বিটকয়েন মানে কি, বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে (Bitcoin mane ki,Bitcoin Kivabe kaj kore)

বিটকয়েন কি ও কেন এতো জনপ্রিয় হচ্ছে, আসলে বিটকয়েন মানে কি ? বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে ? এইরকম প্রশ্ন এখন আমাদের সবারই মনে দানা বাঁধছে।

আজথেকে কয়েক বছর আগে বিটকয়েন কি জিনিস তা নিয়ে কারো এত মাথা ব্যাথা ছিলনা। কিন্তু সম্প্রতি ০২-০৩ বছর থেকে বিটকয়েন নিউজ ও সোশ্যাল মিডিয়ায়,

বিটকয়েন এর দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত খবর এতটাই ভাইরাল হয়েছে যে, আজকাল সবাই বিটকয়েন থেকে ইনকাম করার জন্যে বিটকয়েন ব্যবসা করতে চায়।

এবারে কথা হল বিটকয়েন কি ভারতে বৈধ ? বিটকয়েনের ভবিষ্যৎ, বিটকয়েনের বৈধতা ও বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম নিয়ে মানুষ এখন পর্যন্ত স্পষ্টত ভাবে ক্লিয়ার হয়ে উঠতে পারেনি।

তাই বিটকয়েনকে নিয়ে এইরকম অগণিত নানান ধরণের হিজিবিজি প্রশ্ন মানুষের মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে ? আপনারা যারা এই আর্টিকেলটি এখন পড়ছেন তারা পুরো আর্টিকেলটি পাঠ করলে, আশাকরি বিটকয়েন মানে কি ?

বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে ? এই ধরণের জিজ্ঞাসার উত্তর স্বরূপ, একটি মৌখিক ধারণা পেয়ে যাবেন এবং আপনাদের মনে বিটকয়েন কি জিনিস এই নিয়ে কোনো জিজ্ঞাসা থাকবে না।

বিটকয়েন মানে কি (Bitcoin Mane Ki)

বিটকয়েন মানে কি ? বিটকয়েন আসলে কি জিনিস এটা আমরা খুব সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করব। এককথায় বিটকয়েন বলতে যা বোঝায় তা হল,বিটকয়েন একটি আন্তর্জাতিক ভার্চ্যুয়াল অভৌতিক মুদ্রা।

তবে সাধারণ মুদ্রা থেকে বিটকয়েনের কতগুলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট আছে, বিটকয়েনের বৈশিষ্ট গুলো হল-

০১. বিটকয়েন হল এমন একটি মুদ্রা লেনদেনের ব্যবস্থা, যে মুদ্রার লেনদেন করার জন্যে বাঁধা ধরা কোনো দেশের সীমানার বেড়াজালের মধ্যে সীমিত নয়।

০২. বিটকয়েনের কোনো ভৌতিক রুপ নেই, তাই বিটকয়েন যে দেখতে কেমন তা কেউ জানেনা।

০৩. বিটকয়েনের লেনদেনের জন্যে কোনো ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা এবং বিটকয়েনের কোনো মালিক নেই। বিটকয়েন শুধু এক ওয়ালেট থেকে অন্য ওয়ালেটে বা এক একাউন্ট থেকে অন্য আর একটি একাউন্টে ট্রান্সফার করা যায়।

অনেকটা আমরা যেমন অনলাইন UPI ওয়ালেট থেকে আর এক UPI ওয়ালেটে টাকা ট্রান্সফার করি যার জন্যে আমাদের টাকা হাতে ছুঁয়ে দেখার প্রয়োজন হয়না।

ঠিক একই রকম ভাবে বিটকয়েন অভৌতিক রূপে, একজন ব্যক্তির বিটকয়েন ওয়ালেট থেকে আর একজন ব্যক্তির বিটকয়েন ওয়ালেটে অথবা বিটকয়েন একাউন্টে টাকা ক্রেডিট এবং ডেবিট হয়।

০৪. বিটকয়েন হল এমন এক মুদ্রা নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের যে কোনো ব্যক্তির একাউন্টে কোনো রকম ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা এবং মিডিয়েটরের সাহায্য ছাড়াই

শুধুমাত্র ইন্টারনেটের দৌলতে ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে একজনের বিটকয়েন ওয়ালেট থেকে আর একজনের বিটকয়েন ওয়ালেটে পিয়ার-টু-পিয়ার বিটকয়েন লেনদেন করা যায়।

০৫. সাধারণভাবে আমাদের ব্যাঙ্ক একাউন্টের যাবতীয় লেনদেনের তথ্য ব্যাঙ্ক তাদের লেজার বুকে সংরক্ষণ করে রাখে। ঠিক একইরকম ভাবে বিটকয়েন ওয়ালেটের লেনদেনের যাবতীয় খতিয়ান ব্লক-চেনের মাধ্যমে (block chain) সুরক্ষিত রাখা হয়।

০৬. আমাদের ব্যাংকের যাবতীয় লেনদেনের জন্যে প্রতিটি ব্যাংকের বিশেষ সার্ভার থাকে এবং সেই সার্ভারে ব্যাংকের লেনদেনের তথ্য সম্মিলিত ভাবে স্টোরেজ করা থাকে।

কিন্ত বিটকয়েন একাউন্টের লেনদেনের যাবতীয় তথ্য ব্লক-চেনের (block chain) মাধ্যমে ক্রিপ্টোগ্রাফী পদ্ধতিতে সুরক্ষা সুনিশ্চিত করে স্টোরেজ করা হয়,তাই বিটকয়েনকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বলা হয়।

(আরো পড়ুন : ক্রিপ্টোকারেন্সি কি,ক্রিপ্টোকারেন্সির তালিকা )

বিটকয়েনের ইতিহাস (Bitcoin History in Bengali)

আজথেকে বেশ কয়েকবছর আগে,তখন ভারতবর্ষে টেলি কমিনিকেশন ব্যবস্থায় ডিজিট্যাল ক্রান্তি আসেনি ২০০৮ সাল নাগাদ ইন্টারনেটের জগতে নাম না জানা কোনো এক অজ্ঞাত ব্যক্তি,

সাতোশি নাকামতো ছদ্মনামে বিটকয়েন নামক একধরণের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা তৈরি করে জনসম্মুখে নিয়ে আসেন। ২০০৮ সালে অক্টোবর মাসে একটি আন্তর্জাতিক শীর্ষক ইংরেজি অনলাইন গবেষণা পত্রিকায়

“Bitcoin: A Peer-to-Peer Electronic Cash System” ০৯ পাতার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিটকয়েন নামক ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার অস্তিত্বের কথা সার্বজনীন করা হয়।

তারপর থেকেই মানুষ বিটকয়েনের সিস্টেমেটিক লেনদেন সম্পর্কে অবগত হয়, বিটকয়েন (Bitcoin) হল একটি পিয়ার-টু-পিয়ার, ইন্টারনেট ভিত্তিক ইলেক্ট্রনিক মুদ্রা লেনদেনের ব্যবস্থা যার ভৌতিক কোনো রূপ নেই।

বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে
বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে

তবে বিটকয়েনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অপর একজন ব্যক্তিকে কোনো রকম থার্ড পার্টি বা মিডিয়েটর ছাড়াই সরাসরি লেনদেন করতে পারে। বিটকয়েন লেনদেনের জন্যে কোনো রকম ট্রানজেকশন শুল্ক দিতে হয় না।

মানুষ যেমন ভৌতিক মুদ্রা দিয়ে একে অপরের সাথে লেনদেন করে, ঠিক একইরকমভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক্যালি বিটকয়েন হ্যান্ড-টু-হ্যান্ডের মত একাউন্টে ক্রেডিট ও ডেবিট হয়।

বিটকয়েনের সমস্ত লেনদেনের হিসাব কিতাব ব্লকচেনের মাধ্যমে ক্রিপ্টোগ্রাফি নামক কম্পিউটারের বিশেষ কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ দ্বারা আজীবন, গ্রাহকের সমস্ত রকম লেনদেনের রেকর্ড সুরক্ষিতভাবে সঞ্চয় থাকে।

২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে সাতোশি নাকামতো বিটকয়েন মাইনিং এর সফ্টওয়ার তৈরি করে ‘সাতোশি’ নামের বিটকয়েন মুদ্রা রিলিজ করেন।

বিটকয়েনের সাতোশি নাম রাখা হয় বিটকয়েনের স্রষ্টা সাতোশি নাকামতো এর নাম থেকে। তবে বিটকয়েনের আবিস্কারক সাতোশি নাকামতো এর এখন পর্যন্ত আসল পরিচয় জানা কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি।

বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে (Bitcoin Kivabe Kaj kore)

আমরা আগেই বলেছি বিটকয়েনের কোনো ভৌতিক রূপ নেই বিটকয়েন হল এক প্রকারের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা। আমরা যেমন Phone pay,Google pay,Paytm ইত্যাদি ওয়েলেটের মাধ্যমে,

আমাদের টাকা এক ওয়ালেট থেকে অন্য ওয়ালেটে, কিংবা এক ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে অন্য কোনো ব্যাঙ্ক একাউন্টে লেনদেন করি। ঠিক একইভাবে বিটকয়েনের ট্রানজেক্শন, বিটকয়েন ওয়ালেট-টু-ওয়ালেটে ট্রান্সফার হয়।

বিটকয়েনের ওয়ালেটে বিটকয়েন সংরক্ষিত বা জমা হয়, তবে বিটকয়েনের লেনদেন অনলাইন এবং অফলাইন দুইভাবেই করা হয়। বিটকয়েন ওয়ালেটে দুই ধরণের ‘কি’ (Key) থাকে।

এই দুই ধরণের কি এর মধ্যে,একটিক কি কে, পাবলিক কি (Public Key) বলা হয়, অন্য কি কে প্রাইভেট কি (Private Key) বলে। এবারে আমাদের প্রশ্ন হল বিটকয়েন ওয়ালেটের পাবলিক কি কেমন হয় ?

দাঁড়ান পুরো ব্যাপারটা একটু সহজভাবে বলি তাহলেই পুরো ব্যাপারটা আপনাদের কাছে স্পষ্ট হবে। যেমন- আপনারা যারা Phone pay,Google pay,Paytm ইত্যাদি ওয়েলেট গুলো ব্যবহার করেন,

তারা নিশ্চয় জানেন আপনাদের ওয়ালেটের লেনদেন করার জন্যে প্রত্যেকটি ওয়ালেটের মধ্যেই নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে UPI আইডি খোলা হয়।

যেমন- [email protected] (Paytm এর জন্য) / [email protected] (Phone Pay এর জন্যে) ব্যবহার করা হয়। আমরা যখন কোনো ব্যক্তির ওয়ালেটে টাকা পাঠায়,

তখন তার কাছে তার মোবাইল নম্বর অথাৎ ওয়ালেটের UPI আইডি দিয়ে সেই ব্যক্তির ওয়ালেটে টাকা ট্রান্সফার করি। ঠিক একইরকমভাবে UPI আইডির মত প্রতিটি বিটকয়েন ওয়ালেটে একটা করে পাবলিক কি (Public Key) থাকে।

এই পাবলিক কি (Public Key) দিয়েই একজন বিটকয়েন ধারকের বিটকয়েন ওয়ালেট থেকে আরেকজন বিটকয়েন গ্রাহকের বিটকয়েন ওয়ালেটে, বিটকয়েন ট্রান্সফার করা হয়।

আশাকরি আপনাদের কাছে এতক্ষনে বিটকয়েনের পাবলিক কি (Public Key) জিনিস পুরো ব্যাপারটা ক্লিয়ার হয়েছে। এবার আমাদের জানতে হবে বিটকয়েন ওয়ালেটের প্রাইভেট কি (Private Key) কি জিনিস ?

বিটকয়েন ওয়ালেটের প্রাইভেট কি (Private Key) কি জিনিস ? এটাও আমরা একটা উদারহনের সাহায্য বোঝার চেষ্টা করব। আমরা যেমন আমাদের অনলাইন UPI ওয়ালেট গুলোতে

টাকা ট্রানজেক্শন করার জন্যে UPI (মোবাইল নম্বর) আইডি কিংবা ব্যাঙ্ক ডিটেলস সহ এমাউন্ট পূরণ করার পর ছয় ডিজিটের UPI পিন দিয়ে ট্রানজেক্শন প্রসেস পুরো করি।

ঠিক একইভাবে বিটকয়েন ওয়ালেটের পাবলিক কি (Public Key) কিংবা বিটকয়েন ওয়ালেটের একাউন্ট নম্বর বসানোর পর ট্রানজেক্শন এমাউন্ট পূরণ করার জন্যে একটি পিনের দরকার হয়।

বিটকয়েন ওয়ালেটের লেনদেনের জন্যে সুরক্ষিত বিশেষ পিনকে বিটকয়েন ওয়ালেটের প্রাইভেট কি (Private Key) বলা হয়। বিটকয়েন ওয়ালেটের লেনদেনের শুরু থেকে শেষ যাবতীয় লেনদেন ব্লক-চেনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে।

তাহলে বন্ধুর আপনারা এতক্ষনে নিশ্চয় বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে ও বিটকয়েন কি ? বিটকয়েন সমন্ধে মোটামোটি একটি ধারণা পেয়ে গেছেন। আসুন এবারে বিটকয়েন ওয়ালেট কি জিনিস একটু বোঝা যাক।

বিটকয়েন ওয়েবসাইট (Bitcoin Website)

ভারতের মত দেশে বিটকয়েনের বেশ কয়েকটি পপুলার বিটকয়েন ওয়েবসাইট আছে, আমরা নিচে ভারতের কতগুলো বিটকয়েন ওয়েবসাইট লিস্ট দিয়ে দিলাম আপনারা সেখান থেকে ডিটেলস দেখতে পারেন।

  • Coinbase.
  • Voyager.
  • BlockFi.
  • Uphold.
  • Kraken.
  • eToro.
  • Bitcoin IRA.
  • Crypto.com.

এইসমস্ত ওয়েবসাইট গুলো সবই বিটকয়েন ওয়েবসাইট, আপনি চাইলে কোনো একটি ওয়েবসাইটে ভিজিট করে বিটকয়েনের ওয়ালেট ওপেন করতে পারেন।

(আরো পড়ুন : বিটকয়েন কিভাবে কিনেবেন )

বিটকয়েন ওয়ালেট কি (Bitcoin Waalet Ki)

আমরা আগেই বলেছি বিটকয়েনের কোনো ভৌতিক রুপ নেই, তাই বিটকয়েনকে হাতে ছুঁয়ে আমরা কোনোদিন বাক্স বন্দি করে রাখতে পারবনা, বিটকয়েন শুধু electronically store করা সম্ভব।

বিটকয়েনের electronically store সংগ্রহ করে রাখার জন্যে আমাদের একটি মানিব্যাগের দরকার হয়। বিটকয়েনের মানিব্যাগকে ইলেক্ট্রনিক্যালি বিটকয়েন ওয়ালেট বলা হয়।

অনলাইনে বিটকয়েনের বিভিন্ন ধরণের বিটকয়েন ওয়ালেট আছে। যেমন- ডেস্কটপ ওয়ালেট, মোবাইল ওয়ালেট,অনলাইন ওয়েব-বেসড ওয়ালেট,হার্ডওয়ার ওয়ালেট ইত্যাদি।

বিটকয়েনের এই সমস্ত ওয়ালেটের মধ্যে কোনো একটি ওয়ালেট দিয়ে আমরা বিটকয়েন ওয়ালেটের জন্যে একাউন্ট ক্রিয়েট করতে পারি। বিটকয়েন ওয়ালেটে রেজিস্ট্রেশন করার পর

বিটকয়েনের ওয়ালেট থেকে ট্রানজেক্শন করার জন্যে আমাদের একটি ইউনিক আইডি দেওয়া হয়। বিটকয়েন অনলাইন এবং অফলাইন দুইভাবে কেনা যায়।

আর বিটকয়েন ওয়ালেটে বিটকয়েন সংগ্রহ করে রাখার জন্যে বিটকয়েন ওয়ালেটের পাবলিক কি এর দরকার হয়। যেমন- ধরে নিন আপনি কোনো অনলাইন কিংবা অফলাইন প্লাটফর্ম থেকে

বিটকয়েন কিনেছেন,কিন্তু বিটকয়েন যেহেতু কোনো ভৌতিক মুদ্রা নয় সুতারং বিটকয়েনকে বাক্স বন্দি করা সম্ভব নয়। তাই বিটকয়েন সংগ্রহ করার জন্যে আপনার একটি ওয়ালেটের দরকার হবে।

বিটকয়েন ওয়ালেটে যখন রেজিস্ট্রেশন করা হয় তখন বিটকয়েন ওয়ালেট থেকে একটি ইউনিক আইডি (Public Key) দেওয়া হয়। আপনি কোনো জায়গা থেকে বিটকয়েন উপার্জন করে,

বিটকয়েন ওয়ালেটে সংগ্রহ করে রাখার জন্যে ততবার আপনার বিটকয়েন ওয়ালেটের ইউনিক আইডি (Public Key) দরকার হবে। বিটকয়েনের পাবলিক কি দিয়েই বিটকয়েন ওয়ালেটে বিটকয়েন ট্রান্সফার করা হয়।

এছাড়াও বিটকয়েন লেনদেন অথাৎ বিটকয়েন কেনা বেচা অথবা বিটকয়েন ওয়ালেট থেকে আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করার জন্যে বিটকয়েন ওয়ালেটের পাবলিক কি ব্যবহার করা হয়।

বিটকয়েন থেকে ইনকাম কিভাবে করবেন (Bitcoin theke income)

বিটকয়েন থেকে ইনকাম করার বহু পথ আছে, আমরা এখানে বিটকয়েন থেকে ইনকাম করার ০২/০৩ টি উপায়ের কথা বলব। বিটকয়েন থেকে ইনকাম করার জন্যে

আমাদের একটি বিটকয়েন ওয়ালেট অথাৎ বিটকয়েন একাউন্ট খোলার দরকার হয়। যাইহোক আমরা এখন বিটকয়েন থেকে ইনকাম করার পথ গুলো জানব।

প্রথমত –

সবার প্রথমে আপনি যদি একজন কোটিপতি ব্যক্তি হন তাহলে সরাসরি $৯৯৯ ডলার দিয়ে একটি বিটকয়েন কিনতে পারেন। দাঁড়ান তবে এতো তাড়াতাড়ি $৯৯৯ ডলার দেখে আপনার ঘাবড়ে যাওয়ার মত এখনো কিছু হয়নি,

আমি জানি আপনার কাছে এতো টাকা নেই তবু আপনার কাছে যদি মোটামোটি ০৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করার মত থাকে, তাহলে আপনি বিটকয়েনের ভগ্নাংশ অথাৎ বিটকয়েনের সাতোশি টুকরো হিসাবে কিনে রাখতে পারেন।

বিটকয়েনের সবথেকে ছোট অংশকে সাতোশি বলা হয়। আরো সহজভাবে বলতে গেলে আমাদের ভারতীয় মুদ্রায় যেমন ১০০ পয়সা সমান ০১ টাকা হয়, ঠিক একইভাবে ১০ কোটি সাতোশি দিয়ে ০১ টি বিটকয়েন হয়।

তাই আপনার ০১ টি বিটকয়েন কেনার মত টাকা না থাকলেও আপনি বিটকয়েনের ০১ সাতোশি অথাৎ একটি বিটকয়েনের ভগ্নাংশ কিনে রাখতে পারেন।

আর ভবিষ্যতে বিটকয়েনের মূল্য বৃদ্ধি হলে আপনি বিটকয়েনের ভগ্নাংশ সাতোশি বিক্রি করে বিটকয়েন থেকে ইনকাম করতে পারেন।

বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে
বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে

দ্বিতীয়ত –

আপনি যদি অনালাইনে দ্ৰব্য কেনা বেচা করেন, সেক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছে যদি বিটকয়েন থাকে তাহলে আপনি দ্রব্যের বিনিময়ে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা না নিয়ে বিটকয়েন নিয়ে বিটকয়েন সংগ্রহ করতে পারেন।

আপনি চাইলে আপনার প্রয়োজনে পরবর্তী ক্ষেত্রে আপনার বিটকয়েনের রাশি থেকে অন্য কোন গ্রাহকের সাথে বিটকয়েনের মাধ্যমে পণ্যের লেনদেন করতে পারেন।

বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে

তৃতীয়ত –

বিটকয়েন মাইনিং (bitcoin mining) করেও বিটকয়েন থেকে ইনকাম করা যায়। যারা বিটকয়েন মাইনিং করেন তাদের কাছে high speed processor ও GPU সম্পূর্ণ হার্ডওয়ার বিশিষ্ট বিশেষ কম্পিউটার থাকে।

সচরাচর বিটকয়েন কোনো ভৌতিক মুদ্রা না হওয়ায় আমরা হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড বিটকয়েনের লেনদেন করতে পারিনা। বিটকয়েন ইন্টারনেটের মাধ্যমে, বিটকয়েনের এক ওয়ালেট থেকে অন্য ওয়ালেটে ট্রান্সফার করা হয়।

বিটকয়েন অনলাইন ট্রানজেকশন করার সময় বিটকয়েন টি অরজিনাল কিনা যাচাই করার পর, তবেই বিটকয়েনের ট্রানজেক্শন পক্রিয়া পুরো করা হয়।

আর যাদের দ্বারা বিটকয়েন অথবা বিটকয়েনের ট্রানজেকশনের সত্যতা যাচাই করার কাজ করা হয়, তাদের বিটকয়েন মাইনর (bitcoin miners) বলা হয়।

বিটকয়েন মাইনরদের বিটকয়েন মার্কেট থেকে বিটকয়েনের সত্যতা যাচাই করার জন্যে বোনাস হিসাবে কিছু লভ্যাংশ দেওয়া হয়ে থাকে।

বিটকয়েন মাইনিং কি (Bitcoin Mining Ki)

আপনারা এতক্ষনে নিশ্চয় বিটকয়েনের কনসেপ্ট গুলো ধাপে ধাপে একটু একটু করে বুঝতে পারছেন। আর কিছু না হলেও আপনারা এটা অন্তত বুঝে গেছেন বিটকয়েন হল একটি অভৌতিক রূপহীন মুদ্রা ব্যবস্থা।

যাইহোক আপনারা জেনে রাখুন যারা বিটকয়েন ভেরিফাই করে তাদেরই বিটকয়েন মাইনর (bitcoin miners) বলা হয়। আর বিটকয়েন মাইনরদের দ্বারাই বিটকয়েন মুদ্রা তৈরি করা হয়।

বিটকয়েন তৈরীর পুরো প্রক্রিয়াকে বিটকয়েন মাইনিং (bitcoin mining) বলা হয়। একজন কম্পিউটার কোডিং জানা যেকোনো ব্যক্তি high speed processor ও computer দিয়ে বিটকয়েন মাইনিং করতে পারে।

তবে বিটকয়েন মাইনিং করার জন্যে যে ধরণের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন প্রসেসরের প্রয়োজন তা সবার বাজেট সাশ্রয়ী হয়ে উঠে না। বিটকয়েন মাইনিং এর এক একটি প্রসেসরের দাম ০৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ২০ লক্ষ টাকার বেশি হয়।

বিশ্বের প্রতিটি দেশে যেমন বর্তমান বাজার দরের উপরে ভিত্তি করে মুদ্রা ছাপানোর বাঁধাধরা একটা সীমানা থাকে, ঠিক একইভাবে বিটকয়েন মাইনিং বা বিটকয়েন উৎপাদন করার একটি সর্বোচ্চ সীমা আছে।

যেমন- সর্বোচ্চ ২১ মিলিয়নের পর্যন্ত বিটকয়েন মাইনিং করা যাবে। তারমানে কোনোভাবে ২১ মিলিয়নের বেশি বিটকয়েন মার্কেটে নিয়ে আসা যাবে না। বর্তমানে বাজারে আনুমানিক ১৪ মিলিয়নের কাছাকাছি বিটকয়েন আছে।

আর ভবিষ্যতে বিটকয়েনের বাজারের উপরে নির্ভর করেই আরো নতুন বিটকয়েন, বিটকয়েন মাইনরদের দ্বারা মাইনিং করে বিটকয়েন মার্কেটে নিয়ে আসা হবে।

বিটকয়েন কিভাবে কিনবেন (Bitcoin Kivabe Kinben)

বিটকয়েন কি ? বিটকয়েনের মানে কি আর আপনাদের বুঝতে অবশ্য বাকি নেই। এখন স্বাভাবিকভাবে আপনাদের মনে প্রশ্ন হতে পারে ভারতে বিটকয়েন কিভাবে কিনবো ?

তাহলে আপনাদের বলে রাখি বর্তমানে অনলাইনে বিটকয়েন কেনা বেচা করার অনেক প্লাটফর্ম খোলা আছে, তার মধ্যে দু-চারটে প্লাটফর্ম বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

০১. Unocoin : Unocoin হল এমন একটি বিটকয়েন ওয়ালেট প্লাটফর্ম যেখানে ০% শুল্কে আপনি সরাসরি বিটকয়েন মার্কেটে বিনিয়োগ করতে পারেন।

তাছাড়া Unocoin প্লাটফর্মে বিটকয়েন নিউজের লাইভ আপডেট সহ বিটকয়েন বাজারের মন্দা ও বিটকয়েন বাজারের চড়াও এর উপর ভিত্তি করে ০% শুল্ক দিয়ে যখন খুশি বিটকয়েন ক্রয় ও বিক্রয় করতে পারবেন।

০২. Zebpay : Zebpay হল এমন একটি বিটকয়েন বেস প্লাটফর্ম,যেখানে আপনি বিটকয়েন কেনা বেচার সাথে সাথে, বিটকয়েন দিয়ে মোবাইল রিচার্জ, ট্রেন টিকিট, হোটেল বুকিং ইত্যাদি লেনদেন গুলো অনায়াসে করতে পারবেন।

(আরো পড়ুন : বিটকয়েন কেনা বেচা কিভাবে করবেন)

বিটকয়েন এত জনপ্রিয় হচ্ছে কেন

বর্তমানে কয়েকবছরে শেয়ার মার্কেটের তুলনায় বিটকয়েনের গ্রোথ বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বিটকয়েনকে মানুষ শুধু আজ লেনেদের মাধ্যম হিসাবে নয় বিটকয়েনকে মানুষ সম্পত্তি (Assets) হিসাবে ক্রয় করে রাখছে।

এছাড়াও বিটকয়েন কেনার আরো কতগুলো বিশেষ দিক রয়েছে, যার জন্যে মানুষ এতো বেশি পরিমানে বিটকয়েন কিনছেন আর তাতেই বিটকয়েনের দাম হু-হু করে বাড়ছে।

Useful Dashbord : সাধারণভাবে দেখতে গেলে ব্যাঙ্ক একাউন্টের তুলনায় বিটকয়েন একাউন্ট খোলা অনেক সহজ। যারা মোটামোটি এন্ড্রোয়েড মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন,

তারা অতিসহজেই কয়েকটি ধাপে, কয়েক মিনিটের মধ্যে নিজের নামে একটি বিটকয়েন একাউন্ট সেটাপ করে নিতে পারবে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার বিটকয়েন একাউন্ট খোলার জন্যে কোনো রকম টাকা লাগেনা।

Privecey : একজন ব্যক্তি বিটকয়েনের লেনদেন করার জন্যে একাধিক বিটকয়েনের আইডি (Public Key) রাখতে পারেন আর সবথেকে বড় ব্যাপার বিটকয়েন আইডিতে ব্যক্তির কোনো নাম ঠিকানা তথ্য ডিটেলস দেওয়ার দরকার পড়ে না।

তাই একজন ব্যক্তি অন্যজন ব্যক্তির পরিচয় না জেনেও অনায়াসে বিটকয়েনের সিকিউর লেনদেন করতে পারে। আজকালকার যুগে সবাই তার নিজের নিজের প্রাইভেসি গোপন রাখতে চায়।

Esey to Use : বিটকয়েন লেনদেনের ০১ম থেকে সর্বশেষ, যাবতীয় তথ্যের রেকর্ড ব্লকচেইন (block chain) মাধ্যমে সংরক্ষণ করে রাখা হয়, যার জন্যে বিটকয়েন উপভোক্তাকে লেনদেনের ডেটা সেভ করে রাখার দরকার হয় না।

বিটকয়েনের যাবতীয় লেনদেন বিটকয়েন মাইনর দ্বারা যাচাই করার পরেই সিকিউর ট্রানজেকশন করা হয়, তাই বিটকয়েন জালিয়াতি করার কোনো সুযোগ থাকেনা।

(আরো পড়ুন : ব্লক চেইন প্রযুক্তি কি )

Speed : বিটকয়েন ভারচ্যুয়াল কারেন্সি হল পৃথিবীর অন্যতম দ্রুত লেনলেন ব্যবস্থা,তাই নিমেষেই এক সার্ভার থেকে অন্য সার্ভারে বিটকয়েন ট্রান্সফার হয়ে যায়। বিটকয়েনের লেনদেন প্রসেস অত্যন্ত দ্রুত হওয়ায়

বড় বড় ব্যবসায়ীরা তাদের বড় রকমের লেনদেনের মাধ্যম হিসাবে বিটকয়েনকে বেছে নিচ্ছেন। তাছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মান যুগের সাথে অবনমন হলেও বিটকয়েনের মূল্য অনেকটাই স্থির এবং অনেক বেশি লাভদায়ক ও প্রভাবশালী।

বিটকয়েনের দাম কত (Bitcoin Price in India)

দেখুন বিটকয়েনের নির্দিষ্ট করে দাম বলা প্রায় অসম্বভব, বিটকয়েনের দাম বিটকয়েন মার্কেটে চাহিদার উপর নির্ভর করে তাই বিটকয়েনের মার্কেটে চাহিদা বাড়লে বিটকয়েনের দাম বাড়ে,

আবার মার্কেটে বিটকয়েনের চাহিদা কমলে বিটকয়েনের দাম কমে। তাই বিটকয়েনের দাম মার্কেটের চাহিদা অনুযায়ী কখনো বাড়ে তো আবার কখনো কমে।

তবু বিটকয়েন সম্পর্কে আপনাদের একটা আইডিয়া দিয়ে দিই যা থেকে বর্তমান বাজারে বিটকয়েনের দাম সম্পর্কে একটি মোটামোটি ধারণা আপনারা পেয়ে যাবেন।

ভারতীয় মুদ্রায় বিটকয়েনের দাম : এখানে আপনাদের ভারতীয় মুদ্রায় বিটকয়েনের দাম কত ক্যালকুলেট করার একটি অনলাইন ক্যালকুলেটর দিয়ে দিলাম,আপনারা সেখানে ক্লিক করে বিটকয়েনের বর্তমান দাম দেখতে পারেন।

বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে
বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে

আপনারা বর্তমানে এখানে স্ক্রিনশটে দেখতে পাচ্ছেন ০১ টি বিটকয়েনের মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় ৪৭,৯১,২০০.৭০ টাকা। তবে বিটকয়েনের মূল্য কখনোই স্থির নয় এটা বাজার সাপেক্ষে,তাই বিটকয়েনের দামের উঁচু নিচু হয়।

বাংলাদেশী মুদ্রায় বিটকয়েনের দাম কত : ভারতীয় মুদ্রার মত এখানে বাংলাদেশী মুদ্রায় বিটকয়েনের দাম দেখার অনলাইন ক্যালকুলেটর সংযুক্ত করা হল। আপনারা এখানে ক্লিক করে বিটকয়েনের দাম দেখতে পারেন।

এখানে আপনাদের সামনে যে স্ক্রিনশট শেয়ার করা হয়েছে সেখানে দেখতে পারছেন বাংলাদেশী মুদ্রায় ০১ টি বিটকয়েনের মূল্য ৫৫,৩৯,০২৭,০৮ টাকা। তবে বিটকয়েনের দাম বাজার দর অনুযায়ী কম বেশি হয়।

বিটকয়েন কি বাংলাদেশে বৈধ ?

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বৈধতা দেয় নি। বাংলাদেশের সরকার ও বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক মনে করেন বাংলাদেশে বিটকয়েন কে বৈধ করা হলে বাংলাদেশে মানি লন্ডরিং বৃদ্ধি পাবে।

তাই বাংলাদেশ সরকার আইনতভাবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে অফিসিয়াল নোটিস জারি করে বিটকয়েনকে বাংলাদেশে অবৈধ ও নিষিদ্ধ বলে অগ্রিম সতর্কতা জারি করেছেন।

বিটকয়েনের লাভ (Bitcoin Benifit)

এতক্ষন আমরা বিটকয়েন মানে কি ? বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে মোটামোটি আলোচনা সাপেক্ষে সংক্ষেপে আপনাদের বোঝানোর চেষ্টা করলাম, এবারে আপনাদের বিটকয়েনের কতগুলো লাভদায়ক দিকের কথা বলব।

০১. আপনারা জানেন ইটারন্যাশনাল অথবা এক ব্যাঙ্ক থেকে অন্য কোনো কোম্পানীর ব্যাঙ্কের ক্রেডিড কার্ড অথবা ডেবিট কার্ডে লেনদেন করলে, ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ড থেকে কিছু পয়সা চার্জ করা হয়।

কিন্তু একইভাবে বিটকয়েন কারেন্সিতে ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন করলেও শুধু নামমাত্র চার্জ করা হয়, তাই বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেন ক্রেতা ও বিক্রেতার কাছে অনেকটাই সাশ্রয়ী হয়।

০২. বিটকয়েন দিয়ে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে লেনদেন করা যায় এবং বিটকয়েনে যতখুশি ততবার লেনদেন করা হলেও,বিটকয়েন ওয়ালেট একাউন্ট ব্লক হয়ে যাওয়ার কোনো ভয় থাকেনা।

একইভাবে ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ডে কিংবা ক্রেডিট কার্ডে অতিরিক্ত লেনদেন করলে একাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়। তাই মানুষ সেফ এবং ইজি লেনদের পথ হিসাবে বিটকোয়নকে বেছে নিচ্ছে।

০৩. বিটকয়েন ওয়ালেটে দীর্ঘ্যসময়ের জন্যে বিটকয়েন কিনে রেখে দিলে দফায় দফায় ১০ থেকে ৬০ গুন পর্যন্ত মুনাফা পাওয়ার সম্ভবনা আছে।

০৪. বিটকয়েনের উপর সরকার কিংবা কোনো ইন্টারন্যাশনাল ব্যাঙ্কের কোনো রকম কন্ট্রোল নেয়, তাই অনেক মুনাফা লোভী মানুষেরা তাদের ব্ল্যাক মানি বিটকয়েনে ইনভেস্ট করে মানি লন্ডরিং করে।

বিটকয়েনের লোকসান (Bitcoin Disadvantages)

০১. বিটকয়েন কোনো দেশের সরকার,কোনো ব্যাঙ্ক বা কোনো এজেন্সি দ্বারা কন্ট্রোল করা হয়না এবং বিটকয়েনের দাম বাজার সাপেক্ষে কখনো বাড়ে,আবার কখনো কমে, তাই বিটকয়েন হল একটি ঝুঁকি সাপেক্ষ নিবেশ।

০২. বিটকয়েনের একাউন্ট যদি কোনো কারণে হ্যাক হয়ে যায় অথবা আপনি যদি বিটকয়েন ওয়ালেটের পাসওয়ার্ড ভুলে যান তাহলে আপনার পুরো ডেটা এবং বিটকোয়নে নিবেশ করা টাকা লস হয়ে যায়, যা কোনো প্রকারে রিকোভারি করা সম্ভব নয়।

বিটকয়েনের ভবিষ্যৎ (Bitcoin Future)

দেখুন বিটকয়েনে নিবেশকারীর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে কি হবেনা ! না বিটকয়েন সময়ের সাথে ফিকে পড়ে যাবে তা নির্দিষ্টভাবে বুক ঠুঁকে কেউ বলতে পারবেনা। তবে দিন প্রতিদিন অন্তরাষ্ট্রীয় বাজারে

বিটকয়েনে নিবেশের পরিমান বাড়ছে। তাই একেবারে ভবিষ্যেতে বিটকয়েনে নিবেশ করে লাভবান হবেনা সেই সম্ভবনাকেও টলিয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা। বর্তমানে বিশ্বের তিরিশ হাজারেরও বেশি কোম্পানী বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেন করে।

আজ বিশ্বের জনপ্রিয় কোম্পানি যেমন- টেসলা, টরেন্ট সাইট, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ব্লগিং প্লাটফর্ম ওয়ার্ডপ্রেস বিটকয়েন গ্রহণ করে। তাই আমরা বলতে পারি ভবিষ্যতে বিটকয়েনের চাহিদা আরো বাড়বে।

FAQ

প্রশ্নঃ বিটকয়েন কি ভারতে বৈধ ?

উঃ সরকারিভাবে অফিসিয়ালি বিটকয়েন কে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফ থেকে এখনো মান্যতা দেওয়া হয়নি। ।

প্রশ্নঃ বিটকয়েন কি বাংলাদেশে বৈধ ?

উঃ বিটকয়েন বাংলাদেশে বৈধ নয়।

প্রশ্নঃ ০১ বিটকয়েন সমান কত টাকা ?

উঃ ০১ বিটকয়েন সমান ৪৮,০২,৫৬০.৬১ টাকা। তবে এই টাকার পরিমান বিটকয়েনের বাজার সাপেক্ষে কম বেশি হতে পারে।

প্রশ্নঃ ০১ বিটকয়েন সমান কত সাতোশি ?

উঃ ০১ টি বিটকয়েন সমান ১০ কোটি সাতোশি।

5/5 - (2 votes)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here