নভোচারী কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্য (Kalpana Chawla Death Mystery)

আজকে আমরা আলোচনা করব কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্য নিয়ে। নভোচারী কল্পনা চাওলার জীবনী (Kalpana Chawla) অধ্যয়ন করে আমরা,জানব কল্পনা চাওলার শিক্ষা,

কল্পনা চাওলার মহাকাশ অভিযান এবং কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্যকে ঘিরে নানান রকম গল্প কথা। নভোচারী কল্পনা চাওলা মহাকাশ অভিযানে গিয়ে শহীদ হওয়ার গল্প আমাদের সবার জানা।

কল্পনা চাওলা (Kalpana Chawla) হল আমাদের নারী সমাজের একজন প্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমান করে দিয়েছেন আমাদের মা বোনেদের জন্ম শুধু রান্না ঘরে খুন্তি নাড়ানোর জন্য হয়নি,

নারী শক্তি সত্যি মা দূর্গা দশভুজার রূপ। একজন নারী যেমন একহাতে স্বামী ও সংসার সামলাতে পারে তো আবার অপরদিকে রকেটে চড়ে মহাকাশে পারি জমাতেও পারে।

আসুন তাহলে আমরা মা মহামায়া নারী শক্তি রূপে একজন মহিয়সী মহিলা কল্পনা চাওলার জীবনীতে কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্যর গল্প জানার চেষ্টা করি।

কল্পনা চাওলার জীবনী (Kalpana Chawla Biography)


নভোচারী কল্পনা চাওলার জীবনী ঘেঁটে দেখলে দেখতে পাওয়া যায় কল্পনা চাওলার বাবার পূর্ব পুরষের আদি ভিটেমাটি ছিল অবিভক্ত ভারতের পাকিস্তানের মুলতানে।

পরে ভারতবর্ষের বিভাজন ঘটলে কল্পনা চাওলার (Kalpana Chawla) আদি পুরুষেরা হরিয়ানার কর্নালে এসে বসবাস শুরু করেন।

১৯৬২ সালের ১৭ মার্চ কল্পনার বাবা বেনারসি লাল চাওলার চতুর্থতম সন্তান হিসাবে চাওলা পরিবারে কল্পনা চাওলার জন্ম হয়,কল্পনা ছিলেন তার বাবা ও মায়ের চতুর্থতম সন্তান।

কল্পনা চাওলা (Kalpana Chawla) প্রাথমিক শিক্ষা নেন কর্নালের ঠাকুর বাল নিকেতন স্কুল থেকে। পরে ১৯৭৬ সালে তিনি পাঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন।

ছোটবেলা থেকেই আকাশের ভেলায় ভাঁসতে থাকা চাঁদ,তারা,সূর্য এবং আকাশে উড়ো জাহাজকে উড়তে দেখে কল্পনার জিজ্ঞাসু মন নীল আকাশে ডানা মেলার স্বপ্ন দেখত।

স্কুলে টিফিনের ফাঁকে কাগজে প্লেন ড্রইং করে,কাগজের প্লেন বানিয়ে ফাঁকা মাঠে কাগজের প্লেন ওড়াতে কল্পনা খুব ভালোবাসত। কল্পনার পরিবারের ইচ্ছে ছিল

মেয়ে বড় হয়ে ডাক্তার কিংবা শিক্ষক দুটোর মধ্যে একটা হোক। কিন্তু হলে কি হবে কথায় আছে বিধাতা জানেন গোপন কম্মটি,কল্পনা না ডাক্তার না শিক্ষক,সে হতে চেয়েছিল তার নিজের মত।

আরও পড়ুন : নিউটনের জীবনী ও আপেলের গল্প। 

কল্পনা চাওলা শিক্ষা (Kalpana Chawla Education)


১৯৮২ সালে কল্পনা চাওলা উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য বিলেত চলে যান। বিলেতে ১৯৮৪ সালে আমেরিকার টেক্সাস ইউনিভার্সিটি থেকে এরোস্পেস সাইন্সে মাস্টার ডিগ্রি হাসিল করেন।

এরপর ১৯৮৮ সালে কোলরেডো ইউনিভার্সিটি থেকে পিএচডি ডিগ্রি করেন। কল্পনা তার জীবনে কোনোদিন একজায়গায় থেমে থাকেনি।

কল্পনার (Kalpana Chawla) জীবনের লখ্য ছিল আমেরিকার মহাকাশ অনুসন্ধান কেন্দ্র NASA তে প্রবেশ করা। ১৯৮৮ সালে কল্পনা Computational fluid dynamics research on vertical এবং

short take-off and landing concept এ নিজের গবেষণা তত্ত্ব তুলে ধরলেন। কল্পনা আগে থেকেই প্লেন ওড়ানোর জন্য Pilot এর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

আমেরিকার ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় কল্পনা চাওলা জিন-পিয়ের হ্যারিসন এর নামের এক বন্ধুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্য
কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্য

১৯১১ সালে কল্পনা চাওলা জিন-পিয়ের হ্যারিসন এর বিবাহ হয়। কল্পনা চাওলা জিন-পিয়ের হ্যারিসন জন্মসূত্রে একজন আমেরিকান নাগরিক হওয়ায় বিয়ের পর পাকাপাকি ভাবে কল্পনা আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়ে যান।

কল্পনা (Kalpana Chawla) ১৯৫৫ সালে প্রথমবার NASA র সঙ্গে মহাকাশ যাত্রায় প্রথমবার একজন ভারতীয় মহিলা নভোচারী হিসাবে সুযোগ পান।

এরপর কল্পনা চাওলা নাসার Astronaut Crops গ্রূপস জয়েন করেন। সেখানে কল্পনার আকাশে ওড়ার স্বপ্ন ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ নিচ্ছিল। কল্পনা চাওলাকে তার স্বামী সর্বদা এই কাজে উৎসাহিত করত।

অবশেষে কল্পনা চাওলা জিন-পিয়ের হ্যারিসন এর উৎসাহে NASA র Astronaut Crops থেকে মহাকাশে যাওয়ার জন্য বৈজ্ঞানিকদের কাছ থেকে স্পেস শিপে থাকার ট্রেনিং নিতে শুরু করলেন।

আরও পড়ুন : বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এর জীবনী ও তার বিগব্যাং থিওরী। 

কল্পনা চাওলার মহাকাশ অভিযান


কল্পনা চাওলা তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েই খুব অল্প দিনের মধ্যেই কল্পনা চাওলা মহাকাশ অভিযানের সুযোগ পেয়ে যান। ১৯৯৬ সালে ১ম বার কল্পনা মহাকাশ অভিযানে নভোচারী হওয়ার সুযোগ পায়।

সেখান থেকেই শুরু হয় কল্পনার প্রথম মহাকাশ অভিযান। ১৯৯৭ সালের ১৯ শে নভেম্বর ০৭ জন নভোচারী সহ কলম্বিয়া মহাকাশ যানে চড়ে

আমেরিকার ক্যানাডিয়ান স্পেস সেন্টার থেকে কল্পনা চাওলা মহাকাশ অভিযানের জন্য রওনা দেয়। আমেরিকার স্পেস এজেন্সি NASA এই মহাকাশ অভিযানের নাম দেয় STS-৮৭,

কলম্বিয়া মহাকাশ যানটির এটা ছিল ২৪ তম মহাকাশ যাত্রা। মহাকাশে গিয়ে কল্পনা ও তার সহগামী নভোচারীরা পৃথিবীকে ২৫২ বার প্রদিক্ষন করেন।

কলম্বিয়ায় চড়ে সবমিলিয়ে ১ম বার কল্পনা চাওলা মহাকাশ অভিযানে গিয়ে ০১ কোটি ৬৭ লক্ষ মাইল পথ অতিক্রম করেন। NASA র থেকে কল্পনা ও তার টিমের প্রথম

কাজ ছিল মাইক্রো গ্রাভিটি লোডের ব্যবহার করে মহাকাশ সম্পর্কে অজানা সব বিস্তারিত তথ্য নাসার কন্ট্রোল রুমে প্রেরণ করা।

কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্য
কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্য

মিশন কমান্ডার কল্পনা চাওলাকে নাসার তরফ থেকে আরো একটি অবিস্বাসনীয় কাজের দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছিল। মহাকাশে গিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে

Spartain-২০১ নামের একটি উপগ্রহকে যথাযথ ভাবে স্থাপন করা। Spartain-২০১ উপগ্রহটিকে মহাকাশে স্থাপন করার উদ্দেশ্য ছিল সূর্য থেকে নির্গত ক্রম বিকরিত আলোর তথ্য উদ্ঘাটন করা।

কিন্তু দুঃভাগ্য বসত নাসার কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে কল্পনা Spartain-২০১ উপগ্রহটিকে পৃথিবীর কক্ষপথে সঠিকভাবে স্থাপনে কল্পনা ব্যর্থ হয়।

পরে অবশ্য Spartain-২০১ উপগ্রহটিকে ফিরিয়ে আনার জন্য Winston এবং Takao নামের আরো ০২ জন নভোচারীকে মহাকাশে পাঠানো হয়।

কল্পনা চাওলা মহাকাশ অভিযানে গিয়ে মোট ১৫ দিন ১৬ ঘন্টার বেশি সময় মহাকাশের বুকে কাটিয়ে এসে ১৯৯৭ সালের ০৫ ডিসেম্বর পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

কল্পনা চাওলার মহাকাশ অভিযানে Spartain-২০১ মিশন ফেল হওয়ার জন্য অনেক বিজ্ঞানীরা প্রথমে কল্পনাকে দোষী মনে করতে থাকে।

কিন্তু পরে নাসার বরিষ্ঠ বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধানের মাধ্যেম জানতে পারেন কল্পনা চাওলার মহাকাশ অভিযানে Spartain-২০১ কে সঠিক ভাবে স্থাপন না হওয়ার পিছনে কল্পনার

ব্যক্তিগত ভাবে কোনো ত্রুটি ছিলনা,ত্রুটি ছিল নাসার সফটওয়ার সিস্টেমে। যখন Spartain-২০১ কে তার কক্ষপথে স্থাপন করা হচ্ছিল তখন নাসার সঙ্গে Spartain-২০১

এর সংযোগ স্থাপনের জন্য যে সফটওয়ার বিল্ড করা হয়েছিল,তা হ্যাং হয়ে যাওয়ার জন্য মিশন ফেল হয়ে যায়। যার জন্য নাসার কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে কলম্বিয়ার কমিউনিকেশন গ্যাপ হয়ে মিশন ব্যার্থ হয়।

Spartain-২০১ মিশন ব্যর্থ হওয়ার জন্য কল্পনা চাওলাকে অনেক লাঞ্ছনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু কোনো বাধাই কল্পনার পায়ে বেড়ি পড়াতে পারেনি।

বরঞ্চ আরো দ্বিগুন উৎসাহে পরবর্তী মিশনের জন্য কল্পনা নিজেকে আরো বেশি করে গুছিয়ে নিয়েছে। তার উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস কল্পনাকে নাসার পরবর্তী মিশনে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করেছিল।

কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্য 


২০০১ সালে STS-১০৭ মিশনের জন্য নাসা আরও একবার কল্পনা চাওলাকে মহাকাশে যাত্রা করার জন্য নির্বাচিত করেন। এই মিশনের জন্য পাইলট সহ আরো ০৭ জন

নভোচারী মহাকাশ যাত্রার জন্য নির্বাচিত হন। কিন্তু মহাকাশ যাত্রার জন্য নভোচারী নির্বাচিত হয়ে গেলেও বেশ কয়েকবার যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এই মিশনে ইতি টানা হয়।

অবশেষে ২০০১ সালে নাসা তার STS-১০৭ মিশন স্থগিত করে দেয়। সবমিলিয়ে কোনো না কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নাসা তার এই মিশনকে ১৮ বার পিছিয়ে দেয়।

কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্য
কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্য

অবশেষে ২০০৩ সালের ১৬ ই জানুয়ারী কলম্বিয়া মহাকাশ যানটি আমেরিকার ফ্লোরিডা স্পেস সেন্টার থেকে তার ২৮ তম যাত্রার জন্য ওড়ান ভরে।

মনে করা হয় যখন কলম্বিয়া স্পেস সেন্টার থেকে ওড়ান ভরছিল তখন সেই আকাশযানের এক্সটার্নাল ফিউল ট্যাংক থেকে একটি টুকরো কেটে বেরিয়ে যায়।

আর সেই টুকরোটি গিয়ে লাগে মহাকাশ জনের বামদিকের ডানায়,যার ফলে অরবিটাররের ইনসুলেশন কভারের উপর ছিদ্র হয়ে যায়।

যখন কোনো মহাকাশযান পৃথিবীর গুরুত্ব আকর্ষণ বল কাটিয়ে মহাকাশে যাত্রা করে তখন স্পেসশিপের ইঞ্জিনের প্রবল গতিবেগের কারণে বাতাসের সঙ্গে

মহাকাশযানের ডানায় তীব্র ঘর্ষণ হয়। এই ঘর্ষণ এতটাই প্রবল হয় যে বাতাসের ঘর্ষণে যানের ডানায় আগুন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে,তাই সমস্ত মহাকাশযানের উপর পুরো বডিতে

থার্মাল প্রোটকেশনের জন্য আগুন ধরার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ইনসুলেশনের প্রলেপ চড়ানো হয় যাতে করে গরম বাতাসের সংস্পর্ষে এসে যানের ডানায় আগুন লেগে না লাগে।

মহাকাশ যানের ডানায় ছিদ্র হয়ে যাওয়ার ঘটনা নাসার কাছে কোনো নতুন ঘটনা ছিলনা। এর আগে নাসার বহু মিশনে আকাশযানের ডানায় অনেকবার এরকম ছিদ্র হতে দেখা গেছে,

আবার মহাশুন্যে পৌঁছে নভোচারীরা অনেকবার রিপেয়ারিং করে নিয়েছে। কিন্তু এবারের STS-১০৭ মিশনের সময় আকাশযানের ছিদ্রটা হয়ত একটু বেশি বড়ো হয়ে গেছিল,

যা নভোচারীদের পক্ষে মহাকাশে মহাশুন্যে গিয়ে সারানো সম্ভব হয়নি। ২০১৩ সালে নাসার STS-১০৭ মিশনের ১০ বছরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার বেন হেল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান

কলম্বিয়া মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার কয়েক ঘন্টা পরেই নাসার কাছে স্যাটেলাইট ইমেজে কলম্বিয়ার বামদিকের ডানায় হওয়া ছিদ্রটি ধরা পড়ে।

কিন্তু তখন আর নাসার কন্ট্রোলরুমে বসে থাকা বৈজ্ঞানিকদের হাতে কিছু করার ছিল না,সব কিছু চলে গেছিল তাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। নাসা চেষ্টা করলেও ইউটার্ন করে

কলম্বিয়াকে পুনঃরায় লঞ্চ প্যাডে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারতোনা। তাছাড়া শুধু স্যাটেলাইট ইমেজ দেখে আকাশযানের ছিদ্রের দৈর্ঘ্য নির্ণয় করাও মুশকিল ব্যাপার ছিল।

বড়ো রকমের ছিদ্র হয়ে থাকলে ছিদ্র মেরামত করার মত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নভোচারীদের কাছে ছিলনা,যা দিয়ে তারা চেষ্টা করলেও তারা ঐ ছিদ্র মেরামত করতে পারতনা।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের দাবি ছিল যদি কলম্বিয়ার ডানায় ছিদ্র হয়ে যাওয়ার ঘটনা কল্পনা চাওলা সহ আরো নভোচারীদের দেওয়া হত তাহলে তারা হয়ত মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ত

যার ফলে সময়ের আগেই হয়ত কলম্বিয়া দুঃঘটনার স্বীকার হয়ে যেত। তাই কন্ট্রোলরুম থেকে আলাদা করে তাদিকে কোনো সতর্ক বাত্রা দেওয়া হয়নি।

নাসার বক্তব্য ছিল নভোচারীদের কোনো খবর না দেওয়াকেই তারা উত্তম বলে মনে করে মিশন যেমন চলছে সেরকম ভাবেই চলতে দেয়,তাদের আশা ছিল যদি কোনোভাবে

দুঃঘটনা না ঘটে তাহলে তারা মিশন সম্পূর্ণ করে সেফ ল্যান্ডিং করলে করতেও পারে। আবার কিছু লোকের মতে মহাকাশযানটি দুঃঘটনার স্বীকার হওয়ার জন্য নাসার বিজ্ঞানীদের বিফলতায় দায়ী ছিল।

কিন্তু কথাটা শুনতে কঠিন হলেও এটাই বাস্তব,একবার স্পেস শিপ আকাশে উড়ে যাওয়ার পর দুঃঘটনার আশংকা থাকলে কিংবা দুঃঘটনার স্বীকার হলে কারো হাতে কিছু করার থাকেনা।

২০০৩ সালের ০১ ফ্রেব্রুয়ারী ভারতীয় সময় সন্ধে ০৭:৪৬ নাগাদ কলম্বিয়া ক্যানাডীয় SLF রানওয়ে-৩৩ এ ল্যান্ড করার কথা ছিল। ঘড়ির দিকে চেয়ে সময় গুনছিল ১৩০ কোটি ভারতবাসী সহ সারা বিশ্ববাসী।

১৫ দিন ২২ ঘন্টা ৩২ সেকেন্ড মহাশুন্যে কাটানোর পর এটমোস্ফিয়ারের পর্দা ভেদ করে পৃথিবীর কক্ষপথে ঢুকে নিরাপদ ভাবে ল্যান্ড করার সময় ঘনিয়ে আসছিল।

আনুমানিক সন্ধে ০৭:১০ মিনিট নাগাদ কলম্বিয়া পৃথিবীর কক্ষপথে এটমোস্ফিয়ারে প্রবেশ করে,কিন্তু এটমোস্ফিয়ারের গরম হাওয়ার প্রেসার কলম্বিয়ার ডানায় থাকা ছিদ্র দিয়ে

হু-হু-করে হাওয়া ঢুকতে শুরু করে। অসহনীয় গরম হাওয়ায় নভোচারীরা যানের মধ্যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর ধীরে ধীরে কলম্বিয়ার ইঞ্জিন কাজ করা বন্ধ হয়ে যায়।

এইভাবে কিন্তু খুব বেশিক্ষন টিকে থাকতে পারেনা কলম্বিয়া,আনুমানিক সন্ধে ০৭:৩০ নাগাদ ০৫-০৭ মিনিটের মধ্যে কলম্বিয়া মহাকাশযানটি আগুনের গোলার মত বিস্ফোরিত হয়ে,

উল্কাপিণ্ডের ন্যায় আমেরিকার টেক্সাস শহরের উপর ভেঙে পড়ে। নাসার STS-১০৭ মিশন সফল না হলেও বিশ্ববাসী কল্পনা ও তার সাথীদের মাথায় গৌরবের মুকুট পড়িয়েছে।

যদিও কল্পনা চাওলা ও তার সাথীদের STS-১০৭ মিশনে দুঃঘটনার স্বীকার হয়ে অকস্মাৎ মৃত্যু সত্যি বেদনাদায়ক,তবে তাদের এই বলিদান ব্যর্থ নয়।

কল্পনা চাওলার জীবনী
কল্পনা চাওলার জীবনী

কল্পনা চাওলা ও তার সাথীদির গৌরব কথা আজও মানুষের শুধু মুখে নয় মনে প্রাণে গেঁথে আছে এই শহীদদের  বলিদান স্মরণীয় যা ভুলবার নয়।

আরো পড়ুন : একে ৪৭ রাইফেল তৈরির ইতিহাস। 

পরিশিষ্ট


কল্পনা চাওলা মৃত্যু রহস্যকে ঘিরে আজকে আর সাধারণ মানুষের মনে কোন প্ৰশ্ন চিহ্ন নেই। নাসার STS-১০৭ মিশন এবং ০৭ জন নভোচারী সহ কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্য আজ সবার জানা।

STS-১০৭ মিশনে কল্পনার সাথে নিজেদের প্রাণের আহুতি দিয়েছিলেন তারা হলেন-মিশন স্পেশালিস্ট ডেভিড ব্রাউন,কমান্ডার রিস্ক হাসব্যান্ড,মিশন স্পেশালিস্ট লরেল ক্লার্ক,

মিশন স্পেশালিস্ট কল্পনা চাওলা,মিশন স্পেশালিস্ট মাইকেল অ্যান্ডার্সন,পাইলট উইলিয়ম ম্যাকুল এবং ইজরায়েল পেলোড স্পেশালিস্ট ইলেন র্যামন।

এই ০৭ জন মহান বিজ্ঞানী আজ পৃথিবীর বুকে নেই ঠিকই,কিন্তু মানুষ ভিনিন্ন জায়গায় নিজেদের স্মৃতিতে তাদের কর্মের জন্য আজও তাদিকে মনে রেখেছে।

আমেরিকায় কল্পনা চাওলার নামে বিভিন্ন রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৮৩ সালে কোলরেডো বিশ্ববিদ্যালয় এলুমিন পুরুস্কারের নাম বদলে সেই পুরুস্কারের নাম রাখে চাওলা পুরুস্কার।

২০০৪ সালে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কল্পনা চাওলা মাস্টার ডিগ্রি হাসিল করেছিলেন তাই টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

কল্পনা চাওলার স্মরণে তাদের ডোমেটারির নাম পরিবর্তন করে কল্পনা চাওলার নামে রাখেন। কল্পনা চাওলার জীবনী ও কল্পনা চাওলার মৃত্যু রহস্য সত্যিই মর্মান্তিক ঈশ্বর তাদের আত্মার শান্তি দিক।