তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জীবনী। (Dalai lama Biography)

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামা হলেন তিব্বত রাষ্ট্রের ১৪ তম বৌদ্ধ ধর্মগুরু এবং তার সাথে তিনি হলেন একজন আধ্যাত্মিক নেতা ও তিব্বতের রাষ্ট্র প্রধান।

আজকে আমরা তিব্বতের এই মহান শান্তিকামি নেতা তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জীবনী নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব।

যদিও মানুষ তার তেনজিন গিয়াৎসো নাম অপেক্ষা তাকে দলাই লামা নামেই বেশি চেনে। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে তিনি একজন মহান শান্তিকামি নেতা হিসাবে পরিচিত।

দলাই লামা কে ( Who is Dalai lama)


তিব্বতি সংস্কৃতিতে বৌদ্ধ ধর্মের আধ্যাত্মিক ধর্মগুরুদের দলাই লামা (Dalai lama) বলা হয়ে থাকে। দলাই লামা শব্দ দুটি শব্দের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে।

‘দলাই’ শব্দটি হল একটি মঙ্গোলীয় শব্দ যার অর্থ হল ‘সমুদ্র‘ এবং ‘লামা’ শব্দটি তিব্বতীয় শব্দ ব্ল্যামা শব্দ থেকে এসেছে। যেটা পড়ে ব্ল্যামা থেকে লামা-য় রূপান্তরিত হয়ে গেছে।

লামা শব্দটির তিব্বতীয় অর্থ হল জ্ঞানী ব্যাক্তি,অথাৎ দলাই লামা শব্দ দুটির একত্রিত অর্থ জুড়ে দিলে অর্থ দাঁড়ায় ‘জ্ঞানের সমুদ্র‘।

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জীবনী
তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জীবনী

দলাই লামা হলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি মানবতার খাতিরে নিজের জীবন সম্পূর্ণরূপে জনসেবায় নিয়োজিত করে দেয় এবং মানবতার সেবা করার জন্য

তার বার বার জন্ম হতে থাকে। দলাই লামা হলেন বিশ্ব সংসারের একজন অতি সম্মানীয় ব্যক্তি। যখন তিব্বতীয়রা নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার্থে লড়াই করছিল তখন সেই সময় দলাই লামা

স্বাধীনতার লড়াইয়ে হিংসার পথ ত্যাগ করে অহিংসা এবং শান্তির পথ অনুসরণ করে তিব্বতের স্বাধীনতার জন্য লড়ায়ে ব্রতী হন।

তিনি চীন থেকে তিব্বতের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য চীন তিব্বত সমস্যার শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার জন্য সম্মিলিত জাতি পুঞ্জে প্রস্তাব রাখেন।

দলাই লামার (Dalai lama) প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে সম্মিলিত জাতি পূঞ্জ,জাতিপুঞ্জের মহাসভায় চীন তিব্বত সমস্যার কথা তিন তিন বার তুলে ধরা হয়।

দলাই লামার তিব্বতের প্রতি অকৃত্রিম দেশ প্রেম এবং তার শান্তিপূর্ণ মনোভাবের জন্য তাকে শান্তিতে নোবেল পুরুস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

নিউজিল্যান্ডের মত দেশ অহিংসার পূজারী দলাই লামাকে (Dalai lama) তাদের দেশে বিশেষ অতিথি শান্তি দূত হিসাবে আমন্ত্রিত করেন।

আরো পড়ুন : সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী। 

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জীবনী ( Dalai lama Tenzin Gyatso Biography in Bengali)


দলাই লামা হলেন একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুক (বৌদ্ধ ধর্মগুরু) এবং বিদ্যান ব্যক্তি,যিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশ বিদেশের গণ্য ও মান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন।

দলাই লামা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি,প্রধানমন্ত্রী,সাহিত্যিক এবং অনেক বিজ্ঞানীদের সাথে সাক্ষাত করেছেন। তিনি বিভিন্ন দেশে গিয়ে তিব্বতের অর্থশাস্ত্র,মহিলাদের অধিকার,

অহিংসা,আত্ম চেতনা,ভৌতিক বিজ্ঞান,বৌদ্ধ শাস্ত্র,সমাজ বিজ্ঞান নিয়ে আলাপ চারিতা করেছেন এছাড়াও প্রজনন শাস্ত্র হিউম্যান সেক্সওলোজির মত গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন।

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জন্ম এবং প্রাথমিক জীবন (14th dalai lama tenzin gyatso)


১৯৩৫ সালের ০৬ ই জুলাই উত্তর পূর্ব তিব্বতের তাকৎসার নামের ছোট একটি গ্রামে ১৪ তম দলাই লামা তেনজিন গিয়াৎসোর জন্ম হয়।

ধর্মগুর তেনজিন গিয়াৎসো ছিলেন একজন কৃষক পরিবারের সন্তান,তার বাবা চাষবাসের পাশাপাশি ঘোড়া প্রতিপালনের ব্যবসা করতেন।

তেনজিন গিয়াৎসোর জন্মের সময় তিব্বতের তাকৎসার গ্রামের সীমানা,চীনের কিংহাই প্রদেশের সীমান্ত ঘেঁষা একটি গ্রাম ছিল।

সেই সময় কুমি মং দ্বারা চীনের কিংহাই প্রদেশের গভর্নর হিসাবে মং লিনকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তেনজিন গিয়াৎসোর ছেলেবেলার নাম ছিল লোমো থন্ডদুপ

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জীবনী
তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জীবনী

লোমো থন্ডদুপ বাল্য অবস্থাতে মাত্র ০২ বছর বয়সে দলাই লামা হিসাবে পরিচিত পান। ১৯৩৭ সালে ১৩ তম দলাই লামা থুবতেন গিয়াৎসো দ্বারা লোমো থন্ডদুপকে ১৪ তম দলাই লামা হিসাবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেন।

১৯৩৯ সালে তেনজিন গিয়াৎসোকে বুমেন শহরে নন-অফিসিয়ালি ভাবে ১৪ তম দলাই লামা রূপে সর্ব সম্মুখে দালাই লামা ঘোষণা করা হয় এবং

১৯৪০ সালের ২২ সে ফেব্রুয়ারী তিব্বতের রাজধানী লাসাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলাই লামা পদপ্রার্থী হিসাবে তেনজিন গিয়াৎসোকে দলাই লামা পদের দায়িত্বভার দিয়ে দেওয়া হয়।

তিব্ববতে দলাই লামা কোনো উচ্চ রাজপদ নয়,যারা ভগবান বৌদ্ধের পথ অনুসরণ করে,বৌধিত্ত্ব প্রাপ্ত করা ব্যাক্তি দলাই লামা বলে তিব্বতের মানুষের কাছে মান্যতা প্রায়।

তিব্বতের লোক দলাই লামাকে ভগবান বৌদ্ধ এর অবতার বলে মনে করেন। এইভাবে ১৫ ই নভেম্বর ১৯৫০ সালে তিব্বতের উপর পিপুলস লিবারেশন অফ চাইনার

আক্রমণ করার পর থেকে ১৭ ই নভেম্বর ১৯৫০ সালের পর থেকে দলাই লামা তিব্বত আন্দোলনের অন্যতম রাজনেতা এবং আন্দোলনকারী হিসাবে নিজেকে সমবেত করেন।

চীন তিব্বত সমস্যা সমাধানের জন্য দলাই লামা শান্তি পূর্ন ভাবে এক পঞ্চম সূত্র যোজনা তৈরী করেন। এই যোজনা দ্বারা তিব্বতের ভবিষ্যতে স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার লখ্যে

চীনের সঙ্গে টেবিল বৈঠক করেন। ১৯৫৯ সালে তিব্বত বিদ্রোহের সময় তিব্বত থেকে পলায়ন করে দলাই লামা ও তার সাথে ৮০,০০০ হাজার অনুগামী ভারতে স্মরণার্থী হিসাবে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

তিব্বত এবং চীন সমস্যা সমাধানের জন্য দলাই লামা শান্তির পথ অনুসরণ করে যথা সম্ভব প্রয়াস করেন কিন্তু দুঃখের বিষয় তার এই প্রচেষ্টা বার বার বিফল হয়েছে।

যার ফল স্বরূপ দলাই লামা (Dalai lama) সহ লক্ষ,লক্ষ তিব্বতীদের আজও ভারতে নির্বাসিত হয়ে থাকার ব্যাথা বয়ে নিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

আরো পড়ুন : অজিত দোভালের জীবনী। 

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার পরিবার (Dalai lama Tenzin Gyatso family)


তেনজিন গিয়াৎসো পিতার নাম ছিল চোকোয়েং সেরিং এবং মাতার নাম ছিল ডিকি সেরিং। তেনজিন গিয়াৎসোরা ০৭ ভাই বোন ছিলেন

কিন্ত দুঃখের বিষয় তার জন্মের আগে তার ০৪ ভাই বোন মারা যায়। তেনজিন গিয়াৎসোর বড় বোন দল্মা সেরিং তার থেকে ১৮ বছরের বড় ছিল।

দলাই লামা নির্বাচন (Dalai lama Selection proses )


ত্রয়োদশ শতাব্দীতে জি থং থাপা নামের একজন তিব্বতিয়ান ধর্মগুরু বৌদ্ধ ধর্ম কর্মভাবনার উদ্দেশ্যে গোলুঙয়েলোওহাট (Golung Yelow hat) নামে একটি স্কুল স্থাপন করেন।

গোলুঙ য়েলোওহাট স্কুলের প্রথম ছাত্র ছিলেন প্রেম দং (গেনদুন দ্রুপ) ইনিই হলেন তিব্বতিদের প্রথম দলাই লামা এরপরে এখন পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ১৪ জন দলাই লামা পৃথিবীতে এসেছেন।

তিব্বতি সংস্কৃতিতে দলাই লামা নির্বাচন এক অতি জটিল পক্রিয়া,তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জীবনী অধ্যয়ন করলে দেখতে পাওয়া যায়,তাকে দলাই লামা

হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার আগে অনেক কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে পেরিয়ে আসতে হয়েছে। যেকোন ব্যক্তি চাইলেই দলাই লামা হতে পারেনা।

তিব্বতী বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের মতানুযায়ী দলাই লামার কখনো মৃত্যু হয়না। দলাই লামা মানব জাতির কল্যানে যুগে যুগে ভগবান বৌদ্ধের অবতার স্বরূপ জন্ম নিয়ে থাকেন এবং

দলাই লামা নির্বাচিত করা হয় পুনঃজন্মের উপর আধার করে দালাই লামা কমিটি দ্বারা দলাই লামা নির্বাচন করা হয়। বর্তমান দলাই লামা প্রয়াত হওয়ার আগে

একজন দলাই লামা তার উত্তরাধিকারী দলাই লামা নির্বাচিত করে যান। দলাই লামার জিব্বদশায় মৃত্যু আসন্ন হলে উত্তরসূরি দলাই লামা নির্বাচন করার জন্য স্বপ্নে নানান ধরণের ইঙ্গিত পেয়ে থাকেন।

১৩ তম দলাই লামা থুবতেন গিয়াৎসো বয়সকালে তার স্বপ্নে,দলাই লামা নির্বাচনের দৈব ইঙ্গিত পান। দলাই লামার দ্বারা স্বপ্ন প্রাপ্ত ইঙ্গিতের উপর ভিত্তি করে উত্তরসূরি দলাই লামার খোঁজে বেড়িয়ে পরেন।

১৩ তম দলাই লামা মৃত্যুর ০৯ মাস পর নতুন দলাই লামা নির্বাচন পক্রিয়া শুরু হয়। দলাই লামার মৃত্যু হওয়ার ০৯ মাস পর ভুমিষ্ট হওয়া সমস্ত শিশুদের মধ্যে দলাই লামার ইঙ্গিত সম্পন্ন শিশুর খোঁজ করা হয়।

অবশেষে এভাবে বছর ০২ ব্যাতিত হয়ে যাওয়ার পর চীনের সীমান্তবর্তী তিব্বতের তাকৎসার গ্রামের কাছে এসে পৌঁছালে দলাই লামার স্বপ্নে দেখা ইঙ্গিত মত

দৈব গুন্ সম্পন্ন লোমো থন্ডদুপক নামের ০২ বছরের বালকের মধ্যে দলাই লামার স্বপ্নে দেখা বালকের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায় এবং তাকে পরবর্তী দলাই লামা হিসাবে মনোনীত করা হয়।

এরপর দলাই লামা পদে আসীন হওয়ার আগে তাকে নানান ধরণের বৌদ্ধিক শিক্ষা নিতে হয় এবং তাকে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে হয়।

তেনজিন গিয়াৎসো এর বাল্য নাম হল লোমো থন্ডদুপক পরে তিনি দলাই লামা হিসাবে নির্বাচিত হলে তার নাম হয়ে যায় তেনজিন গিয়াৎসো।

গিয়াৎসো হল দলাই লামাদের টাইটেল আর এই টাইটেল যে কেউ চাইলেই ব্যবহার করতে পারেনা শুধুমাত্র তিব্বতীয়ান বৌদ্ধ ধর্মগুরু দলাই লামা এই টাইটেল ব্যবহার করতে পারেন।

আরো পড়ুন : সন্দীপ মহেশ্বরীর জীবনী। 

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার শিক্ষা ( Dalai lama Tenzin Gyatso education)


০২ বছরের বালক তেনজিন গিয়াৎসোকে ১৪ তম দলাই লামা হিসাবে ঘোষণা করার পর তাকে তিব্বতের রাজধানী লাসায় নিয়ে আসা হয়।

লাসায় জোরবাগ মন্দিরে তাকে বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা শুরু হয় এবং তার সাথে সাথে একটি বিদ্যালয়ে তাকে পড়া শোনা শেখানো হতে থাকে। বৌদ্ধ ধর্মের রীতিনীতি অনুসারে নিয়ম মেনে

প্রাতঃকালে উঠে প্রার্থনা,দৈনিক নিত্যকর্ম ধ্যান জ্ঞান কঠোর নিয়ম রীতি মেনে দৈনন্দিন জীবন বাঁধা ধরা সময়ের মধ্যে দিয়ে তাদের জীবন অতিবাহিত করতে হয়।

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জীবনী
তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জীবনী

এইভাবে কঠোর নিয়মের মধ্যে দিয়ে বৌদ্ধ শিক্ষা লাভের পর তাকে লামার সাথে বৌদ্ধ ধর্মের সবথেকে বড় ডিগ্রি লামপারা ডিগ্রি হাসিল করেন।

দলাই লামা নিজে একজন মহান ব্যাক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও মহাত্মা গান্ধী এবং গৌতম বৌদ্ধকে তার জীবনের আদর্শ বলে মনে করেন।

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার কেরিয়ার (Dalai lama Tenzin Gyatso carrier)


তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামা এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৬০ এর থেকে বেশি ডঃ উপাধি পেয়েছেন এবং তিনি প্রায় ৫০ টির বেশি বই লিখেছেন।

তিব্বত ও চীনের সম্পর্কে শান্তি স্থাপন করা তার জীবনের একটি অভিন্ন অংশ যার জন্য নোবেল কমিটি তাকে শান্তি স্থাপনের জন্য নোবেল দিয়ে সম্মানিত করেন।

১৯৮৭ সালে দলাই লামা ওয়াসিংটন ডি.সি সম্মলনে ভাষণ দিয়ে বিশ্বে পরমাণু হাতিয়ারের বার বাড়ন্ত দেখে পরমাণু পরীক্ষণ ও পরমাণু হাতিয়ারকে

বিশ্ব সংসার ধ্বংস হওয়ার অন্যতম কারণ হিসাবে ঘোর নিন্দা করেন। দলাই লামার এই বক্তব্য তার অহিংসা এবং শান্তি পূর্ন চিন্তা ধারার পিছনে একজন মহান ব্যক্তি সত্বাকে প্রস্ফুটিত করে।

১৯৫০ সালে তেনজিন গিয়াৎসো তিব্বতের একজন সত্ত্বা ধারী নেতা হিসাবে আমন্ত্রিত করা হয়,১৯৬৩ সালে দলাই লামা প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে তিব্বতের সংবিধানের রূপ রেখা তৈরী করেন।

১৯৯০ সালে সেই সংবিধানের কিছু অংশ সংশোধন করা হয় এবং ১৯৯২ সালে তিব্বতকে তিনি একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করেন।

এরপর তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন এবং দেশে বিদেশে ভ্রমণের মাঝে,দলাই লামার আধ্যাত্মিক বক্তব্য মানুষের প্রতি সৎভাব মানুষকে প্রভাবিত করে।

১৯৮৭ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর আমেরিকার সংসদে (আমেরিকা কংগ্রেসে) দলাই লামা তার দ্বারা তৈরী পঞ্চম সূত্রীয় শান্তি নীতির রূপরেখা রাখেন।

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার বই ( Dalai lama Tenzin Gyatso Book)


তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার তার জীবনে বহু পুস্তুক রচনা করেছেন তার মধ্যে অন্যতম পুস্তক হল- হার্ট অফ মেডিটেশন,এক্টিবেটিং বৌধিচিন্তা এবং মেডিটেশন অন কম্পেশন,

এডবাইস ফ্রাম বুদ্ধ শাক্যমুনি,আন্সার,আর্ট অফ হ্যাপিনেস ইন আতুলব্দ বর্ড,আর্ট অফ লিবিং,আর্ট অফ হ্যাপিনেস, এ হেন্ড বুক ফর লিবিং,

অবেকনিং দ মাইন্ড,লাইটিং দ হার্ট,বিয়োড ডগমা,বেয়ার্ড ডগমা,বেয়ার্ড রিলিজন,এথিক্স ফার ও হোল বর্ড,বৌদ্ধ গয়া ইন্টার ভিউ,বৌদ্ধ হার্ট,বৌদ্ধ মাইন্ড,বৌদ্ধ নেচার,দালাই লামা হার্বার্ড ইত্যাদি।

আরো পড়ুন : কালাপানি সেলুলার জেলের ইতিহাস। 

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার পুরুস্কার এবং উপলব্ধি (Dalai lama Tenzin Gyatso awards)


বর্ষ  পুরুস্কার 
১৯৮৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরুস্কার। 
১৯৯৪ সালে বিশ্ব সুরক্ষার জন্য বার্ষিক শান্তি পুরুস্কার। 
১৯৯৯ সালে লাইফ এচিভমেন্ট পুরুস্কার। 
২০০৩ সালে ইন্টার ন্যাশনাল লীগ ফার হিউম্যান রাইটস আওয়ার্ড।
২০০৩ সালে মানবাধিকার কে লিএ জ্যাম ব্রুনেট পুরুস্কার। 
২০০৬ সালে আমেরিকা কংগ্রেসের স্বর্ণ পদক। 
২০০৮ সালে নানক ইন্টার ফেথ পুরুস্কার ইংগেরুল হফস্ত্রা ইউনিভার্সিটি। 
২০০৯ সালে জার্মান মিডিয়া পুরুস্কার বার্লিন। 
২০০৯ সালে জন লংগোস পুরুস্কার বার্লিন। 
২০০৯ সালে জন লংগোস মানবাধিকার পুরুস্কার। 
২০০৯ সালে  হনো.আর.এলইং বঙ্গে নাগরিকতা অ্যাওয়ার্ড। 
২০১০,২০১১,২০১৩ সালে  মানদ উপাধি। 
২০১২ সালে  টেম্পলোটন পুরুস্কার। 
২০১০ সালে  ইন্টার ন্যাশনাল ফ্রিডম কন্ডাক্টর অ্যাওয়ার্ড। 

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামাকে ঘিরে বাদ ও বিবাদ 


চীনের এক সংবাদ মাধ্যম দলাই লামার উপর আরোপ লাগিয়ে বলেন দলাই লামা তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মালম্বী মানুষ এবং চীনের সাথে প্রতারণা করছে।

২০০৮ সালে দলাই লামা প্রথমবার শিমলা সন্ধি অনুসারে দক্ষিণ তিব্বতকে অরুণাচল প্রদেশের একটি অভিন্ন অঙ্গ স্বরূপ বলে মন্তব্য করেন।

দলাই লামার এই বয়ান দেওয়ার পর থেকে দলাই লামা বিরোধীদের কাছে মূল চর্চার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং এরপর থেকে চীন সরকার সর্বদা

দলাই লামার ভারতে চলে আসার বিরোধ করে গেছেন। মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার সাথে চীন তিব্বত সমস্যা সমাধান বৈঠকে দলাই লামার সঙ্গে বহু বাদ বিবাদ হয়।

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার উক্তি ( Dalai lama Tenzin Gyatso quotes)


০১. সময় কখনো কারো জন্য থেমে থাকেনা,সে তার নিয়মে ঠিকই চলতে থাকে। কিন্তু সময়ের সাথে আমাদের দ্বারা করা ভুল ভ্রান্তি গুলো আমরা সংশোধন করে নিই ঠিকই,

কিন্তু ভুল করে যাওয়া ব্যাতিত হওয়া সময় সে কখনো ফিরে আসেনা। আমরা যা কিছু শিখি,আমরা তা নিজেদের প্রয়োজনে শিখি।

০২. উন্মুক্ত মনের মানুষেরা সর্বদা আর উন্মুক্ত মস্তিষ্কের অধিকারী হয়।

০৩. আপনি যদি নিজের মনে শান্তি স্থাপন করতে না পারেন,তাহলে আপনি বিশ্বের কোনো জায়গাতে গিয়েও  শান্তি পাবেন না।

০৪. ধন আর শক্তি দিয়ে যদি খুশির ঠিকানা পাওয়া যেত, তাহলে মানুষ স্নেহ আর ভালোবাসার কাঙাল হত না।

০৫. নিস্তব্ধতা কখনো কখনো আমাদের কাছে ভালো উত্তর হতে পারে।

তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জীবনী
তেনজিন গিয়াৎসো দলাই লামার জীবনী

০৬. যে ব্যক্তি ক্রোধ এবং ঘৃণার উপর বিজয় হাসিল করতে পারে সেই হল আসল হিরো।

০৭. স্বাধীনতার লড়াইয়ে সততাই হল আমাদের সবথেকে বড় হাতিয়ার।

০৮. প্রেম,ভালোবাসা সহানুভূতি আমাদের জীবন ব্যাতিত করার জন্য যতটা দরকার,ততটা জীবনে ধন সম্পত্তি  দরকারি নয়,কারণ প্রেম,সহানুভূতি,ভালোবাসা ছাড়া মানবতার পতন নিশ্চিত।

০৯. আগামী দিনের প্রতিকূলতার জন্য আমাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকা দরকার। আমাদের লখ্য যদি বড় হয়,তাহলে আমাদের লখ্যে জীবন দশায় না পৌঁছাতে পারি,

কিন্তু তা বলে আমাদের শুরুতেই হতাশ হয়ে পড়লে চলবেনা লখ্য স্থির রেখে আমাদের নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে।

১০. আমাদের জীবনের প্রথম উদ্দেশ্য হল একে অপরকে সাহায্য করা,যদি আমরা একে অপরকে সাহায্য করতে না পারি তাহলে অন্তত একে অপরের ক্ষতি করার চিন্তা করা উচিত নয়।

আরো পড়ুন : অপারেশন নেপচুন স্পেয়ার ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু। 

FAQ


প্রশ্নঃ দলাই লামার বাসস্থান কোথায় ?                                                                                      উঃ – দলাই লামার বাসস্থান হল হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালা বলে একটি জায়গায়।

প্রশ্নঃ দলাই লামা কোন দেশের নাগরিক ?                                                                                উঃ দলাই লামা তিব্বতের নাগরিক,কিন্তু তিনি ভারতের একজন স্মরণার্থী।

প্রশ্নঃ কতসালে দলাই লামা প্রথম ভারতে আসেন ?                                                                     উঃ ১৯৫৯ সালে দলাই লামা তার ৮০,০০০ হাজার অনুগামীদের সাথে ভারতে নিয়ে চলে আসেন।