পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য ও জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ইতিহাস।

আমরা সবাই রহস্য ও রোমাঞ্চ উপন্যাস ও গল্প পড়তে বেশ ভালোবাসি। আজকে আমরা আলোচনা করব ভারতের জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য ও জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে।

ভারতের ওড়িশা রাজ্যে অবস্থিত পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য এবং জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ইতিহাস হল বহু প্রাচীন। আজকে আমরা জগন্নাথ মন্দিরের এমন কিছু গুরুত্ব পূর্ণ্য তথ্য

আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি,সেই বিষয়গুলি আপনারা হয়ত অনেকেই জানেন না। আপনারা কি জানেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের নির্মানের পিছনে

রহস্যই মোড়া জগন্নাথ দেবের মন্দির নির্মাণের পৃথক একটি ইতিহাস আছে। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের এমন কয়েকটি আজগুবি ঘটনা আছে,যে ঘটনাগুলি আজও প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে

সেই ঘটনাগুলি আজও আধুনিক বিজ্ঞানকে চিন্তার আসনে আসীন করে রেখেছে। যার সমাধান আজ পর্যন্ত  বিজ্ঞানের কোনো পূজারী করে উঠতে পারেনি।

আরো পড়ুন : কালাপানির সাজা সেলুলার জেলের ইতিহাস। 

পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ইতিহাস


পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ইতিহাস খুঁজে দেখলে দেখতে পাওয়া যায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে মান্যতা আছে ভগবান বিষ্ণু মর্ত্যলোকে বিভিন্ন সময়ে

তার চার ধামে যাত্রা করে থাকেন। এই চার ধাম হল- বদ্রীনাথ ধাম,দ্বারিকা ধাম,পুরী ধাম এবং রামেশ্বরম। ভগবান বিষ্ণু ভারতের উত্তর প্রান্তে হিমালয়ের শিখরে অবস্থিত

বদ্রীনাথ ধামে স্নান করেন,তারপর গুজরাটের দ্বারিকা ধামে গিয়ে বস্ত্র পরিধান করেন,ওড়িশার পুরী ধামে তিনি ভোজন গ্রহণ করেন

এবং সর্বশেষ ভগবান তার চতুর্থ ধাম রামেশ্বরমে গিয়ে বিশ্রাম নেন। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর মৃত্যুকালে পুরী ধামে অবস্থান করেছিলেন।

জগন্নাথ হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রুপ,তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যেহেতু জীব জগতের পালনকর্তা তাই মানুষ তাঁকে জগন্নাথ অথাৎ জগতের নাথ বলে সম্বোধন করে থাকেন।

পুরী হল হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষজনের কাছে এক অন্যতম পূজ্য ধাম। যেখানে ভগবান জগন্নাথ তাঁর দাদা বলভদ্র (বলরাম) এবং ছোট বোন সুভদ্রা একসাথে পূজিত হয়ে আসছেন।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য।

বর্তমানে পুরী শহরটি ভারতের ওড়িশা রাজ্যে অবস্থান করছে,ওড়িশার পৌরাণিক নাম হল উৎকল প্রদেশ। পুরী শহরটি সমুদ্রতীরে অবস্থিত হওয়াই পুরী ছিল

প্রাচীনকালের এক অতি সু-সজ্জিত বন্দর নগরী। তখনকার দিনে মূলত সমুদ্র পথে সুমাত্রা,জাভা,ইন্দোনেশিয়া  থাইল্যান্ডের মত বিভিন্ন দেশে ছিল বণিকদের বাণিজ্যের রমরমা।

বিভিন্ন সময়ে পুরীকে বহুনামে মানুষ জানত,পুরানে পুরীকে পৃথিবীর বৈকুন্ঠ বলা হয়েছে। পুরী ধাম যেহেতু ভগবান বিষ্ণুর চার ধামের এক ধাম তাই পুরীকে

মানুষ শ্রীক্ষেত্র,শ্রী পুরুষোত্তম,নীলাঞ্চল এবং জগন্নাথ পুরী ধাম বলে মানুষ চিনে আসত। জগন্নাথ ধামে ভগবান বিষ্ণু তার বহু লীলা রচনা করেছেন।

স্কন্ধ পুরানে ভগবান বিষ্ণু পুরুষোত্তম নীলমাধব নামে অবতীর্ণ হন এবং সবর নামের দলিত জাতির প্রধান পূজ্য দেবতা রূপে পূজিত হতে থাকেন।

সবর জাতির লোকেদের প্রধান পূজ্য দেবতা হওয়ায় ভগবানের রূপ এখানে কবিলদের ন্যায় কালো। মনে করা হয়ে থাকে সবর জাতের লোকেরা তাদের পূজ্য দেবতার মূর্তি কাঠ দিয়ে নির্মাণ করত।

বর্তমানে ভগবান জগন্নাথ সবর জাতের পুরোহিতদের পাশাপাশি ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের দ্বারা পূজিত হয়ে থাকেন। বলা বাহুল্য জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা থেকে আষাড় মাসের পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত

জগন্নাথ দেব সবর জাতের পুরোহিত দ্বারা পূজিত হয়ে থাকেন। পুরানের তথ্যনুযায়ী নীলগিরীতে পুরুষোত্তম হরির পূজা হয়ে থাকে এবং এই হরিকে ভগবান রামের আর এক রূপ বলে মনে করা হয়।

মৎস্য পুরানে পুরুষোত্তম অঞ্চলের পূজ্য দেবী হলেন মাতা বিমলা। মহাকাব্য রামায়ণের উত্তর খন্ডে রাম রাবনের ভাই বিভীষণকে জগন্নাথ দেবের উপাসনা করার জন্য বলেন।

তাই আজও পুরীর মন্দিরে জগন্নাথ দেবের সাথে সাথে বিভীষণের বন্দনাও হয়ে থাকে। স্কন্ধ পুরানে পুরী ধামের ভোগোলিক সীমানার বিবরণ পাওয়া যায়।

পুরী ধাম হল দক্ষিণে অবস্থিত একটা শঙ্খের ন্যায় যার সীমানা ১৬ কিমি এরিয়া জুড়ে প্রসস্থ ছিল। যার ৩.২ কিমি এরিয়া বঙ্গোপসাগরের জলের তলায় তলিয়ে যায়।

কথিত আছে সবর জাতের দলপতি পুরোহিত বিশ্ব বসু প্রথমবার জগন্নাথ দেবের পূজা করেন। আর সবর জাতের পুরোহিতরা দ্বেতাপতি নামে পরিচিত।

আরো পড়ুন : মিশরের রহস্যময় পিরামিড। 

পুরীর জগন্নাথ মন্দির কে নির্মাণ করেন


মালবারের রাজা ছিলেন ইন্দ্র যুগ্ম। তিনার পিতা হলেন রাজা ভরত এবং মাতা হলেন সুমতি দেবী। রাজা ইন্দ্র যুগ্ম একদিন তার স্বপ্নে ভগবান জগন্নাথকে দেখতে পেলেন। 

স্বপ্নের মাধ্যমে জগন্নাথ দেব রাজা ইন্দ্র যুগ্মকে আদেশ দিলেন নীলাঞ্চল পর্বতের গুহায় ভগবান জগন্নাথের একটি মূর্তি আছে,সেই মূর্তিটিকে নিয়ে এসে রাজা মন্দির বানিয়ে যেন তাঁর পূজার্চনা করেন।

স্বপ্নাদেশ পেয়েই রাজা ইন্দ্র যুগ্ম তার সৈন্য ও অনুচরবর্গদের সঙ্গে করে ভগবান জগ্ননাথ দেবের মূর্তিটিকে খোঁজার জন্য নীলাঞ্চল পর্বতের দিকে রওনা দিলেন।

রাজার অনুচরবর্গদের মধ্যে রাজা ইন্দ্র যুগ্ম এর ঘনিষ্ঠ বিদ্যাপতি নামের একজন ব্রাহ্মণ ছিলেন। তিনি লোকমুখে সবর কবিল নিচু জাতের লোকের দ্বারা নীলমাধবের পূজার্চনা করার কথা শুনেছিলেন।

আর তিনি এও জানতেন এই সবর জাতির লোকেরা নীলমাধবের মূর্তিটিকে নীলাঞ্চল পর্বতের এক গুহায় লুকিয়ে রেখেছেন।

বিদ্যাপতি তখন ভালোভাবেই বুঝতে পারলেন রাজার সৈন্য সামন্ত হাজার চেষ্টা করেও সবর জাতের প্রধান বিশ্ব বসুর সাহায্য ছাড়া নীলমাধবের মূর্তি কোনোমতেই খুঁজে বার করতে পারবেনা।

বিশ্ব বসু ছিলেন নীলমাধবের পরমভক্ত এবং সবর জাতের দলপতি পুরোহিত। বিশ্ব বসু নীলমাধবকে নীলাঞ্চল পর্বতের গুহায় লুকিয়ে লুকিয়ে পুজো করতেন।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য।

বিশ্ব বসুর সাহায্য ব্যাতিত নীলমাধবের মূর্তি উদ্ধারের কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে রাজা ইন্দ্র যুগ্ম এর ঘনিষ্ট পুরোহিত বিদ্যাপতি চালাকি করে বিশ্ব বসুর মেয়েকে বিবাহ করেন।

পরে বিশ্ব বসুর কন্যার সাহায্য নিয়ে বিদ্যাপতি নীলাঞ্চল পর্বতের গুহা থেকে নীল মাধবের মূর্তিটিকে নিয়ে এসে রাজা ইন্দ্র যুগ্ম এর হাতে তুলে দেয়।

বিশ্ব বসু তার উপাস্য দেবতা নীলমাধবের মূর্তিটি চুরি যাওয়ায় চরম ভাবে ব্যথিত হন। তখন ভক্তের কষ্ট দেখে ভগবান জগন্নাথ রাজা ইন্দ্র যুগ্মকে স্বপ্নাদেশে

নীলমাধবের মূর্তিটিকে পুনরায় নীলাঞ্চল পর্বতের গুহায় রেখে আসার জন্য বলেন এবং অপরদিকে রাজা ইন্দ্র যুগ্মকে ভগবান জগন্নাথ তার কাছে ফিরে আসার আশ্বাসন দেন।

রাজা ইন্দ্র যুগ্ম তখন মূর্তিটিকে পুনরায় নীলাঞ্চল পর্বতের গুহায় রেখে আসেন। অপরদিকে রাজা ইন্দ্র যুগ্ম তখন ভগবানের ফিরে আসার অপেক্ষায়

মন্দির নির্মাণের কাজ আরম্ভ করে দেন। মন্দিরের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হলে ইন্দ্র যুগ্ম ভগবান জগন্নাথকে ফিরে আসার জন্য আকুতি জানায়।

ভগবান জগন্নাথ তখন রাজা ইন্দ্র যুগ্মকে স্বপ্নাদেশে বলেন দ্বারিকা নগরী থেকে একটি নিম গাছের গুঁড়ি ভাসতে ভাসতে পুরীর সমুদ্র তটে এসে কিনারায় লাগবে।

আর ঐ নিম কাঠ দিয়েই যেন তাঁর মূর্তি তৈরী করা হয়। পরের দিন সকালবেলা রাজা ইন্দ্র যুগ্ম লোক লস্কর আদি নিয়ে পুরীর সমুদ্র তটে গিয়ে উপস্থিত হন।

সেখানে সমুদ্র তটে গিয়ে রাজা সত্যি সত্যি একটা নিম গাছের গুঁড়িকে ভাসতে দেখেন। রাজা তখন তার সৈন্য সামন্তদের গাছের গুঁড়িটিকে জল থেকে ডাঙায়

তোলার আদেশ দেন। কিন্তু শত চেষ্টা করেও রাজার সৈন্য সামন্তরা গাছের গুঁড়িটিকে ডাঙায় তুলতে ব্যর্থ হয়। রাজা ইন্দ্র যুগ্ম তখন ভগবান জগন্নাথের লীলা

বুঝতে পেরে সবর জাতের প্রধান,নীলাম্বরের পরমভক্ত বিশ্ব বসুর কাছে গুঁড়িটিকে ডাঙায় তোলার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যেখানে রাজার সৈন্য সামন্তরা

সবাই মিলে হাজার চেষ্টা করেও নিম গাছের গুঁড়িটিকে ডাঙায় তুলতে পারছিলেননা। তখন সেখানে বিশ্ব বসু একা কাঁধে করে গাছের গুঁড়িটাকে ডাঙায় তুলে নিয়ে আসেন।

কাঠ তো পাওয়া গেল কিন্তু মূর্তি তৈরী কি করে হবে, মূর্তি নির্মাণ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। তখন বিশ্বকর্মা স্বয়ং একজন বৃদ্ধ কারিগরের রূপ ধরে রাজা ইন্দ্র যুগ্ম এর কাছে হাজির হয়।

বিশ্বকর্মা মূর্তি নির্মাণের জন্য রাজা ইন্দ্র যুগ্ম এর কাছে ০৩ টি শর্ত রাখেন। ০১. মূর্তি তিনি একা তৈরী করবেন এবং মূর্তি তৈরির সময় তিনি কারো কাছে কোনো রকমের সাহায্য নেবেন না। 

০২. মূর্তি তৈরী করার সময় মন্দিরের দরজা সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ রাখা হবে। ০৩. সম্পূর্ণ মূর্তি নির্মাণের কাজ তিনি ২১ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ করবেন আর এই ২১ দিন সম্পূর্ণ ভাবে মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকবে। 

রাজা ইন্দ্র যুগ্ম বৃদ্ধ কারিগরের সমস্ত শর্ত মেনে নেয় এবং মূর্তি তৈরীর কাজ আরম্ভ করার আদেশ দেন। এরপর  মন্দিরের গৃহ গর্ভ থেকে ঠক,ঠক,ছেনি হাতুড়ির

আওয়াজ বাইরে বেরিয়ে আসতে থাকে। অন্যদিকে রাজা ইন্দ্র যুগ্ম এর স্ত্রী রানী গুন্ডিচা দেবীর মূর্তি তৈরী নিয়ে কৌতূহল ক্রমশ বাড়তে থাকে।

এইভাবে ১৯-২০ দিন কেটে যাওয়ার পর রানী গুন্ডিচা দেবী কৌতূহল নিয়ে মন্দিরের দরজায় আড়ি পাতলেন কিন্তু তিনি কোনো রকমের ছেনি হাতুড়ির আওয়াজ

শুনতে পেলেন না । রানীর তখন মনে হল বৃদ্ধ কারিগর হয়ত ক্ষুদা তেষ্টায় মারা গেছে। খবর পেয়ে রাজা ইন্দ্র যুগ্ম নিজে এলেন ঘটনার তদারক করার জন্য।

উপায় না দেখে রাজা তখন নিরুপায় হয়ে মন্দিরে দরজা খোলার আদেশ দিলেন। কিন্ত কি আশ্চর্য্য মন্দিরের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে মন্দির থেকে বৃদ্ধ কারিগর অদৃশ্য হয়ে গেল।

রাজা তখন মূর্তির দিকে তাকিয়ে দেখেন সেখানে ০৩ টি মূর্তি আধগড়া অবস্থায় পড়ে আছে। ভগবান জগন্নাথ এবং বলভদ্রের দুটো হাতের তখন শুধু অর্ধেকটাই তৈরী হয়েছে,

আর বোন সুভদ্রার হাত ও পা দুটির কাজই অসম্পূর্ণ হয়ে রয়েই গেছে। রাজা তখন একেই ভগবানের ইচ্ছে মনে করে জগন্নাথ,দাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রার

অসম্পূর্ণ আধগড়া মূর্তি মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন। আর তখন থেকে আজও ভগবান জগন্নাথ,দাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রার আধগড়া মূর্তি পুরীর মন্দিরে পূজিত হয়ে আসছে।

আরো পড়ুন : টাইটানিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার আসল রহস্য। 

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য


ভগবান জগন্নাথের অনেক লীলা খেলার কথা আপনারা বিভিন্ন জায়গায় শুনে থাকবেন কিন্তু পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য তার মধ্যে অন্যতম।

০১. আপনারা জানেন ভারত তথা সমগ্র বিশ্বে একমাত্র জগন্নাথ দেবের মূর্তি কাঠ দিয়ে তৈরী করা হয়। জগন্নাথ দেবের মূর্তি নির্মাণের জন্য যে কাঠ নির্বাচন করা হয় তা হল নিমের কাঠ।

জগন্নাথ দেব ও তার দাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রার গায়ের রং অনুযায়ী কাঠ নির্বাচন করা হয়। কাঠ গুলি এমন নিখুঁত ভাবে নির্বাচন করা হয়

তা যেন মূর্তি নির্মাণের জন্য সকলগুন সম্পন্ন হয়। জগন্নাথ দেবের মূর্তি নির্মাণে নিমের যে কাঠটি নির্বাচন করা হয়, সেই নিম গাছটিকে ০৪ শাখা বিশিষ্ট হতে হয়।

নিম গাছটির নিচের অংশে গাছের শিকড়ে পিঁপড়ের ঘর কিংবা সাপের গর্ত থাকতে হবে। গাছটিকে শশ্মানে তিন মাথার মোড়ে থাকতে হবে।যদি কোনো কারণে এরকম স্থানে নিম গাছ না পাওয়া যায়

তাহলে তার পরিবর্তে তিন দিকে পাহাড় বেষ্টিত জায়গায় বেল গাছের সমন্বয়ে আছে এই ধরণের নিম গাছের কাঠ জগন্নাথ দেবের জন্য নির্বাচন করা হয়।

তবেই সেই নিম গাছটি তখন জগন্নাথ দেবের মূর্তি বানানোর যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এই সমস্ত বিরল জিনিস গুলো পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যময় করে তোলে।

০২. পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যের মধ্যে আরো একটি রহস্য হল প্রতি ১২ বছর অন্তর জগন্নাথ দেবের মূর্তি বদল করে নতুন মূর্তি প্রতিস্থাপন করা। হিন্দু ধর্মলম্বীদের মতে

ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জীবনাসন পুরী ধামে হয়। শ্মশান চিতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পার্থিব দেহের দাহ সংস্কার করার পর তার অবিনশ্বর আত্মা পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায়।

শুধু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের হৃদয় অক্ষত অবস্থায় থেকে যায়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের হৃদয় চিতায় ভস্মীভূত হয়ে যায়নি তাই পৌরাণিক মতানুযায়ী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের হৃদয় প্রতিস্থাপিত

করা হয় জগন্নাথ দেবের কাঠের প্রতিমায়। পুরীর মন্দিরে প্রতি ১২ বছর অন্তর জগন্নাথ দেবের কাঠের মূর্তি পরিবর্তন করে নতুন কাঠের মূর্তি মন্দিরে স্থাপন করা হয়।

জগন্নাথ দেবের এই মূর্তি প্রতিস্থাপনের পরম্পরা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। জগন্নাথ দেবের মূর্তি স্থাপনের সময় পুরী শহরকে সম্পূর্ণ রূপে ব্ল্যাক আউট করে দেওয়া হয়।

সেই দিনটিতে পুরো পুরী শহর অন্ধকারের চাদরে ঢেকে যায়। যাতে মন্দিরের গর্ভগৃহে পূজারী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে

তার জন্য পুরো মন্দির চত্বর CRPF ফোর্স মোতায়েন করে কঠোর নিরপত্তা বলয়ে আবৃত করে দেওয়া হয়। আর এইভাবেই প্রতি ১২ বছর অন্তর চলে জগন্নাথ দেবের মূর্তি প্রতিস্থাপনের কাজ।

পুরোহিতের চোখে পট্টি বেঁধে হাতে দস্তানা পড়িয়ে মন্দিরে প্রবেশ করানো হয়। হাতে দস্তানা পড়ে চোখ বেঁধে চলে মূর্তি বদলের কাজ।

প্রতি ১২ বছর অন্তর মূর্তি বদল হলেও একটা জিনিস অপরিবর্তিত থাকে সেটা হল জগন্নাথ দেবের মূর্তির ভিতরেথাকা শ্রীকৃষ্ণের হৃদয়।

যেটা ভগবান জগন্নাথের মূর্তির মধ্যে যুগ যুগান্তর ধরে প্রতিস্থাপিত হয়ে আসছে। শ্রীকৃষ্ণের হৃদয়কে ব্রহ্ম পদার্থ বলে সম্বোধন করা হয়।

মন্দিরের পুরোহিতের মতে যখন ভগবান জগন্নাথ দেবের পুরোনো মূর্তি থেকে নতুন মূর্তিতে ব্রহ্ম পদার্থটিকে প্রতিস্থাপন করা হয় তখন দস্তানা পড়া হাতে

পুরোহিত খরগোশ ছানার মত মত একটি জীবন্ত জিনিসের মত কিছু উপলব্ধি করেছেন যেটা প্রতিনিয়ত স্পন্দিত হচ্ছে। আসলে এই স্পন্দিত বস্তুটি হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের হৃদয়

যা আজও ভগবান জগন্নাথের মূর্তির মধ্যে প্রাণের প্রতিষ্ঠা বহন করে চলেছে। মন্দিরের পুরোহিত চোখ বাঁধা অবস্থায় এর থেকে বেশি তিনি আর কিছু আর অনুভব করে উঠতে পারেন নি।

ব্রহ্ম পদার্থটিকে নিয়ে মানুষের মনে অনেক কৌতূহল থাকলেও সেকাল থেকে আজ অব্ধি কোনো ব্যক্তি খালি চোখে ব্রহ্ম পদার্থটিকে দর্শন করার সাহস জুগিয়ে উঠতে পারেননি।

মন্দিরের পূজারীর মতে যে ব্যক্তি ব্রহ্ম পদার্থটিকে খালি চোখে অভিধাবন করার চেষ্টা করবে সেই ব্যক্তির তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হবে।

ঐ ব্যক্তির সমগ্র শরীর বিস্ফোরিত হয়ে শরীর খন্ড খন্ড মাংস পিন্ডে পরিণত হবে। তাই আজ পর্যন্ত সেই ব্রহ্ম পদার্থ দেখার দুঃসাহস করে উঠতে পারেনি।

০৩. আষাড় মাসের শুক্ল পক্ষের পূর্ণ তিথিতে পুরীর রথ যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ভগবান জগন্নাথ তার দাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে করে

রানী গুন্ডিচা দেবীর বাড়ির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। রাজা ইন্দ্র যুগ্ম এর স্ত্রী রানী গুন্ডিচা দেবী ভগবান জগন্নাথ দেবের পরম ভক্ত হওয়ায় পৌরাণিক মতে

জগন্নাথ দেব রানী গুন্ডিচা দেবীর বাড়ি মানে জগন্নাথ দেব তার মাসির বাড়ি বেড়াতে যায়। পুরীর রথ যাত্রায় জগন্নাথ দেবের রথের দড়িতে টান দেওয়ার জন্য

সমাগম হয় দেশ ও বিদেশ থেকে আসা বহু পূর্ণার্থীর। কিছু লোকের বিশ্বাস পুরীর রথ যাত্রায় পুরীতে গিয়ে জগন্নাথ দেবের রথের দড়ি ধরে রথ টানলে সমস্ত পাপ ধুয়ে যায়।

চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী পুরীর রথ যাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে রাজা ইন্দ্র যুগ্ম এর বংশধর মানে পুরীর রাজ্ পরিবারের সদস্য দ্বারা আজও প্রথমে পুরীর

রাস্তায় সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দেওয়া হয়। তারপর জগন্নাথ দেবের রথ পুরীর রাস্তায় বার করা হয়,যা পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যের মধ্যে একটি অন্যতম রহস্য বলা চলে।

০৪. জগন্নাথ মন্দিরের সিংহ দ্বার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য বহন করছে। পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির সমুদ্র তটের কাছাকাছি অবস্থান করায় সমুদ্রের ঢেউ এর

আওয়াজ সারাক্ষন কানে আসায় স্বাভাবিক। কিন্তু আপনারা যারা পুরী মন্দিরে গেছেন তারা অন্তত একটা জিনিস লখ্য করে দেখেছেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সিংহ দ্বারে

পা রাখা মাত্রই নিমেষে সমুদ্রের ঢেউ এর আওয়াজ আর কানে আসা বন্ধ হয়ে যায়। সমুদ্রের ঢেউয়ের আওয়াজ মন্দিরের সিংহ দ্বারের কাছ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনা সেখানে নিস্তব্ধতা ছেয়ে যায়।

অপরদিকে পুরীর মন্দিরের সিংহ দ্বারের বাইরে পা রাখতেই আবার পুনরায় কল কল সমুদ্রের ঢেউয়ের উত্তাল জলোচ্ছাসের আওয়াজ কানে ভেসে আসে।

পুরীর মন্দির থেকে অনন্ত দূরে সমুদ্রতটে সারি সারি চিতা জ্বলতে দেখা যায়। সেখানে মৃতদেহ জ্বলা পোড়ার গন্ধ নাকে আসাটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য পুরীর মন্দিরের সিংহ দ্বারের ভিতরে পা রাখলে আর মরা পোড়ার গন্ধ নাকে আসেনা। এই ধরণের ঘটনা পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য ও পুরীর মন্দিরের ইতিহাসকে রহস্যময় করে তোলে।

০৫. পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যর মধ্যে আর ০১ টি অন্যতম রহস্য হল জগন্নাথ মন্দিরের চূড়ায় কোনো পাখিদের না বসা। আমাদের ভারতবর্ষ পশু পাখির দেশ।

এখানে ওখানে আনাচে কানাচে রং বেরঙের পাখি দেখতে পাওয়া যায়। আর চড়ুই,পায়রা ইত্যাদি পাখি গুলোকে  আমাদের বাড়ির ছাদের কোনে ঘুলঘুলিতে

ইলেকট্রিক পোলে,মোবাইল টাওয়ারে বাসা বেঁধে বসবাস করতে দেখা যায়। কিন্তু আপনারা পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ইতিহাস ঘেঁটে দেখে নিতে পারেন

আজ অব্ধি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের গম্বুজের উপর কোনো পাখি বসা তো দূরের কথা।,সেখানে কোনো পাখিকে মন্দিরের গম্বুজের উপর দিয়ে উড়তে পর্যন্ত দেখতে পাবেন না।

আর এই সমস্ত কারণের জন্যই হয়ত সরকার পুরীর মন্দিরের আকাশের উপর দিয়ে বিমান চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে।

তাই পুরীর মন্দিরের উপর দিয়ে কোনো ধরণের বিমান অথবা হেলিকপ্টারের মত বায়ুযান ইত্যাদি উড়তে দেওয়া হয়না।

০৬. পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ইতিহাসে আর একটি দৃষ্টান্তমূলক জিনিস আপনারা দেখতে পাবেন পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের গম্বুজের ছায়া কোনোদিন মাটিতে পড়ে না।

সচারচর আলোর সামনে কোন বস্তু যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাহলে সেই বস্তুর ছায়া তার বিপরীত দিকে মাটিতে পড়ে। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ২১৪ ফুট এবং মন্দির চত্বরের সীমানা

০৪ লক্ষ বর্গ ফুট। কিন্তু ভাববার বিষয় এই যে এতো বড় মন্দির হওয়া সত্ত্বেও পুরীর মন্দিরের গম্বুজের ছায়া মাটিতে পড়তে আজ পর্যন্ত কেউ দেখতে পায়নি যা পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যকে আরো বাড়িয়ে দেয়।

০৭. পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরে প্রথা অনুযায়ী নিয়ম করে প্রতিদিন মন্দিরের গম্বুজে শিব তিলক রঞ্জিত পতাকা সকাল বেলা চড়ানো হয় এবং সন্ধে হওয়ার সাথে সাথে

নিয়ম করে গম্বুজের শিখর থেকে শিব তিলক রঞ্জিত পতাকা নিচে নামানো হয়। কিন্তু এখানে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য হল স্থানীয় মন্দির কমিটির মতে কোনোদিন ভুল বসত

মন্দিরের গম্বুজের চূড়ায় যদি পতাকা চড়াতে যদি ভুলে যায় কিংবা গম্বুজ থেকে পতাকা নিচে নামাতে ভুলে যায় তাহলে আগামী ১৮ বছরের জন্য মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

০৮. পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ইতিহাসে আরো একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হল পুরীর মন্দিরের চূড়ায় থাকা পতাকার হাওয়ার বিপরীতে ওড়া।

কথিত আছে পুরী মন্দির সমুদ্রতটে অবস্থিত হওয়ায় বেশ কয়েকবার সমুদ্রের জলোচ্ছাসে পুরীর মন্ধির ধ্বংস হয়েছে। তাই পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী রামচন্দ্র পুরীর মন্দিরকে রক্ষা করার ভার

পবন পুত্র হনুমানকে দিয়েছিলেন। তাই মনে করা হয় পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এসে বাতাস তার রাস্তা বদলে নেয়। সচরাচর বাতাস যেদিকে বই পতাকা সেদিকেই ওড়ে

কিন্তু জগন্নাথ মন্দিরের পতাকা চিরকাল ধরে বাতাসের বিপরীত দিকেই উড়তে থাকে এরকম নানা ধরণের ঘটনা পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যকে উদজীবিত করে রেখেছে আজও।

০৯. পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ইতিহাসে আর একটি অন্যতম রহস্য হল মন্দিরের গম্বুজের শীর্ষে লাগানো সুদর্শন চক্রের চার দিশায় সমান ভাবে দৃশ্যায়মান হওয়া।

বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মন্দিরের চূড়ায় আপনারা বিভিন্ন ধরণের সুদর্শন চক্র মন্দিরের গম্বুজে আপনারা দেখে থাকবেন,কিন্তু পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের চূড়ায় লাগানো

সুদর্শন চক্রের এক আলাদা মহত্ব আছে। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের চূড়ায় থাকা সুদর্শন চক্রকে চারিদিক থেকে দেখতে একই রকম বলে মনে হয়।

পুরীর মন্দিরের এই সুদর্শন চক্রটির আঙ্গেল ভিউ চারিদিকে একই রকম। তাই আপনি মন্দিরকে যেদিক থেকেই দর্শন করুন না কেন মন্দিরের গম্বুজে থাকা

সুদর্শন চক্র কিন্ত আপাদ দৃষ্টিতে মনে হবে আপনার সামনে দিক করেই লাগানো আছে। মন্দিরের এই কারুকার্য পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যময়তা আজও অনেক মানুষকে অবাক করে দেয়।

১০. পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যের মধ্যে অন্যতম হল পুরীর জগন্নাথ দেবের রান্নাঘর। আপনারা অনেক জায়গায় বড় বড় মন্দিরে এবং গুরুদ্বারার বড় বড় সব রান্না ঘরের কথা শুনে থাকবেন।

কিন্তু পুরীর জগন্নাথ দেবের রান্নাঘরের বিশেষত্ব হল,জগন্নাথ দেবের রান্নাঘরে যে সমস্ত ভোগ রান্না করা হয় তার সমস্তটাই কাঠের জ্বালানির আঁচে রান্না হয়।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য।

পুরীর জগন্নাথ দেবের রান্নাঘরে একে একে পর পর ০৭ খানা মাটির পাত্রে ভগবান জগন্নাথের জন্য ভোগ বসানো হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সবথেকে উপরে থাকা

পাত্রটির ভোগ সবথেকে আগে রান্না হয়ে যায়। জগন্নাথ দেবের রান্নাঘরে ভোগ রান্নার দায়িত্বে থাকেন ৫০০ জন রাঁধুনি এবং ৩০০ জন সহকারী রাঁধুনি

যারা প্রতিদিন প্রায় ০১.২ লক্ষ ভক্তের জন্য ভোগ রান্না করেন। কিন্তু পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যর বিষয় এই যে পুরীর জগন্নাথ দেবের রান্নাঘরে আজ পর্যন্ত কোনোদিন

জগন্নাথ দেবের ভক্তদের জন্য ভোগ কম পড়েনি। মন্দির বন্ধের সময় হওয়ার সাথে সাথে নিজে থেকেই পুরীর জগন্নাথ দেবের রান্নাঘরে অন্ন শেষ হয়ে যায়।

ভগবান জগন্নাথ দেবের প্রসাদ কোনোদিন নষ্ট হয়না যা পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ইতিহাসকে গৌরবমন্ডিত করে রেখেছে।

পরিশিষ্ট


পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য এবং পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে সামান্য কিছু মৌখিক তত্ত্ব আপনাদের সামনে তুলে ধরা হল।

আধুনিক যুগের যুব সমাজ ধীরে ধীরে ভক্তি যোগ ছেড়ে নাস্তিকতার পথ অবলম্বন করছে। কিন্তু যাই হোকনা কেন তারা ভক্তিতে না হোক বিজ্ঞানের শিক্ষায় অভিজ্ঞতা অর্জনের ইচ্ছা নিয়ে

জগন্নাথ দেবকে বুঝতে,পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যকে জানতে তাদের বিজ্ঞানের জিজ্ঞাসু মন আজও ছুটে আসে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ইতিহাসকে উজাগর করতে।

ভগবান জগন্নাথের হয়ত তাই ইচ্ছে,আজকালকের নব যুবক ও যুবতীরা জগন্নাথের পূজা করছে হয়ত বিজ্ঞানের সাধনায় সত্যের অনুসন্ধানের মাধ্যমে।

FAQ


প্রশ্ন : জগন্নাথ দেবের প্রসাদ কে কি বলে ?                                                                               উঃ- জগন্নাথ দেবের প্রসাদ কে মহাপ্রসাদ বলে।

প্রশ্ন : জগন্নাথ দেবের মাসির নাম কি ?                                                                                  উঃ- জগন্নাথ দেবের মাসির নাম রানী গুন্ডিচা দেবী।

প্রশ্ন : জগন্নাথ মন্দিরের উচ্চতা কত ?                                                                                  উঃ- জগন্নাথ মন্দিরের উচ্চতা হল ২১৪ ফুট।

প্রশ্ন : পুরীর জগন্নাথ মন্দির কে নির্মাণ করেন ?                                                                       উঃ- রাজা ইন্দ্র যুগ্ম পুরীর জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করেন।