Famous Scientist স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী (Issacs Newton Biography in Bengali)

আজকে আমরা আলোচনা করব স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী (Issacs Newton Biography in Bengali) নিয়ে।

স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী,নিউটন ও আপেল এর গল্প আমরা ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি। এরপর যত বয়স বেড়েছে তার সাথে,সাথে নিউটন এর আবিষ্কার,

মধ্যাকর্ষণ শক্তি,নিউটনের সূত্র (Newton law),নিউটনের প্রথম সূত্র (Newton first law),নিউটনের ভরবেগ ইত্যাদি বিষয় গুলির সাথে পরিচয় হয়েছে।

স্যার আইজাক নিউটন ছিলেন আইনস্টাইনের সমপর্যায়ের একজন বিজ্ঞানী। সপ্তদশ শতকে আধুনিক বিজ্ঞান নিউটনের হাত ধরেই পথ চলা শুরু করেছিল বললে কিছু ভুল বলা হবেনা।

স্যার আইজ্যাক নিউটন ছিলেন বিজ্ঞানের প্রকৃত সিদ্ধপুরুষ। তাই আপনারা যারা বিজ্ঞানের অনুরাগী,তারা স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী পড়লে বুঝতে পারবেন,

বিজ্ঞান সাধনায় স্যার আইজ্যাক নিউটন বিজ্ঞানের তপস্যায় কীভাবে সিদ্ধি লাভ করেছিলেন। আজকে আমরা তার সাধনার ফল বলেই মধ্যাকর্ষণ শক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছি।

স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী (Issacs Newton Biography in Bengali)


স্যার আইজ্যাক নিউটন একজন মহান বিজ্ঞানী হওয়ার সাথে,সাথে তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। নিউটন গণিত শাস্ত্র,ভৌতিক শাস্ত্র,জৌতিষ শাস্ত্র এবং দর্শন শাস্ত্রে সমান পারদর্শী ছিলেন।

তিনি ভরবেগের গতিসূত্র,মধ্যাকর্ষণ শক্তির মত বিষয় গুলি আবিষ্কার করে তার অসামান্য কৃত্তি রেখে গেছেন। আসুন তাহলে

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনীতে,স্যার আইজ্যাক নিউটন এর জীবন দর্শনকে।

নিউটনের জন্ম ওপরিচয় (Newton early life)


নিউটনের জন্ম ও তারিখ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা আছে। পুরোনো জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নিউটনের জন্ম হয় ০৪ জানুয়ারী ১৬৪৩ সালে।

আবার নতুন আধুনিক খ্রীস্টাব্দ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নিউটনের জন্ম তারিখ হিসাবে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন / ক্রিসমাস ডে এর দিন ১৬৪২ সাল বলে বিবেচিত করা হয়।

নিউটনের জন্ম হয় ইংল্যান্ডের লাঙ্কাশায়ার গ্রামে এক বিত্ত কৃষক পরিবারে। তিনি ছিলেন তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান।

তার বাবার নাম ছিল আইজ্যাক নিউটন এবং মায়ের নাম হল হানা এস্কফ। ছোট্ট নিউটন মায়ের গর্ভে থাকাকালীন,ভূমিষ্ঠ হওয়ার তিন মাস আগে নিউটনের বাবা মারা যায়।

তাই নিউটনের মা হানা এস্কফ তার স্বামী আইজ্যাক নিউটনের স্মৃতি চারণায় ছেলের নাম তার স্বামীর নামে  আইজ্যাক নিউটন রাখেন।

নিউটনের মা,নিউটনকে অপুষ্ট অবস্থায় প্রসব করেছিলেন। তাই শিশু নিউটন আকারে খুব ছোট ও রুগ্ন ছিল। তার মা হানা-র মতে নিউটনকে একটা মাঝারি কৌটো’র মধ্যে পুরে রাখলে,রাখা যেত।

নিউটনের মা বিধবা হওয়ার পর নিউটনের যখন তিন বছর বয়স, তখন নিউটনের মা হানা এস্কফ চার্চের পাদ্রি রেভারেড বার্নাবাস স্মিথ এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়।

এরপর বার্নাবাস স্মিথ তার সমস্ত সম্পত্তি নিউটনের (Newton) নামে লিখে দিলে,হানা এস্কফ বার্নাবাস এর সঙ্গে দ্বিতীয় বার বিবাহ করেন।

নিউটন তার সৎ পিতা বার্নাবাসকে সহ্য করতে পারতেন না। তাই নিউটনের মা নিউটনকে গ্রামের বাড়িতে তার দীদা মার্গারী এস্কফ এর কাছে রেখে চলে আসেন।

নিউটনের শিক্ষা জীবন (Newton education life)


নিউটন বারো বছর বয়স অবধি গ্রন্থম গ্রামের কিং স্কুল থেকে পড়াশোনা করেন। নিউটন ছেলেবেলায় খুব চঞ্চল ও রাগী ছিলেন,

স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী ঘেঁটে দেখলে দেখা যায়,নিউটন আর পাঁচটা ছেলের মত স্কুলের দেওয়ালে চক দিয়ে দাগ কেটে দুষ্টমি করতেন।

একবার তার এক সহপাঠী নিউটনকে বিরক্ত করলে,নিউটন তার সহপাঠীর সঙ্গে লড়াই করে বসে। নিউটনের দুষ্টমির প্রমান স্বরূপ,

স্কুলের জানালায় নিউটনের হাতের লেখা নিজের নাম,লেখাটি কিং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে মহান বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের স্মৃতিতে সযত্নে সংরক্ষিত আছে।

গ্রন্থমের কিং স্কুলে পড়ার সময় নিউটন ক্লার্ক নামের একজন ফার্মাসিস্টের বাড়িতে আশ্রয় নেন। আশ্রয়ের বিনিময়ে নিউটনকে ক্লার্কের ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে খেলা এবং মনোরঞ্জন করতে হত।

ফার্মাসিস্টের বাড়িতে থাকার সময় নিউটন ক্লার্কের লাইব্রেরীতে গিয়ে রসায়ন এবং গণিতের বিভিন্ন বই গুলিকে পড়ে এক্সপেরিমেন্ট করতেন। তিনি ক্লার্কের বাড়িতে থাকা কালীন ক্লার্কের,

মেয়ের জন্য ফ্লোটিং লণ্ঠন,জল ঘড়ি,সূর্যের আলো দ্বারা চালিত বায়ুকল তৈরী করে ক্লার্কের মেয়েকে খেলনা হিসাবে গড়ে দিয়ে মনোরঞ্জন করে রাখতেন।

১৫৪৬ সালে নিউটনের সৎ বাবা বার্নাবাস মারা গেলে তার মা হানা এস্কফ কৃষি কাজ করার উদ্দেশ্যে নিউটনকে পড়াশোনা ছাড়িয়ে গ্রামে নিয়ে চলে আসে।

স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী

কিন্তু নিউটনের চাষ বাসের প্রতি ঝোঁক নেই দেখে তাকে পুনরায় স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়। নিউটনের কাকা উইলিয়ম ছিলেন,

বার্টন কগলিসের রেক্টর। তিনি ভাইপো নিউটনের মেধা শক্তি বিচার করে নিউটনকে,কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি করে দেন।

নিউটনের ট্রিনিটি কলেজে অধ্যয়ন

স্যার আইজ্যাক নিউটন ক্রেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজ থেকে ১৬৬১ সালে ১৯ বছর বয়েসে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। ট্রিনিটি কলেজে পড়ার সময় স্যার আইজ্যাক নিউটন,

পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য কলেজের বিভিন্ন কাজে হাত লাগিয়ে পয়সা উপার্জন করতেন। ট্রিনিটি কলেজে অধ্যায়ন কালে মেধাবী ছাত্র হিসাবে নিউটনের বিশেষ কোনো ভূমিকা চোখে পড়ে না।

তবে নিউটন গণিত শাস্ত্র,বল বিজ্ঞান নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা করেছিলেন। এছাড়া তিনি ক্রেপলারের সূত্র গুলি নিয়ে রিসার্চ করেন।

একবার নিউটন বইমেলা থেকে জ্যামিতি ও নক্ষত্র বিজ্ঞানের উপর একটি বই কিনে আনেন। কিন্তু তিনি জ্যামিতির রেখাচিত্র গুলির কোনো সমাধান খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

জ্যামিতির রেখাচিত্র গুলি সমাধান করার জন্য নিউটনকে ইউক্লিডের জ্যামিতি জানার দরকার ছিল। তখন তিনি কলেজের লাইব্রেরী থেকে,

ইউক্লিডের একটি জ্যামিতির বই নিয়ে এসে পড়াশোনা শুরু করে দেন। কিন্তু তিনি ইউক্লিডের বই পড়ে কোনো কুল কিনারা করে উঠতে পারছিলেন না।

তখন তিনি ইউক্লিডের বইটিকে নিত্যান্ত নগন্য পুস্তুক বলে রেখে দেন। পরে প্রফেসর আইজাক বারো নিউটনকে,ইউক্লিডের বইটিকে আরো একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য বলেন।

১৬৬৪ সালে নিউটন তার মেধার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে কলেজ থেকে স্কলারশিপ লাভ করে। এরপর থেকে নিউটনকে পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য চিন্তা করতে হয় না।

স্কলারশীপের টাকায় নিউটন স্নাতক এবং এম.এ.পাস করেন। ১৬৬৫ সালে ইংল্যান্ডে প্লেগ মহামারীর প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে পুরো এলাকায় লক ডাউন ঘোষণা করা হয়।

ক্রেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় অস্থায়ীভাবে তার সমস্ত কলেজ বন্ধ করে দেয়। এরপর নিউটন ইংল্যান্ড থেকে লাঙ্কাশায়ার গ্রামে,তার মায়ের কাছে চলে আসে।

আরো পড়ুন: সন্দীপ মহেশ্বরী জীবনী। 

নিউটন ও আপেল


প্লেগ মহামারীর কারণে নিউটন টানা দেড় বছর গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। লাঙ্কাশায়ার গ্রামে কাটানো দেড় বছর নিউটনের জীবনের খুব গুরুকত্বপূর্ণ সময় ছিল।

এই সময়কালে নিউটন তার গবেষণায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচন করেন। আজকে নিউটনের গবেষণা আধুনিক বিজ্ঞানের পাথেয় হয়েছে।

নিউটন ও আপেল এর গল্প প্রায় ৩৫০ বছরের থেকেও বেশি পুরোনো। নিউটন ও আপেল ঘটনাটি ১৬৬০ সাল এর মাঝামাঝি সময়ের ঘটনা।

উইলিয়ম স্ট্যাকলি নিউটন ও আপেল এর ঘটনার উল্লেখ করে লিখেছেন। ১৭২৬ সালে ফাল্গুন মাসের এক সকালে নিউটন একটি আপেল গাছের নিচে বসে ছিলেন।

সেই সময় হঠাৎ  একটি আপেল গাছ থেকে খসে পড়ে। ভাবুকমনা নিউটন তখন এই বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন,আপেলটা সোজাসোজি ভূপৃষ্ঠে পড়ল কেন ? আপেলটা তো উপরে উড়ে যেতে পারত ?

আপেলটা তির্যক ভাবেও তো পড়তে পারত ? আপেলটা তো ছিটকে দূরে কোথাও পড়তে পারতো ? এই সব প্রশ্ন গুলো নিউটনের মনে ক্রমাগত জট পাকাতে থাকে।

মহাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কার করেন কে ?


অবশেষে অনেক ভাবনাচিন্তা করে তার মনে হল, আসলে পৃথিবী আপেলটিকে তার নিজ আকর্ষণ বলে নিচের দিকে টেনে নিয়েছে। এইভাবে নিউটন ও আপেল প্রশ্নের উত্তরের সমাধান হল।

নিউটন আবিষ্কার করে ফেললেন মহাকর্ষণ শক্তি। এরপর থেকেই এই ঘটনা লোকমুখে ধীরে ধীরে নিউটন ও আপেল এর ঘটনায় রূপান্তরিত হয়ে যায়।

আবার ইংল্যান্ডের রয়েল সোসাইটির প্রধান উপাচার্য কিথ মুর এর মতানুযায়ী নিউটনের মন গড়া গল্প হল নিউটন ও আপেল এর গল্প।

মহাকর্ষণ শক্তি’র তাৎপর্য লোকের কাছে তুলে ধরার জন্য নিউটন একটি আপেল পড়ার উদারহণ দিয়ে লোককে বোঝানোর চেষ্টা করে।

প্লেগ মহামারীর প্রকোপ শেষ হয়ে গেলে নিউটন ক্রেমব্রিজে ফিরে আসেন। ১৬৬৬ সালে নিউটন রয়েল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হয়।

নিউটনের গণিতের প্রফেসর,ট্রিনিটি কলেজে থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে যায়। এরপর ট্রিনিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ নিউটনকে তার ২৭ তম জন্মদিনের উপহার স্বরূপ,

ট্রিনিটি কলেজের গণিতের প্রফেসর পদে নিযুক্ত করে। তখনকার দিনে যারা ক্রেমব্রিজের প্রফেসর হতেন তাদের চার্চ এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিষিদ্ধ ছিল।

কিন্তু নিউটন ট্রিনিটি কলেজের অধ্যাপক হওয়ার আগে এই শর্ত থেকে অব্যাহতি চান। তৎকালীন ইংল্যান্ডের রাজা ২য় চার্লস নিউটনের শর্ত মেনে নিয়ে তাকে অধ্যাপক পদে বহাল রাখেন।

ঐ বছর নিউটন মহাকর্ষন শক্তির ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে পৃথিবীকে চাঁদের প্রদিক্ষন করার কারণ হিসাবে অভিকর্ষ শক্তি খুঁজে পায়।

তিনি বলেন চাঁদকে পৃথিবী নিজের কক্ষপথে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অভিকর্ষজ বল এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠ তলে মহাকর্ষণ শক্তি দুইটি শক্তির মান এক।

নিউটনের ধর্ম বিশ্বাস


এখন পর্যন্ত স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী পড়ে যেটুকু বুঝলেন তা থেকে আপনারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে,নিউটন ছিলেন একজন ধর্ম পরায়ণ লোক।

স্যার আইজ্যাক নিউটন একজন বিজ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও ঈশ্বর এবং ধর্মে বিশ্বাস করতেন। ট্রিনিটি কলেজে অধ্যাপক পদে যোগ দেওয়ার সময়,

তিনি রাজা ২য় চার্লস এর কাছে শর্ত রাখেন,তিনি ধর্মকে দূরে সরিয়ে দিয়ে কখনই অধ্যাপক পদে আসীন হতে পারেন না। পরে যদিও নিউটনের কথা মেনে রাজা তাকে,

অধ্যাপক পদে বহাল রাখেন। এগুলি শুনে দেখে নিউটনের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে সন্দেহের আর কোনো অবকাশ থাকে না।

১৬৭৫ সালে বল /শক্তি নিয়ে গবেষণা কালে,পদার্থের ছোট ছোট ক্ষুদ্রতম কণার মধ্যে আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ এর মূল সিদ্ধান্ত অনুযায়ী,

কোনো ক্ষুদ্রতম কণার মধ্যে বল /শক্তি সঞ্চার করার জন্য ঈশ্বরের উপস্থিতির প্রয়োজন নিউটন একথা বলেন। নিউটনের এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হল নিউটনের ধর্ম বিশ্বাস।

নিউটনের ধর্ম বিশ্বাস এর কারণে তিনি তার সিদ্ধান্তে ঈশ্বরিক চিন্তাধারায় অভিব্যাক্তি করেন। পরে তিনি যদিও পদার্থের কণার মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতিকে বলের ক্রিয়া এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়ার নাম দিয়েছেন।

নিউটন যখন ১৯ বছরের ছিলেন তখন সে তার পাপ ও পুণ্যের একটি খাতা তৈরী করেছিলেন। সেই খাতায় তার পাপের তালিকায় একটি বিচিত্র জিনিস লেখা ছিল।

স্যার আইজ্যাক নিউটন এর জীবনী বাংলা। 2 1

খাতটিতে সে তার সৎ বাবা ও মা কে ঘরের মধ্যে জ্বালিয়ে হত্যা করার কথা লিখেছিলেন। পরে বয়সকালে নিউটন তার এই ছেলেমানুষি ও কৃত কর্মের জন্য অনুতপ্ত ছিলেন।

আরো পড়ুন : স্টিফেন হকিং জীবনী। 

নিউটনের প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা গ্রন্থ প্রকাশ


নিউটন তার গবেষণার কাজ গুলিকে একটি গ্রন্থাকারে লেখা শুরু করেন। কিন্তু গ্রন্থাকারে কোনো গ্রন্থ প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা নিউটন কোনোদিন উপলব্ধি করেন নি।

সেই সময় এডমন্ড হ্যালি,প্রফেসর হুক,ক্রিস্টেফার রেন জনৈক বিজ্ঞানীরা মহাকর্ষণ শক্তি নিয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু থিওরি খুঁজে বার করেছিলেন।

কিন্তু তারা তাদের থিওরিতে গ্রহ ও উপগ্রহের কক্ষপথ নিয়ে ততক্ষন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সিধান্তে আসতে পারেন নি। তখন এডমন্ড হ্যালি এই বিষয়টা নিয়ে নিউটনের সাথে দেখা করেন।

নিউটন তখন তার গবেষনার খাতাটা এডমন্ড হ্যালিকে দেখিয়ে বলেন,দেখুন হয়তো এর মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

হ্যালি সাহেব নিউটনের খাতাটি দেখে রীতিমত অবাক হয়ে যায়। যে প্রশ্নের উত্তর তারা বছরের পর বছর ধরে খুঁজে চলছিলেন। সেই প্রশ্নের উত্তরের সমাধান নিউটন তার,

ড্র্যায়েরীতে অনেক আগেই করে রেখেছিলেন। ড্র্যায়েরীতে লেখা নিউটনের গবেষণার ০৭ টি উপপাদ্য ও সমস্যার সমাধানের মধ্যে হ্যালি সাহেব তার প্রশ্নের জবার পেয়ে যায়।

নিউটন ১৬৮৫ সাল থেকে ১৬৮৬ সাল পর্যন্ত তার সতেরো ও আঠারো মাসের গবেষণার তথ্য হিসাবে ফিলোসফিয়া নাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিক রচনা করেন।

এই বইটি তিনটি খন্ডে লেখা হয়,নিউটন তার গ্রন্থের তৃতীয় খন্ডটিকে সংক্ষিপ্ত আকারে লিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হ্যালি সাহবের উৎসাহে নিউটন তৃতীয় খন্ডটি বিশ্লেষণ সহ বৃহদাকারে লিখেন।

১৬৮৭ সালে হ্যালি সাহেবের উদ্যোগে ও অর্থানুকূল্যে নিউটনের প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ইউরোপের বৈজ্ঞানিক মহলে সাড়া পড়ে যায়।

নিউটনের লেখা পড়ে অবিভুত হয়ে,তখনকার সেরা বৈজ্ঞানিক ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস ১৬৮৯ সালে নিউটনের সাথে ব্যক্তিগতভাবে ইংল্যান্ডে দেখা করতে আসে।

১৬২৭ সালে প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা বইটির জন্য ইংল্যান্ডের রাজা নিউটনকে নাইট উপাধি দেন। এরপর থেকে নিউটনের নামের আগে,স্যার কথাটির উল্লেখ হতে থাকে।

নিউটনের নাম হয়ে যায় স্যার আইজ্যাক নিউটন। প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা বইটি Amazon এ উপলব্ধ রয়েছে দাম দেখার জন্য ক্লিক করুন Click Here↵

নিউটনের সূত্র (Newton law)


স্যার আইজ্যাক নিউটনের গতির তিনটি সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন। গতির এই সূত্র নিউটনের গতি সূত্র /নিউটনের সূত্র (Newton law) নামে বিখ্যাত। গতির সূত্র তিনটি হল –

 নিউটনের প্রথম সূত্র (Newton first law)

কোনো স্থীর বস্তুর উপর বাইরে থেকে বল প্রয়োগ না করলে,স্থীর বস্তু চিরকাল স্থীর থাকে এবং গতিশীল বস্তু আজীবন সরলরেখা বরাবর সমবেগে চলতে থাকে। এই সূত্রটি নিউটনের প্রথম সূত্র (Newton first law) নামে পরিচিত।

উদারহণ :- কোনো থেমে থাকা গাড়ী যদি হঠাৎ করে চলতে শুরু করে তখন ঐ গাড়ীতে বসে থাকা যাত্রীরা  গাড়িটি হঠাৎ ভাবে গতি পাওয়ায় সামনে দিকে ঝুঁকে পড়ে।

 নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র (Newton Second law)

বস্তুর উপর প্রযুক্ত বল বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের সমানুপাতিক।

উদারহণ :-যখন কোনো ক্রিকেট প্লেয়ার হাতে করে বল ক্যাচ করে। তখন প্লেয়ার বলটিকে ক্যাচ করার আগে তার হাতটিকে নিচের দিকে টেনে নিয়ে বলের ক্যাচ ধরে।

যদি প্লেয়াররা বল ক্যাচ করার আগে তার হাতকে নিচের দিকে না টেনে ওপরের দিকে জোরে ধাক্কা দেয় সেক্ষেত্রে প্লেয়ারের হাতে তত জোড়ে চোট লাগার সম্ভবনা থেকে যায়।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র (Newton third law)

নিউটনের তৃতীয় সূত্র (Newton third law) অনুযায়ী প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। অথাৎ কোনো বস্তুর উপর যদি বল প্রয়োগ করা হয় ,তখন বস্তুটি তার সম পরিমান বল প্রয়োগ করে।

উদারন :- বন্দুক থেকে গুলি ছোড়ার সময় বন্দুক পিছন দিকে ধাক্কা দেয়।

নিউটনের জীবনে মজার ঘটনা


স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী’তে অনেক মজার ঘটনা শুনতে পাওয়া যায়। নিউটন যখন ছোট বেলায় পাঠশালা পড়তে যেতেন তখন তার স্কুল শিক্ষক প্রায় লেট করে স্কুলে আসতেন।

নিউটন তখন তার স্যারকে তার নিজের দ্বারা তৈরী একটি জল ঘড়ি উপহার দেন। ঘড়িটিকে চালানোর জন্য জল ভরতে হত।

আর সেই জল এক ফোটা ফোটা করে ঘড়ির কাটার উপর পড়লে ঘড়িটি নিজে থেকে চলত। নিউটন ট্রিনিটি কলেজের অধ্যাপক নিযুক্ত হওয়ার পর,

একবার তার এক বন্ধু তাকে একটি অনুষ্ঠানে নেমন্তন্ন করেন। কিন্তু নিউটন গবেষণার কাজে এতোটাই ব্যস্ত ছিলেন যে,

তিনি তার বন্ধুর করা নেমন্তনের কথা ভুলে গেছিলেন। পড়ে কাজ করতে করতে যখন তার নেমন্তন্নের কথা মনে পড়ল, তখন অনেক দেরী হয়ে গেছিল

তবুও তিনি বন্ধুত্ব রাখার সৈজন্যতাই তাড়াহুড়ো করে অনুষ্ঠান ভবনে পৌঁছালেন। সেখানে গিয়ে দেখেন ততক্ষনে সমস্ত আয়োজন শেষ,সবাই সেখান থেকে চলে গেছে।

নিউটনের জীবনে আরো একটি মজার ঘটনা হল নিউটনের বিয়ের জন্য এনগেজমেন্টের দিন ধার্য্য করা হয়। এনগেজমেন্টের দিন সবাই বাড়িতে,নিউটনের জন্য অপেক্ষা করছিল।

কিন্তু নিউটন তার গবেষণায় এতটাই মশগুল ছিলেন যে,তিনি তার বিয়ের কথা অবধি ভুলে যান। এরপর নিউটন আর বিয়ে করেন নি।

একবার এক জন কাঁচের জিনিস পত্রের ব্যাপারী নিউটনের কাছে আসে,কিছু কাঁচের জিনিস পত্র নিয়ে বিক্রী করার জন্য।

নিউটন সেই সমস্ত জিনিস পত্রের মধ্যে একটি কাঁচের প্রিজমকে হাতে তুলে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে থাকে। এতে কাঁচের ব্যাপারী সন্দেহের বসে নিউটনকে জিগ্যেস করে,

আপনি এতক্ষন ধরে ঐ জিনিসটাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কী দেখছেন ? তাহলে কী এটা কোনো দামী জিনিস ? এটার দাম কত হতে পারে ?

নিউটন তখন তার প্রশ্নের উত্তরে জবাব দেয়, এই জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করা অত সহজ কথা নয়। এই জিনিস হল অমূল্য। এরপর নিউটনের কাছ থেকে ঐ ব্যাপারী মোটা অঙ্কের দাম হাতিয়ে নেয়।

পরবর্তী কালে নিউটন এই কাঁচের প্রিজমের মধ্যে দিয়ে সাদা আলোর বিকিরণের মাধ্যমে সাদা আলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা আরো তিনটি আলোর সমন্বয় আবিষ্কার করেন।

স্যার আইজ্যাক নিউটনের উক্তি (Isaac Newton Quotes)


স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনীতে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব নিউটনের বলা কিছু বিখ্যাত উক্তি,যে উক্তি গুলোর আক্ষরিক তাৎপর্য রয়েছে-

০১. আমি যদি বলি আমি কারো থেকে কোনো ব্যাপারে বেশি বুঝি /জানি,তাহলে তার তাৎপর্য এটাই হয় আমি তাদের কাঁধের উপর চড়ে ব্যাপার টাকে তাদের থেকে বেশি ভালো করে অধ্যয়ন করেছি।

০২.আমি জানিনা মানুষ আমাকে দেখে কী মনে করে,কিন্তু আমি নিজেকে একটি শিশুসম মনে করি। যে শিশু একটি সমুদ্রের ধারে,খেলা করার সাথে,সাথে সে নিজেকে ক্রমাগত পরিবর্তনের সাথে,নিজেকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে তুলছে।

০৩. আমরা আমাদের জন্য নিজের দেওয়ালটা শক্ত করে গড়ে ঠিকিই, কিন্তু সেই জিনিসটার রক্ষনাবেক্ষন ততটা যত্ন করে করতে পারিনা।

০৪. আমার ব্যবহার ও আমার সফলতা দেখে সবাই ইন্সপায়ার হবে ঠিকই,কিন্তু আমার সফলতার একমাত্র কারণ হল আমরা প্রচেষ্টা,তাছাড়া আর সবার মধ্যে আমার,আলাদা করে কোনো পার্থক্য নেই।

স্যার আইজ্যাক নিউটনের কিছু বিখ্যাত বই (Best Book of Isaac Newton)


স্যার আইজ্যাক নিউটন তার জীবন দশায় বহু বিখ্যাত ও উল্লেখযোগ্য বই লিখেছেন। নিউটনের লেখা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বই হল-

  • অপটিক্যাল লেকচার্স।
  • ডে মোট্রা কর্পোরও ইন জিরোম।
  • মেথড অফ ফ্লেক্সেশনস।
  • এরিথমেটিকা উনিবারসেলিস।
  • দ্য ক্রনোলজি অফ এনসিয়েন্ট কিংডম।

স্যার আইজ্যাক নিউটনের লেখা উল্লেখযোগ্য বই গুলোর মধ্যে কিছু বই নিউটনের জীবনকালে প্রকাশিত হয়েছিল আর কিছু বই নিউটনের মরোনত্তোর প্রকাশ করা হয়েছিল।

নিউটনের সূত্র (Newton law )

স্যার আইজ্যাক নিউটন বিজ্ঞানীর সাথে সাথে একজন খুব ভালো দার্শনিক ও ছিলেন। তিনি ও তার ঈশ্বর প্রীতি সংক্রান্ত বিজ্ঞানিক চিন্তা ধারায় করা উক্তি গুলো নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে নানা মতভেদ আছে।

তবে নিউটনের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং দার্শনিক চিন্তা ধারার পিছনে গ্যালিলিও,কেপলার,অর্র্তু,রবার্ট বায়োল ইত্যাদি বিজ্ঞানীর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

নিউটনের মৃত্যু


মহান বিজ্ঞানী স্যার আইজাক নিউটনের মৃত্যু ১৭২৭ সালের ৩১ শে মার্চ জার্মানীর কেসিংটন মিডিলেক্সে  হয়েছিল।

নিউটনের কোনো উপযুক্ত উত্তরসূরি না থাকায় নিউটনের সমস্ত সম্পত্তি তার নিকটস্ত আত্মীয়দের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে নিউটনের মৃত শরীরে,

অতিরিক্ত পারদ (mercury) পাওয়া যায়। এত মাত্রায় পারদ পাওয়ার কারণ হিসাবে বিশেষজ্ঞারা নিউটনের ল্যাবরোটারীতে অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক সৌধ কে কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।

স্যার আইজাক নিউটনকে বেস্টমিনিস্টর ওয়েব্বে কবরখানায় কবরস্ত করা হয়। স্যার নিউটনের স্মৃতি স্মারক নিউটনের কবরের উপরেই করা হয়।

স্যার আইজ্যাক নিউটনের মূর্তিকার হলেন মাইকেল রিজবার্ক এবং ডিজাইনার ও বাস্তুকার হলেন উলিয়াম কেন্ট। মূর্তিটি সাদা এবং ধূসর রঙের মিশ্রনে মিশ্রিত করে বানানো হয়।

পরিশিষ্ট


প্রিয় পাঠকগণ স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী আমার মত একজন তুচ্ছ লোকের পক্ষে অতটা পুঙ্খানুপুখ ভাবে বিবরণ সহকারে কয়েকটা বাক্যে বর্ণনা করা সম্ভব নয়।

তবুও যতটা পারলাম স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী নিয়ে কিছুটা আলোচনার মাধ্যমে আপনাদের সামনে আলোকপাত করার চেষ্টা করলাম।

স্যার আইজাক নিউটনের জীবনী নিয়ে আরো বেশি জিজ্ঞাসা থাকাটা কোনো অস্বভাবিক কিছু নয়। সমস্ত বিজ্ঞানের পূজারী জ্ঞান পিপাসু মানুষ,

স্যার আইজ্যাক নিউটনকে,স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী নিয়ে আরো বেশি করে জানতে চায়,আর সেটাই স্বাভাবিক।

যাইহোক স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী পাঠ করে কেমন লাগলো আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। আর যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করবেন।