২০২১সালের রিস্ক ফ্রি সরকারি সেভিং স্কিম পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও পিপিএফ ক্যালকুলেটর

আজকে আপনাদিকে বলব পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও পিপিএফ ক্যালকুলেটর (Risk free Best Government saving Plan-2021) এর সমন্ধে। পিপিএফ (PPF) ভারত সরকারের একটি যোজনা।

পিপিএফ হল ভারত সরকারের একটি লং ট্রাম ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান। পিপিএফ (PPF) যোজনায় লাভবান হয়েছে ভারতের লক্ষ লক্ষ পরিবার।

পিপিএফ এ মানুষ টাকা রাখে সাধারণত রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান,ছেলে-মেয়ের উচ্চ শিক্ষা কিংবা পরিবারের বড়ো কোনো অংশে যোগদানের জন্য।

কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পিপিএফ কে নিয়ে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা কাজ করে। সাধারণ মানুষ মনে করে  পিপিএফ (PPF) যোজনার লাভ শুধু সরকারি চাকুরী জীবিরাই নিতে পারবে।

এরকম ধারণা কারো মনের মধ্যে থাকলে,তা কিন্তু একেবারে ভুল। পিপিএফ একাউন্ট ভারতের যেকোনো লোক,সে যে পেশার সঙ্গে যুক্ত হোক না কেন,

যেমন- লেবার,চাষী,ড্রাইভার,ভিখারি,চাকুরিজীবী হোকনা কেন,যে কেউ পিপিএফ (PPF) একাউন্ট খুলতে পারে।

আজকে তাই আপনাদের সামনে আলোচনা করা হবে,পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও পিপিএফ ক্যালকুলেটর  এর মাধ্যমে কিভাবে পিপিএফ একাউন্ট এর সুদ

ক্যালকুলেট করবেন। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও পিপিএফ ক্যালকুলেটর সমন্ধে।

পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও পিপিএফ ক্যালকুলেটর 


বর্তমানে ভারত সরকারের যত গ্যারিন্টি স্কিম আছে তার মধ্যে পিপিএফ হল অন্যতম। কারণ পিপিএফ (PPF) হল ভারত সরকারের এমন একটি যোজনা,

যে যোজনায় সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’র পর সবথেকে বেশি সুদ পাওয়া যায়। তাও আবার চক্র বৃদ্ধি হারে। আসুন তাহলে সবার আগে জেনে নেওয়া যাক আসলে,

পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড কি ? প্রভিডেন্ট ফান্ড কাকে বলে। এই দুটো প্রকল্পের মধ্যে পার্থক্য কোথায় জানা যাক নিচের আলোচনায়।

পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড কি ?


দেখুন PPF এর পুরো ইংরেজি নাম হল পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড। এই পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড হল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি গ্যারেন্টি রিটার্ন প্ল্যান।

পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড এ বিনিয়োগ করলে, বিনিয়োগ কৃত রাশির উপর চক্র বৃদ্ধি হারে সুদ সহ গ্যারেন্টি ম্যাচুরিটি পাওয়া যায়। ম্যাচুরিটি হওয়া টাকার উপর কোনো রকমের ট্যাক্স লাগে না।

পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড কথাটির শুরু হচ্ছে পাবলিক দিয়ে সুতারং বুঝতেই পারছেন পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড হল সমস্ত পাবলিকের জন্য উন্মুক্ত।

প্রভিডেন্ট ফান্ড কাকে বলে ?


PF এর ইংরেজি পুরো নাম হল প্রভিডেন্ট ফান্ড। যা সাধারণত EPF নামে বেশি পরিচিত, সচরাচর আমরা এমপ্লয় প্রভিডেন্ট ফান্ড নামে চিনি।

EPF হল বেতনভোগী কর্মচারীদের জন্য উপলব্ধ একটি সরকারি ফান্ড। এই প্রভিডেন্ট ফান্ড এ একজন কর্মচারী তার মূল বেতনের ১২ % রাশি বিনিয়োগ করতে পারে।

কর্মচারীর বিনিয়োগ করা রাশির ৩.৬৭% জমা করা হয় প্রভিডেন্ট ফান্ড খাতায় এবং বাকি ৮.৩৩% রাশি জমা করা হয় কর্মচারীর পেনশন ফান্ডে।

সুতরাং আমরা বলতে পারি EPF/এমপ্লয় প্রভিডেন্ট ফান্ড যাকে বাংলায় কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ড বলা হয়। এই প্রভিডেন্ট ফান্ড হল বেতনভোগী কর্মচারীর একটা প্লাটফর্ম।

এই প্লাটফর্মে কর্মচারীরা তাদের মাসিক বেতনের একটি অংশ সংরক্ষণ এবং পেনশন হিসাবে রিটারমেন্ট এর জন্য সেভিং করে রাখতে পারে।

PPF একাউন্ট বেনিফিট। 4 1

তাহলে আমরা ধরেই নিতে পারি আপনারা বুঝতে পেরেছেন PPF/ পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড হল সমস্ত পাবলিকের জন্য রিস্ক ফ্রি প্লাটফর্ম।

অপরদিকে EPF/এমপ্লয় প্রভিডেন্ট ফান্ড হল শুধু মাত্র বেতনভোগী কর্মচারীদের জন্য রিটারমেন্ট এবং পেনশন হিসাবে সেভিং করার জন্য সবথেকে ভাল প্লাটফর্ম।

পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম (PPF Account Rules)


পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী PPF খাতা খোলার কতগুলি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। নিয়ম গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল –

০১. পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, সর্বপ্রথম PPF একাউন্ট যে খুলতে চায় তাকে সবার প্রথমে একজন ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।

০২. পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, PPF খাতা খোলার জন্য নির্দিষ্ট ভাবে বয়সের কোনো প্রবোধান দেওয়া নাই। যেকোনো বয়সের লোক তার জন্য পিপিএফ একাউন্ট খুলতে পারেন।

০৩. পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী,PPF একাউন্ট ভারত সরকারের মান্যতা প্রাপ্ত সব ব্যাঙ্ক এবং পোষ্ট অফিসে পিপিএফ খাতা খোলা যায়।

০৪. তবে মনে রাখবেন একই ব্যক্তির নামে আলাদা করে দুটি ব্যাঙ্ক অথবা পোস্ট অফিসে একই ব্যক্তির নামে দুটি পিপিএফ একাউন্ট খোলা যায় না।

০৫. পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, PPF একাউন্ট ভারতবর্ষের যে কোনো জায়গায় ট্রান্সফার করা যায়। ব্যাঙ্ক থেকে পোস্ট অফিসে এবং পোস্ট অফিস থেকে ব্যাঙ্ক।

০৬. পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের নামে শুধু একটি মাত্র পিপিএফ একাউন্ট খুলতে পারবে। একই নামে একটার বেশি PPF খাতা খোলা যায় না।

০৭. পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, PPF একাউন্ট আপনি আপনার শিশু সন্তানের নামে খুলতে পারেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ঐ শিশুর একাউন্টের দায়িত্বভার শিশুর বাবা মায়ের হাতে থাকবে।

০৮. কোন বিদেশি নাগরিক PPF একাউন্ট খুলতে পারবেনা। কারণ পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী,শুধু মাত্র ভারতীয় নাগরিক PPF একাউন্ট খুলতে পারবে।

০৯. PPF খাতায় বাৎসরিক ন্যূনতম রাশি ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বাৎসরিক দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত পিপিএফ একাউন্টে জমা করা যায়।

১০. তবে আপনি চাইলে PPF খাতায় বাৎসরিক দেড় লক্ষ টাকার বেশি জমা করতে পারেন। কিন্তু পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, আপনি দেড় লক্ষ টাকার বেশি,

যে অতিরিক্ত টাকা জমা করলেন তার উপর পিপিএফ এর সুদ দেওয়া হবে না। আপনার জমা করা অতিরিক্ত টাকার উপর সাধারণ সেভিং খাতার সুদ দেওয়া হবে।

PPF একাউন্ট বেনিফিট। 1 1

১১. পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, মনে করুন আপনার নামে ও আপনার সন্তানের নামে দুটি আলাদা আলাদা PPF খাতা খোলা আছে।

কিন্তু আপনি ঐ দুটো খাতা মিলিয়ে সর্বমোট বাৎসরিক দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা করতে পারবেন। দুটি একাউন্টে আলাদা করে দেড় লক্ষ করে দুটি একাউন্টে তিন লক্ষ টাকা বাৎসরিক জমা করতে পারবেন না।

১২. পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, PPF খাতায় সর্বমোট বাৎসরিক ১২ কিস্তিতে টাকা জমা করতে পারেন। যেমন – ০১.প্রতিমাসে,০২.প্রতি তিন মাস অন্তর,০৩.প্রতি ছয় মাস অন্তর ০৪.বাৎসরিক/ইয়ার্লি।

আপনি এই রকম করে টোটাল চার পর্যায়ক্রমে টাকা জমা করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন সব মিলিয়ে বছরে ১২ বার এবং সর্বনিম্ন ০১ বার PPF খাতায় টাকা জমা করা যায়।

১৩. বর্তমানে PPF খাতায় চেক বুক,ব্যাঙ্ক ড্রাফট,নগদ ছাড়াও  ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং ও গুগল প্লে স্টোরে উপলব্ধ বিভিন্ন ট্রাস্টেড UPI এপ এর মাধ্যমে টাকা জমা করা যায়।

আরো পড়ুন: নতুন সংসদ ভবন। 

পিপিএফ একাউন্ট কি ভাবে খুলবেন


পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, PPF খাতা দুই ভাবে খোলা যায়। যেমন-০১.অনলাইন,০২.অফলাইন এর মাধ্যমে।

০১. পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড রুলস অনুযায়ী,অনলাইনে PPF খাতা তারা খুলতে পারবে যাদের,আগে থেকে কোনো ব্যাঙ্ক কিংবা পোস্ট অফিসে সেভিং খাতা আছে।

সেই সমস্ত ব্যক্তিরা ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং অথবা পোস্ট অফিসে খাতা থাকলে পোস্ট অফিস ব্যাংকিয়ের অনলাইন এপ গুলোতে আইডি ও পাসওর্য়াড দিয়ে লগইন করে,

ড্যাসবোর্ডে ওপেন ইওর পিপিএফ একাউন্টে ক্লিক করে সরাসরি পিপিএফ খাতা খুলতে পারে। অনলাইনে খাতা খোলার সুবিধা এই যে আলাদা করে ডকুমেন্ট সাবমিট করার দরকার হয়না।

০২.অফলাইনে PPF খাতা খোলার জন্য,গ্রাহককে ব্যাঙ্ক কিংবা পোস্ট অফিসে গিয়ে পিপিএফ এর ফ্রম পূরণ করে ,পুরো কাগজ জমা করতে হয়।

পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী,PPF Opening form যাকে Form-A বলা হয়ে থাকে, ঐ ফর্মটি ফিলাপ করে তার সাথে সাপোর্টিং ডকুমেন্ট হিসাবে,

প্যান কার্ড,আধার কার্ড,ভোটার কার্ড (জেরক্স কপি),পাসপোর্ট সাইজ তিন কপি ছবি এবং একাউন্ট খোলার জন্য নূন্যতম ৫০০ টাকা জমা করতে হবে।

পিপিএফ সুদের হার ২০২১


পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও পিপিএফ ক্যালকুলেটরে পিপিএফ সুদের হার ২০২১ অনুযায়ী ক্যালকুলেট যদি করা যায়,

তাহলে বর্তমান পিপিএফ সুদের হার ২০২১ এ চলা সুদ দেখতে পাবেন। তবে একথাটা ঠিক যে পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও পিপিএফ ক্যালকুলেটরে,

পিপিএফ সুদের হার ২০২১ এ যদি খুঁজে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন,প্রধানমন্ত্রী সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা পর,সবথেকে বেশি,

সুদের হার রয়েছে পিপিএফ একাউন্টে। বর্তমানে পিপিএফ সুদের হার ২০২১ অনুযায়ী,পিপিএফ একাউন্টে সুদের হার ৭.০১%,

কিন্তু মনে রাখবেন পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও পিপিএফ ক্যালকুলেটরে সুদের হার সব সময় এক রকম দেখতে পাবেন না।

কারণ প্রতি তিন মাস অন্তর দেশের আর্থিক বিকাশ দর অনুযায়ী সুদ পরিবর্তন হয়ে থাকে। পিপিএফ যোজনা হল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি যোজনা।

এখানে কোনো প্রাইভেট কোম্পানির কোনো রকমের লিঙ্ক নেই। তাই আপনি চোখ বুজে পিপিএফ একাউন্ট খুলতে পারেন।

পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী,PPF একাউন্টে বাৎসরিক যে অঙ্কের রাশি জমা করবেন তার উপর Sec-80 c অনুসারে ইনকাম ট্যাক্স রিবেট পাওয়া যায়।

পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, পিপিএফ একাউন্টে পাওয়া ম্যাচুরিটি এমাউন্টের উপর কোনো রকমের আয়কর দিতে হয়না। এককথায় যাকে ট্যাক্স ফ্রী রিটার্ন বলতে পারেন।

পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী,PPF একাউন্টে চক্র বৃদ্ধি হরে সুদ দেওয়া হয়। একবার জমা করা টাকার উপর প্রতি মাসে,আর একবার সম্পূর্ণ টাকার উপর বছরের শেষে।

PPF একাউন্ট বেনিফিট। 3 1

পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, পিপিএফ খাতায় ফুল ফিনান্সিয়াল ইয়ার হিসাবে এপ্রিল থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ধরা হয়। আর সুদ যোগ করা হয় মান্থলি ক্যাল্কুলেশনের মাধ্যমে।

পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী,প্রত্যেক মাসের ০১ থেকে ০৫ তারিখের মধ্যে যদি আপনি টাকা জমা করেন তাহলে, সেই জমা করা মূল টাকার উপর আপনি ঐ মাসেই একটা সুদ পাবেন।

কিন্তু ঐ মাসের ০৫ তারিখের পরে মাসের লাস্ট মানে ৩০ তারিখ পর্যন্ত যদি আপনি আপনার কিস্তির টাকা জমা করেন তাহলে ঐ মাসে আপনাকে জমা করা টাকার উপর

কোন মাসিক সুদ দেওয়া হবে না। সেই টাকার সুদ পরের মাসে ধরা হবে। যেমন-আপনি জুলাই মাসের PPF এর কিস্তি ঐ মাসের ০২ তারিখে জমা করেন,

তাহলে আপনাকে জুলাই মাসের সুদ দেওয়া হবে। কিন্তু ঐ কিস্তির টাকাটা যদি আপনি জুলাই মাসের ১০ তারিখে জমা করেন সেই ক্ষেত্রে,

ঐ জমা করা টাকার মাসিক সুদ জুলাই মাসে Count করা হবে না। ঐ টাকার সুদ Count করা হবে পরের মাসে মানে আগস্ট মাসে।

একই ভাবে আপনি যদি আপনার PPF খাতার কিস্তি কোন বছরের শুরুতে জমা করেন তাহলে যে মাসে টাকা জমা করবেন সেই মাসে জমা করা টাকার উপর আপনাকে সুদ দেওয়া হবে।

ব্যাপারটা আরও ভাল ভাবে বোঝা যাক একটি উদাহরনের সাহায্যে। মনে করুন আপনি ২০২১ সালে জানুয়ারী কিংবা ফ্রেবুয়ারী মাসে আপনার PPF খাতায় টাকা জমা করলেন।

তাহলে ঐ Financial Year এ শুধু আপনাকে ঐ মাসের সুদ দেওয়া হবে। কিন্তু ঐ টাকায় যদি আপনি এপ্রিল  মাসের ০৫ তারিখের আগে মানে ধরুন ০৩ তারিখে জমা করেন,

তাহলে ঐ Financial Year এর পুরো বছরের সম্পূর্ণ সুদ পাবেন। কারণ PPF খাতার সুদ প্রতি Financial Year হিসাবে April to March মাসকে কে Full Financial Year হিসাবে ধরা হয়।

যেমন- আপনি যদি এই বছর মানে ২০২১ সালে August মাসে আপনার PPF খাতা খুলে প্রতি মাসের ০১ তারিখে ১,০০০ টাকা করে জমা করতে থাকেন।

সেক্ষেত্রে আপনাকে ২০২১ সালের August মাস থেকে ২০২২ সালের March মাস পর্যন্ত আপনাকে মাসিক দরে সুদ দেওয়া হবে।

কিন্তু ২০২১ সালের Financial Year এর পুরো বছরের সুদ দেওয়া হবেনা। কারণ আপনার ২০২১ সালের Financial Year ধরা হবে পরের বছর অথাৎ ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ এর মার্চ মাস পর্যন্ত।

আরো পড়ুন: নতুন কৃষি আইন। 

পিপিএফ একাউন্ট ম্যাচুরিটি টাইম


পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, পিপিএফ খাতার ম্যাচুরিটি হওয়ার নিয়ম গুলি হল নিম্নরূপ –

  • পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, PPF খাতায় সর্বমোট ১৫ বছর Full Financial Year টাকা জমা করতে হবে।
  • পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ বছর আপনার টাকা Locking period এর মধ্যে থাকবে। লকিং পিরিয়ড হিসাবে ১৫ বছর Full Financial Year-কে ধরা হবে।
  • যদি আপনি ২০২১ সালের April মাসে PPF খাতা খুলে থাকেন সেই ক্ষেত্রে আপনার Full Financial Year সমাপ্ত হবে ১৫ বছর পর ২০৩৬ সালের March মাসে।
  • পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ বছর পরে চাইলে আপনি ০২ বার ০৫ বছর করে পিপিএফ একাউন্ট Extend করাতে পারেন।

প্রিম্যাচুওর পিপিএফ একাউন্ট,এমাউন্ট Withdraw করার নিয়ম


আপনি যদি আপনার PPF খাতা ১৫ বছর Full Financial Year Complete হওয়ার আগে,বন্ধ করতে চান কিংবা টাকা তুলতে চান,

তার জন্য বিশেষ কীছু নিয়ম আছে। আসুন তাহলে প্রিম্যাচুওর পিপিএফ একাউন্ট,এমাউন্ট Withdraw করার নিয়ম গুলি জেনে নেওয়া যাক।

০১. পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী,PPF খাতা থেকে লোন নেওয়া যায়। PPF খাতা খোলার তিন বছর Full Financial Year Complete হওয়ার পর,

পরের তিন থেকে ছয় বছরের মধ্যে,আপনার PPF খাতায় জমা হওয়া রাশির উপর,লোন নিতে পারেন। কিন্তু পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও পিপিএফ ক্যালকুলেটর অনুযায়ী

আপনাকে PPF এ চলা Interest থেকে ০২% Interest বেশি দিতে হবে। যেমন-PPF খাতার Interest যদি ০৮% হয় তাহলে আপনাকে ০৮+০২ যোগ করে ১০% Interest দিতে হবে।

০২. Partial Withdraw Proses অনুযায়ী,আপনার PPF খাতার ছয় বছর Full Financial Year Complete হওয়ার পর। পরের সাত বছরের শুরু থেকে ষোলো বছরের মধ্যে,

PPF একাউন্ট বেনিফিট। 2 1

আপনি চাইলে টাকা বার করতে পারেন। কিন্তু তার জন্য আপনাকে PPF এ চলা Interest থেকে ০১% Interest কম দেওয়া হবে।

০৩. পাঁচ বছর ফুল Financial Year complete হওয়ার পর যদি PPF খাতা ধারক গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায়। সেই ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজ দেখিয়ে PPF খাতার টাকা তোলা যায়।

০৪. বাচ্চাদের উচ্চ শিক্ষার জন্য PPF এর টাকা Maturity হওয়ার আগে তোলা যায়। কিন্তু এক্ষেত্রেও ০১ % সুদ কম দেওয়া হয়।

পিপিএফ ক্যালকুলেটর (PPF Calculator)


নিচের ছবিটিতে পিপিএফ একাউন্ট এমাউন্ট ক্যালকুলেট করার জন্য লিঙ্ক দেওয়া হল। পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড এর পুরো এমাউন্ট ক্যালকুলেট করার জন্য ছবিতে ক্লিক করুন।

ppf

পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও বিশেষ শর্তাবলী


পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম অনুযায়ী,পিপিএফ খাতার মধ্যে কিছু বিশেষ শর্ত দেওয়া আছে যেগুলি আপনাদের জানার প্রয়োজন আছে।

০১. পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও বিশেষ শর্তানুযায়ী,যদি আপনার কোন Bank এ লোন থাকে। আর আপনি সেই লোন শোধ করতে না পারেন।

সেই জন্য Bank/Court বা অন্য কোন সংস্থা আপনার PPF খাতায় জমা থাকা টাকার ওপর loan amount claim করতে পারবেনা। আপনার PPF খাতার টাকা সুরক্ষিত থাকবে।

০২. পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও বিশেষ শর্তানুযায়ী,আপনি যদি PPF খাতাটিতে কোন কারণে বাৎসরিক নূন্যতম ৫০০ টাকা জমা না করেন।

সেক্ষেত্রে লেট ফী বাবদ ৫০ টাকা সহ নূন্যতম বাৎসরিক জমা রাশি,৫০ +৫০০=৫৫০ টাকা জমা করে পুনরায় পিপিএফ খাতা চালু করতে পারেন।

পরিশিষ্ট


প্রিয় পাঠকগণ এই ছিল পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও পিপিএফ ক্যালকুলেটর নীয়ে সামান্যতম কীছু জানকারী।

পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড হল কেন্দ্রীয় সরকারের খুব ভাল একটা স্কীম। তাই আপনি চাইলেই খুব ছোট একটা amount ৫০০ টাকা জমা করে ১৫ বছর পর একটা বড় অঙ্কের টাকার মুখ দেখতে পারেন।

আর এই স্কীম সম্পূর্ণ ভাবে সরকারী। তাই আপনাদের মধ্যে কেউ যদি এটাকে ভবিষ্যতের সঞ্চয় হিসাবে রাখতে চান। তাহলে এর থেকে ভাল এবং সুরক্ষিত

কোন স্কীম সমন্ধে আমার জানা নেয়। তাই আপনি আপনার ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আজকে থেকে পিপিএফ একাউন্ট খুলে টাকা রাখা শুরু করুন।

যাই হোক পিপিএফ একাউন্ট নিয়ম ও পিপিএফ ক্যালকুলেটর নিয়ে সম্পূর্ণ আলোচনা কেমন লাগলো আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।