ভাই ফোঁটা কেন পালন করা হয় ভাই ফোঁটার ইতিহাস (Vai Fonta Keno Palon Kora Hoy)

ভাইবোনেদের বন্ধনের উৎসব হল ভাই ফোঁটা। তবে দেশ ও রাজ্য ভেদে ভাইফোঁটাকে ভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমন ধরে নিন আমাদের পশ্চিমবঙ্গে উত্তর বঙ্গ সহ

প্রতিবেশী রাজ্য সিকিম এবং নেপালের মত হিন্দু দেশে ভাইফোঁটাকে ভাইটিকা বলা হয়। কিন্ত ভাই ফোঁটা কেন পালন করা হয় ? ভাই ফোঁটা কি ?

ভাইফোঁটার ইতিহাসের ভাইফোঁটার তাৎপর্য এক হলেও উত্তর ভারতের রাজ্য গুলোতে হিন্দি ভাষী মানুষেরা আবার ভাই ফোঁটাকে ভাই দুজ বলে। রাখী বন্ধন উৎসবে ভাই বোনেরা

ভাইদের হাতে রাখী পড়িয়ে ভাই বোনের উৎসব রাখী পূর্ণিমা পালন করে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গে রাখী বন্ধনের তুলনায় ভাই ফোঁটাকেই ভাই বোনের বিশেষ উৎসবের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়।

ভাইফোঁটা কি (Vai Fonta Ki)

হিন্দু সংস্কৃতিতে ভাইবোনের সম্পর্কের মেলবন্ধনের পবিত্র  উৎসব হল ভাইফোঁটা। হিন্দুধর্মানুসারে প্রতিবছর কালী পুজোর দুই দিন পরে,কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়ার দিন ভাইফোঁটা পালন করা হয়।

কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়াকে ভাতৃ দ্বিতীয়াও বলা হয়। ভাতৃ দ্বিতীয়ার দিন বোনেরা তার ছোট ভাইয়েদের কপালে মঙ্গল টিকা লাগিয়ে ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করে।

অবশ্যই পড়ুন : ভাই ফোঁটার শুভেচ্ছা বার্তা কবিতা sms

ভাইফোঁটা কবে ২০২১ তারিখ কত (Vai Fonta 2021 Date)

২০২১ সালে ভাইফোঁটার তারিখ ও সময় টেবিলের সাহায্যে দেখানো হল। ২০২১ সালে ভাই ফোঁটার দিন সময় তারিখ ও শুভ মুহূর্ত হল-

২০২১ সালে ভাইফোঁটার তারিখ হল০৬ নভেম্বর ২০২১ Sat Day (বাংলা ১৯ সে কার্তিক শনি বার)
ভাইকে ভাইফোঁটা দেওয়ার শুভ মুহূর্তদুপুর ০১ টা বেজে ১০ মিনিট ১২ সেকেণ্ড থেকে বিকেল ০৩ টা বেজে ২১ মিনিট ২৯ সেকেণ্ড পর্যন্ত।
ভাইফোঁটা দেওয়ার মোট শুভ সময় হলসর্বমোট শুভ সময় ০২ ঘন্টা ১১ মিনিট।

ভাইফোঁটার ইতিহাস (Vai Fontar Itihas)

হিন্দু ধর্মনুসারে পুরাণের কাহিনীতে শ্রী কৃষ্ণ ও সুভদ্রার ভাইফোঁটার কাহিনীর বিবরণ যায়। তবে যমী ও যমের ভাইফোঁটা নিয়ে বিবাদিত মতবাদ দেখতে পাওয়া যায়।  

ভাই ফোঁটা কেন পালন করা হয়
ভাই ফোঁটা কেন পালন করা হয়

শ্রী কৃষ্ণ ও সুভদ্রার ভাইফোঁটা 

পুরাণের কাহিনী অনুসারে শ্রী কৃষ্ণ নরকাসুর নামের একটি রাক্ষসকে বধ করার পর কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়ার দিন দ্বারিকা নগরীতে ফিরে আসেন।

শ্রী কৃষ্ণের অতি প্রিয় ছিল বোন সুভদ্রা। দাদার নরকাসুর বদের খবর পেয়ে বিজয় উৎসবে স্বাগত জানানোর জন্য বোন সুভদ্রা শ্রী কৃষ্ণের জন্য মঙ্গল ডালা সাজিয়ে নিয়ে এসে,

শ্রী কৃষ্ণকে তিলকের ফোঁটা পড়িয়ে দ্বারিকা নগরীতে স্বাগত জানায়। শ্রী কৃষ্ণ এবং সুভদ্রার ভাইবোনের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতিমূর্তি ও ভাইবোনের ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে

কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়ার দিনটিকে হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষেরা ভাইবোনের মেল্ বন্ধনের উৎসব ভাই ফোঁটা পালন করা হয়।

যমী ও যমের ভাই ফোঁটা 

ঋক বেদে যমী এবং যমের বিবরণ পাওয়া যায়। ঋক বেদের কাহিনী অনুসারে সূর্যের যমজ পুত্র ও কন্যা যম এবং যমী হল পৃথিবীর প্রথম নারী ও পুরুষ।

কিন্তু ঘটনাচক্রে যমের প্রথমে মৃত্যু হলে যম দেবতাদের আদেশে মৃত্যুলোকে মৃত্যুদূত হিসাবে জমপুরী নরকের রাজা হিসাবে নিযুক্ত হন।

কিন্ত অনেকদিন ধরে দাদার সঙ্গে যমী অথাৎ যমুনার দেখা সাক্ষাৎ না হওয়ায় যমকে যমুনা মর্ত্যলোকে আসার জন্য আমন্ত্রণ দেন।

যমুনার সদ ইচ্ছে পূরণ করার জন্য যমুনার কাছে আমন্ত্রণ পেয়ে যম বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ভাইকে অনেকদিন পর কাছে পেয়ে যমুনা তার ভাইয়ের জন্য মন্ডা,

মিঠাই,লুচি পায়েস সহ নানা বিধ পদের আয়োজন করেন। তারপর যমলোকে যাবার বেলা যমুনা যমকে ফোঁটা পড়িয়ে দেয়। যমরাজ তখন খুশি হয়ে বোন যমুনাকে প্রতিবছর

ঐ দিনে অথাৎ কার্তিক মাসের দ্বিতীয়ার দিনে যমুনার কাছে ভাইফোঁটা নিতে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। সেইথেকে রীতি মেনে মর্ত্যধামে প্রতিবছর কার্তিক মাসের দ্বিতীয়ার দিন ভাইবোনের পবিত্র উৎসব ভাই ফোঁটা পালন করা হয়।

অবশ্যই পড়ুন : রাখী পূর্ণিমা উৎসব কেন পালন করা হয় ? রাখী বন্ধনের ইতিহাস।

ভাই ফোঁটা কেন পালন করা হয় (Vai Fonta Palon)

কথিত কাহিনী অনুসারে শ্রী কৃষ্ণ ও সুভদ্রা এবং যমুনা ও যমের ভাইফোঁটার অনুকরণে মর্ত্যবাসী হিন্দুধর্মের মানুষেরা ভাইবোনেদের বন্ধনের পবিত্র উৎসব ভাই ফোঁটা পালন করে।

তবে শ্রী কৃষ্ণ ও সুভদ্রার তুলনায় যমুনা ও যমের ভাইফোঁটার তুলনামূলক ভাবে বেশি উপাখ্যান পাওয়া যায়। যম ও যমুনার ভাইফোঁটার কাহিনীতে যমুনাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে

প্রতিবছর কার্তিক মাসের দ্বিতীয়ার দিন অথাৎ ভাতৃ দ্বিতীয়ার দিন যমুনার কাছ থেকে ভাই ফোঁটা নেওয়ার জন্য যম যমুনার বাড়ি আসেন।

যমুনা যেমন তার ভাই যমকে ফোঁটা দিয়ে ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করে। ঠিক একইভাবে মর্ত্যের ভাইবোনেরা ভাতৃ দ্বিতীয়ার দিন ভাই ফোঁটা পালন করে।

যম হল যমপুরীর মৃত্যর দেবতা তিনি জীবলোক থেকে জীবের প্রাণ হরণ করে নিয়ে যান। তাই ভাতৃ দ্বিতীয়ার দিন বোনেরা ভাইদের কপালে ভাইফোঁটা দিয়ে ভাইফোঁটার মন্ত্র পরে

‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা,যম দুয়ারে পড়ল কাঁটা।’ ভাই ফোঁটার মন্ত্রের তাৎপর্য এই যে ভাইফোঁটার দিন যম যখন যমুনার কাছে ভাই ফোঁটা নিতে আসে তখন পৃথিবীতে বসবাসকারী বোনেরা

তাদের ভাইয়েদের মঙ্গল কামনায় যমের দুয়ারে কাঁটা দিয়ে দেয়। যাতে করে যমরাজ যমলোকে জীবকুল থেকে ভাইদের প্রাণ হরণ করে না নিয়ে যেতে পারে।

এভাবেই বোনেরা তাদের দাদা ও ভাইয়েদের মঙ্গল কামনায় ভাতৃ দ্বিতীয়ার দিন যম দুয়ারে কাঁটা বিছিয়ে ভাইদের প্রাণ যাতে নিয়ে যেতে না পারে তারজন্য যমদুয়ারে জমপুরীর প্রবেশ দ্বার বন্ধ করে দেয়।

ভাইফোঁটার উপকরণ (Vai Fontar Upokoron)

ভাই ফোঁটা পালন করার জন্য বোনেদের নানা বিধ ভাইফোঁটার উপকরণ জোগাড় করতে হয়। ভাইফোঁটার জন্য নারিকেল,মন্ডা,ঘী,প্রদীপ,বিভিন্ন ধরণের ০৫ রকমের মিষ্টি,ভাইদের বসতে দেওয়ার জন্য সুতির আসন লাগে।

এছাড়াও ধান,দূর্বা ঘাস,রক্ত চন্দন,শঙ্খ এবং চন্দন ঘষার জন্য ভোরবেলা ঘাসের উপর কাপড় বিছিয়ে শিশির ধরে শিশিরের জলে চন্দন ঘসতে হয়।

ভাই ফোঁটা কেন পালন করা হয়
ভাই ফোঁটা কেন পালন করা হয়,ভাই ফোঁটা কেন পালন করা হয়

ভাই ফোঁটা কেমন করে দেয় (Vai Fonta Kemon Kore Dey)

ভাইফোঁটা হল একটি ঘরোয়া উৎসব। এই উৎসবে বোনেরা তাদের ছোট ভাইদের কপালে ভাইয়েদের মঙ্গলের জন্য মঙ্গল টিকা পড়িয়ে দেয়।

ভাইফোঁটার দিন সকাল থেকেই ভাই ও বোন দুজনেই উপবাসে থাকে। দিদি ও বোনেরা সকাল সকাল শিশির ধরার জন্য কাপড় দিয়ে শিশির ভেজা ঘাস থেকে শিশির ধরে।

এই শিশির দিয়েই ভাইদের জন্য রক্তচন্দন ঘষা হয়। এরপর বোনেরা স্নান সেরে ভাইফোঁটার উপকরণ গুলোর জোগাড় যন্তরে লেগে যায়।

ভাইদের কপালে ফোঁটা দেওয়ার জন্য পুষ্পপরতের উপর ধান,দূর্বা ঘাস,তিলক,শঙ্খ,প্রদীপ প্রধান সামগ্রী হিসাবে জোগাড় করে নিতে হয়।

তারপর থালা সাজিয়ে বাটি ভরে পায়েস মন্ডা,ভাইফোঁটার মিষ্টি লুচি,নারিকেল ইত্যাদি পরমযত্নে স্নেহদিয়ে গড়ে  ভাইদের হাতে বোনেদের তুলে দিতে হয়।

ভাইফোঁটার উপকরণ গুলো জোগাড় হয়ে যাওয়ার পর ভাইদের সুতির নক্সা করা আসন পেতে বসতে দেওয়া হয়। তারপর প্রদীপ জ্বালিয়ে শঙ্খ বাজিয়ে উলুধ্বনির সাথে বোনেরা

ভাইদের মাথায় বাম হাতে করে তিনবার ধান দূর্বা তুলে দেয়। তারপর বাম হাতের কড়ে আঙ্গুল দিয়ে ভাইদের কপালে তিন বার ভাইফোঁটার মন্ত্র পড়ে ভাইফোঁটা পড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভাইফোঁটা দেওয়া হয়ে গেলে ভাইদের হাতে দিদিরা উপহার তুলে দেয়। ভাই যদি ছোট হয় তাহলে দিদির পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে,দিদির কাছ থেকে আশীর্বাদ নেয়।

আর বোন যদি ছোট হয় তাহলে দাদাকে প্রণাম করে দাদার কাছ থেকে আশীর্বাদ নেয়। তারপর ভাইদের সামনে বোনেরা ভাইফোঁটার উপোস ভঙ্গ করার জন্য

বাটি ভরে পায়েস মন্ডা,ভাইফোঁটার মিষ্টি থালা সাজিয়ে ভাইদিকে দেওয়া হয়। ভাইয়েরা পায়েস খেয়ে মিষ্টিমুখ করে ভাইফোঁটার উপোস ভঙ্গ করে।

কড়ে আঙ্গুল দিয়ে ভাই ফোঁটা দিতে হয় কেন 

ভাই ফোঁটা কেন পালন করা হয় তার উত্তর তো আমরা পেয়ে গেলাম ,কিন্তু এখন আমাদের প্রশ্ন হল কড়ে আঙ্গুল দিয়ে ভাই ফোঁটা দিতে হয় কেন ?

ভাই ফোঁটার নিয়ম অনুযায়ী বাম হাতের কড়ে আঙ্গুল দিয়ে ভাই ফোঁটা দিতে হয়। কিন্তু বাম হাতের কড়ে আঙ্গুল দিয়েই ভাই ফোঁটা দিতে হবে কেন ?

আমরা এতদিন জানতাম যেকোনো শুভ কাজের সূচনা ডান হাত দিয়েই করতে হয়। কিন্তু ডান হাত থাকতে তাও আবার বাম হাতের কড়ে আঙ্গুল দিয়েই নির্দিষ্ট ভাবে ভাই ফোঁটা দিতে হবে এর পিছনের লজিক কি ?

মানব শরীরের বাম দিকে হৃদয় থাকে তাই বাম হাতের বিভিন্ন শিরার সঙ্গে হৃদয়ের সরাসরি যোগ আছে বলে মনে করা হয় । আর ভাইবোনের সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে হৃদয়ের বন্ধন।

সনাতন ধর্মে মানুষের হাতের পাঁচটি আঙুলকে পঞ্চভূতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে,যথা-ক্ষিতি,অপ,তেজ, মরুৎ এবং বোম । এখানে বোম অথাৎ হাতের কড়ে আঙ্গুল হল মহাশুন্যের প্রতীক।

শাস্ত্রমতে ভাইবোনের ভালোবাসা হল মহাশুন্যের ন্যায় অসীম। তাই বোনেরা তাদের দাদা ও ভাইদের বাম হাতের কড়ে আঙুল দিয়েই ভাইফোঁটা দেয়।

অবশ্যই পড়ুন : ছট পূজা কি ? ছট পূজা কেন পালন করা হয়। 

ভাই ফোঁটার মন্ত্র (Vai Fontar Mantra )

ভাই ফোঁটার দিনে বোনেরা ভাইদের মাথায় ধান,দূর্বা দিয়ে ভাই ফোঁটার মন্ত্র বলে ভাইদের কপালে ভাই ফোঁটা পড়িয়ে দেয়।

“ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা
যম দুয়ারে পড়ল কাঁটা
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা
আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা

ভাই হল আমার সোনার বাটা। ”

তবে জায়গাভেদে বিভিন্ন পরিবারের রীতি রেওয়াজ অনুযায়ী ভাই ফোঁটার মন্ত্র বা ভাই ফোঁটার ছড়া কাটার পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়।

তবে ভাইবোনদের সম্পর্কের বন্ধন সব জায়গাতেই একই রকম থাকে। দিদিদের কাছ থেকে ভাইদের উপহার পাওয়া,আবার দাদাদের কাছ থেকে বোনদের রিটার্ন গিফ্ট,এরকম আনন্দ হৈ হুল্লোড় চলতে থাকে।

এছাড়া মুঠো ফোনে একে অপরকে ভাই ফোঁটার শুভেচ্ছা বার্তা কবিতা স্ট্যাটাস পাঠিয়ে ভাইবোনদের অনাবিল আনন্দের ঝলক তো আছেই।

ভাই ফোঁটার গান 

ভাই ফোঁটা কেন পালন করা হয় ভাই ফোঁটার দিনে ভাইদের কাছে দিদিদের তাৎপর্য কতটা অনুধাবন করতে পারবেন ভাই দিদির দুঃখের গানটা শুনে।

পরিশিষ্ট 

ভাই ফোঁটা কেন পালন করা হয় নিবন্ধটিতে আমরা ভাইবোনের পবিত্র উৎসব ভাইফোঁটার ইতিহাস সমন্ধে অবগত হলাম। ভাইফোঁটা হিন্দু সংস্কৃতিতে এমন একটি উৎসব,

যে উৎসব ভাইবোনেদের মধ্যে একটি মধুর ঘন আবেগকে জাগরিত করে। তাইতো সকল ভাইবোনেরা শুধুমাত্র ভাতৃ দ্বিতীয়ার দিনে বোনেদের কাছে ভাইফোঁটা পড়ার জন্য মাইল দূর থেকে ভাইফোঁটা পড়তে যায়।

এই আর্টিকেল গুলোও পড়ে দেখুন