কোন ভ্যাকসিন ভালো অনলাইন ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন কিভাবে করবেন।

বাড়তি করোনার প্রকোপ দেখে ভারত সরকার ১৮-৪৫ বছর বয়সী পুরুষ ও মহিলাদের জন্য অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন করার পক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে।

যদিও সরকার ঘোষণা করেছিল ০১ মে ২০২১ থেকে ১৮-৪৫ বছর বয়সী যুবক ও যুবতীদের করোনা ভ্যাকসিনের ০১ম ডোজ দেওয়ার প্রসেস শুরু করা হবে,

কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় ভ্যাকসিনের ঘাটতি থাকায় এখনো দেশের সর্বত্র করোনা ভ্যাকসিনের ০১ ডোজ  দেওয়ার প্রসেস শুরু করে যায়নি।

তবে সরকারি কিংবা বেসরকারি উভয় সংস্থা থেকে করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন করাটা জরুরী।

কারণ অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন না করে আপনি কোনো জায়গা থেকে করোনা ভ্যাকসিনের ০১ এবং ২য় কোনো ডোজ নিতে পারবেন না।

করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ নেওয়ার আগে ভ্যাকসিন নিবন্ধন রেজিস্ট্রেশন করাটা কম্পালসারি। তাই আজকে আপনাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব

আপনি,আপনার পরিবারকে করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত করার জন্য কিভাবে অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন এর মাধ্যমে করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন করবেন।

ভ্যাকসিন নিবন্ধন রেজিস্ট্রেশনের জন্য ভ্যাকসিন রেজিষ্ট্রেশন ওয়েবসাইটের নাম কি,করোনা ঠেকাবে কোন ভ্যাকসিন,কোন ভ্যাকসিন ভালো,ভ্যাকসিন কিভাবে কাজ করে,

ভ্যাকসিনের দাম কত,করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ কমপ্লিট হয়ে গেলে কিভাবে করোনা ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করবেন আপনাদের যাবতীয় জিজ্ঞাসার খুঁটিনাটি এই আর্টিকেলে তুলে ধরা হবে।

অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন কিভাবে করবেন


যে সমস্ত যুবক ও যুবতীতের বয়স ১৮ বছরের উর্ধে ৪৫ বছরের নিচে তারা করোনা ভ্যাকসিনের জন্য অনলাইন আবেদন করতে পারেন।

ভারত সরকার ১৮-৪৫ বছর বয়সী যুবক ও যুবতীদের জন্য অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন পক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে।

তাই আপনার বয়স যদি ১৮-৪৫ বছরের মধ্যে হয় এবং আপনার পরিবারে যদি কারো বয়স ১৮-৪৫ বছরের মধ্যে হয়ে থাকে তাহলে আপনি আপনার স্মার্টফোন

দিয়ে সহজেই তাদের জন্য করোনা ভ্যাকসিন নিবন্ধন রেজিস্ট্রেশন করে রাখতে পারেন। পরে সময় এলে আপনি আপনার রেজিস্ট্রেশন আইডি দেখিয়ে,

আপনার নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ নিতে পারেন। আসুন তাহলে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক স্মার্টফোন দিয়ে কিভাবে ভ্যাকসিন নিবন্ধন রেজিষ্ট্রেশন করা যায়।

আরো পড়ুন : করোনা ভাইরাসের নতুন লক্ষণ গুলি কি ? আপনি কি করে বুঝবেন আপনি করোনা আক্রান্ত কিনা ?

ভ্যাকসিন নিবন্ধন রেজিষ্ট্রেশন 


করোনা ভ্যাকসিন নিবন্ধন রেজিস্ট্রেশন করার জন্য আপনার সচিত্র পরিচয়পত্রে হিসাবে ভোটার কার্ড,আধার কার্ড,ড্রাইভিং লাইসেন্স,প্যান কার্ড

এই ০৪ টি পরিচয় পত্রের মধ্যে যেকোনো ০১ টি পরিচয় পত্র থাকলেই আপনি নিজের জন্য এবং আপনার পরিবারের জন্য ভ্যাকসিন নিবন্ধন রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন।

তবে আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি বর্তমানে কোন ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের মাধ্যমে করোনা ভ্যাকসিন নিবন্ধন রেজিষ্ট্রেশন করা সম্ভব হচ্ছেনা।

পরে হয়ত পি.সি দিয়ে করোনা ভ্যাকসিন নিবন্ধন রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব হবে তবে এখন আপনাদের আপাতত মোবাইল ফোন দিয়েই অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন ওয়েবসাইট


আপনারা এবারে জানতে পারবেন ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন কিভাবে করতে হয়।

প্রথম ধাপ : সবার প্রথমে আপনি আপনার মোবাইল ফোনের কোনো একটি ব্রাউজারে প্রবেশ করে গুগলে গিয়ে ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন ওয়েবসাইট www.cowin.gov.in লিখে সার্চ দিন।

দ্বিতীয় ধাপ : দেখুন আপনার মোবাইল ব্রাউজারে Ministry of Health and Family Welfare এর ড্যাসবোর্ড ওপেন হবে। সেখানে ডানদিকে কোনে Register/Sign In yourself  গিয়ে টাচ করুন।

অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন
অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন

তৃতীয় ধাপ : এরপর Register or SignIn for Vaccination এর নিচে আপনার মোবাইল নং দিন তারপর Get OTP তে টাচ করুন।

এবারে আপনার মোবাইলের inbox চেক করে দেখুন Your OTP to register/access CoWIN is ****** It will be valid for 3 minutes.-CoWIN লেখা একটি মেসেজ এসেছে।

চতুর্থ ধাপ : এইধাপে আপনার মোবাইলের মেসেজ দেখে ০৬ ডিজিটের OTP টা বসিয়ে Verify & Proceed এ টাচ করুন।

পঞ্চম ধাপ : এইধাপে Register Member এর অপশন পাবেন,সেখানে গিয়ে টাচ করুন দেখুন Register for Vaccination এর অপশন দেখতে পাবেন।

ষষ্ঠ ধাপ : এবারে আপনি যেখানে Photo ID Proof এর অপশন দেখতে পাচ্ছেন সেখানে টাচ করুন তাহলেই সেখানে আপনি Adhar Card,Voter Card,Pan Card এবং Driving license এর অপশন দেখতে পাবেন।

এবারে আপনি আপনার পছন্দমত যেকোনো একটিকে নির্বাচন করুন। তার পর আপনার Photo ID Proof দেখে হুবহু আপনার Photo ID নং বসিয়ে দিন।

আমার মনে হয় এক্ষেত্রে Adhar Card দিয়ে ভ্যাকসিন নিবন্ধন রেজিষ্ট্রেশন করাটাই ভালো,তাই Photo ID নং এ গিয়ে আপনি আপনার ১২ অঙ্কের আধার কার্ড নং দিন

অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন
অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন

সপ্তম ধাপ : তারপর আপনার আধার কার্ডের তথ্য অনুযায়ী নির্ভুল ভাবে আপনার নাম এবং আপনার জন্ম সাল এর তথ্য দিন তারপর আপনি Mail না Female নির্বাচন করার পর Add  বোতামে টাচ করুন।

ব্যাস হয়ে গেল আপনার অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ। এবারে আপনার মোবাইলে আপনার নামসহ ভ্যাকসিনের REF ID নং সহ একটা কনফর্মেশন মেসেজে পাবেন।

এবং তারসাথে আপনার মোবাইল স্ক্রিনে আপনার নামসহ ভ্যাকসিনের REF ID জন্ম তারিখ এবং Photo ID এর বিবরণ সহ যদি আপনার এলাকায় ভ্যাকসিন উপলব্ধ থাকে তাহলে আপনার ভ্যাকসিনের

Appointment Scheduled Date দেখানো হবে। আর যদি কোন কারণে আপনার এলাকায় ভ্যাকসিন উপলব্ধ না থাকে তাহলে  Appointment not Scheduled শো হবে।

এইরকম ভাবে একই প্রসেসে নিচের Add Member অপশনে ক্লিক করে একটি মোবাইল নং দিয়ে সবথেকে বেশি একই পরিবারে ০৪ জন সদস্যের জন্য ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।

এই মেসেজে দেখিয়ে আপনার এলাকায় নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যখন করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার পক্রিয়া শুরু হবে,আপনি আপনার অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন REF ID দেখিয়ে ভ্যাকসিন নিতে পারেন।

ভ্যাকসিনের প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর আপনার মোবাইলে ম্যাসেজ আসবে এবং দ্বিতীয় ডোজ কমপ্লিট হয়ে গেলে আপনি আপনার রেজিস্টার মোবাইল নং

দিয়ে ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন ওয়েবসাইট www.cowin.gov.in OTP দিয়া লগইন করলেই আপনার মোবাইলের স্ক্রিনে আপনার নাম সহ

করোনার ০২ টি ডোজের  ভ্যাকসিন কমপ্লিট হওয়ার মেসেজ দেখতে পাবেন এবং তার নিচেই Certificate ডাউনলোড করার বোতাম দেখতে পাবেন

সেখানে টাচ করে আপনি আপনার FINAL CERTFICATE for COVID-19 Vaccination ডাউনলোড করতে পারেন।

আরো পড়ুন : স্বাস্থা বীমা কাকে বলে। জানুন আপনার স্বাস্থা বীমা কেন করানো দরকার। 

আপনার এলাকায় করোনা ভ্যাকসিন উপলব্ধ আছে কিনা যেভাবে চেক করবেন


অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন তো হয়ে গেল কিন্তু পুরো ভ্যাকসিন নিবন্ধন রেজিষ্ট্রেশন পক্রিয়া শেষ করে দেখছেন আপনার মোবাইলে Appointment not Scheduled দেখতে পাচ্ছেন। 

এখন প্রশ্ন হল কিভাবে আপনি বাড়িতে বসে আপনার এলাকায় করোনা ভ্যাকসিন উপলব্ধ আছে তা চেক কিভাবে করবেন।

আপনার এলাকায় করোনা ভ্যাকসিন উপলব্ধ আছে কিনা তা দেখার জন্য আমরা আরো একবার অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন

ভারত সরকারের ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন ওয়েবসাইট www.cowin.gov.in ভিজিট করব। ওয়েবসাইট খুলতেই আপনার সামনে

আবার একইভাবে Ministry of Health and Family Welfare এর ড্যাসবোর্ড ওপেন হবে। ড্যাসবোর্ডে আপনি Check your nearest vaccination center and slots availability হেডিং দেখতে পাবেন।

তার নিচে আপনি Search By Pin এবং Search By District ০২ টি অপশন দেখতে পাবেন। এবারে আপনি আপনার পছন্দের কোনো একটি অপশন নির্বাচন করে Search দিন।

অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন
অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন

আমরা এখানে Search By District নির্বাচন করে State হিসাবে West Bengal এবং জেলা Kolkata নির্বাচন করার পর Search দিলাম।

এরপরে নিচে বিভিন্ন হাসপাতালের নাম এবং তারিখ অনুযায়ী ভ্যাকসিন বুক করার জন্য একটি লম্বা  তালিকা চোখে পড়বে। এবারে আপনি আপনার সময়মত পছন্দের ভ্যাকসিন লাগিয়ে নিন।

আরো পড়ুন : স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কি ? স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলে কি সুবিধা পাওয়া যায়। 

ভ্যাকসিনের দাম কত


যদিও ১৮+ বছরের বয়সের সবাইকে করোনা ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন আবশ্যিক হিসাবে সবাইকে করতে হচ্ছে।

সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী ৪৫+ উর্দ্ধে যাদের বয়স তাদিকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে এবং ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী সকলকে টাকা দিয়েই করোনা ভ্যাকসিন কিনতে হবে।

বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত করোনার ঢেউ দেখে সরকার,সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল গুলো থেকেও করোনা ভ্যাকসিন উপলব্ধ করার কথা ঘোষণা করেছেন।

আমাদের দেশ ভারতবর্ষে বর্তমানে ০২ টি কোম্পানি ভ্যাকসিন তৈরী করেছে- ০১) সিরাম ইনস্টিটিউটের COVISHIELD এবং ০২) ভারত বায়ো টেক নির্মিত COVAXIN, ০২টি ভ্যাকসিন

হাসপাতালে কম বেশি উপলব্ধ করানো হয়েছে। বেসকারি হাসপাতালে COVISHIELD ভ্যাকসিনের ০১ ডোজ এর দাম হল ১৫০০ টাকা এবং COVAXIN এর ০১ ডোজ এর দাম হল ৮৫০ টাকা। 

কোন ভ্যাকসিন ভালো


দেখুন কোন ভ্যাকসিন ভালো এই প্রসঙ্গে আমার কোনো আলাদা করে ব্যক্তিগত মতামত নেই। বর্তমানে ভারত সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের ভ্যাকসিন মিলিয়ে  ০৮ টি কোম্পানি করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে।

০১. OVAVAX ভ্যাকসিনটি নির্মাণ করা হয়েছে UNO এর উপর নজর রেখে। বর্তমানে আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন গরিব দেশ গুলোকে UNO দ্বারা ফ্রিতে OVAVAX করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

০২. MODERNA এবং PHIZER এই দুটো ভ্যাকসিন আমেরিকা নিজে তৈরী করেছে আর এই ভ্যাকসিন আমেরিকা তার নিজের দেশের জনগণদের জন্য উপলব্ধ করিয়েছে।

০৩. ASTRAZENECA এই ভ্যাকসিনটি ইংল্যান্ডের ASTRAZENECA এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় যৌথ উদ্যোগে বানিয়েছে। এই ভ্যাকসিনটির পেটেন্ট

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের মালিক আদর পুনাওয়ালা পুনেতে  COVISHIELD নামে উৎপাদন করছে এবং এই COVISHIELD ভ্যাকসিন হল সারা বিশ্বে সব থেকে সুলভমূল্যে উপলব্ধ ভ্যাকসিন।

০৪. এছাড়াও বিদেশের বাজারে gohonson and gohonson (gohonson and gohonson হল বিশ্বের একমাত্র ০১ ডোজের ভ্যাকসিন

বাকি সমস্ত করোনা ভ্যাকসিন এর ০২ টি করে ডোজ আছে) এবং চিনের তৈরী SHINOVAX ভ্যাকসিন নামের করোনা ভ্যাকসিন উপলব্ধ রয়েছে)

অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন
অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন

০৫. রুশের SPUTNIK-V হল পৃথিবীর সবথেকে কম সময়ে তৈরী করা একটি অন্যতম কার্যকারী করোনা ভ্যাকসিন।

০৬. ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে ভারত বায়োটেক দ্বারা নির্মিত COVAXIN করোনার আলাদা আলাদা মিউটেশনের উপর একটি অন্যতম কার্যকারী করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন।

উপরে উল্লেখিত সমস্ত ভ্যাকসিন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন তাই আলাদা করে কোন ভ্যাকসিন ভালো এই নিয়ে প্রশ্ন করা চলে না,

তবে প্রতিটি ভ্যাকসিনের  প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের মধ্যে আলাদা আলাদা সময়ের ব্যবধানের অন্তরাল রয়েছে।ভারতের আদর পুনাওয়ালার কোম্পানি

সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া COVISHIELD ভ্যাকসিন তৈরী করছে। COVISHIELD ভ্যাকসিন মূলত একটি RNA ভ্যাকসিন,

এই ভ্যাকসিন করোনার স্পাইক প্রোটিনকে লক করে দিয়ে আমাদের শরীরে করোনা ভাইরাসকে ঢুকতে দেওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে শরীরে করোনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

শুরুতে COVISHIELD ভ্যাকসিনের প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের মধ্যে ২৮ দিন ব্যবধান রাখা হয়েছিল। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায়

COVISHIELD ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ থেকে দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধানে ২৮ দিন রাখায় ভ্যাকসিনের কার্যকারী ফল হিসাবে শুধু ৫৪ % ফল পাওয়া যাচ্ছে।

অপরদিকে ঐ একই ভ্যাকসিন COVISHIELD এর প্রথম ডোজ থেকে দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধান ৪২-৫৬ দিন করে দিলে একই ভ্যাকসিনে ৮০ % ফল পাওয়া যাচ্ছে। 

তাই পরে ভারত সরকার COVISHIELD ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ থেকে দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধান ২৮ দিন থেকে বাড়িয়ে ৫৬ দিন করে দেয়।

অপরদিকে ভারত বায়োটেক এবং ICMR দ্বারা নির্মিত স্বদেশী COVAXIN কে,সবথেকে প্রভাবশালী ভ্যাকসিন বলে মনে করা হচ্ছে। এই ভ্যাকসিন করোনা ভাইরাসের আলাদা আলাদা মিউটনকে

একই ভাবে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। COVAXIN এর র-মেটিরিয়াল হিসাবে RNA ব্যবহার না করে সরাসরি করোনা ভাইরাসকে দুর্বল করে রাসায়নিক পক্রিয়ায়

কৃত্রিম দুর্বল করোনা ভাইরাস তৈরী করা হয়েছে। COVAXIN এর প্রথম ডোজ থেকে দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধান শুধু মাত্র ২৮ দিন রাখা হয়েছে।

এই ২৮ দিনের ব্যবধানেই COVAXIN আমাদের শরীরে ৮০% করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা গড়ে তুলতে সমানভাবে কার্যকরী।

রুশের তৈরী SPUTNIK-V হল বিশ্বের সবথেকে কম সময়ে তৈরী করা করোনা ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ থেকে দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধান মাত্র ২১ দিন।

২১ দিনের ব্যবধানেই আমাদের শরীরে ৯১ % করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। তবে রুশের তৈরী SPUTNIK-V আর ০৫ টা ভ্যাকসিন থেকে আলাদা।

SPUTNIK-V এর প্রথম ডোজ এবং দ্বিতীয় ডোজ একের থেকে আলাদা আলাদা। কিন্ত অন্য সমস্ত ভ্যাকসিনের ০২ টো ডোজের ভ্যাকসিন একইরকম।

বর্তমানের করোনা ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে করোনা মোকাবিলার জন্য ভারতের নিজস্ব ০২ টি ভ্যাকসিন  COVISHIELD,COVAXIN এর সাথে সাথে

রুশের তৈরী SPUTNIK-V উৎপাদনের জন্য,ডাঃ রেডি সহ আরো ০৬ টি ফার্মা কোম্পানির সঙ্গে ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য ভারত সরকার বার্তালাপ জারি রেখেছে।

সরকারের অনুমান কম সময়ে কার্যকারী SPUTNIK-V ভারতে উৎপাদন করা গেলে খুব তাড়াতাড়ি করোনা মুক্ত ভারত গড়া যাবে।

অপরদিকে আমেরিকার তৈরী PHIZER ঠান্ডা জলবায়ু ও আবহাওয়ায় করোনা প্রতিরোধে ৯৫ % কার্যকরী হলেও ভারতের মত চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর দেশে ততটা কার্যকরী নয়।

আরো পড়ুন : আয়ুষ্মমান ভারত প্রকল্প কি ? আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের সুবিধা গুলি কি কি ?

করোনা ভ্যাকসিন কিভাবে কাজ করে


এতক্ষন আমরা অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন,ভ্যাকসিন নিবন্ধন রেজিষ্ট্রেশন পক্রিয়া কি,কোন ভ্যাকসিন ভালো,ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন ওয়েবসাইট,

ভ্যাকসিনের দাম কত ইত্যাদি বিষয়ে জানলাম। এবারে আমরা জানব আমাদের শরীরে  করোনা ভ্যাকসিন কিভাবে কাজ করে,ভ্যাকসিন কিভাবে আমাদের করোনা রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

করোনা ভাইরাস দেখতে অনেকটা কদম ফুলের মত। কদম ফুলের বাইরে যেমন খোঁচা খোঁচা রেণু বার হয়ে থাকে। ঠিক তেমন করোনা ভাইরাসের বাইরে কদম ফুলের রেণুর মত

স্পাইক প্রোটিন থাকে এবং করোনা ভাইরাসের ভিতরে থাকে RNA জেনেটিক সার বস্তু। করোনা ভাইরাসের বাইরে থাকা স্পাইক প্রোটিন আমাদের শরীরের কোষের মধ্যে থাকা রিসেপ্টরের

সংস্পর্শে এসে,রিসেপ্টরের মাধ্যমে আমাদের শরীরের অতিসংবেদশীল অঙ্গ ফুসফুসের বিভিন্ন কোষ ও কলায় পৌঁছে যায়। করোনা ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন আমাদের শরীরের অন্যান্য অঙ্গে

সেরকম ভাবে থাবা বসাতে না পারলেও ফুসফুসের সংবেদনশীল কোষ কলায় খুব তাড়াতাড়ি থাবা বসিয়ে নেয়। আমাদের শরীরে থাকা বিভিন্ন কোষ ও কলার রিসেপ্টরের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস

আমাদের শরীরের নিউক্লিয়াস থেকে ভায়া হয়ে রাইবোজোমের কাছে পৌঁছে যায়। আমাদের শরীরের কোষ ও কলায় থাকা রাইবোজোম আমাদের শরীরে অবিরাম প্রোটিন উৎপাদনের কাজ করে।

কিন্তু আমাদের শরীরে থাকা নিউরোন,করোনা ভাইরাস আমাদের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক একটি ভাইরাস তা বোঝার আগেই আমাদের শরীরের বিভিন্ন কোষ কলায় থাকা রাইবোজোমের কাছে পৌঁছে যায়।

এই রাইবোজোম তখন ভালোমন্দ বিচার না করেই করোনা ভাইরাসের প্রোটিন উৎপাদনের কাজ করতে থাকে। তখন আমাদের শরীরের বিকাশের জন্য প্রোটিন উৎপাদন না

হয়ে আমাদের শরীরে থাকা রাইবোজোম একটা করোনা ভাইরাস থেকে প্রতি নিয়ত লক্ষ লক্ষ করোনা ভাইরাসের প্রোটিন উৎপাদনের কাজ করতে থাকে।

অপরদিকে আমাদের শরীরে থাকা এন্টিবডি প্রতিনিয়ত করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে থাকে কিন্তু হলে কি হবে রাইবোজোম প্রতিনিয়ত করোনা প্রোটিন তৈরি করতে থাকে।

তাই আমাদের শরীরে থাকা এন্টিবডি করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে উঠতে পারেনা এন্টিবডি গুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

তখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা কমে আসে এবং আমাদের গা গরম হয় আমাদের শরীরে জ্বর,মাথা ব্যাথা,কাশি ইত্যাদির মত লক্ষণ গুলো দেখা যায়।

কিন্তু আমাদের শরীরে যখন করোনা ভ্যাকসিন পুশ করা হয় তখন আমাদের শরীরে ভ্যাকসিনের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকের গবেষণা দ্বারা রাসায়ানিক ভাবে প্রস্তুত করোনা ভাইরাসকে দুর্বল

করে আমাদের শরীরে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। যেহেতু আমাদের শরীরে করোনা ভাইরাসকে দুর্বল করে পুশ করানো হয় তাই করোনা সরাসরি আমাদের শরীরে দ্রুত থাবা বসাতে পারেনা।

ততদিনে আমাদের শরীরের বিভিন্ন কোষ ও কলায় থাকা নিউক্লিয়াস,নিউরোন ইত্যাদি করোনা ভাইরাসের প্রোফাইলকে ভালোভাবে চিনে নেয় এবং

আমাদের শরীরের ইমিউনো সিস্টেম করোনা প্রতিরোধী করোনা ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনকে ধ্বংস করার মত নতুন এন্টিবডি তৈরী করে নেয়। তাই নতুন করে আমাদের শরীরে

করোনা ভাইরাস প্রবেশ করে গেলে আমাদের শরীরে বাসা বাঁধার আগেই আমাদের শরীরে নতুন ভাবে করোনা প্রতিরোধী এন্টিবডি তৈরী হয়,যা করোনা ভাইরাসকে ধ্বংস করে দেয়।

আরো পড়ুন : সমকামিতা কাকে বলে এবং সমলিঙ্গের প্রকারভেদ। 

পরিশিষ্ট


অনলাইন করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন করে করোনা ভ্যাকসিন লাগিয়ে নিলেই আপনি নিশ্চিত হতে পারেনা যে আপনি নতুন করে করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত হবেন না।

কোনো দেশের কোনো করোনা ভ্যাকসিন কোম্পনি কখনোই করোনা প্রতিরোধের ১০০ % গ্যারেন্টি প্রদান করেনা। তবে হ্যাঁ আপনি ভ্যাকসিন লাগানোর পরে

করোনা আক্রান্ত হয়ে গেলে আপনার প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা থাকেনা। জানুয়ারী মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৪৫ বছরের উর্দ্ধে করোনা যোদ্ধা সহ প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষকে

করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে তাতে মাত্র শুধু ৬০০০ হাজার মানুষই মারা গেছেন। তাই শুধু করোনা ভ্যাকসিন লাগিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে যাবেন না,ঘরে এবং

বাইরে যেখানেই থাকুননা কেন,যতদিন না করোনা আমাদের দেশ থেকে নির্মূল হয়ে যাচ্ছে ততদিন আমাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার,সামাজিক দূরত্ব বিধি বজায় রাখতেই হবে।