ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯ ও ইসলাম ধর্মে তিন তালাকের হাদিস।

আজকে আমরা আলোচনা করব ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯,ইসলামী মতে তিন তালাকের শরয়ী বিধান, তিন তালাকের ফতোয়া,তিন তালাক দেওয়ার নিয়ম,তিন তালাক বিল কি ? তিন তালাক দিলে কি হয় ?

অথাৎ তিন তালাকের জন্য অভিযুক্তকে কি সাজা দেওয়া হবে ইত্যাদি বিষয়ে। আপনারা সবাই শুনে থাকবেন  ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯ সালে প্রণয়ন হওয়াই ভারতে তিন তালাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বর্তমানে ভারতে ইসলাম ধর্মের পুরুষ যদি কোনো নারীকে ‘এক সাথে তিন তালাক’দেয় তাহলে সেই ব্যাক্তি ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯,অনুযায়ী আইনের চোখে গুরুতর অপরাধী।

এখন আপনাদের মনে হতে পারে আমি কথাটিকে তিন তালাক না বলে এক সাথে তিন তালাক বলে কি বোঝাতে চায়ছি !

ইসলাম ধর্মে তিন তালাকের হাদিস মতে,তিন তালাক এক সাথে দেওয়ার আগে তিন তালাকের শরয়ী বিধান ও তিন তালাক দেওয়ার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

আমরা এখন ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯,তিন তালাকের ফতোয়া,তিন তালাক বিল কি,তিন তালাক দিলে কি হয় নিচের পংতিতে জানব।

ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯


ভারতের তিন তালাক আইনের ইতিহাসে উঁকি মারলে দেখা যায়,১৯৩৭ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস মুসলিম ও হিন্দু বিবাহ নিয়ে আলাদা,আলাদা করে আইন প্রণয়ন করেছিলেন।

সেই আইনে বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশোধন আনা হয়েছে। তাই জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার উপর সংবিধান সমানভাবে কার্যকারী। মুসলিম ধর্মে বিবাহকে নিকাহ বলা হয়।

আরো পড়ুন : নতুন ট্রাফিক নিয়মে জরিমানার তালিকা। 

মুসলিম বিবাহ পড়ানোর নিয়ম


মুসলিম পরিবারের মধ্যে ছেলে ও মেয়ের বিবাহ ঠিক হলে,ধার্য্য দিনে বর কর্তার সঙ্গে স্বাক্ষী সহ একজন মাওলানা (মৌলভী সাহেব) এর উপস্থিতিতে একটা এগ্রিমেন্ট লেখা হয়।

এই এগ্রিমেন্টকে কবুলনামা (কাবিলনামা),বলা হয়ে থাকে। এই কাবিননামায় কিছুটা এরকম বয়ান লেখা থাকে,যেমন- পুখুরিয়া গ্রাম নিবাসি জনাব নঈম শেখ এর পুত্র

কলিম এর সঙ্গে দরিয়া গ্রাম নিবাসী মোঃ মুকুল এর কন্যা সরিয়ার সঙ্গে নগদ ০৫ হাজার টাকা দেনমোহরের বিনিময়ে বিবাহ ঠিক করা হয়েছে,

সরিয়া আপনি কি স্ব-ইচ্ছায় জনাব নঈম শেখ এর পুত্র কলিম শেখকে স্বামী রূপে কবুল করছেন। এই কথাটি পর্দার আড়ালে থাকা পাত্রীকে মাওলানা উভয় পক্ষের স্বাক্ষীকে সামনে রেখে ০৩ বার জিজ্ঞেস করে।

পাত্রী যদি ০৩ বার হ্যাঁ কবুল বলে সম্মতি দেয়। ঠিক একই রকম বয়ান পাত্রর কাছে গিয়ে মাওলানা পড়ে শোনায় –‘দরিয়া গ্রাম নিবাসী মোঃ মুকুল এর কন্যা সরিয়া

ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯

নগদ ০৫ হাজার টাকা দেনমোহরের  বিনিময়ে আপনাকে স্বামী রূপে কবুল করেছেন,জনাব কলিম শেখ আপনি কি সরিয়া কে আপনার স্ত্রী রূপে কবুল করছেন।’

এই ভাবে ০৩ বার স্বাক্ষীর সম্মুখে কাবিলনামাটি পড়ে শোনানোর পর পাত্রকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি এই নিকাহ কবুল করছেন কিনা।

পাত্র যদি ০৩ বার বলেন হ্যাঁ আমি নিকাহ কবুল করছি তখন,ধরে নেওয়া হয় পাত্র স্ব-ইচ্ছায় বিবাহে সম্মতি জানাচ্ছে।

এরপর কাবিলনামার উপর উভয়পক্ষের স্বাক্ষী এবং মৌলিভী সাহেবের সই স্বাক্ষর নিয়ে উভয়ের পরিবারকে কাবিলনামার কপি তুলে দেওয়া হয়।

এতো ছিল মুসলিম বিবাহ পড়ানোর নিয়ম। কিন্তু মুসলিম বিবাহের সময় স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে বিবাহ হলেও তালাক দেওয়ার সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিন্তু কোনো রকমের স্বাক্ষী থাকেনা।

স্বাক্ষ প্রমান ছাড়াই মুখে-মুখে তিন তালাক দিয়ে দেওয়া হয় এই ধরণের তিন তালাককে তালাক-এ-বিদদত বলা হয়। বিবাহের সময় যে কাবিলনামায় দেনমোহরের কথা উল্লেখ করা হয়

এই প্রথাটি হল মুসলিম সমাজের একটা চিরাচরিত রীতি। দেনমোহর লেখার উদ্দেশ্য একটাই যদি কারণবশত কোনো মহিলাকে তার স্বামী তিন তালাক দিয়ে দেয়

তখন স্বামীকে নিকাহের কাবিলনামায় লেখা দেনমোহরের টাকা স্ত্রীকে ফিরিয়ে দিতে হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত দেনমোহর স্ত্রীকে ফেরৎ দেওয়া না হবে,ততক্ষন পর্যন্ত তিন তালাক মেনে নেওয়া হবেনা।

মুসলিম ধর্মে দেনমোহর লেখার পিছনে একটা লজিক আছে,মুসলিম বিবাহের সময় কাবিলনামায় দেনমোহর লেখার কারণ হল -স্বামী যদি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেয়,

এরকম অবস্থায় স্বামী দ্বারা ফিরিয়ে দেওয়া দেনমোহরের টাকা দিয়ে স্ত্রীর দ্বিতীয় বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত সে তার ফেরৎ পাওয়া দেনমোহরের টাকায় জীবন নির্বাহ করবে।

কিন্তু একই ভাবে স্ত্রী যদি স্বামীকে তিন তালাক দেয় তখন দেনমোহরের টাকা ফেরৎ দেওয়া হয়না। কিন্তু অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় সুখী দাম্পত্য সঙ্গীরা

শেষ বয়েসে নিজেদের মধ্যে তিন তালাক না দিয়েই উভয়ের সম্মানে একে অপরের প্রতি ঋণী না হয়ে থাকার জন্য স্বামী তার স্ত্রীকে দেনমোহর ফিরিয়ে দেয়।

তিন তালাকের শরয়ী বিধান ও তিন তালাক দেওয়ার নিয়ম 


ইসলাম ধর্মে তিন তালাকের হাদিসে,তিন তালাকের শরয়ী বিধান নির্ধারণ করা আছে। তিন তালাকের হাদিস মতে তিন তালাক দেওয়ার নিয়ম তিন তালাকের ফতোয়ায় খুব সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

আর তিন তালাকের হাদিসকে অনুসরণ করে তিন তালাক সম্পর্কে ফতোয়া অনুসরণীয় হয়ে আসছে,আসুন পবিত্র কুরান ও হাদিসে তিন তালাকের ফতোয়া সম্পর্কে জানা যাক –

তিন তালাকের হাদিস মতে তিন তালাকের শরয়ী বিধানে মূল ০২ টি তালাকের কথা বলা হয়েছে –০১. তালাক-এ-অহসন (উত্তম তালাক) এবং ০২. তালাক-এ-হসন (সর্বোত্তম তালাক),

০১.তালাক-এ-অহসন (উত্তম তালাক)


তালাক-এ-অহসন অনুসারে তিন তালাকের ফতোয়া হল,যদি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বনি-বনা না হয় তাহলে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে যে কেউ একে অপরকে কমপক্ষে ০২ জন ব্যাক্তিকে স্বাক্ষী রেখে

তিন তালাকে এক তালাক দিতে পারে। এক তালাক দেওয়ার পর স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে একটানা ৯০ দিন যাবৎ কোনো রকমের সম্পর্ক থাকবেনা। একই ভাবে কোনো রকম যোগাযোগ না রেখে

৯০ দিন সময় কাটানোর পর নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে,স্বামী ও স্ত্রী চাইলে তাদের সহমতিতে পুনরায় তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু করতে পারে,এক্ষেত্রে তখন এক তালাক খারিজ হয়ে যায়।

কিন্তু যদি মনে হয় স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই একে অপরের ব্যবধানে উত্তম জীবন যাপন করছে তখন স্বামী অথবা স্ত্রী পরবর্তীকালে আরও ০২ বার তালাক দিয়ে,তিন তালাকের বিনিময়ে স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে।

০২.তালাক-এ-হসন (সর্বোত্তম তালাক)


তিন তালাকের হাদিসে তালাক-এ-হসন কে সর্বোত্তম তালাক বলা হয়েছে। তালাক-এ-হসন অনুসারে তিন তালাক দেওয়ার নিয়ম হল –

যদি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বনি-বনা না হয় তাহলে,স্বামী ও স্ত্রী স্বাক্ষী সহযোগে একে অপরকে তিন তালাকে এক তালাক দিতে পারে। এক তালাক দেওয়ার পর স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে

৩০ দিনের ব্যবধান নিয়ন্ত্রণ রেখে সম্পর্ক স্থগিত রাখে। এইভাবে ০১ মাস কেটে যাওয়ার পর স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে তাদের মধ্যে আলাপ চারিতার মাধ্যমে মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়।

আর যদি কোনো রকম মীমাংসা না হয় তখন আবার ৩০ দিনের জন্য সম্পর্কে ইতি টানা হয়। একই ভাবে দ্বিতীয় মাস কেটে যাওয়ার পর স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সাক্ষাৎ হয়

আত্মীয় স্বজন কুটুম আদি একে অপরকে আপোষে সুঝে বুঝে মীমাংসার জন্য বলেন। কিন্তু কোনো রকম আপোষ না হলে আবার ৩০ দিনের জন্য তৃতীয় বারের জন্যে সম্পর্কে ইতি টানা হয়।

ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯

এবারে তৃতীয় মাস অতিক্রম করার পর স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে সাক্ষাৎ করে যদি তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারে তাহলে তারা আবার পূর্বের ন্যায় স্বামী ও স্ত্রীর ন্যায় দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারে।

কিন্তু তৃতীয় বারেও যদি স্বামী ও স্ত্রীর মনে হয় না তাদের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কে ইতি টানাটাই শ্রেয়,তখন তারা সম্পর্কে ইতি টেনে আরো ০২ তালাক দিয়ে দেয় এই তালাককে ইসলামে তালাকে সুন্নত বলা হয়েছে।

যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয় তাহলে,স্বামীকে কাবিলনামায় লেখা দেনমোহরের টাকা ফেরৎ দিয়ে তালাক সম্পন্ন করতে হয়। আর স্ত্রী যদি স্বামীকে তালাক দেয় তাহলে দেনমোহরের টাকা ফেরৎ দিতে হয় না।

আরো পড়ুন : পোস্টমর্টেম কে কেন ময়না তদন্ত বলা হয়। 

তালাক-এ-বিদদত


তিন তালাকের হাদিসে বর্ণিত এই ০২ তিন তালাকের ফতোয়া ছাড়াও আরো ০১ টি তালাক মুসলমান সমাজে প্রচলিত হয়ে আসছিল,যে তালাকটি তিন তালাকের হাদিস ও তিন তালাকের বিধানে

কোনো মিল পাওয়া যায় না। মহান আল্লাতালার দ্বারা প্রেরিত ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ পয়গম্বর হলেন আমাদের প্রিয় নবী হজরৎ মহ: যিনি সপ্তদশ শতাব্দীতে পৃথিবীতে এসেছিলেন।

কিন্তু ০৩ নং তালাকটি হল তালাক-এ-বিদদত। মুসলিম সমাজে তালাক-এ-বিদদত তালাকটির প্রচলন শুরু হয় দ্বাদশ শতাব্দীর পর থেকে। 

সময়ের সাথে,সাথে তালাক-এ-বিদদত বিভিন্ন মুসলিম ধর্মগুরু দ্বারা ধীরে ধীরে মুসলিম সমাজের অঙ্গে সামিল হয়ে যায়। তালাক-এ-বিদদত অনুসারে তিন তালাকের বিধান হল

কোনো রকম তিন তালাকের ফতোয়া অনুকরণ না করেই স্বাক্ষী প্রমান ছাড়াই এক তালাক না দিয়ে এক তরফা যত্র-তত্র তিন তালাক দিয়ে দেওয়া।

এই তালাক কখনো,ফোনের মাধ্যমে,কখনো SMS দিয়ে,আবার কখনো চিঠির মাধ্যমে দেওয়া হতে থাকে। কিন্তু পরবর্তীকালে অনেকেই তালাক-এ-বিদদত দিয়ে পস্তাচ্ছিলেন। 

কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখতে পাওয়া যায় স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবোঝির কারণে তালাক-এ-বিদদত দেওয়া হচ্ছিল । পরে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে নিজের  স্ত্রীকে পুনরায় নিকাহ করতে চাইলে

তিন তালাকের শরয়ী বিধান অনুযায়ী তিন তালাক দেওয়ার পর হলালা পালন করে তবেই আবার নিজ স্ত্রীর সঙ্গে পুনঃবিবাহ সম্ভব হচ্ছিল।

হলালা কি


তিন তালাকের ফতোয়া ও তিন তালাকের বিধান অনুযায়ী মুসলিম সমাজে একবার স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে তিন তালাক হয়ে যাওয়ার পর স্বামী ও স্ত্রী পুনরায় বিবাহ করতে চাইলে স্ত্রীকে

অন্য কোনো পরপুরুষের সঙ্গে একবার বিবাহ সম্পন্ন করে তালাক নিতে হবে,তার পর স্ত্রী ও পরপুরুষের মধ্যে তিন তালাক তালাক দেওয়া হলে,আগের স্ত্রীকে তার স্বামী পুনরায় বিবাহ করতে পারবে।

আরো পড়ুন : পুলিশ যদি বিনা কারণে আপনাকে গ্রেফতার করলে আপনার কি করণীয়। 

তিন তালাক বিল কি


২০১৬ সালে সায়রা বানু নামের এক মহিলার তালাক-এ-বিদদত দিয়ে তালাক হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। কিন্তু নিম্ন আদালতে আশানরুপ ফল না পাওয়ায়

সায়রা বানুর তার তিন তালাক হওয়ার জন্য UNI (Union Nation India) অথাৎ ভারতীয় সংবিধান ব্যবস্থাকে দায়ী করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। এরপর সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিন ধরে সায়রা বানু তিন তালাক

মামলা চলতে থাকে। অবশেষে সায়রা বানু তিন তালাক মামলায় ২০১৭ সালে ০৫ জজের টিম (মুসলিম ধর্ম সংক্রান্ত মামলা হওয়ায় এর মধ্যে ০১ জন জর্জ মুসলিম ছিলেন)

মিলে সুপ্রিম কোর্ট তার রায় ঘোষণা করেন। তিন তালাক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ০২ জর্জ তিন তালাকের পক্ষে তাদের মতামত জানিয়ে বলেন

তিন তালাক হল ইসলাম ধর্মের মুখ্য অঙ্গ এবং সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ধর্মীয় মামলায় কোর্টের হস্তক্ষেপ করা অবাঞ্ছনীয়।

অপর ০২ জন জর্জ তালাক-এ-বিদদত তিন তালাকের বিপক্ষে তাদের মতামত জানিয়ে বলেন তিন তালাক হল একটি ধার্মিকভাবে ভুল প্রথা,সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্চেদে আইনের দৃষ্টিতে

নারী পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। অথচ তিন তালাকের মাধ্যমে পুরুষকে বেশি ব্যক্তি স্বাধীনতা দিয়ে,নারীর স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করে মৌলিক অধিকারকে ক্ষুন্ন করছে।

সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,যে সমস্ত আইনগুলি ব্রিটিশ রাজত্বকালে ১৭৩৭ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল সেই আইন as it is continue থাকবে।

কিন্তু সেই আইনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ভাবাঘাতে লাগে তাহলে,আইনে সংশোধন নিয়ে আসা হবে।

সর্বশেষ ০১ জন জর্জ তার রায়ে স্পষ্ট করে দেন তালাক-এ-বিদদত,তিন তালাক হল অ-ইসলামিক একটি প্রথা যার ইসলাম ধর্মের সঙ্গে কোনো আঙ্গিক যোগ নেয়।

ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯
ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯

কারণ ইসলাম ধর্ম মতে হজরত মহ: হল ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ পয়গম্বর। যিনি সপ্তদশ শতাব্দীতে জন্মে ছিলেন যার প্রবর্তীত ইসলাম ধর্মে ও তার সময়ে তিন তালাকে তালাক-এ-বিদদত এর কোনো অস্তিত্ব নেই। 

অথচ দ্বাদশ শতাব্দীতে নতুন করে তিন তালাকের শরয়ী বিধানে তালাক-এ-বিদদত কি করে এলো ? সুতরাং ০৩ নং তালাক অথাৎ তালাক-এ-বিদদত হল পুরোপুরি ভাবে অ-ইসলামিক। 

এই ভাবে ২০১৭ সালে ০৩-০২ এর ব্যবধানে সুপ্রিম কোর্টের ০৫ জর্জের বেঞ্চ তিন তালাক-এ-বিদদত এর বিপক্ষে রায় দিয়ে স্পষ্ট করে দেয় তালাক-এ-বিদদত হল অ-ইসলামিক এবং

সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারকে সংসদ থেকে তিন তালাক বিল মুসলিম বিবাহ আইনে সংশোধন করে তিন তালাক বিল নিয়ে আসার আদেশ দেয় ।

২০১৮ সালে বিজেপি সরকার তিন তালাক বিল সংসদে পাস করিয়ে,ভারতে তিন তালাক আইন নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তিন তালাক বিল পাস করা সম্ভব হয়না।

পরবর্তীকালে ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার সংখ্যা গরিষ্ঠতার সঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে রাজ্য সভা ও বিধান সভায় MP ও MLA এর সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯ প্রবর্তীত হয়।

তিন তালাক দিলে কি হয়


ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯ প্রবর্তন হওয়ার পর এখন বর্তমানে কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে তিন তালাকে, তালাক-এ-বিদদত এর অনুকরণে তালাক দিলে আইনের চোখে তা গুরুতর অপরাধ। 

যদি কোনো মহিলা ও তার পরিবারের কোনো সদস্য থানায় গিয়ে তিন তালাকের উপর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তাহলে পুলিশ কোর্টের অনুমতি ছাড়াই অথাৎ বিনা ওয়ারেন্টে

ঐ মহিলার স্বামীকে গ্রেফতার করতে পারে। পর্যাপ্ত কারণ ছাড়া তিন তালাক দেওয়ার জন্য অপরাধীকে ০৩ বছরের জেল হবে। যদি অপরাধী তার ভুল বুঝতে পেরে মীমাংসা করতে চায়,

সেক্ষেতে স্ত্রীর মতামতই গ্রাহ্য হবে। স্ত্রী যদি স্বামীর অপরাধকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে মাফ করে দেয় তাহলে আদালত এই ব্যাপারে নিজে থেকে এন্টার ফেয়ার করবেনা।

FAQ


প্রশ্নঃ তিন তালাক বিল কবে পাস হয় ?                                                                                   উঃ তিন তালাক বিল ২০১৯ সালে পাশ হয়।

প্রশ্নঃ ভারতের তিন তালাক আইন ২০১৯ কার আদেশে নিয়ে আসা হয় ?                                           উঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিন তালাক আইন নিয়ে আসা হয়।

প্রশ্নঃ তিনি তালাক কি ?                                                                                                     উঃ ইসলাম ধর্মে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া হল তিন তালাক।