ই শ্রম কার্ডের সুবিধা ও ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন করার নিয়ম (E Shram Card Online application Bangla)

বর্তমানে কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের অসংগঠিত শ্রমিকদের সুবিদার্থে কেন্দ্র সরকার দ্বারা ই শ্রম প্রোটাল লঞ্চ করা হয়েছে।

ই শ্রম প্রোটাল দ্বারা দেশের সমস্ত অসংগঠনিক শ্রমিকরা ই শ্রম প্রোটালে, ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন করতে পারবেন। এখন আপনার মনে হতে পারে, অসংগঠিত শ্রমিক বলতে কোন ধরণের শ্রমিকদের বোঝানো হচ্ছে ?

অসংগঠিত শ্রমিক বলতে এখানে নন স্কিল লেবারদের বোঝানো হয়েছে। নন স্কিল লেবার অথাৎ যারা দিন মজুর,যে সমস্ত শ্রমিকদের কাজ করার জন্য কোনো বিশেষ ধরণের স্কিলের দরকার পরে না,

তাদের আমরা অসংগঠনিক শ্রমিক বলব। ই শ্রম প্রোটালে ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন করার মধ্যে দিয়ে ভারত সরকার সমস্ত ধরণের অসংগঠনিক শ্রমিকদের

NDUW (Nationla Databased Unorganized Worker) অনলাইন ডেটাবেস তৈরী করতে চলেছে। ই শ্রম কার্ডের দৌলতে ভারত সরকারের কাছে অসংগঠনিক লেবারদের ডেটা স্টোরেজে থাকবে।

পরবর্তী ক্ষেত্রে ভারত সরকার ই শ্রম কার্ডের ডেটাবেসের উপর ভীতি করেই অসংগঠনিক লেবারদের উদ্দেশ্য কোনো সরকারি যোজনা নিয়ে এলে,সেই যোজনার লাভ সরাসরি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে দিতে সফল হবে।

ই শ্রম কার্ড কি (E Sharm Card Ki)

ই শ্রম কার্ড হল ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন অসংগঠিত শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তৈরী করা অনলাইন ই শ্রম প্রোটাল ডেটাবেস।

ই শ্রম প্রোটাল ডেটাবেসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ধরণের নন স্কিল শ্রমিকদের আধার কার্ডবেস শ্রমিকের নাম,ঠিকানা শিক্ষাগত যোগ্যতা,কর্ম দক্ষতা ইত্যাদি তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা হবে।

ই শ্রম কার্ড মারফতে অসংগঠনিক শ্রমিকরা ভারত সরকার কর্তৃক ব্যক্তিগত নিবন্ধনের মাধ্যমে স্ব-রেজিস্টার নম্বর (UAN) হিসাবে স্বচিত্র শ্রমিকের পরিচয়পত্র হিসাবে ই শ্রম কার্ড হাতে পাবে।

কেন্দ্র সরকারের প্রদত্ত ই শ্রম কার্ড ভবিষ্যতে সরকার দ্বারা লঞ্চ করা বিভিন্ন যোজনার লাভ সরাসরি অসংগঠিত শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে।

অবশ্যই পড়ুন : প্রধামন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত কার্ড আবেদন করার নিয়ম।

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন কারা করতে পারবে (Eligible for E Sharam Card )

ই শ্রম কার্ড হল মূলত অসংগঠনিক শ্রমিকদের জন্য,তাই সমস্ত ধরণের পেশার সঙ্গে যুক্ত ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সের সমস্ত শ্রমিকরা ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন করতে পারেন। যেমন –

  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক।
  • পরিযায়ী শ্রমিক।
  • রাজমিস্ত্রী,ছুতোর,কামার।
  • ইট,বালি,পাথর লোডিং এবং আনলোডিং লেবার।
  • যারা বিড়ি বেঁধে জীবিকা নির্বাহ করেন।
  • অটো চালক,টোটো চালক,রিক্সা চালক।
  • গোয়ালা এবং যারা তাঁত বুনেন।
  • ইঁট ভাটা ও পাথর খনিতে কাজ করেন যারা।
  • জেলে,ধোবা,মেথর।
  • খবরের কাগজ বিক্রেতা,যারা ট্রেনে বাসে হকারি করেন তারা।
  • আশা কর্মী,অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী,ডোম।
  • এছাড়াও ছোট বড় কলকারখানায় কাজ করেন এমন শ্রমিকরা ই শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

নোট : উপরের দেওয়া তালিকা ছাড়াও ১৫০ এর বেশি শ্রেণীর পেশার মানুষ ই শ্রম কার্ডের জন্যে আবেদন করতে পারবে। পুরো তালিকা দেখার জন্যে Ocupation list এই লিংকে ক্লিক করুন

ই শ্রম কার্ডের জন্য কারা আবেদন করতে পারবে না (Not Eligible for E Sharm Card)

আমরা এতক্ষন জানলাম ই শ্রম কার্ডের জন্য কারা কারা আবেদন করতে পারবে। এবারে জানব ই শ্রম কার্ড কারা আবেদন করতে পারবেন না।

০১. যারা সরকারি এবং প্রাইভেট সেক্টরে প্রথম থেকে কোনো প্রফেশনাল পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন তারা ই শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

০২. যে সমস্ত লোকেরা সরকারকে ইনকাম ট্যাক্স দিয়ে থাকেন তারা ই শ্রম কার্ডে আবেদন করার জন্য যোগ্য নয়।

০৩. যাদের EPFO অথাৎ Employee Provident Fund Organization এ খাতা খোলা আছে তারা ই শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

০৪. যারা NPS অথাৎ New Pension Scheme এর সুবিধা পান তারা ই শ্রম কার্ড পাওয়ার জন্য যোগ্য নন।

০৫. ESIC অথাৎ Employee State Insurance Corporation এর সুবিধা ভোগ করে থাকেন এমন ব্যক্তি ই শ্রম কার্ডের আবেদন করার জন্য যোগ্য নন।

অবশ্যই পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনায় অনলাইন আবেদন

ই শ্রম কার্ড আবেদন করার জন্য কি কি ডকুমেন্ট লাগবে (Document Eligible for E Sharm Card)

ই শ্রম কার্ড মূলত অসংগঠনিক শ্রমিকদের জন্যে তাই ই শ্রম কার্ডের অনলাইন আবেদন শুধু অসংগঠনিক শ্রমিকরারাই করতে পারবে।

০১. ই শ্রম কার্ড বানানোর জন্য সবার প্রথমে শ্রমিকের বয়স ১৬ বছর থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে বয়স হতে হবে।

০২. যিনি ই শ্রম কার্ড বানাবেন তাকে অবশ্যই একজন ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।

০৩. যিনি ই শ্রম কার্ড বানাবেন তার নিজস্ব আধার কার্ড থাকতে হবে এবং আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর লিংক করা থাকতে হবে।

০৪. ই শ্রম কার্ড বানানোর জন্য শ্রমিকের নামে একটি ব্যাঙ্ক একাউন্ট অথাৎ ব্যাঙ্কের খাতা থাকতে হবে,যাতে করে শ্রমিকদিকে দেওয়া সরকারি সুবিধার লাভ শ্রমিক নিজের ব্যাঙ্ক একাউন্টে সরাসরি পেতে পারে।

০৫. শ্রমিক কার্ডের জন্য যিনি শ্রমিক কার্ড বানাবেন তার শিক্ষাগত যোগ্যতার মনোনয়ন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হবে।

০৬. পূর্বের কোনো জায়গায় কর্মঅভিজ্ঞতা থাকলে Work Experience Certificate দিতে হবে।

০৭. এছাড়াও কোনো প্রতিষ্ঠানে স্কিল ডেভলপমেন্টের কোনো পেশাদার কোর্স করা থাকলে তার Skill Development Certificate দিতে হবে।

০৮. আপনার পরিবারে আশ্রিত সদস্যদের Nominee ডিটেলস হিসাবে একটি সংক্ষিপ্ত বিবিরন দিতে হবে।

০৯. ভোটার কার্ড থাকলে আবেদনকারীকে ভোটার কার্ড দিতে হবে।

ই শ্রম কার্ডের সুবিধা কি (E Sharm Card Benefit)

ই শ্রম কার্ডের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে PMSBY (Pradhan Mantri Suraksha Bima Yojojona) র আওতায় এককালীন ০২ লক্ষ টাকার বীমারাশি দেওয়া হবে।

এছাড়াও কোনো সাময়িক দুঃঘটনায় শ্রমিকের যদি প্রাণ হানি না ঘটে,শ্রমিকের অঙ্গহানি হলে সেক্ষত্রে শ্রমিককে ০১ লক্ষ টাকার নগদ বীমা রাশি দেওয়া হবে।

ভবিষ্যতে স্থানীয় এলাকায় সরকার দ্বারা কোনো কর্মসংস্থান হলে ই শ্রম প্রোটালে রেজিস্টার ই শ্রম কার্ড যাদের আছে সেই সমস্ত শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

ক্ষরা,বন্যা,মহামারীর মত প্রাকৃতিক বিষম পরিস্থিতিতে সরকার দ্বারা ই শ্রম কার্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের একাউন্টে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হতে পারে।

এছাড়াও সুদূর ভবিষ্যতে রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের লাভ ই শ্রম কার্ড মারফতে শ্রমিকদের সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হতে পারে।

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবদেন করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন করার জন্য আপনার দুটো প্রধান ডকুমেন্টের দরকার হবে। যেমন- ০১) আপনার আধার কার্ড নম্বর এবং ০২) আপনার আধার কার্ডের সঙ্গে লিংক আছে এমন একটি মোবাইল নম্বর।

আর ০৩ নং আপনার আবশ্যিক ডকুমেন্ট হিসাবে আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট নম্বর অথাৎ আপনার ব্যাঙ্কের পাস বুকের দরকার পড়বে।

ই শ্রম কার্ড রেজিস্ট্রেশন ফি

ই শ্রম কার্ড করার জন্য কোনো রকমের রেজিস্ট্রেশন ফিস দিতে হয় না। ই শ্রম কার্ডের রেজিস্ট্রেশন দুইভাবে করা যায়,যেমন- ০১) CSC সেন্টারে গিয়ে এবং ০২) ই শ্রম প্রোটালে নিজে নিজেই রেজিস্ট্রেশন করা যায়।

তবে একটা কথা মনে রাখবেন প্রতি বছর এককালীন কিস্তি হিসাবে সাময়িক আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে ই শ্রম কার্ডের জন্য আলাদা করে প্রতিমাসে ০১ টাকা করে অথাৎ বছরে ১২ টাকা করে কাটা হবে।

আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে কাটা ১২ টাকা ই শ্রম কার্ডে প্রতিবছর PMSBY (Pradhan Mantri Suraksha Bima Yojojona) রিস্ক ফান্ডে জমা করা হবে।

যা ভবিষ্যতে আপনার কোনো একসিডেন্ট হয়ে গেলে আপনার একাউন্ট থেকে ১২ টাকা করে কাটা বীমার টাকায় PMSBY যোজনায় ইন্সুরেন্স হিসাবে আপনাকে ফেরৎ দেওয়া হবে।

অবশ্যই পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্প আবেদন করার নিয়ম।

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন করার নিয়ম (E Sharm Card Online apply)

ই শ্রম কার্ড দুইভাবে আবেদন করা যায়। প্রথমত নিজে নিজেই ই শ্রম কার্ডের অফিসিয়াল ই শ্রম প্রোটাল ওয়েব সাইটে Self Registration করে, এবং দ্বিতীয় হল আপনার নিকটবর্তী CSC সেন্টার মারফতে।

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন
ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন

যাইহোক আমরা এখানে ই শ্রম কার্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ই শ্রম প্রোটাল থেকে ই শ্রম কার্ডের Self Registration এর মাধ্যমে ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন করে দেখানোর চেষ্টা করব।

প্রথম ধাপ : ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন করার জন্য আপনাকে https://eshram.gov.in/ ই শ্রম কার্ডের অফিসিয়াল ই শ্রম প্রোটাল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: ই শ্রম প্রোটালের অফিসিয়াল সাইটের ড্যাশবোর্ডের নিচের ডানদিকে দিকে REGESTER On e-Sharm কলম দেখতে পাবেন সেখানে গিয়ে ক্লিক করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: REGESTER On e-Sharm এ ক্লিক করতেই নতুন একটি উইন্ডো ওপেন হবে,সেখানে SELF REGISTRATION এর নিচে আধার কার্ডের সঙ্গে লিংক আছে এমন একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে।

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন
ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন

এরপর মোবাইল নম্বরের নিচে ছবিতে যে ক্যাপচা কোড দেওয়া আছে,সেই ক্যাপচা কোডটিকে সঠিকভাবে নিচের বক্সে লিখে পূরণ করার পর Send OTP তে ক্লিক করতে হবে।

চতুর্থ ধাপ: এবারে আপনার রেজিস্টার মোবাইলে একটি ছয় অংকের OTP আসবে,সেই ছয় অংকের OTP টি OTP বক্সের জায়গায় সঠিকভাবে দেওয়ার পর Submit বটনে ক্লিক করতে হবে।

পঞ্চম ধাপ : এই ধাপে আপনার দশ অংকের আধার নম্বরটি দেওয়ার পর I Agree to the term & Condition for eSharm protal চেক বক্সে টিক করে Submit বটনে ক্লিক করুন।

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন
ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন

ষষ্ঠ ধাপ : এই ধাপে আধার কার্ড নাম্বার বসানোর বাক্সের নিচে আর একটি বক্স দেখতে পাবেন সেখানে আপনার মোবাইলে আরো একটি OTP আসবে সেই OTP টা enter করে Validation এর উপর ক্লিক করুন।

সপ্তম ধাপ : এরপর আবার নতুন একটি উইন্ডো খুলে আসবে সেখানে বামদিকের ০১ নং কলম Your Personal particulars as per Aadhar থেকে শুরু করে একে একে ০৭ নং কলমে Bank Details পর্যন্ত সঠিক ভাবে পূরণ করতে হবে।

এখানে আমরা এবার ধাপে ধাপে ০১ নং কলম থেকে শুরু করে ০৮ নং কলম পর্যন্ত যাতে সঠিকভাবে পূরণ করতে পারেন সেই ব্যাপারে সাহায্য করব।

অবশ্যই পড়ুন : স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কি এবং স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের সুবিধা কারা পাবেন।

০১ নং Your Personal particulars as per Aadhar

এই কলমে সবার প্রথমে Name এর জায়গায় ইংরেজিতে বড় অক্ষরে নিজের নামটা সঠিক ভাবে লিখতে হবে। তারপর একে একে Date of Birth মানে আপনার জন্ম তারিখ টা লিখুন।

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন
ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন

এরপর ফ্রমের কলম অনুযায়ী Gender এর জায়গায় Male/Female লিখুন। তার Address এর জায়গায় পর পর District,State,Pin.Country সব তথ্য ঠিকঠাকভাবে দেওয়ার পর,নিচে

I agree that all information shown above are correct চেক বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে Continue to enter other details বটনে ক্লিক করুন।

০২ নং Personal Information

Personal Information এর কলমে সবার প্রথমে আপনাকে Register Mobile Number এর জায়গায় আপনার আধার কার্ডের সঙ্গে লিংক করা আছে এমন একটি মোবাইল নম্বরটি বসাতে হবে।

তারপর Emergency Mobile Number এর কলমে আপনাকে আপনার পরিবারের আর একটি মোবাইল নাম্বার অলট্রেনেটিভ মোবাইল নম্বর হিসাবে দিতে হবে।

এবারে Email এর জায়গায় আপনাকে ইমেইল আইডি দিতে হবে। আর যদি কোনো ইমেল আইডি না থাকে তাহলে কলমটি ছেড়ে দিতে পারেন।

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন
ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন

Marital Status এর জায়গায় আপনি যদি বিবাহিত হন তাহলে Married লিখুন নইলে Unmarried লিখুন। তারপর Father Name এর জায়গায় বাবার নাম লিখুন।

Social Category এর জায়গায় আপনার কাস্ট লিখতে হবে আপনি আপনার কাস্ট অনুযায়ী Gen/Sc/St/Obc যেকোনো একটি ক্যাটেগরি সিলেক্ট করুন।

Blood Group এর জায়গায় নিজের Blood Group লিখুন। Diffrently এর কলমে No অপশনেই টিক রাখুন। তারপর রয়েছে Nominee Details,এখানে আপনি যদি Nomenee Details ভরতে চান তাহলে,

Nominee Details এর জায়গায় Yes বটনে ক্লিক করে Nominee Details দিয়ে Nominee Details fillup করুন। এরপর Save & Continue বটনে ক্লিক করুন।

০৩ নং Residental Address

এই কলমে সবার প্রথমে Home State এর জায়গায় নিজের রাজ্যের নাম চয়ন করুন। তারপর Current Address এর জায়গায় House Number এর জায়গায় House Number লিখুন (তবে এটি Opttional আপনি যদি আপনার

House Number না জেনে থাকেন তাহলে কলমটি ফাঁকা ছেড়ে দিন। তারপর একে একে Locality,State,District,Sub District এবং Pin নং লিখুন।

Staying at current location এর কলমে আপনি কতদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন ০২ বছর ০৪ বছর আপনার বসবাসের ধরন অনুযায়ী বছর নির্বাচন করুন।

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন
ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন

আপনি যদি একজন Migrant Worker (পরিযায়ী শ্রমিক) হন তাহলে আপনি কলম থেকে আপনার পছন্দের যেকোনো একটি অপশন নির্বাচন করুন।

এখন আপনার যদি স্থায়ী ঠিকানা এবং প্রেজেন্ট ঠিকানা যদি একই হয় তাহলে Is permanenet addrerss same as current address এর চেক বক্সে ক্লিক করে Save & Continue বটনে ক্লিক করুন।

০৪ নং Education Qualification

Education Qualification এর কলমে আপনাকে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা অ্যাড করতে হবে। এখানে Ecucation Certificate এর পিডিএফ ফাইল অ্যাটাচ করার জন্য বলা হচ্ছে তবে এখানে পিডিএফ ফাইল না দিলেও চলবে।

এরপরের কলমটিতে Monthly Income স্লাভ চয়েস করতে হবে। তবে এখানে ইনকাম সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা বলা হলেও ইনকাম সার্টিফিকেট দিতেই হবে এমন কোনো বাঁধা ধরা নিয়ম নেই।

এইভাবে সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়ে গেলে আরো একবার পরের পাতায় যাওয়ার জন্য Save & Continue বটনে ক্লিক করুন।

০৫ নং Ocupation and Skills

এখানে Ocupation and Skills এর কলমে সবার প্রথমে Primary Ocupation এর জায়গায় আপনাকে আপনার পেশা লিখতে হবে। আপনি যদি Car Driver পেশার সঙ্গে যুক্ত হন তাহলে Car Driver এর ইউনিক কোডটি লিখতে হবে।

নোট : এখানে ই শ্রমের ওয়েব সাইটে বিভিন্ন পেশার মানুষের জন্য আলাদা আলাদা ইউনিক কোড দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে কোড নির্বাচন করার পর আপনাকে Primary Ocupation এর জায়গায় সেই ইউনিক কোডটি বসাতে হবে

বি:দ্রঃ বিভিন্ন ধরণের পেশার ইউনিক কোড দেখার জন্য Ocupation Code লেখা লিংকটিতে ক্লিক করে Ocupation Code ডাউনলোড করুন।

এখানে আপনার যদি কোনো Ocupation Certificate থেকে থাকে তাহলে আপনাকে Ocupation Certificate এর পিডিএফ দিতে হবে। তবে এটা Optional,পিডিএফ দিতেই হবে এমন কোনো বাধা ধরা নিয়ম নেই।

সমস্ত কিছু ঠিক্ঠাকবে পূরণ করা হয়ে গেলে আমরা Save & Continue বটনে ক্লিক করে আগের পেজের Bnak Account Details এর দিকে এগিয়ে যাবো।

০৬ নং Bnak Account Details

Bnak Account Details এর কলমে আপনাকে আপনার Bnak Account Details হিসাবে Bank একাউন্ট হোল্ডারের Name,Bank একাউন্ট নম্বর Bank এর IFSC কোড Branch এর নাম সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।

এই কলমটি খুব গুরুত্ব সহকারে পূরণ করবেন। কারণ আপনার দেওয়া ব্যাঙ্ক একাউন্টে আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরকার সমস্ত সরকারি সুবিধা সরাসরি আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্টে পৌঁছে দেবে।

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন

যাইহোক সমস্ত Bank ডিটেলস যাবতীয় তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর আপনি আরো একবার Save & Continue বটনে ক্লিক করুন।

০৭ নং Previw Self Declration

Previw Self Declration অপশনটিতে আপনি আরো একবার এতক্ষন যাবৎ যে সমস্ত তথ্যগুলো দিয়ে পুরো ধাপে ধাপে যে সমস্ত কলম গুলো পূরণ করলেন,

আপনার পূরণ করা সমস্ত তথ্যাদি ঠিকঠাকভাবে পূরণ করা হয়েছে কিনা ভালো করে দেখে নিন। যদি পুরো ফ্রমের কোথাও কোনো তথ্য পূরণ করতে ভুল হয়ে থাকে তাহলে edit করে সঠিক তথ্য বসিয়ে ভুল সংশোধন করে নিন।

সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলে আপনি উপরের স্ক্রিনের ডানদিকে Print বটনে ক্লিক করে এপ্লিকেশন ফ্রমে দেওয়া যাবতীয় তথ্যাবলি প্রিন্ট করে নিতে পারেন।

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন

নচেৎ স্ক্রল করে নিচের দিকে এসে Sbumit বটনে ক্লিক করতেই আপনার এ শ্রম কার্ডের অনলাইন আবেদনপত্রটি Except হয়ে যাবে।

০৮ নং UAN Card Number

Previw Self Declration পাতাটি চেক করার পর Submit বটনটিতে ক্লিক করার পরে পরেই UAN Card ডাউনলোড করার জন্য একটি নতুন উইন্ডো ওপেন হয়ে যাবে।

আধার কার্ড এবং প্যান কার্ডে যেমন ব্যক্তিভেদে আলাদা আলাদা ইউনিক নম্বর থাকে ঠিক তেমনি ই শ্রম কার্ডে UAN নম্বর হিসাবে একটি ইউনিক UAN (Univershal Account Number)

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন

১০ ডিজিটের নম্বর ও ছবি সহ একটি ভার্চুয়াল কার্ড জেনারেট হয়ে যাবে। এবারে আপনি আপনার ই শ্রম কার্ড হিসাবে UAN কার্ড টি ডাউনলোড করে রেখে দিন। এটাই হল আপনার ই শ্রম কার্ড।

ই শ্রম কার্ডের বৈধতা (E Shram Card Validity)

ই শ্রম কার্ডের আলাদা করে বৈধতার কোনো মাপদন্ড নেই। একজন শ্রমিক একবার ই শ্রম কার্ড বানিয়ে নিলে,ই শ্রম কার্ডের ভ্যালিডিটি সারাজীবন থাকে। তাই আলাদা করে বার বার ই শ্রম কার্ড রিনিউ করার দরকার পড়েনা।

তবে একটা কথা খেয়াল রাখবেন ভবিষ্যতে যদি আপনি আপনার ঠিকানা,মোবাইল নম্বর কিংবা ব্যাঙ্ক একাউন্ট ডিটেলস বদল করতে চান তাহলে ই শ্রম কার্ডটি অনলাইন রিনিউ করতে হবে।

ই শ্রম কার্ড কাস্টমার কেয়ার নম্বর (E Shram Card Help Line Number)

বর্তমানে ই শ্রম কার্ডের কাস্টমার সাপোর্টের জন্য সরকারের তরফ থেকে বেশ কতগুলো নম্বর জারি করা হয়েছে। ছুটির দিন ব্যাতিত যেকোনো সময়ে আপনি ই শ্রম কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

ই শ্রম কার্ড হেল্প লাইন নম্বর গুলো হল যথা -১৪৪৩৪ ,এই নম্বরে কল করে বাংলা,হিন্দি,ইংরেজি আপনার পছন্দের ভাষা নির্বাচন করে,ই শ্রম কার্ডের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

অবশ্যই পড়ুন : লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প কি এবং লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প আবদেন করার নিয়ম।

পরিশিষ্ট

আমরা এতক্ষন ই শ্রম কার্ড কি,ই শ্রম কার্ডের সুবিধা গুলো কি কি এবং ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন করার নিয়ম নিয়ে যথা সংক্ষেপে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

তবুও যদি আপনার ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

ই শ্রম কার্ড অনলাইন আবেদন, Self Registration পক্রিয়ায় যদি আপনার মোবাইলে OTP না আসে অথাৎ আপনার আধার কার্ডের সঙ্গে যদি আপনার মোবাইল নম্বর লিংক করা না থাকে,

তাহলে আপনাকে কোনো CSC সেন্টারে গিয়ে সবার প্রথমে আধার কার্ডের সঙ্গে আপনার রেজিস্টার মোবাইল নম্বরটি লিংক করিয়ে নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here