রামচন্দ্রের অকাল বোধন ও রামচন্দ্রের দুর্গাপূজার ইতিহাস। (Ramchandrer Akaal Bodhan Durgapuja)

অকাল বোধন কি ? অকাল বোধন অর্থ কি ? বিষয়টা ভালভাবে না জানলেও অকাল বোধন শব্দটার সঙ্গে আমরা কম বেশি সকলে মোটামুটি পরিচিত।

আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি শ্রী রামচন্দ্র অকাল বোধন করে দুর্গা পূজা করেছিলেন। আর আমাদের বাঙালি ও বাংলার প্রাণের উৎসব হল দুর্গাপূজা।

তাই আমরা যেহেতু বাঙালি তাই বাংলার প্রথম দুর্গাপূজার ইতিহাস,অকাল বোধন কে করেছিলেন,রামচন্দ্রের দুর্গাপূজা,অকাল বোধন কি ?

অকাল বোধন শব্দের অর্থ কি ? এসব বিষয়ে মৌখিক হলেও বিষয়টা সমন্ধে জানাটা দরকার। তাই এখন আমরা বাংলায় বারোয়ারী দুর্গাপূজার প্রচলন নিয়ে,

দু-চার কথা আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করব। আসা করি আপনাদের মনে দুর্গাদেবী ও দুর্গাপূজার ইতিহাস নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সেই প্রশ্নের অবসান হবে।

অকাল বোধন শব্দের অর্থ কি ? (Akaal Bodhon Shobder Ortho Ki )


বাংলা অভিধানে অকাল শব্দের অর্থ হল অসময় অথাৎ শুভ কাজের বা কর্মের জন্য অযোগ্য কাল এবং বোধন শব্দের অর্থ হল শুভাআরম্ভ,নিদ্রাভঙ্গ করা অথাৎ ঘুম থেকে জাগানো।

সবমিলিয়ে অকাল বোধন শব্দ দুটির সম্মিলিত অর্থ দাঁড়াল অসময়ে জাগানো বা জাগরণ করা। আর পুরান মতে শ্রী রামচন্দ্র রাক্ষস রাজা রাবনকে বধ করার জন্য দেবী দুর্গার অকাল বোধন করেছিলেন।

আরো পড়ুন : শুভ বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা sms 

অকাল বোধন কি (Akaal Bodhon Ki)


রাবণ বসন্ত কালে বাসন্তী পূজা করে দেবী দুর্গার আরাধনায়,দেবী দুর্গাকে তুষ্ট করেছিলেন। তাই রাবণের উপর তুষ্ট হয়ে দেবী দূর্গা রাবণকে সমস্ত বাধা বিপত্তি থেকে রক্ষা করতেন।

এমন পরিস্থিতিতে সীতাহরণকে কেন্দ্র করে রাম রাবণের যুদ্ধ আরম্ভ হলে,রাবনের উপর প্রহার করা রামচন্দ্রের সমস্ত অস্ত্র বিফল হয়ে যায়।

তখন স্বয়ং ব্রহ্মা শ্রী রামকে শরৎ কালে দেবী দুর্গার আরাধনা করার জন্য বলেন। কিন্তু এখানে প্রশ্ন হল শরৎ কাল হল দেবী ও দেবতাদের নিদ্রার সময়।

পৌরাণিক আখ্যা অনুযায়ী গ্রীষ্ম,বর্ষা এবং শরৎ এই তিনটি ঋতু সূর্যের উত্তরায়ণ কাল। এই সময়ে দেবী ও দেবতারা বিশ্রাম নেন তারা সকলেই ঘুমন্ত অবস্থায় থাকেন।

আবার হেমন্ত,শীত ও বসন্ত হল সূর্যের দক্ষিণায়ন কাল। এই সময় দেবী ও দেবতারা জেগে অথাৎ জাগ্রত অবস্থায় থাকেন। রাবণ দেবী দুর্গাকে দেবীর জাগরণ কালে বসন্ত ঋতুতে বাসন্তী পূজা করতেন।

কিন্তু শ্রী রামচন্দ্রকে দেবীর নিদ্রার সময় দেবী দুর্গাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে পূজা করতে হয়েছিল তাই রামচন্দ্রের করা দূর্গাপূজা অকাল বোধন নামে পরিচিত।

অকাল বোধন কে করেছিলেন (Akaal Bodhan ke korechilen)


অকাল বোধন কে করছিলেন আশা করি এই উত্তর দেওয়ার আর কোনো বালাই থাকেনা। শ্রী রামচন্দ্র রাবণের অশোক কানন থেকে সীতাকে উদ্ধার করার লক্ষ্যে,

যুদ্ধক্ষেত্রে রাক্ষস রাজ রাবণকে পরাজিত করার জন্য,দেবী ও দেবতাদের ঘুমের সময় নিদ্রাভঙ্গ করে অসময়ে শরৎ কালে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন।

রামচন্দ্রের এই দুর্গাপূজা অকাল বোধন নামে পরিচিত। বর্তমানে আপামর বাঙালি ও বাংলার সংসস্কৃতিতে রামচন্দ্রের দুর্গাপূজা বাসন্তী পূজা অপেক্ষা অধিক জনপ্রিয়।

অকাল বোধন কি
অকাল বোধন কি

রামচন্দ্রের অকাল বোধন দুর্গাপূজার ইতিহাস ( Ramchandrer Akaal Bodhan Durgapujar itihas)


রামায়ণের কাহিনী অনুসারে শ্রী রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতা দেবীকে রাক্ষস রাজ রাবণ হরণ করে লঙ্কায় নিয়ে গিয়ে অশোক কাননে বন্দি করে রাখেন।

সীতা উদ্ধার করতে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরম্ভ হলে,রাম রাবণের তুমুল যুদ্ধে একে একে রাবনের অজেয় যোদ্ধারা রামের কাছে পরাজিত হয়ে ফিরে আসতে থাকে।

সেই যুদ্ধে বাদ গেলেন না রাক্ষস রাজ রাবন পর্যন্ত। স্বয়ং রাবন ও একবার পবনপুত্র হনুমানের কাছে যুদ্ধকালীন পরিস্তিতে অপদস্ত হলেন।

উপায় না দেখে দশানন রাবন তখন দেবী অম্বিকার আরাধনায় বসেন। রাবনের ধ্যানে সন্তুষ্ট হয়ে দেবী অম্বিকা স্বয়ং মা কালীর রূপে রাবনকে দর্শন দিলেন এবং রাম রাবনের যুদ্ধে রাবনের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন।

অপরদিকে রাবনের দৌরাত্মে তখন দেবকুল থেকে মানবকুল সকলেই ব্যাতিব্যাস্ত। রাবনের অতিষ্ঠতায় নিস্তার পায়নি দেবতা মানব কেউই।

ইতিমধ্যে মা কালী,দশানন রাবন ও রামচন্দ্রের যুদ্ধে,রাবনের পাশে থাকার আশ্বাসন দেওয়ায় দেবতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।

স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্র তখন ত্রাহিমাম বলে গতিক বুঝে উপায় খুঁজে দেওয়ার আশা নিয়ে প্রজাপতি ব্রহ্মার কাছে দৌড়ে এসেছেন। কারণ এ যাত্রায় শ্রী রামচন্দ্র যদি রাবনকে বধ করতে না পারে,

তাহলে আর দেবতা ও মানবকুল কারো রক্ষা থাকবেনা। প্রজাপতি ব্রহ্মা তখন অনেক বুঝে শুনে উপায় বার করলেন। ব্রহ্মা দেখলেন এই বিপদে দেবী দুর্গার আরাধনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

এদিকে তখন শরৎ কাল, দেবতাদের বিশ্রামের সময়। সাধারণত মর্ত্যধামে ২৪ ঘন্টায় ১২ ঘন্টা দিন ও ১২ ঘন্টা রাত্রি হয়। আমরা দিনের বেলা দৈনন্দিন কাজকর্ম করি এবং রাত্রিবেলা বিশ্রাম করি।

কিন্তু দেবতাদের ক্ষেত্রে আমাদের মত ২৪ ঘন্টায় দিন রাত্রি হয়না। দেবতারা দেবলোকে ০৬ মাস জেগে থাকেন আর ০৬ মাস ঘুমোন। দেবলোকে সূর্যের উত্তরায়ণ অথাৎ

গ্রীষ্ম,বর্ষা এবং শরৎ এই তিনটি ঋতু ০৬ মাস ঘুমোনোর সময়। আর হেমন্ত,শীত ও বসন্ত এই ০৩ টি ঋতু হল সূর্যের দক্ষিণায়ন কাল এই ০৬ মাস দেবী ও দেবতারা জেগে থাকেন।

শরৎ কাল দেবী দুর্গার বিশ্রামকাল। দেবী দুর্গা তার ছেলে পুলকে সঙ্গে নিয়ে শরৎকালে বাপের বাড়ি আসেন। তাই রামচন্দ্র বললেন এই সময়তো দেবী দুর্গার আরাধনার জন্য উপযুক্ত সময় নয়।

এখনতো অকাল তাহলে কিভাবে দেবীর পূজা হবে। তখন প্রজাপতি ব্রহ্মা আশ্বাস দিলেন শরৎকালে শুক্ল পক্ষে  দেবীর বোধন করলে অথাৎ দেবীকে জাগরণ করে (জাগিয়ে)

দেবী দুর্গার আরাধনা করলে রামচন্দ্রের মঙ্গল হবে রামচন্দ্র দেবী দুর্গার কৃপা দৃষ্টি লাভ করবে। প্রজাপতি ব্রহ্মার পরামর্শে শ্রী রামচন্দ্র বেল গাছের তলায় মা দুর্গার মাটির মূর্তি তৈরী করে পূজার আয়োজন করলেন।

ব্রহ্মার ইচ্ছেমত শরৎকালে শুক্ল ষষ্ঠীতে নানা ধরণের বনফুল,বেল পত্র ও চন্ডীপাঠ করে দেবী দুর্গার বোধন হল। কিন্তু তাতে কোনো উপায় হলনা।

শ্রী রামচন্দ্র দেবী দুর্গার আরাধনা করেও শেষ পর্যন্ত দেবী দুর্গার দর্শন পেলেন না। দেবীর দর্শন না পাওয়ায় রামচন্দ্র রীতিমত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।

তখন রামচন্দ্রের সঙ্গে সম্মিলিত হওয়া রাবনের ভাই বিভীষণ শ্রী রামচন্দ্রকে দেবী দুর্গার কৃপা লাভের জন্য আরোও একবার ১০৮ টি নীল পদ্ম দিয়ে দেবী দুর্গার পূজা করার জন্য বললেন।

কিন্তু আশেপাশে কোথাও নীল পদ্ম সরোবর না থাকায়,নীল পদ্ম জোগাড় করা দুস্কর হয়ে পড়ল। তখন এই সমস্যার মুশকিল আসান করেন পবনপুত্র হনুমান।

হনুমান একঝাঁপে প্রভু রামচন্দ্রকে দেবীদহ হ্রদ (দেবী দেবতাদের হ্রদ) থেকে ১০৮ খানা নীলপদ্ম তুলে এনে দেয় দূর্গা দেবীর পূজা করার জন্য।

অকাল বোধন কি
অকাল বোধন কি

এরপর রামচন্দ্র আরো একবার পূজার আয়োজন সেরে পূজায় বসেন। কিন্তু পূজা করতে গিয়ে দেখেন পূজার ফুলের ডালিতে ১০৮ টি নীল পদ্মফুলের জায়গায় ১০৭ খানা নীলপদ্ম রয়েছে।

কিন্তু বাকী ০১ খানা নীলপদ্ম গেল কোথায় ? অনেক খোঁজাখুজির পর নীলপদ্ম পাওয়া না গেলনা। এদিকে পূজার সময় ক্রমশ পেড়িয়ে যাচ্ছে,

দেবী আরাধনায় বসে দেবীর পূজা অসম্পন্ন থেকে গেলে ঘোর অমঙ্গল হবে। তখন গতিক দেখে শ্রী রামচন্দ্র ঠিক করলেন তার চোখের মনি দুটো নীলাভ তাই নীলপদ্ম স্বরূপ

তাই তার একটি চোখকে দেবীর পুজোয় উৎসর্গ করে ১০৮ খানা নীলপদ্ম দিয়ে দেবীর পুজো সম্পন্ন করবে।এরপর যেই শ্রী রামচন্দ্র শলাকা থেকে তীর বার করে

চোখ উপড়াতে গেলেন তখন দেবী দূর্গা সিংহে চড়ে সিংহবাহিনী হয়ে রামচন্দ্রকে দেখা দিলেন। দেবী দূর্গা তখন শ্রী রামচন্দ্রকে আশ্বাস দিলেন রাম রাবণের তিনি রামের পাশে থাকবেন।

দেবী দূর্গা তিনিই মহামায়াই রামচন্দ্রের ১০৮ টি নীলপদ্মের মধ্যে ০১ টি নীলপদ্ম লুকিয়ে রেখে রামচন্দ্রের তাঁর প্রতি ভক্তির পরীক্ষা নিচ্ছিলেন।

এরপর দেবী দুর্গার কৃপায় রামচন্দ্র সপ্তমী তিথীর দিন থেকে রাবনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেন। টানা ০২ দিন যুদ্ধ করার পর অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে

রামচন্দ্র রাবনকে বধ করেন এবং দশমীর দিনে রাবনের শব (মৃত শরীর) দাহ সংস্কার করা হয়। দশমীর দিনে শ্রী রামচন্দ্র দেবী দুর্গার দশমী পূজা করে মায়ের মৃন্ময়ী রূপকে জলে বিসর্জন দিয়ে দূর্গা পূজা সমাপ্ত করেন।

শ্রী রামচন্দ্রের শরৎকালে অকালে করা দুর্গাপূজা অকাল বোধন নামে পরিচিত। কিন্তু আপামর বাঙালিদের বাঙালি সংস্কৃতিতে

বাসন্তী দূর্গাপূজা অপেক্ষা শরৎকালে শারদীয়া দুর্গাপূজার চলনটাই বেশি। শরৎকালে পুজোর চারটা দিন বাঙালিদের ঘরে মা দূর্গা তাদের ঘরের মেয়ের মত বেড়াতে আসেন।

আরো পড়ুন : জামায় ষষ্ঠীর শুভেচ্ছা sms 

বাংলার প্রথম দুর্গাপূজার ইতিহাস


বাংলার প্রথম দুর্গাপূজার ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে দেখতে পাওয়া যায়,৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে বাংলায় প্রথম দুর্গাপূজার প্রচলন শুরু হয়।

বাঁকুড়ার মল্লরাজা জগৎ মল্লা বিষ্ণুপুরের মৃন্ময়ী মন্দিরে,অনেক ধুমধাম করে দুর্গাপূজা করেন। মুঘল শাসনে বিপুল পরিমান অর্থ (সেই আমলে প্রায় ০৮ লক্ষ টাকা) ব্যয় করে

বাংলার দেওয়ান কংসনারায়ণ রায় বেশ ঘটা করে দুর্গাপূজা করেন। এরপরেও নদিয়ার ভবানন্দ রায় তার রাজবাড়িতে দুর্গাপূজা করেছিলেন। এছাড়াও কোচবিহারের রাজবাড়িতেও

ধুমধাম করে দুর্গাপূজা হত। আর যদি কলকাতার প্রথম দুর্গাপূজা নিয়ে বলা যায় তাহলে ১৬১০ সালে বড়িশায় রায়চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপুজোকে কলকাতার আদি দুর্গাপুজো বলে ধরা হয়।

আরো পড়ুন : প্রেমিক ও প্রেমিকার মজাদার জোকস। 

বাংলায় বারোয়ারী দুর্গাপূজার প্রচলন


এতদিন পর্যন্ত দুর্গাপূজা শুধু রাজা মহারাজা ও জমিদারদের পুজো ছিল কিন্তু বাঙালির প্রাণের দুর্গাপূজা রাজা ও জমিদার বাড়ির গন্ডি পেড়িয়ে সার্বজনীন হওয়ার পিছনে একটা বড় কাহিনী আছে।

আগেকার দিনে দুর্গাপূজা ছিল মূলত বাড়ির পূজো। যদিও দুর্গাপূজার জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত ছিল তবে পূজার যাবতীয় আয়োজন ব্যয় নির্বাহ পূজোর উদ্যোক্তার পরিবারের তরফ থেকেই করা হত।

কিন্তু বাংলায় দুর্গাপূজার জনপ্রিয়তা দিন প্রতিদিন বাড়তেই থাকে। তবে ধীরে ধীরে বড় বড় জমিদারের রমরমা কমতে থাকলে এবং দুর্গাপূজা অত্যন্ত ব্যয় সাপেক্ষ হওয়ায় দুর্গাপূজাও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যেতে থাকে।

কিন্তু ১৭৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলির গুপ্তিপাড়ায় প্রথমবার ১২ জন বন্ধু মিলে একসাথে যৌথ উদ্যোগে সার্বজনীন দুর্গোৎসব করবেন বলে মনস্থির করেন।

বাংলার ইতিহাসে এটাই ছিল প্রথম সার্বজনীন দুর্গাপূজা। পরে ধীরে ধীরে এই দুর্গাপূজা বাঙালিদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বারোয়ারী দুর্গাপূজার তকমা পায়।

১২ জন বন্ধু মিলে এই দুর্গাপূজার শুরু করেছিলেন বলে এই সার্বজনীন এই দুর্গাপূজা ধীরে ধীরে ১২ জন বন্ধু (আরবী শব্দ ইয়ার) থেকে বারোয়ারী দুর্গাপূজার তকমা পায়।

অকাল বোধন মা দুর্গার আগমনী গান 


পরিশিষ্ট


অকাল বোধনের মধ্যে দিয়ে রামচন্দ্রের দুর্গাপূজা করা দিয়েই মর্ত্যলোকে দেবী দুর্গার পুজোর প্রচলন হয়। বাঙালি বসন্ত কালে বাসন্তী পুজো করলেও,

জনপ্রিয়তার নিরীখে কিন্ত বাঙালিদের কাছে শরৎকালে শারদীয়া দূর্গা পূজার জনপ্রিয়তায় বেশি। আজকে প্রায় ছোট বড় গ্রাম গঞ্জ থেকে শুরু করে শহরে গ্রামের প্রতিটি পাড়ায় শারদীয়া দুর্গোৎসব হয়ে থাকে।

দুর্গাপূজার কটা দিন সকলের সাথে মিলে মিশে হৈ,হুল্লোড়, মজা করে কাটানো যায়। পূজোয় মায়ের পায়ে  অঞ্জলী দেওয়া থেকে শুরু করে মা দুর্গার বিসর্জন অব্ধি আমরা মায়ের পায়ে নিজেদের সমবেত রাখি।

মায়ের বিসর্জনের পরে আসছে বছর আবার হবে এই আশায় বুক বেঁধে থাকি। মা দুর্গাকে কাছে পেয়ে যতটা সুখ আমরা অনুভব করি ঠিক,ততটা মায়ের বিরহ আমাদের বেদনা দিয়ে যায়।

FAQ


প্রশ্নঃ- অকাল বোধন কে করেছিলেন ?

উঃ- শ্রী রামচন্দ্র অকাল বোধন করেছিলেন।

প্রশ্নঃ- অকাল বোধন কখন হয় ?

উঃ- শরৎকালে অকাল বোধন হয়।

প্রশ্নঃ- অকাল বোধন বাগধারা কি ?

উঃ- অকাল বোধন বাগধারা হল ‘অসময়ে আবির্ভাব’ .

এই আর্টিকেল গুলোও পড়ে দেখুন –