রয়াত আত্মাদের মর্তধামে পাঠিয়ে দেয় তাদের

নতুন প্রজন্মের উত্তরসূরীর কাছ থেকে তর্পন জল গ্রহণ করার জন্য। মহালয়ার দিনে নতুন প্রজন্মের থেকে পূর্ব তিন পুরষেরা পিন্ড লাভ এবং জল পেলে তাদের অতৃপ্ত আত্মা তৃপ্ত হয়ে পরমাত্মায় বিলীন হয়।

হিন্দু ধর্মে কৃষ্ণপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনার (শুক্ল পক্ষ) এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের কাহিনী অনুসারে যে সময় প্রয়াত আত্মার পরমাত্মায় বিলীন হয় সেই সময়কে মহালয় বলা হয়।

পরমাত্মা হল পরমব্রহ্ম এবং নিরাকার, পরমব্রহ্মের আশ্রয়স্থল হল মহালয়। আর প্রয়াত আত্মারা তাদের উত্তরসূরির কাছ থেকে মহালয়ার দিনে তর্পন জল গ্রহণ করে মোক্ষ লাভ করে।

মহালয়া কেন পালন করা হয় (Mahalaya Keno Palon Kora Hoy)

শ্রী রাম চন্দ্র ত্রেতা যুগে রাবণ বধ করার জন্যে অকাল বোধন করেছিলেন। হিন্দু শাস্ত্রমতে পারিবারিক শুভ কাজ যেমন,-বিবাহ অন্নপ্রাসন,উপনয়ন আদি আরম্ভের পূর্বে,

পরোলোকগামী মাতা,পিতা,সহ পরোলোকগামী পিতৃপুরুষ এবং সমস্ত জীবকুলের আত্মার মোক্ষ লাভের জন্যে পূর্বপুরুষদের উত্তরসূরিদের দ্বারা নান্দীমুখ করে তর্পন নিবেদন করা হয়।

শাস্ত্রমতে ভগবান শ্রী রাম রাবন বধ করে সীতা উদ্ধারের জন্যে অসময়ে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন। ভগবান শ্রী রাম চন্দ্র শরৎ কালে দেবী দুর্গার অকাল বোধন করার পূর্বে

রাম চন্দ্র এবং ভাই লক্ষণ পিতৃপুরুষদের আত্মার সন্তুষ্টির জন্যে নান্দীমুখ করে তিল গঙ্গাজল সহ তর্পন করার পর,দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন।

হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষদের বিশ্বাস মহালয়ার দিন থেকে শুরু করে আগের ১৪ দিন পর্যন্ত যমপুরীর রাজা রাজ যমপুরীতে আসা সকল আত্মাদের অন্ন জল গ্রহণের জন্য পিত্রালয়ে বাপের ভিটায় পাঠিয়ে দেয়।

মহালয়ার দিন প্রেতালয় (যমপুরী) থেকে পিতৃপুরুষের আত্মারা তাদের উত্তরসূরিদের কাছ থেকে জল গ্রহণ করার জন্যে নিজের ভিটেয় মর্ত্যলোকে ফিরে আসে। প্রেতলোকের সমস্ত আত্মার

একসাথে মর্ত্যধামে আগমনের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয় এক মহা আলয়। পূর্ব পুরুষদের তার উত্তরসূরি পুরুষদের দ্বারা স্মরণ করার বিশেষ দিনই হল মহালয়া। তাই প্রেতালয়ের আত্মাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে

পরমব্রহ্মে পরমাত্মায় মুক্তি পাওয়ার আশায় আপামর মর্ত্যবাসী মহালয়ার দিন ভোরবেলা গঙ্গা স্নানের মধ্যে দিয়ে তার পূর্ব পুরুষদের অতৃপ্ত আত্মাদের শান্তির উদ্দেশ্যে তিল ও জল তর্পন কর থাকেন।

মহালয়া কেন পালন করা হয়
মহালয়া কেন পালন করা হয়

কিন্তু মহাভারতের কাহিনীতে সম্পূর্ণ আলাদা এক কাহিনী সামনে আসে। মহাভারতের কাহিনী অনুসারে অঙ্গরাজ কর্ণের মৃত্যুর পর কর্ণের স্বর্গবাস হলে সেখানে তাকে খাদ্য ও পানীয় হতে বঞ্চিত রাখা হয়।

তার পরিবর্তে কর্ণকে বিপুল পরিমানে সোনা,রুপো,জহরত আদি দেওয়া হয়। কিন্তু কর্ণ এসবের মাঝেও একটা জিনিস থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন,তা হল অন্ন এবং পান করার জন্য পানীয়।

কিন্তু হলে কি হবে সোনা,রুপো,ধনরত্নে তো আর পেট ভরেনা,পেটের খুদা মেটানোর জন্যে দরকার অন্ন জলের। কিন্ত কর্ণ স্বর্গে গিয়ে সমস্ত রকম সুবিধা পেয়েও অন্ন জলাভাবে কাতরাচ্ছিলেন।

নিরুপায় কর্ণ তখন যমরাজের কাছে খুদা নিবারণের জন্য অন্ন ও জল প্রাথনা করেন। তখন যমরাজ নিরুপায় হয়ে কর্ণকে বলেন বিধাতার বিধান অনুসারে ব্যক্তি মর্তলোকে যে সকল বস্তু দান করেন,

সে সকল বস্তু গুলো স্বর্গে এসে শতগুণ ফিরে পায়। কর্ণ তখন যমরাজকে বলেন আমি মর্ত্যধামে তো অনেক দান,ধ্যান করছি তবুও কেন আমাকে স্বর্গলোকে অন্ন জলাভাবে কষ্ট পেতে হচ্ছে ?

যমরাজ তখন কর্ণকে তার মর্ত্যধামে দান ধ্যানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন,আপনি মর্ত্যধামে অনেক দান ধ্যান করেছেন ঠিকই,আপনাকে মানুষ দানবীর কর্ণ হিসাবেই জানে,

তাই হাজার সোনা রুপা দান করলেও আপনি কখনো মানুষকে এক মুঠো অন্নজল দান করেননি,তাই আপনাকে স্বর্গ সুখ হিসাবে সোনা,রুপা জহরত আদি দেওয়া হলেও খুদা নিবারণের জন্য অন্নজল দেওয়া বারণ।

তখন নিরুপায় হয়ে দানবীর কর্ণ যমরাজের কাছে এর বিহিত চান। যমরাজ তখন কর্ণের উপর করুনা করে স্বর্গলোকে কর্ণের অন্নজলের বিহিত করার জন্যে কর্ণকে মর্ত্যধামে গিয়ে প্রায়াশ্চিত্ত করার একটি সুযোগ দেন।

এরপর যমরাজের আদেশে কর্ণের আত্মা এক পক্ষকালের (১৫ দিনের জন্যে) জন্যে মর্ত্যধামে ফিরে আসার সুযোগ পায়। এই ১৫ দিনে কর্ণ পিপাসুকে জল দান করে তেষ্টা নিবারণ করেন।

ক্ষুদার্থকে অন্ন দিয়ে ক্ষুদার্থের খুদা নিবারণ করেন এবং সব মিলিয়ে ১৫ দিন মানুষের সেবায় অন্নজল দান করেন। হিন্দু ধর্মের পঞ্জিকানুযায়ী আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদের দিন থেকে অমবস্যা

পর্যন্ত ১৫ দিন ছিল কর্ণের মৃত্যুর পরে,দ্বিতীয় বারের জন্যে মর্ত্যধামে পদার্পন করা সময়। তাই হিন্দু ধর্মে দাতা কর্ণের ১৫ দিন অতিবাহিত করার সময়কালকে পিতৃপক্ষ হিসাবে ধরা হয়।

কর্ণ দ্বিতীয়বারের জন্যে মর্ত্যলোক থেকে প্রায়শ্চিত্য করার পর অমাবস্যার দিন স্বর্গধামে ফিরে যান,তাই আশ্বিন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অমাবস্যার দিনটাকে মহালয় অথাৎ আত্মার সঙ্গে পরম আত্মায় বিলিন হওয়ার দিন হিসাবে চিহ্নিত হয়।

এরপর থেকে কর্ণের প্রথা অনুসরণ করে মানুষ প্রতিবছর আশ্বিন মাসে প্রতি পদের ১৫ দিন পর অমাবস্যার দিনে হিন্দু ধর্মের মানুষেরা তাদের প্রয়াত পিতৃ পুরুষদের উদ্দেশ্যে তিল ও জল তর্পন করে থাকেন।

মহালয়ার দিন দারিদ্র মানুষকে অন্ন,জল,বস্ত্র দান করলে পিতৃপুরুষদের পরলোকে অন্ন ও জলের জন্যে কষ্ট ভোগ করতে হয়না। পিতৃপুরুষদের আত্মা পূর্বসুরির তর্পন করা তিল জলে পরিতৃপ্ত হয়।

মহালয়ার তর্পন মন্ত্র (Mahalaya Tarpan Mantra)

শাস্ত্রমতে মহালয়ার দিন হল পিতৃপুরুষদের তর্পন নিবেদন করার সবথেকে উত্তম দিন। তর্পন কথার সংস্কৃত অর্থ হল “তৃপান্তি পিতৃণঃ তৎপনয়” অথাৎ উত্তরসূরিদের দ্বারা যে দানে পূর্বপুরুষেরা সন্তস্ট হয় তাই হল তর্পন।

মহালয়ার সকালে পিতৃপুরুষদের তর্পন করলে পিতৃপুরুষেরা উত্তরসূরিদের উপর সন্তস্ট হয়ে আশীর্বাদ করেন। কারো কারো মতে মহালয়ার দিন তর্পন অঞ্জলি দিলে মানুষের কৃতকর্মের সমস্ত পাপ ধুয়ে যায়।

তাই মহালয়া হল মূলত আত্মউপলব্ধির দিন,এই দিনে পূর্বপুরুষদের সামান্য তিল জল অর্পণ করলে পূর্বপুরুষেরা যেমন খুশি হয়ে আশীর্বাদ করেন,ঠিক তেমনি নিজের কৃতকর্মের করা পাপ ধুয়ে যায়।

তবে বিশেষ ক্ষেত্রে মহালয়ার দিন তর্পন অঞ্জলি না দেওয়া গেলেও দীপাবলির দিন পিতৃপুরুষদের তর্পন করতে পারেন। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী দীপাবলির দিন এক টুকরো জ্বলন্ত কাঠ কয়লার টুকরো

পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে জলে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়। সেই কাঠ কয়লার আলো দেখে পূর্বপুরুষেরা পুনঃরায় যমলোকে ফিরে যায়। এই ভাবে প্রতিবছর মহালয়ার দিন

হাজার হাজার মানুষ তাদের পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পন করে থাকেন। যজুঃ বেদ অনুসারে মহালয়ার তর্পন মন্ত্রটি হল –

‘ওঁ উর্যং বহনতিমৃতং ঘৃতং পয়: কিলাং প্ররিস্রোতঙ,স্বাধস্থ তর্পয়ত মে পিতৃণ।’ এই মন্ত্র উচ্চারণের পর নিজ গোত্র এবং পূর্বপুরুষের নাম উচ্চারণ করে দেবশর্মা-

তৃপ্যতামেতৎ সতিলােদকং তস্মৈ স্বধা’ মন্ত্রটি তিনবার উচ্চারণ করার পর তিল জল তর্পন করতে হয়। এরপর ‘ওঁ আগোচ্ছত মে পিতরং গৃহ্ণত্ত্ব পােহঞ্জলিং’ মন্ত্র পড়া হয়।

যার বাংলা ভাবার্থ দাঁড়ায় ‘হে আমার পূজনীয় পিতৃপুরুষগণ আপনারা আসুন এবং আমাদের দেওয়া তর্পন অঞ্জলি দেওয়া জল গ্রহণ করুন।

মহালয়ার ইতিহাস (Mahalayar Itihash)

১৯৩০ সালে মার্কেয় চন্ডির উপর বাণীকুমার ভট্টাচার্য্য গদ্যকারে একটি পদ্য রচনা করেন। বাণীকুমারের রচনা করা গদ্যকার পদ্যের নাম দেওয়া হয় ‘বসন্তেশ্বরী।’

বাণীকুমারের ‘বসন্তেশ্বরী’ ১৯৩০ সালেই আকাশবাণীতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র পাঠ করে শোনান। ১৯৩১ সালে বাণীকুমারের ‘বসন্তেশ্বরীর’ সম্প্রচার বাসন্তীপূজায় বন্ধকরে শরৎ কালে করা হয়।

শরৎকালে আকাশবাণীতে দুর্গাষষ্ঠীর দিন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় ‘বসন্তেশ্বরী’ নাম বদল করে মহিষাসুরমর্দিনী নামে সম্প্রচার করা হয়। ১৯৩২ সালে দ্বিতীয় বার মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার দুর্গাষষ্ঠী থেকে সরিয়ে নিয়ে

মহালয়ার ভোরে সরাসরি মহালয়া মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার করা শুরু হয়। তারপর থেকে মহালয়া মহিষাসুরমর্দিনী মহালয়া বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর নামে বিশেষ পরিচিতি পেয়ে যায়।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র মহালয়া mp3 (Birendra Krishna Bhadra Mahalaya mp 3)

আমরা নিচে মহালয়া বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়া mp3 অডিও ক্লিপ শেয়ার করে দিলাম,আপনারা নিচের ক্লিপটিতে ক্লিক করে সরাসরি আমাদের ব্লগ থেকেই মহালয়া বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র মহালয়া mp3 শুনতে পারেন।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র মহালয়া mp3

মহালয়া মহিষাসুরমর্দিনী (Mahalaya Mahisasurmardini)

আমরা এখানে মহালয়া মহিষাসুরমর্দিনী মহালয়ার ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করলাম আপনারা আমাদের ব্লগ থেকে মহালয়ার মহিষাসুরমর্দিনী মহালয়া সরাসরি দেখতে পারেন।

মহালয়া মহিষাসুরমর্দিনী

মহালয়ার গান (Mahalyar Gan )

আমরা নিচে মহালয়ার গান স্বরূপ কতগুলি মহালয়ার দেবীর আগমনী গান শেয়ার করলাম,আপনারা মহালয়ার গানগুলো উপভোগ করতে পারেন।

মহালয়ার গান

FAQ

প্রশ্ন : মহালয়া কবে ?

উত্তর – মহালয়া ইংরেজি ০৬ অক্টবর বুধবার।

প্রশ্ন : মহালয়া কি বারে ?

উত্তর – মহালয়া বুধবার।

প্রশ্ন : মহালয়া ২০২১ তারিখ কত ?

উত্তর – মহালয়া ২০২১ তারিখ ০৬ অক্টবর বুধবার।

প্রশ্ন : মহালয়া কি শুভ ?

উত্তর – মহালয়া হল পিতৃপুরুষদের প্রয়াত আত্মার শান্তি কামনার দিন। তাই মহালয়াকে সরাসরি শুভ আনন্দের উৎসব বলা চলেনা।

প্রশ্ন : মহালয়া মানে কি ?

উত্তর : মহালয়ার মানে হল পরমাত্মায় বিলীন হওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here