ঘরোয়া উপায়ে পারফিউম তৈরি করুন ( Homemade Perfiume )

সুগন্ধি পারফিউম পছন্দ করেন না এমন মহিলা খুঁজে পাওয়া ভার। আজকাল উৎসবে অনুষ্ঠানে নিত্য সময় আমরা যেখানেই যায়না কেন, বিয়ে বাড়ি,অন্নপ্রাসন,উপনয়ন,জন্মদিনের পার্টি সাজুগুজু করে,

কাপড়ে একটু সুগন্ধি পারফিউম তো চায়ই চাই। আজকের আর্টিকেলে আমরা এখন ঘরোয়া পদ্ধতিতে পারফিউম বানানোর উপায় শিখব। আপনারা একটু চেষ্টা করলেই বাড়িতে বসেই মনপছন্দের সুগন্ধি পারফিউম তৈরি করতে পারবেন।

বিশেষ করে গরমের মৌসুমে সূর্যের প্রখর রোদে আমাদের শরীর থেকে ক্রমাগত ঘামের নির্যাস নির্গত হতেই থাকে, আর ঘামের দুর্গন্ধের কথা কি বলব ?

অনেক সময় বগলের দুর্গন্ধের কারণে আমরা এতটাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ি যে, আমরা বগলের দুর্গন্ধ দূর করার সহজ উপায় হিসাবে বিভিন্ন ঘরোয়া টোটকা খোঁজার চেষ্টা করি।

তবে তুলনামূলকভাবে শীত কাল অপেক্ষা, গরম কালে আমাদের বেশি বেশি পরিমানে পারফিউমের ব্যবহার করতে হয়। তবে এমন এমন পুরুষ ও মহিলা আছেন যাদের আবার পাফিউম সুট করেনা।

সংবেদনশীল ত্বকের কারণে তারা তাদের ত্বকে জ্বালা,পোড়ার অনুভূতি করে। এধরণের সংবেদনশীল ত্বকের মধ্যে ফুসকুড়ি ইত্যাদি হতে দেখা যায়। তবে একথাটাতো একদম ঠিক আজকাল আধুনিক সিনথেটিক পারফিউম গুলোর মধ্যে

রাসায়নিক যৌগের মিশ্রণ থাকে। তাই ডাক্তার বাবুরা বেশি পরিমানে পারফিউম ব্যবহার করার ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার কথা বলেন। তবে ঘরোয়া উপায়ে পারফিউম বানালে,

রাসায়নিক যৌগের মিশ্রণ থেকে নিজের পারফিউমকে সুরক্ষিত রাখা যায়। আবার তেমনি নিজের পছন্দমত সুগন্ধের পারফিউম তৈরি করে নেওয়া যায়।

আমরা এখন পারফিউম তৈরির উপাদান গুলো দিয়ে কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে পারফিউম তৈরি করতে হয় সেটা আলোচনার মাধ্যমে দেখাব।

পারফিউম নোটস (Perfiume Notes )

পারফিউম নোটস কথাটা নতুন লাগছে তাইতো ,কিন্ত যারা পারফিউম সম্পর্কে একটু জ্ঞান রাখেন তারা পারফিউম নোটস ব্যাপারটা কি ভালোভাবে বোঝেন।

চলুন তাহলে পারফিউমের নোটস কি ? ঝাপসা জিনিসটা একটু স্পষ্ট করা যাক – পারফিউম যখন তৈরি করা হয় তখন সেই পারফিউমের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের হালকা-উগ্র,কম-ঝাঁজালো ইত্যাদি সুগন্ধি তরলের মিশ্রণ করা হয়।

পারফিউমের মধ্যে বিভিন্ন ভলিউমের যে সুগন্ধি দ্র্যবের মিশ্রণ করা হয় তাকেই পারফিউম নোটস বলা হয়। যখন আমরা আমাদের কাপড়ে প্রথমবার কোনো পারফিউম লাগায়,

তখন প্রথম বার বোতল খুলতেই বা পারফিউমের লিকুয়েড কাপড়ে লাগতেই যে সুগন্ধটা, নাকে প্রথম ঘ্রানে পাওয়া যায় তাকে টপ নোটস বলা হয়। পারফিউমের টপ নোটসের সুগন্ধ বেশিক্ষন দীর্ঘ্যস্থায়ী হয়না

১০-১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই টপ নোটসের সুগন্ধ মিলিয়ে যায়। এরপর আপনার কাপড়ে লাগানো পারফিউমের গন্ধ ধীরে ধীরে বাতাসে ছড়াতে থাকে।

এই সময় পারফিউমের সুগন্ধ কখনো কখনো আপনি আপনার নাকের ঘ্রানে উপলব্ধি করতে পারবেন,আবার কখনো আবার ঘ্রানে কোনো সুগন্ধ পাবেন না, একে পারফিউমের মিডিল নোটস বলা হয়।

এরপর আপনার কাপড়ের মধ্যে পারফিউমের যে সুগন্ধটা লাস্ট পর্যন্ত থেকে যায় তাকে পারফিউমের বেস নোটস বলা হয়। পারফিউমের বেস নোটসের সুগন্ধ আপনার কাপড়ে দীর্ঘ্যক্ষন (০৪-০৫ ঘন্টা) স্থায়ী হয়।

টপ নোটস : পারফিউমের টপ নোটে বাসিল (Basil), কমলা লেবুর মিষ্টি সুগন্ধ (Orange), পাতি লেবু (Lemon),বাতাপি লেবু (Lime), পুদিনা (Mint), আঙুর ফলের সুগন্ধ (Grapefruit), ল্যাভেন্ডার ফুলের সুগন্ধ (lavender),বার্গামট ফলের সুগন্ধি (Bergamot) ইত্যাদির মিশ্রণ করা হয়।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে পারফিউম বানানোর উপায়
ঘরোয়া পদ্ধতিতে পারফিউম বানানোর উপায়

মিডিল নোটস : পারফিউমের মিডিল নোটের মধ্যে গোল মরিচ (Black Pepper), এলাচ (Cardamom),জুঁই ফুলের সুগন্ধ (Jasmine), বেরি ফলের সুগন্ধ (Juniper), লবঙ্গ (Clove), গোলাপ (Rose),জায়ফল (Nutmeg), ইত্যাদি মিশ্রিত হয়।

বেস নোটস : আদা (Ginger), চন্দন কাঠ (Sandalwood), ভ্যানিলা (Vanilla), পাইন তেল (Pine Oil), পাচোলী তেল ( patchouli), সবুজ ঘাস তেল ইত্যাদি মিশ্রণ করা হয়।

পারফিউমে সুগন্ধ আনার জন্যে দরকার পারফিউমের সঠিক নোটসের মিশ্রণ

আপনি যখন ঘরোয়া উপাদানে ঘরোয়া উপায়ে পারফিউম তৈরির উপায় খুজবেন, তখন আপনাকে ঘরোয়া উপায়ে পারফিউম বানানোর জন্যে বেশ কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে।

পারফিউম বানানোর সময় সবার প্রথমে পারফিউম তৈরির উপাদান হিসাবে বেস নোটের মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। তারপর মিডিল নোটের পারফিউম তৈরির মিশ্রণ গুলো মিক্স করে নিতে হবে

এবং সবার শেষে টপ নোটসের পারফিউম তৈরির উপাদান গুলো মিক্স করতে হবে। পারফিউম বানানোর সময় পারফিউমে মিশ্রণ করা বিভিন্ন ধরণের সুগন্ধি পারফিউমের উপাদানের অনুপাতের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

তবে পারফিউমে বিভিন্ন সুগন্ধি উপাদানের মিশ্রনে টপ নোটে ৩০ শতাংশ , মিডিল নোটসে ৫০ শতাংশ এবং বেশ নোটে ২০ শতাংশ সুগন্ধের মিশ্রনের অনুপাতে মিশ্রণ করলে পারফিউমের সুগন্ধ খুব সুন্দর হয়।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে পারফিউম বানানোর উপায়

ঘরোয়া উপায়ে পারফিউম বানানোর সময় আপনাকে কতগুলো জিনিস মাথায় রেখে পড়ে পারফিউম বানাতে হবে। কারণ পারফিউম তো আর এমনি এমনি তৈরি করা যায়না।

বাড়িতে বসে পারফিউম তৈরি করার জন্যে র-মেটিরিয়ালের প্রয়োজন হয়। আমরা একে পারফিউম তৈরির উপাদান বলতে পারি। আসুন তাহলে আমরা একনজরে বাড়িতে বসে পারফিউম তৈরির উপাদান গুলো জেনে নিই।

পারফিউম তৈরির উপাদান

ঘরোয়া উপায়ে পারফিউম তৈরির জন্য আপনার যে সমস্ত উপাদান গুলোর প্রয়োজন হবে সেই সমস্ত উপাদান গুলো হল, যেমন- পারফিউম তৈরির মুখ্য উপাদান হিসাবে সবার প্রথমে

যেটা দরকার হল সেটা হল কেরিয়ার অয়েল (Carrier Oil), কেরিয়ার অয়েলের উপাদান হিসাবে আপনি আলমন্ড বাদামের বীজের তেল, আঙুরের বীজের তেল, জোজোবার বীজের তেল ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।

এরপর সবার প্রথমে পারফিউমের বেস নোটের উপাদান গুলোর মিশ্রণ করতে হবে, তারপর মিডিল নোট এবং সবথেকে লাস্টে বেস নোটের মিশ্রণ করতে হবে।

পারফিউমের নোট গুলো মিশ্রণ করার সময় সুগন্ধি উপাদেয় গুলোর সুগন্ধ, একে অপরের সাথে এলোমেলো হয়ে একসঙ্গে মিশে যাওয়ার ভয় থাকে।

কিন্ত এলকোহল বাতাসের সংস্পর্শে এলে উবে যায় তাই এলকোহল দিয়ে পারফিউম তৈরি করলে পারফিউমের তিনটি নোটস খুব সুন্দরভাবে একই সঙ্গে মিশ্রিত হয়।

তাই সুগন্ধি গুলোর তিন খানা নোটকে একসাথে মিশ্রণ করার জন্যে এলকোহল মেশানো হয়। সাধারণভাবে বাড়িতে বসে পারফিউম তৈরি করার সময় পারফিউমের মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশ ভোদকা মিক্স করা হয়।

কিন্ত আপনি একেবারে যদি র-পারফিউম অথাৎ সলিড পারফিউম বানাতে চান তাহলে আপনি জল ও এলকোহলের জায়গায় Bee Wax এর মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন।

নোট : পারফিউম বানানোর পর পারফিউম সংগ্রহ করে রাখার জন্যে অবশ্যই আপনাকে একটা ভালোমানের শক্ত ও পুরু (ঘন ) কাঁচের বোতল জোগাড় করে নিতে হবে।

ঘন কাঁচের শিশির মধ্যে সূর্যালোক সহজে পৌঁছতে পারেনা, তাই ঘন কাঁচের শিশির মধ্যে পারফিউমের সুগন্ধ দীর্ঘ্যদিন অক্ষত অবস্থায় থাকে। তবে কাঁচের শিশিতে পারফিউম রাখার আগে অবস্যই সেটা ভালোভাবে ধুয়ে নেবেন ,

নইলে কাঁচের শিশিতে লেগে থাকা খাদ্য দ্রব্যের উপাদানের টুকরো বা অন্যকিছু উপাদেয় কাঁচের শিশির দেওয়ালে লেগে থাকলে তা পারফিউমের মিশ্রনের সাথে মিশে গিয়ে পারফিউমের সুগন্ধকে খারাপ করতে পারে।

বাড়িতে বসে পারফিউম তৈরির বিভিন্ন উপায়

এখন আমরা পারফিউম তৈরির ঘরোয়া উপায় হিসাবে বিভিন্ন উপাদেয় উপাদানে পারফিউম কিভাবে বানানো যায় সেই উপাদেয় পদ্ধতি গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করব –

০১. ইসেনসিয়াল অয়েল এবং প্রাকৃতিক জৈবের মিশ্রনে পারফিউম তৈরির উপায়

এখন আমরা ইসেনসিয়াল অয়েলের সঙ্গে বিভিন্ন ধরণের সুগন্ধি ফুল এবং সুগন্ধি গাছের পাতা দিয়ে কি করে ঘরোয়া পদ্ধতিতে পারফিউম বানানো যায় তার টিপস শেয়ার করব।

এইধরণের পারফিউম তৈরি করার জন্যে সবার প্রথমে আপনাকে আপনার পছন্দের সুগন্ধি ফুল অথবা ফলের পাতা জোগাড় করে নিতে হবে।

এরপর সুগন্ধি গাছের পাতা ও ফুল গুলোকে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর ভালোকরে পাতা ও শুকনো ফুল গুলোকে এক একটা করে বেছে নিতে হবে, যাতে করে পাতা ও ফুলের মধ্যে কোনো রকমের অন্য বস্তু মিশে না যায়।

এরপর শুকনো ফুল ও পাতা গুলোকে হাতের তলায় ভালো করে মচলে নিতে হবে। এরপর শুকনো ফুল ও পাতা গুলোকে ভালো করে কোনো কাঁচের পাত্রের মধ্যে ইসেনসিয়াল তেলের মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে হবে।

এইভাবে ইসেন্সিয়াল তেলের মধ্যে কাঁচের পাত্রটির ঢাকনা এঁটে ০২ থেকে ০৩ সপ্তাহ রেখে দিতে হবে। ততদিনে শুকনো ফুল ও পাতার মধ্যে থাকা সুগদ্ধ পুরোপুরিভাবে ইসেনসিয়াল তেলের সঙ্গে মিশে যাবে।

তারপর ০২-০৩ সপ্তাহ কেটে গেলে কাঁচের পাত্রটি খুলে ইসেনসিয়াল তেল থেকে ফুল ও পাতা গুলো আলাদা করে ছেঁকে নিতে হবে। ব্যাস আপনার হোমমেড পছন্দের পারফিউম তৈরি, এখন আপনি চাইলেই সেটা ব্যবহার করতে পারেন।

তবে আপনার যদি মনে হয় আপনার পারফিউমে পর্যাপ্ত পরিমানে সুগন্ধ নেই , তাহলে আরো কিছু শুকনো ফুল ও পাতা তেলের শিশির মধ্যে রেখে কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে রেখে দিন।

কিন্তু তাতেও যদি মনে আপনি আপনার পারফিউমের উপযুক্ত সুগন্ধ পাচ্ছেনা, তখন আপনাকে তার মধ্যে দু-ফোঁটা প্রাকৃতিক ভিটামিন কিংবা আঙুরের শুকনো বীজ ঢেলে দেখতে পারেন,তাতে সুগন্ধের পরিমান অনেকটাই গাঢ় হবে।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে পারফিউম বানানোর উপায়
ঘরোয়া পদ্ধতিতে পারফিউম বানানোর উপায়

০২. পাতিলেবু ও কমলালেবুর রস দিয়ে তৈরি করুন মিষ্টি সুগন্ধের পারফিউম

পাতিলেবু ও কমলালেবু দিয়ে পারফিউম কিভাবে তৈরি করবেন ,আমরা ব্যাপারটাকে দুটো ধাপে করে দেখাব –

ধাপ ০১ : সবার প্রথমে একটি কাঁচের পাত্রে ০৪-০৫ ড্রপ ল্যাভেন্ডার রস নিন তার সাথে একইভাবে ০৪ ড্রপ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিন এবং সাথে সাথে ০২-০৩ ড্রপ কমলালেবুর রস এবং ০১-০২ ড্রপ পচৌলি মিশিয়ে নিন।

ধাপ ০২: দ্বিতীয় ধাপে আরো একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে আমাদের। এখানে আমরা জুঁই ফুলের রস ০২ ড্রপ, ০১ ড্রপ পচৌলি এবং ০১ ড্রপ চন্দন মিক্স করে নেব।

এরপর ধাপ ০১ এবং ধাপ ০২ দুটি মিশ্রণকে একসাথে মিক্স করে নিয়ে তাতে ০৪ চামচ কেরিয়ার তেল ( জজোবা) মিশিয়ে নিতে হবে। এইভাবে মিশ্রণটিকে ০২-০৩ দিন রেখে দিন, ব্যাস হয়ে গেল পারফিউম রেডি।

০৩. গোলাপের পাপড়ি দিয়ে পারফিউম তৈরির উপায়

অনেককেই গোলাপের সৌরভ খুব ভালো লাগে , কিন্তু আপনি জানেন কি ? গোলাপের পাপড়ি দিয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে পারফিউম বানানো যায়।

গোলাপের পাপড়ি দিয়ে পারফিউম বানানোর জন্যে সবার প্রথমে আপনাকে প্ৰয়োজন মত গোলাপ ফুল জোগাড় করে নিতে হবে। তারপর গোলাপের পাপড়ি গুলোকে থেঁতলে পেস্ট করে নিতে হবে।

এরপর গোলাপের পেস্টটাকে ভালো কাপড় দিয়ে নিচড়ে রসটুকুকে (নির্যাস) কাঁচের একটি পাত্রে সংগ্রহ করে রাখুন। তারপর গোলাপের নির্যাসের সঙ্গে ০২-০৩ টেবিল চামচ

জজোবা অথবা বাদাম তেলের সঙ্গে ০২-০৩ ড্রপ গোলাপের নির্যাস মিশিয়ে নিন। তারপর একইভাবে পরিষ্কার কাঁচের সিসিতে মিশ্রণটিকে ০২-০৫ দিন রেখে দিন। এরপর আপনি সেটাকে পারফিউম হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।

নোট : একইভাবে আপনি গোলাপ, চন্দন, কমলা, ভ্যানিলা, জুঁই ফুল ইত্যাদি দিয়ে হোমমেড পারফিউম তৈরি করতে পারেন। তবে আপনি আপনার পারফিউমের হালকা না গাঢ় গন্ধ চান

সেটা সম্পূর্ণভাবেই আপনার উপর নির্ভর করে। কম গন্ধ চাইলে পারফিউমের উপাদান গুলো তুলনামূলভাবে কম মেশাবেন, আর বেশি গন্ধ চাইলে পারফিউমের উপাদান গুলো বেশি করে মেশাতে হবে।

০৪. ভ্যানিলা পারফিউম তৈরির ঘরোয়া উপায়

ভ্যানিলা ফ্লেভারটা আমাদের সকলের একটা পছন্দের ফ্লেভার। তাই আপনারা যদি আপনার পছন্দের ভ্যানিলা ফ্লেভারের পারফিউম চান তাহলে ভ্যানিলা পারফিউম বানানোর এই টিপসটি শুধু আপনার জন্যে।

ভ্যানিলা দিয়ে পারফিউম বানানোর জন্যে আপনাকে হাতের কাছে ভ্যানিলার ০১ চামচ বীজ জোগাড় করে নিতে হবে। তারপর ভ্যানিলার বীজগুলোকে ভালো করে থেঁতলে নিতে হবে।

এরপর ০৩-০৪ চামচ হার্বাল সূর্যমুখী তেলের সঙ্গে দুটোকে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর আপনাকে ৩০-৪০ ফোঁটা ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর ০৩-০৪ সপ্তাহের জন্যে মিশ্রণটিকে কোনো ঠান্ডা স্থানে রেখে দিতে হবে।

তবে মাঝে মাঝে দিনে অন্তত একবার করে মিশ্রণ টিতে ঝাঁকা মারবেন ,যাতে করে মিশ্রণ গুলোর রাসায়নিক বস্তু গুলো একে অপরের সাথে ভালোকরে মিশ্রিত হতে পারে।

এরপর ০৩ সপ্তাহ পরে মিশ্রণটাকে বার করে তার সাথে ০২-০৩ রকমের ইসেনসিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে হবে। ব্যাস আপনার ভ্যানিলা পারফিউম রেডি,এবার আপনি চাইলেই পারফিউমটাকে ব্যবহার করতে পারেন।

০৫. ফল দিয়ে পারফিউম বানানোর ঘরোয়া উপায়

এখানে আমরা ফল দিয়ে পারফিউম বানানোর জন্যে জোজোবা ফলের নির্যাস / অয়েল ব্যবহার করব। আপনারা আপনাদের পছন্দের ফলের নির্যাস যেমন- আঙুর ,কমলা,লেবু ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।

সবার প্রথমে আপনাদের যে সমস্ত জোগাড় করে নিতে হবে ০১-০২ ড্রপ জোজোবা অয়েল, ২৫-৩০ ড্রপ ইসিসিয়াল অয়েল, ০২-০৩ চামচ ভোদকা, ০১-০২ চামচ ডিস্ট্রিল ওয়াটার।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে পারফিউম বানানোর উপায়
ঘরোয়া পদ্ধতিতে পারফিউম বানানোর উপায়

এইসবের মিশ্রণ গুলো জোগাড় করে নেওয়ার পর প্রথমে কাঁচের বোতলে জোজোবা তেল এবং এলকোহল মিশিয়ে নিন তারপর ওর মধ্যে ডিস্ট্রিল ওয়াটার মিশিয়ে নিয়ে মিক্স করে দিন। সমস্ত মিশ্রণ গুলো ভালো করে মিশিয়ে নেওয়ার পর

সেই মিশ্রনের উপর ইসেনসিয়াল অয়েল মিশিয়ে দিতে হবে । এরপর আপনাকে কাঁচের একটি পরিষ্কার বোতলে মিশ্রণটিকে ভরে কয়েকদিনের জন্যে ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। ব্যাস আপনার ফলের পারফিউম রেডি ।

পরিশিষ্ট

ঘরোয়া পদ্ধতিতে পারফিউম বানানোর উপায় গুলো দিয়ে যে সমস্ত পারফিউম গুলো তৈরি করা হয়, সেই পারফিউমের সুগন্ধে স্থায়িত্ব থাকে ঠিকই,তবে সেই সুগন্ধ খুব চড়া সুগন্ধ হয়না। কারণ বাড়িতে তৈরি পারফিউমের মধ্যে

যে সমস্ত উপাদান মিশ্রণ করা হয় তাতে কোনো প্রকারের সিনথেটিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়না। বাড়িতে পারফিউম তৈরি হয় সম্পূর্ণ ঘরোয়া উপায়ে তাতে কোনো প্রকারের রাসায়নিক দ্র্যবের পরিবর্তে সলিড আইটেম ব্যবহার করা হয়।

বাকি পারফিউম বানানোর জন্যে বিভিন্ন উপরকরণ যেমন- ইসেনসিয়াল অয়েল, বিভিন্ন তেলের নির্যাস গুলো আপনি অনলাইনে পেয়ে যাবেন। তবে আপনারা নির্যাস না কিনে সরাসরি যদি অ্যাবসলিউট,

যেমন- ভ্যানিলা অ্যাবসলিউট, জুঁই ফুলের জেসমিন অ্যাবসলিউট কিনেন তাতে ঘরে বানানোর পাফিউমের সুগন্ধটা বেশি স্থায়ী এবং মিষ্টি হবে।

তবে একটা কথা মনে রাখবেন ঘরোয়া উপায়ে পারফিউম বানানো ধৈর্যসাপেক্ষ একটা ব্যাপার। আপনি পারফিউম বানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন না। ঘরোয়া উপায়ে পারফিউম বানানোর পরে

আপনাকে সেই পারফিউম ০৩-০৪ সপ্তাহ পর্যন্ত পারফিউমের মিশ্রণ ভালোভাবে হওয়ার জন্যে ঠান্ডা জায়গায় স্টোরেজ করার দরকার হয়। তাই বাড়িতে বানানো পারফিউমের জন্যে আপনাকে ধৈর্য ধরতেই হবে।

আমাদের আর্টিকেলটি ভালো লাগলে ০৫ ষ্টার রেটিং দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here